গোলাম ফেরদৌস মনির [হাল ছেড়ো না] ০৫.০৬.২০২২ যতো সমস্যা ততো সমাধান! পড়িয়া দেখো আল-কুরআন!!! মানবের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান দুঃখ, শোক, অভাব বোধ–পার্থিব যাতনা, রোগ-বেদনা–প্রিয় বান্দাদের জন্য পরীক্ষা! মুনাফিকের জন্য গজব!! শুনতে কী লাগছে আজাব??? ভালো মানুষেরা সাময়িক বিপদ কাটিয়ে উঠতে সামর্থ হয়; অভিশপ্তরা ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়! এইতো বিধির-বিধান; আমরা “প্রজা-রাজা” সবাইতো গোলাম! শুধু তিনিই সারা জাহানের মালিক,চির মহিয়ান- বুঝে-শুনে, পড়ে দেখো “আল-কোরআন !!” হাল ছেড়োনা বন্ধু! বরং ধর্য ধরে ত্যাগের মহিমায় নিজেকে করো বিকশিত জীবন তবে তোমার-হবে চির প্রকাশিত! অগুনে পুড়ে পুড়ে হয় যে “খাঁটি সোনা” সেতো তোমার-আমার–সকলেরই জানা! কি হবে অধিক চিন্তা করে-নিজেকে সপে দাও-ঐ মহান মাওলার তরে-…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
বাংলাদেশ শিশুসাহিত্যিক ফোরামের আয়োজনে গ্রীষ্মের ছড়া-কবিতা পাঠ: গতকাল ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ০৪ জুন ২০২২ শনিবার বিকাল চারটায় রাজধানীর পাঠক সমাবেশ কেন্দ্রে বাংলাদেশ শিশুসাহিত্যিক ফোরাম আয়োজিত ‘গ্রীষ্মের ছড়া-কবিতা পাঠ, আড্ডা ও আলোচনা’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। আজকের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শিশুসাহিত্যিক নুরুদ্দীন শেখ। ফোরামের সভাপতি শিশুসাহিত্যিক হুমায়ূন কবীর ঢালীর প্রারম্ভিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কবিতা পাঠ ও আলোচনা করেন জনাব ইকতিয়ার চৌধুরী, ড. সরকার আবদুল মান্নান, তৌহিদ আহমেদ, নুরুদ্দীন শেখ, জ্যোতির্ময় সেন, সোহাগ সিদ্দিকী, সোহেল মল্লিক, তুষার দাশ, রমজান মাহমুদ,…
নির্ঘূম রাত [রতন চন্দ্র রায়] কপালের সিঁধুর মুছে ফেলো হাতের শাঁখা ভেঙ্গে ফেলো শুধু পড়িয়া থাকিও না, সাদাথান… তুমি ছাড়া, এ জীবনে ছিলো না কেউ আপন জন। আজ আমি যাচ্ছি চলে তোমায় একা করে কত যে, বাসনা ছিলো হৃদয় পিঞ্জিরায় একসাথে থাকবো মোরা সবুজ দুনিয়ায়। ক্ষণে-ক্ষণে পড়বে মনে চঞ্চল স্মৃতিগুলো, নির্ঘূম রাত কাটাবে, তুমি সবার অগোচরে। উদাসী মন নিয়ে দাঁড়াবে কড়িডোরে, পূবালী বাতাসে লাশের গন্ধ আসিবে তোমার, নাকের ডগায়… মন থেকে সব মুছে দিয়ে নতুন করে শুরু কর, হেঁয়ালীতে নষ্ট করিওনা তোমার ভবিষ্যৎ…
বাবার ডায়েরি [আসমা খানম শিউলী] ডায়েরি লেখার অভ্যেস ছিল না আমার, তবুও একটা ডায়েরি আছে যেটাতে দুই চার লাইনে মনের কথা লিখে রাখি। এই একটা ডায়েরিতেই জনম কেটে গেল। জীবনের হিসেব লেখা হয় না তাতে, কিছু হিসেব থাকে চাল, ডাল, নুনের। আর কিছু ভুল অংকের কাটাকাটি। কিছু নতুন টাকাও আছে পৃষ্ঠার ভাজে। হঠাৎ বুকটা ব্যথা করছে। শেষ বেলা এখন। একটুতেই ভয় পেয়ে যাই, এই বুঝি কিছু হয়! তাই তো মনে হলো তোমাকে কিছু কথা বলে যাই। তুমি কাছে থাকলে লিখতে হতো না, রোজ দুজনের কথা হতো খাবার টেবিলে চায়ের আড্ডায়, নয়ত রোজ রাতে ছাদে কিছুটা সময় আমাদের কথার ঝাঁপি খুলে…
বৃষ্টি ভাবনা (শারমীন ইয়াসমিন) সজনে পাতায় বৃষ্টি পরে – মনে জাগে শিহরণ চলতি পথে তোমার সাথে ভিজতে বড় ইচ্ছে করে। গগণ জুড়ে বাদলা এলো বুঝি? মন বুঝি আজ উঠল নেচে আনন্দেরই স্রোতে। বৃষ্টি ফোঁটা পড়ল বুঝি মনের ঐ আঙিনাতে স্বপ্নগুলো মেললো ডানা ভালোবাসার রঙে। গগন বুঝি সাজলো আজি আঁধার কালো রঙে মন যে আমার, বলছে কথা- মেঘ হয়ে যাই ভেসে নীল আকাশের বুকে। পাখি হয়ে যাই উড়ে ঐ দিগন্তেরই শেষে। বৃষ্টি যেন জাগিয়ে দিল সুপ্ত কত কথা জাগিয়ে দিল প্রাণের সাথে প্রাণের কত কথা। মন যে আমার ভাবছে- রঙ-বেঙের অনুভবে ইচ্ছে হয়ে মেলছে ডানা স্বপ্নগুলো সব।
চলতে চলতে (তসলিমা হাসান) চলতে চলতে তোমার আমার সাথে দেখা, একটুকরো হাসি -সেটাই ভালোবাসা- তুমি-আমি কেউ কারো মতো নই- তবুও একসাথে চলার অভ্যেস- সেটাই ভালোবাসা- শুধু কামনা- বাসনা নয়- অর্ধেকটা জীবন দেওয়া-নেওয়া -সেটাই ভালোবাসা- নিস্তরঙ্গ দিনে তোমার-আমার মধ্যে ঠোকাঠুকি- দু দিন বন্ধ কথা-সেটাই ভালোবাসা- ধেঁয়ে চলা সময়ে অনেকগুলো ধাঁধাঁ আর উত্তর-পাশাপাশি বসা -সেটাই ভালোবাসা- তোমার-আমার মাঝে বিছানায় আরেকটা ছোট্ট বিছানা- -সেটাই ভালোবাসা- আগামী প্রজন্ম দূরে গেলে দুজনের ক্লান্ত দেহে-পাশাপাশি বসা -সেটাই ভালোবাসা- তুমি চলে গেলে-পূজার বেদীতে তাকিয়ে একফালি উদাসী দীর্ঘশ্বাস – -সেটাও ভালোবাসা——!! তসলিমা হাসান কানাডা: ৩০-০৫-২০২২
এতিম শিশু [সৈয়দুল ইসলাম] তারিখ: ০২/০৬/২০২২ স্বজনহারা শিশুটি হায় এইনা ভুবন মাঝে ! ধুলোবালি ছেঁড়া জামায় থাকে দারুণ সাজে। খাওয়া নাওয়া নেই যে তারই কাঁপে থরথর, দুঃখ কষ্টে এতিম শিশু কাঁদে যে দিনভর । জনেজনে হাতটি পাতে ক্ষুধারও জ্বালায়, ধনীর হাতের টাকাকড়ি পড়েনি থালায় । গরিব চেনে গরিবেরে তাই’তো ছুটে আসে, দশটি টাকা দিয়ে হলেও থাকে শিশুর পাশে । ধনী গরিব সবাই মানুষ অহং ভুলে গিয়ে, উপকারের হাত বাড়াবো ভালোবাসা দিয়ে । ঠিকানা: হাসারচর, শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ।
প্রিয় কবি (শিরিন আফরোজ) তারুণ্যের কবি তুমি বিদ্রোহী কবি অন্যায় শাসন-শোষণ এবং পরাধীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তোমার লিখায় উঠে এসেছে সবি। প্রতিবাদী লিখার অপরাধে কবি তুমি হয়েছিলে কারারুদ্ধ দারিদ্র এবং সংগ্রামে কবি তোমার কেটেছিল জীবন যুদ্ধ। অসীম প্রতিভায় অজস্র কৃতিত্বে কবি তুমি বাঙালির অহংকার তোমার প্রতিভাকে দমাতে পারেনি কোন রুদ্ধ কারাগার। বাংলা, আরবী ও ফরাসি ভাষায় কবি তুমি ছিলে জ্ঞাণী, চোখেমুখে ছিলে তুমি বুদ্ধি দীপ্ত লিখাতে ছিল তোমার অগ্নিঝরা বাণী। তোমার কাব্যে শুনি মৃত্যুজ্ঞয়ী চির যৌবনের জয়ধ্বনি শুনতে পাই অগ্নিবীণার সুর ঝংকার, ধীর, স্থীর বাংলা বাংলা কাব্যে কবি তুমি এনেছিলে কালবৈশাখীর ঝড় দুর্বার । গীতিকার কবি তুমি সুরকার কবি বাংলা সংগীতেও…
মন বেঁধেছি মেঘের সাথে (শিল্পী মাহমুদা) দৃষ্টি এক গোলার্ধ, চোখে অন্তর মগ্নতার মধ্যযৌবন ক্রিয়া দেখা যায় নীরব নিসার, তুমি আমি বর্ষীয় গান অবিরাম মুষ্টিবদ্ধ আছে হাত, ঝরলে শ্রাবণ ঝরুক ঝর ঝর ঝর। দখিণা বাতাসে কেন কি কথা স্বরনে আজ বাজে ঔরষে আজ বুকে মৃদু মৃদু হতাদর সাজে মহারণ্যের মনে জেগেছে শত তৃশা, ক্রন্দন হিয়া তারই নিঃশ্বাস মিশা। আমি মন বেঁধেছি পথহারা আঁধার বরণ মেঘের সাথে শেফালী শিথিল আঁখিপাতে, শৌখিন শিকারী জীবন পুরবী দেখি বেদনাতে দিগন্ত ছোঁয়া থেকে যাবো ভ্রমর গুঞ্জরিতে। জেগে থাকি ঘুমের অনন্ত অম্বরে হাওয়া বেড়ে যায় বিদ্যুৎ কাঁদে মেঘ ঝরে রোমাঞ্চিত উত্তাল উচ্চারণে যতটা আমাদের স্বপ্ন হয় ততটাই…
নিছক অঙ্গীকার (যুথিকা জ্যোতি) বলেছিলে আসবে তুমি, রেশমী জোছনা রাতে থাকবে দাঁড়িয়ে শাঁন বাঁধানো পদ্মদীঘির পারে, মধুর মিলনে। লয়ে হাজার রঙ্গীন স্বপন তোমার আকাশ দুটি আঁখিতে। আসবে সন্তর্পণে নৈঃশব্দে নির্জন নিভৃতে ছড়িয়ে মধুর সৌরভ, করে বিস্মিত মোরে, ঘন ঘন ফেলে নিঃশ্বাস চুপিচুপি অভিসারে। বলেছিলে আসবে তুমি, বসবে মুখোমুখি স্নিগ্ধ সবুজ দূর্বা ঘাসের প’রে, ফোটায়ে হৃদি পদ্মকলি, বলবে কত না বলা কথা। গাইবে প্রেমগাথা, উল্লাসে উচ্ছাসে। রব চেয়ে আমি গভীর মগনে, শ্রবণে তব মুখপানে পরিতৃপ্ত নয়নে। পলে পলে উঠিবে দুলে তন মন মোর মধুর শিহরণে। বলেছিলে আসবে তুমি, রাঙ্গাবে রাঙ্গা অনুরাগে, আবেগে সোহাগে নিমগ্ন হয়ে মজিয়া প্রেমের সুধারসে। নিশ্চিন্তে হই বিভোর,…
