ডোমিনো [জাহানারা বুলা] (পর্ব -১) ব্যারিস্টার আনোয়ার খান লাগেজ ক্লেইম থেকে বেরিয়ে এসেই স্মৃতিকে দেখতে পায়। অসাধারণ সুন্দর একটি ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে উঁকি ঝুঁকি করছিলো স্মৃতি। আনোয়ারই প্রথম “হাই” বললো, স্মৃতির চোখ আনোয়ারের দিকে স্থির হলো। স্মৃতির ভেতরটা কেমন কাঁপছিলো, আনোয়ার টের পেলো। তাই তোড়াটা সে নিজেই হাতে নিয়ে একটুখানি ঝুঁকলো। ওই সামান্য ঝোঁকাতেই টুক করে ঠোঁট দিয়ে স্মৃতির ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো- উফফ, অবশেষে…! অপ্রস্তুত হলেও ভালো লাগলো স্মৃতির। তবে, চেহারাটা কেমন পান্ডুর বর্ণ হয়ে গেল। চোখ ঘুরিয়ে দেখতে লাগলো কেউ দেখে ফেললো কি না। আনোয়ার চোখের ভাষায় স্মৃতিকে আস্বস্ত করলো- কেউ…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
স্মার্টফোন ব্যবহার করলে সময়ের সঙ্গে ব্যাটারির অবস্থা যে খারাপ হবে, সেটা স্বাভাবিক। তবে নিশ্চয় চান না সেটা দ্রুত হোক। স্মার্টফোন চার্জ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে সংশয় আমাদের মধ্যে দেখা যায় সেটি হলো, রাতভর ফোনে চার্জার লাগিয়ে রাখা কি ঠিক? কিংবা স্মার্টফোন শতভাগ চার্জ করার সঙ্গে সঙ্গে কি চার্জার খুলে ফেলতে হবে? চলুন আমরা আজ সে প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি। ফোন নির্মাতারা কী বলে স্মার্টফোন কবে তৈরি হয়েছে, কেবল সেটার ওপর ব্যাটারির আয়ুষ্কাল নির্ভর করে না। আরও অনেক ব্যাপার-স্যাপার আছে। যেমন তাপমাত্রা অত্যধিক ওঠানামা করা কিংবা আপনার চার্জ করার ধরন। আমাদের ফোনের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিগুলো বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তুলনামূলক…
সুন্দরীতে কার নজর [তাহ্ মিনা নিশা] ভাবছি, আজ একটা রহস্য জীবন গল্প বলবো। রহস্য এই জন্যে যে— এই কাহিনীর পাত্র পাত্রীর সাথে ঘটে যাওয়া রহস্যের আজ পর্যন্ত কোনো সমাধানের কূল কিনারা পাওয়া যায়নি। প্রথম থেকেই শুরু করা যাক— দশ গ্রাম খুঁজে মোকামিয়া অবশেষে একজন সুন্দরীর দেখা পায়। সুন্দরীর নাম চন্দনা । চন্দনার রূপে পাগল হয়ে মোকামিয়া তার মুরব্বীদের দিয়ে সেই বাড়ীতে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। ছেলে শিক্ষিত স্কুল মাষ্টার, বাপদাদার উচ্চবংশ, ধানি জমি আছে পঞ্চাশ বিঘা, পুকুর আছে দুইটা, ফল বাগান আছে, আছে পাকা দালান।এই সব দেখেশুনে চন্দনার বাপ এক মুহূর্ত চিন্তা না করে মেয়ের বিবাহে মত দেয়। বিবাহের দিন বৌসাজে…
স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর এবং একজন ভুলু (নারগিস দোজা) পঞ্চাশ বছরের বঞ্চনা বয়ে বেড়ানো মানুষটা শেষমেষ চলেই গেল জীবনের ওপারে। অভাবে অনটনে কেটে গেছে জীবন। একজন মুক্তিযোদ্ধার কেউ খোঁজ রাখেনি। লাখ লাখ লোকের ভুয়া লোকের মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট জোগাড় হলেও একজন জেনুইন মুক্তিযোদ্ধার হাতের নাগালের বাইরেই থেকে গেছে সেটা। পঞ্চাশ বছর আগে সতেরো বছরের গহর রাতের আঁধারিতে বাড়ি ছেড়েছিল মুক্তযুদ্ধে যোগদিতে। সিমান্ত পাড়িদিয়ে বহু কষ্টে পৌছেছিল ওপরে। সেখান থেকে যুদ্ধে যোগদান। প্রথমে মুক্তিযোদ্ধাদের ফাই ফরমাশ খাটা তারপর সরাসরি যুদ্ধে। সতেরো বছরের ভুলু তার বয়সি আরও কয়েকজন সহ বাংলাদেশের ভিতরের ঢুকে পাকিস্তানি আর্মি অবস্থানের খোঁজ খবর জোগাড় করে আনে। পরে সেখানে সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধারা…
যেই লাউ সেই তো কদু ।।সুরমা খন্দকার।। চলবে আরো চলছে যেমন বনানী, সাভার সীতাকুণ্ড। বরাদ্দ তো আছে দেবার যেই লাউ সেইতো কদু! কে করবে রক্ষা আর কে করবে ফলো-আপ? পোড়া গন্ধে ঘুম আসে না কে মানে নীতি নির্ধারক? প্রায়ই ঘটে কিছুই হয় না জবাব দিহি করবে কে? বারে বারে কতো বারে এর শেষ কোথায় বলবে কে? যে সন্তান হারিয়েছে বাবা যে মা হারিয়েছে কলিজার বাচাধন । যার গেছে সে তো বুঝে, বুকের ভিতর কতো আগুন লেলিহান! স্তব্ধতার হাহাকার বার বার বলে আমি পারি না কিছু করতে। বহু সীমাবদ্ধতা আছে তবুও চাই সবুজ ধরায় বাঁচতে।
মোবারক আমার কেউ না (রাজু আহাম্মেদ) রাত তখন ১২ টা।বিশেষ কিছু জায়গায় বাতি জ্বলছে তাছাড়া স্বর্ণলতা টেক্সটাইলের সম্পূর্ণ ভবনই অন্ধকার। সবাই বেরিয়ে গেছে। কোলাহলময় পরিবেশ এখন নিঃস্তব্ধ। মমতাজ মিয়া প্রতিদিন এই সময়টার অপেক্ষায় থাকেন। সবাই বের হয়ে গেলে গেট লাগিয়ে তিনি চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়েন। ঝিরঝির বৃষ্টি পড়ছে, তিনি জানালা খুলে দিলেন। রাস্তায় দু একটা গাড়ি তখনো চলছে।কিছুক্ষণ ফাঁকা রাস্তার দিকে চেয়ে থেকে পাল্লা আটকাতে যাবেন, তখনই তিনি জানালার পাশে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে নড়েচড়ে বসলেন। প্রথমেই আওয়াজ না দিয়ে, আড়চোখে দেখার চেষ্ঠা করলেন। দেয়ালে হেলান দিয়ে পিচ্চি একটা ছেলে বসে আছ। ঠান্ডায় কাঁপছে দেখে মমতাজ মিয়া বললেন,”কেরে তুই? এই পানির…
হৃদয়ের আঙ্গিনাতে। ।।দিলীপ গমেজ।। হরিণ শিশুর মতোই আজকাল কেঁপে কেঁপে উঠি, নীলাভ স্বপ্নগুলো কেমন যেন নীলচে সময় ধরে হাটছে। উদাসী হাওয়ায় শুধুই একটা মুখই ভেসে উঠে বারবার, ঘুম জেগে আর খুঁজে পাই না তাকে। মনের আয়নায় লুকায় সেই মুখ, দুচোখের পাতায় ভাসে স্বপ্নিল ছায়া। একখণ্ড নক্ষত্রের টুকরো বিষণ্ণ আঁধারে হারালেও, আহত কন্ঠের ধ্বনি বেজে উঠে প্রতিক্ষণে, শব্দহীন এ মন, কথা বলে উঠে শ্বাশত সুপ্ত বাসনায়, মন চক্ষুর পর্দায় ভাসে পরস্পরের আঙুল, আমি খুঁজি, চোখ বুজি, আবার জেগে উঠে এই অন্তর। সময় বয়ে যায়, তবু মনের অস্থিরতা কমে না, বাতাসের গায়ে বিষণ উদাস বেলা, ক্ষণে ক্ষণে উপচে পড়া ঢেউ এসে থমকে…
অগ্নিকাণ্ড [রবিউল ইসলাম] শোকাহত হৃদয় এখন জলে ভরা নয়ন ভাণ্ড, বাতাসেতে লাশের গন্ধ সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ড। ছাই হয়েছে কতো মানুষ গেছে কতো অঙ্গ পুড়ে, অঙ্গহানি কারো হাত পা বিস্ফোরণে গেছে উড়ে। আপনজন আজ হারিয়েছে স্বজনেরই আহাজারি, নিথর দেহে পড়ে আছে কতো শতো লাশের সারি। উদ্ধারকর্মী সেও তো আজ চলে গেছে লাশের দলে। অগ্নিদগ্ধ বাবার ঐ লাশ ডাকবে না আর খোকা বলে। সন্তান হারা কতো মায়ে আছে কতো পথো চেয়ে। থামে না তো কান্না কভু অশ্রু ঝরে দুচোখ বেয়ে। রচনাকাল ৫-৬-২২ রাত্রি
ঋণ শাহান আরা জাকির চুলায় হাঁড়ি চাপিয়ে দু’চোখে অন্ধকার দেখে নিলীমা। পানি ফুটে টগবগ করছে। ঘরে এক মুষ্টি চাউলও নেই। ডাল, আলু, শব্জি কিছুই নেই। পানি শুকিয়ে যায়। আবার পানি দেয়। ফুটফুটে দুটি ছেলে মেয়ে নিলীমার। শান্তুনু আর অতনু। আজ চার পাঁচদিন স্কুলে যায় না। স্কুলের বেতন বাকী। রিক্সা ভাড়ার অভাবে পায়ে হেঁটে হেঁটে স্কুলে যাওয়া আসাতে দুজনেরই গা’টা গরম। জ্বরজ্বর ভাব। সকালে নাস্তাবানানোর মত আটাও ছিল না। পাশের দোকান থেকে বাকীতে চানাচুর মুড়ী এনে সবাই নাস্তার কাজ সেরেছে। নাস্তা খেয়ে শান্তনু আর অতনু আবার ঘুমিয়ে পড়েছে। নিলীমা বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে চোখ মোছে। দুজনের পেটটা কেমন অভূক্ত মানুষের মত লেপটে…
নৈতিক শিক্ষা শূন্যের ঘরে (শীরীন আক্তার) ০৬/০৬/২০২২ জাতি আজ শোকে স্তব্ধ, হতবাক। অশ্রু বিসর্জন করতেও ভুলে গেছে। নির্বাক বিষণ্ণ চোখ মেলে আছে টিভি ও মোবাইলে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কন্টেইনার ডিপোর মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ আর লাফিয়ে লাফিয়ে আগুনের আজরাইল ছড়িয়ে পড়েছে ওই অঞ্চলের কয়েক মাইল পর্যন্ত। ১৪ ঘণ্টার মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ২৯টি ইউনিট মিলেও পারছেনা সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কখনও লাশ হয়ে যেতে শোনা যায়নি। অথচ সীতাকুণ্ডে কন্টেইনার ডিপোর আগুনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও নিমেষেই লাশ হয়ে গেছে! কারো পা,কারো হাত সহ পুরো মানুষটিই কয়লা হয়ে গেছে। মোবাইলে ভিডিও ও কথা বলতে বলতে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণে নিখোঁজ হয়ে গেছে সে যুবক।এইযে…
