প্রিয় কবি নজরুল (সুরমা খন্দকার) দুই বাংলায় সমান আদর সমান কদর প্রিয় কবি নজরুল। অন্যায়ে অবিচারে অবিচল সোচ্চার তুমি, হৃদয়ে বিদ্রোহী হাল। অগ্নি বিনার সুর ঝংকারে জয় ধ্বনি শোনালে চির যৌবনের। কালবৈশাখীর ঝড় বয়ে এনে কাব্যে, সমাজের বুকে সঞ্চার করলে আলোড়ন বেসামাল পরাধীন জড়তার। নিদারুণ অভাবে অভিভাবক হীন, দুঃখকে জয় করলে দুখু মিয়া। শাসন শোষণ নিপীড়নের খড়গ তুমি মুক্ত চেতনার ঘুৃম জাগানিয়া। বাংলা সাহিত্যের বরপুত্র তুমি, সাহিত্য রসে টইটম্বুর। চির অম্লান তুমি রবে হৃদয়ে বহতা নদীর কল কল স্বর। সর্বহারার কবি, বিদ্রোহী কবি সাম্যবাদী মহাকালের জয়। সময়ের গলে পরালে যে গানের মালা সে গান রবে চির অক্ষয়।।
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
অচেনা [নাসরিন জাহান মাধুরী] আমিও চিনি নি তোমায় তুমিও আমায় না তবুও হেঁটে গেছি কত কত চেনাপথে কতশত চেনা অলিগলি চেনা মানুষের মতো আঙুলে আঙুল ছুঁয়ে চেনা স্পর্শ ভেবেছি অচেনা তুমি আমি চেনা গান গেয়ে গেছি
মনুষ্যত্বের ধর্ম (প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে, শ্রদ্ধেয় কবিকে উৎসর্গ করলাম) [তানভীর আজীমি] ধর্মের নামে ভাগ করেছি এই ধরণীকে, কিন্তু চাঁদ তারার ধর্ম কি হবে? বহমান নদীরতো অনেক নাম দিয়েছি, কিন্তু ঢেউয়ের ধর্ম কি হবে? জমজমের পবিত্র পানি, গঙ্গার সেই একই রূপ, মোল্লার স্নানের যেই পানি পণ্ডিতের একই রূপ। সব পানি ঠিক একই ভাবে পবিত্রতা আনে, সব পানিতেই জীবনের একই অনিন্দ্য মানে। বৃষ্টির পানি,তুষারের পানি,শিশির বিন্দুর কি হবে মোল্লা পণ্ডিত বলো তবে ঐ পানির ধর্ম কি হবে? ধর্মের নামে রেখা টেনে ভাগ করলে ভূসীমানা একই বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে নেই কারো মানা। বাতাস তো একই ভাবে সবাইকে জীবন দেয়, মুক্ত…
এ হৃদয় ভ্রমণ খোঁজে ।।জাহানারা বুলা।। এ হৃদয় ভ্রমণ খোঁজে তারই আবর্তনে অনুভবের রদবদল দেখি প্রতি ক্ষণে অনুভূতিরা চিঠি লিখে নিজস্ব ভাষায় দেওয়া-চাওয়ার বিবিধ ইচ্ছেরা সব স্পষ্ট হয় কিছু কথা আবেগ তাড়িত উদ্ভট যদিও সব কথা মিথ্যেও নয়। কখনো ভালোবাসার ধারা বর্ণনায় লেখা থাকে- ভালোবাসবো চিরকাল প্রতিটি মুহূর্তে হবে প্রেম ঝড়ঝাপটা বিহীন সকাল কথাগুলো সেই মুহূর্তে ঈশ্বরের মত সত্য মনে হয়। একই সে হৃদয় আবার বলে অন্য কথা অভিমান ঘনিভূত হয়, ছেড়ে যায় প্রতিজ্ঞারা অজস্র মিথ্যে সত্যের কায়দায়- আমি আর ফিরবো না’র মত আরো কিছু অসংলগ্নতা। কষ্ট উঠে আসে যখন বুকের পাঁজর বেয়ে গলায় আকাশের দিকে দৃষ্টি যায়, মনও যায়…
কবি শাহজাহান আবদালীর সংক্ষিপ্ত জীবনী: শাহজাহান আবদালী ১৯৬৪ সালের ২৫ মে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল বারি এবং মাতার নাম রাবেয়া খাতুন। বইপড়া এবং লেখালেখির অভ্যাস তার ছোটবেলা থেকেই। ১৯৮৮ সালে ঢাকার বাংলাবাজার, হাজী মান্নান মার্কেটে গ্রন্থকানন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন। এই প্রতিষ্ঠান থেকে দেশের নবীন-প্রবীণ লেখকের ছয় শতাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন ম্যাগাজিনে ছড়া-কবিতা, রম্যরচনা ও প্রবন্ধ লিখে আসছেন। সাহিত্যের অধিকাংশ শাখায় তিনি সমান তালে কলম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থ ৭০টি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে, বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ১ ম ও ২ য় খণ্ড,…
বিনম্র শ্রদ্ধায় কাজী নজরুল ইসলাম (সোমা তাহেরা চৌধুরী) নজরুল তুমি মহান পুরুষ তোমায় শ্রদ্ধা অবিচল, তোমার গুণের অথৈ সাগরে পাইনাতো খুঁজে তল। অগ্নিবীণা হাতে লয়ে এলে ধূমকেতুর স্বরূপে, দুঃসাহসী নতুনের কেতন উড়ায়ে দুর্বিপাকে। মহা সাইক্লোনে ঝড়বায়ু তুমি কঠিন আঘাত হানো, বিদ্রোহী তুমি রণক্লান্ত তবু শান্ত হতে না জানো। শব্দ-ছন্দের ঘূর্ণিঝড়ে সচকিত হয় প্রভু, চৈতন্যের শিখা প্রজ্জ্বলিত নেভেনি তো তাহা কভু। শীতরাত্রিতে ঝলসে তুলিছ গ্রীষ্মের রুক্ষ দহন, সম্ভাবনার রক্তিম পথে তোমারই তীব্র দাহন। সেই দাহনে উজ্জ্বলতম তোমারই দীপ্র শিখা, ‘কবি-প্রতিভূ’ তকমা তোমার ভাগ্য ললাটে আঁকা। তোমার তেজ-আলো-জোশ-তাপে জীবনের জয়গান, প্রবল ঝাঁকুনি সামাল দিয়াছে মহাপ্রত্যয়ী দিকপাল। হিন্দু পুরাণের সাথে লিখিয়াছ মুসলিম পুরাণ,…
কাজী নজরুল (ফারজানা ইয়াসমিন) কাজী নজরুল তুমি কি শুধুই কবি? তবে তুমি কি শুধুই লেখক? আমার কাছে তুমি বিদ্রোহী কবি। আমার কাছে তুমি প্রেয়সীর হৃদয় হরণকারী। তোমার মতো আর কেউ নেই এ মনের আঙ্গিনায় বসতকারি। তোমার প্রেমিক মন লিখেছে কবিতা। তোমার কঠিন মন করেছে প্রতিবাদ। তোমার আলোকময় মন করেছে সৃষ্টিকর্তার কাছে ফরিয়াদ। তুমি তোমার লেখায় আছো বেঁচে, আজও হয়ে দীপ্তমূর্তি চিত্রে। তুমি রবে স্মরণে যুগ যুগ ধরে। বাঙালি আমি গর্বিত, তোমায় এ বঙ্গেতে পেয়ে।
লোভীদের নির্লজ্জ দাপট [মাহাবুবা লাকি] আরো কিছুদিন যেতেই হয়তো দেখবো সমাজ সংসারের কানায় কানায়, শুধু ছলোনা আর অভিনয়ের বিজ্ঞাপন। দেখবো লোভী বেহায়াদের অদম্য শক্তি এক একটি আলোকিত বিলবোর্ডের নিচে দাঁড়িয়ে সুযোগ সন্ধানীর মতো দাঁত কেলিয়ে নির্লজ্জের মতো মদ গিলছে নিত্যনতুন কাম আর ধান্ধার প্রয়াসে। ভালাভুলা ভাবখানা মুখে এনে যেন কিছুই বোঝে না ওই মুহুর্তে তার সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়া কোন কবি ও পথচারীর দিকে অবজ্ঞায় তাকিয়ে আর একঢোক মদ গিলবে অনায়াসে মিথ্যা আনন্দে, যেন সে পৃথিবীর সেরা সুখি মানুষ ভেবে। এসব সাহসিকতার কাজ দেখে কিছুক্ষণের মধ্যেই অলিতে গলিতে ছড়িয়ে পড়ে তার নাম ধাম। এসব দেখে পুরাতন লোভীদের ভাঙা চোয়াল, টাক…
কবি নজরুল কে নিবেদিত ছড়া মননে ও মর্মে (জগলুল হায়দার) নজরুল ছিল সংগ্রামে আর নজরুল ছিল যুদ্ধে নজরুল ছিল কলোনির রুল তুলতে শিকড় সুদ্ধে। নজরুল ছিল সাম্যে এবং নজরুল ছিল ধর্মে নজরুল আছে মননে এবং নজরুল রবে মর্মে। নজরুল ছিল ভারতে আবার পাকিস্তান ও বঙ্গে নজরুল ছিল আমাদের সাথে আমরাও তার সঙ্গে। ছবিঃ ফাইল।
গন্তব্যের অপেক্ষা (সুরমা খন্দকার) ছন্দরা বেদনার কংক্রিটে সুদক্ষ পাথর হয়েছে। টুকরো টুকরো কথারা বুকের ভিতর প্রাচীর গড়েছে। গহীনে বিধে থাকে অবসন্ন নিশ্চুপ স্পন্দন। পাঁজরের হাঁড় দিয়ে দীর্ঘশ্বাসের যে ঘর বিদ্যমান। ভাবতে ভাবতে দুর্বোধ্য পৃথিবী আঁকড়ে ধরে আমি লিখতে চাই আমার নাম। তীব্র নৈঃশব্দে আমি বলতে চাই আমি ভালো নেই। কোথায় সে ঠিকানা? একদিন পৃথিবীর পাড়ে আমার একগাদা স্বপ্ন টুকরো টুকরো পড়েছিল এখানে। উচ্ছ্বাস মুগ্ধতার কতোবার মৃত্যু হয়েছে। কখনো চায়ের আড্ডার মতন টং দোকানে বিক্রি হয়েছে আমার অনুভূতিরা। তবুও গন্তব্যের অপেক্ষা….
