প্রিয়কথন উম্মে কুলসুম মুন্নি শীতের সময় দুপুরের রোদটা বেশ মজার। দখিনের জানালা দিয়ে কি সুন্দর পরম মমতা নিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে না বলে। যেন কত যুগের চেনা সে, বড্ড মায়া লাগে। তাই আমি ওর নাম রাখি মায়া রোদ। মায়া রোদটা অনেকটা তোমার মত। নিজের অজান্তে যেমন তুমি আমার মনের পুরোটা দখল করে নিয়েছ, ঠিক তেমনি। আজকাল হৃদপিণ্ডটা প্রতিবার তোমার নাম করেই বেজে যায় ঢং ঢং শব্দে, তুমি কি তা জানো ? বোঝো তুমি? কি এক শীতল শব্দে তোমার নামে নিঃশ্বাস নেয় এই চেনা শরীরটা, ওটা অক্সিজেন আমি ওর নাম দিয়েছি তুমি, তুমি ছাড়া তো আমি বাচঁতে পারি না, জানো…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
প্রতিগল্প রেজাউদ্দিন স্টালিন ঘরের আছে একটা দেয়াল থাক সে, জন্ম আমার বিশ শতকের বাক্সে। আর কিছু নয় অন্ধ ছাদের বক্ষে, বন্দী ছিলাম শূন্য ধুসর কক্ষে। পা বাড়ালাম বাইরে যাওয়ার জন্য, একুশ শতক বললো জীবন ধন্য। চোখ ধাঁধানো অজস্র সব যন্ত্র, ড্রোন মুঠোফোন নেটের নানা মন্ত্র। কিন্তু আমি পিছলে পড়া বিশ্ব, উপনিবেশ- ফন্দিতে সব নিঃস্ব। ঋণের স্রোতে ভাসছে বোকার ফূর্তি দাতাগণতো যিশুর প্রতিমূর্তি। দিচ্ছে সবই খাদ্য এবং বস্ত্র, শর্ত কেবল কিনতে হবে অস্ত্র। যাক ভেসে সব দুর্যোধনের চুক্তি কি প্রয়োজন হত্যার এ প্রযুক্তি। আমরাতো চাই শুনতে বাঁচার গল্প, চোখ ধাঁধানো লোভের যা বিকল্প।
আগুন এম.আর.মনজু আগুন-আগুন-আগুন- আমজনতা বাজার হতে ভাগুন, সব জিনিস এর দাম বেড়েছে মধ্যবিত্তের সব কেড়েছে। ধনীরা আজ মুচকি হাসে গরীবরা হাত পেতে কাশে, মধ্যবিত্তের মনে জ্বলে অবিরত আগুন বাজার হতে ভাগুন। পাগলা ঘোড়া পাগলা বাজার থামান বড়োই দায় মধ্যবিত্তের কঠিন সময় যায় পেরিয়ে হায়!
অভিনয় সামসুন্নাহার জীবন নামক মঞ্চে আমরা সবাই কম বেশি করি কত অভিনয়। রঙ মেখে সঙ সেজে অভিনয়টা বেশ করি। কত কাহিনি কত ঘটনায় মনোরঞ্জন করি। জীবন নামের মঞ্চের আড়ালে চাপা পড়ে থাকে কতই না দীর্ঘস্বাস। এই জীবনের মঞ্চে আমরা কেউবা কাঁদি কেউবা হাসি। তবুও আমরা এই জীবনটাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। অভিনয় আর বাস্তবতার পার্থক্যের মুখোশটা খুঁজে মরি। ভালো থাকার, ভালোবাসার অভিনয়টাও বেশ করি। ক্ষনিকের তরে হলেও দুঃখটাকে বুকে চাপা দিয়ে সুখের রাজ্যে ভাসি।
চিঠি দিও মাসুমা নিরু আকাশের কাছে ঠিকানা রেখেছি মনে পড়ে যদি কখনো চিঠি দিও ভুল করি তারাদের মাঝে খুঁজে দেখো না, আমিও খুঁজছি তোমাকে বলতে পারিনা তৃষিত হৃদয় ছুটে ছুটে যায় আকাশের নীলে, নীলিমায় হারায়। ঈশান কোণে জমে থাকা মেঘে ভিজে যাবে তুমি, চোখের জল যখন ঝরে পড়বে। ভেজা হাওয়ায় মন কেঁদে যায়, মেঘের ফাঁকে বিজলী চমকায় তোমাকে চাওয়ায় কেঁদে ফেরে আঁখি জল ঝরে যায় শ্রাবনে আসি। কান্না শেষে রঙধনু হাসে সাতরঙা সাজে তোমাকে সাজাতে আমি এতো তারার ভীড়ে ঠিকানা হারায় বারে বারে তোমাকেই চাই, সব চাওয়া শেষে তোমাতে হারায় আবার ভালোবেসে। অভিমানী আবেগ ভেসে বেড়ায় আকাশের গায়ে তারাদের ছায়ায়…
১) কাল্পনিক প্রতিশ্রুতি কথা দিয়েছিলাম তোমায়, হে প্রকৃতি মাতা-জননী আবার ফিরে আসব তোমার-ই মাঝে, রক্তিম বর্ণ অবেলার সেই গোধূলি সাঁঝে। অপরূপ সৌন্দর্য আর সবুজের মায়ায়, উদার আকাশের নীলচে ছায়ায়, বলেছিলাম আমি ব্যাকুল হয়ে তোমায়, দূরে যেতে চাইনা কভু তোমায় ছেড়ে। তোমার কোমল মমতা দিয়ে চিরকাল বেঁধে রেখো আমায়। তোমায় আমি কথা দিয়েছিলাম সবুজ ধানক্ষেতের আলতো ঢেউয়ে মিশে যাব, বাতাসে দুলতে থাকা ওই কলমি ফুলের সাথে আমি আবারো নৃত্যে মত্ত হব। ফিরে আমি আসব আবারও ক্লান্ত বিলের সেই রূপালী জলে, নির্বিঘ্নে ভাসতে থাকা বুনোহাঁসের ওই শ্রান্ত দলে। তাইতো আবার এসেছি ফিরে তোমার-ই আশ্রিত কোলে, করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা অরণ্যে একবার হারিয়ে…
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ আলোচক : প্রফেসর ড. এ কে এম আবদুল্লাহ সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ঢাকা। শিক্ষা, শিক্ষণ, শিক্ষক ও প্রশিক্ষক শব্দগুলো পরস্পর জড়িত, একে অন্যের পরিপূরক। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু থেকে এগুলো নিয়ে নানা ধরনের চিন্তা গবেষণা চলছে। এরই প্রেক্ষিতে শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রাচীন ধ্যান-ধারনার পরিবর্তে নিত্য নতুন কলা-কৌশলের মাধ্যমে সময়োপযোগী শিক্ষাব্যবস্থার নতুন দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে, এ অগ্রগতির ধারার একটি অনুষঙ্গ হচ্ছে শিক্ষার পাশাপাশি ‘প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা’। শিক্ষা শুধু গ্রহণ করলেই শেষ হয় না, বাস্তব ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ ও ফলপ্রসূ করার জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। কিন্তু সে প্রশিক্ষণের উপর গবেষণাধর্মী খুবই কম মৌলিক গ্রন্থ রচিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উদীয়মান লেখক ও গবেষক ড. নজরুল…
স্বপ্ন কথা লাবণ্য সীমা আমার দুচোখ ভরা স্বপ্ন, কখনোও তা ক্লান্ত হয় না। নিজেকে দেখেছি, আর হাজার স্বপ্ন বুনেছি। কত কত স্বপ্ন জাল ছড়িয়ে দিয়েছি আমার চারপাশে। যখন শিল্পীর তুলিতে রঙ ঝরে তখন আমি উদাস চোখে তাকিয়ে থাকি রঙ কেনার সামর্থ্য ছিলো না তাই কোনও চিত্র আঁকা হয়ে ওঠেনি। কল্পনার রঙ দিয়ে সাজিয়েছি হাজারও ক্যানভাস। সেদিন পথ চলতে চলতে হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলাম গলির ঐ মোড়টাতে একটি রুমে কতগুলো ছেলে গিটারে গান বাজাচ্ছে গিটার শেখার শখ সেই ছোট বেলা থেকেই। কতবার বায়না করেছি মায়ের কাছে মা, বলতো ভালো করে পড়ো এবার ভালো রেজাল্ট করলে ঠিক কিনে দিবো। টিউশন নিতে পারিনি বলে…
আমি চলে গেলে শারমিন আখতার মনি আমি চলে গেলে কতটা বদলে যাবে এক ফোটা রোদ এসে কি ছুঁয়ে দেবে বারান্দায় কৃষ্ণচুড়া ফুল ফুটবে কি গাছের গোড়ায় আগাছা জন্মাবে কি জীবনটা সহজ হয়ে যাবে কি আমি চলে গেলে নতুন জীবন শুরু হবে আমাকে ভুলে।
অভাগা জন্মভূমি রহিমা আক্তার লিলি সোনার বরণ মুখটি তোমার দীঘল কালো কেশ, আজ কেনো মা তোমার এমন ছন্নছাড়া বেশ! সোনার ধানে ভরে যেতো তোমার আঙিনা, কিষাণীর ঐ মুখের হাসি আরতো দেখি না। তোমার কিষাণ মরছে ধুকে ঠকছে জনম দুখী, লুটেপুটে খাচ্ছে সবই মধ্যস্বত্বভোগী। তোমার আঁচল খামচে ধরে নেই যে কারো খেয়াল, তোমার বক্ষ খুবলে খাচ্ছে চিল শকুন আর শেয়াল। কোথায় তোমার সোনার ছেলে কোথায় তোমার মান, দুর্নীতি আর চাঁদাবাজি দেশটা গোরস্থান। ক্যাসিনোতে টাকার খেলা টাকা গুনতে যায় বেলা, রাজপ্রাসাদ আর মিনার চূড়া মহা সুখের মিলন মেলা। তোমার মুখে কালি মেখে স্বর্গ গড়ে ধামে, মিনার চূড়া বানায় তারা মেহনতীর ঘামে। তোমার…
