আমি কবি নই মনিরা ইসলাম আমি কবি নই বর্ণমালার সঙ্গে অতটা সখ্যতা গড়ে ওঠেনি আমার এখনো বর্ণে বর্ণে মিলন ঘটিয়ে একটা সম্মোহনী শব্দ বুনতে পারিনি আমি যে শব্দমালা তোমার আমার মনের কথা বলে! তবুও তুমি আমাকে কবি বল ভীষণ আড়ষ্ট হয়ে পড়ি তোমার কথায় থমকে যাই, লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে। মিথ্যে বলবো না কিছুটা সুখানুভূতি হয় বটে কিন্তু ভীষণ ভয় হয়, তুমি কবি বললে। ভয় হয় কবিতার প্রেমে পরে তুমি আমাকেই ভুলে না যাও! কবি সে-তো অনেক কিছুর সমাহার আমার যে অত গুণ নেই আমি শুধু তোমাকেই চিনি আমার বর্ণমালার প্রতিটি ভাঁজে!! এতোটা স্বার্থপর হলে কি কবি হওয়া যায়?…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
অচল পয়সা এস এম শহীদুল্লাহ সরকার (মেলান্দহ জামালপুর) অবৈধ পথে হারাম রুজি, নিত্য করে যারা, গুরুর সন্ম্মান নষ্ট করতে, দ্বীধা করেনা তারা। রাতারাতি হয় বড়লোক, আকাশে দেয় লাফ, আগুল ফুলে হয় কলাগাছ, বাবাকে দেখায় ভাব। শিক্ষা দীক্ষা না থাকিলেও, টাকায় করে বাহাদুরি, লম্ফঝম্প তারা মেরে উড়ায়,, ট্রেনের ছাদে ঘুড়ি। নিজেকে ভাবে বড় গুনিজন, করে চেয়ার দখল, কাজ কর্মগুন নয়তো খাঁটি, সবখানে ভাব নকল। হইলে টাকায় পকেট ভারি, চলে তারা ঝাকানাকা, পশ্রাব পায়খানায় যায় মটরে, মারগুতে লাগায় চাকা। অচল পয়সা কভু হইলে দামি, যেমন মুল্য বেড়ে যায়, অসাধুজন তব হইলে সাধু, যা হবার তাই হয় ।
তুমিও কেঁদেছিলে মুহাম্মদ শামসুল হক বাবু কবিতা লিখেছি আমি আঘাত পেয়েছে সে কেউ তোমরা বলতে পারো তিনি আমার কে? ঐ “বুকের ভিতর ব্যথা” নামক আমার কবিতা তুমি যেন জাফর ইকবালের ভালোবাসার ববিতা। তোমার চেয়েও বেশি ভালোবাসি বললে আমায় মহব্বতপুরে হাসি ফুটেছে আমাদের ক্ষমায়। সে যে আমার প্রাণের স্পন্দন আমার দেহের শির কেঁদেছে সে কেঁদেছি আমি নিশ্চুপ ছিল নীড়। কষ্ট পেয়েছে সেই কবিতায় আমিও পেয়েছি কষ্ট মজবুত হয়েছে বিশ্বাস আজি ভালোবাসা হয়নি নষ্ট। বলেছিল সে তুমি তো কবি লেখতে পারো সবই আমি না হয় বলতে পারি না- দুঃখ পাই যতই। কষ্ট দিয়ে কষ্ট পেয়েছি দেখাতে যদি পারতাম হাত পা বাঁধা না…
বিধাতার খেলা নুসরাত জাহান শারমিন রাতের নিস্তব্ধ প্রহর আমার কেড়ে নেয় ঘুম, মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ, ব্যথা জাগায় অসীম। কেউবা ঘুমায় সোনার পালঙ্কে, কেউবা রাস্তার ধারে, কেউ ফেলে দিচ্ছে আহার, কেউ ভুকছে অনাহারে। কারো আছে অট্টালিকা নেইকো থাকার কেহই, কোথাও বা হাজার লোকের মাথার ছাদটুকুই নেই। এ কেমন নিদারুণ ভেদাভেদ করছো তুমি বিধি – আমিতো জানি তোমার কাছে সমান সকল শ্রেণি। পিতা- মাতাহীন কত সন্তান ঘুরছে পথে বাজারে – সন্তানের জন্য কত বাবা- মা কাঁদছে তোমার দুয়ারে! এ কেমন বিচিত্র খেলা খেলছো আমার প্রভু? সকলের মনে শান্তি দেও দুঃখ দিওনা কভু!
অনিমেষ শাহনাজ পারভীন আমি তাকিয়ে দেখি কালো মেঘ তবুও বারবার খুঁজি জোছনার আলো, আছি তো বেশ ভালো! তবুও ভূগোল ম্যাপ দেখি অজস্র নাই আমার কোন যন্ত্র মন্ত্র। বেহায়াপনা মন সামলাতে সারাক্ষণ এতো অস্থির তোলপাড় যখন তখন তবুও আশায় আশ্রয় খুঁজতে থাকি সর্বক্ষণ। অতৃপ্ত রসনার কথা হবেনা কারও কাছে শেষ, নির্লজ্জা আত্মার অভিপ্রায় ও ক্ষণিকের জন্য দেখি অনিমেষ। তবুও আছি তো বেশ ভালো! দেখি অন্ধরাতে ঝাপসা চোখের কোনে এক রত্তি আলো,, তাই দেখতে পাই না কোন কালো। আমি বড্ডই বেশি দেখি ঐ নীল আকাশ বারবার ছুঁয়ে দেয় নিরবে আমায় ঐ বাতাস। কিন্তু,,,, নিরব আওয়াজ দেহ খানি করে জরাজীর্ণ বুঝতে পারি শব্দটা…
আমার এলোমেলো ভাবনা যয়া খান মুষলধারায় বৃষ্টি চারিদিকে নিকষ কালো অন্ধকার। চলছি আমি একা আমার গন্তব্য পথে। ভিষনভাবে অনুভব করছি তোমার অনুপস্থিতি। যদি থাকতে পাশে কেটে যেতো সময়গুলো গানের সুরে , কবিতার চরণে অথবা বৃষ্টির শব্দতরঙ্গে । এখনও অনেক টা পথ বাকি… কি করছো তুমি ? যদিও তোমার প্রতিদিনের রোজনামচা আমার মুখস্থ। আমার মত তুমিও কি ভাবছো ? প্রতিটি বৃষ্টি কণার পতিত শব্দের তালে তালে তোমার কন্ঠস্বর ভেসে আসছে আমার কানে, স্মৃতিগুলো রঙের ছোঁয়ায় ভেসে উঠছে আমার দৃষ্টির ক্যানভাসে। নিকষ কাল অন্ধকার পড়ছে বারবার তোমায় মনে। বড্ড ইচ্ছে হচ্ছে তোমার হাতে হাত রেখে অবিরাম পথ চলতে, চোখে চোখ রেখে মনের…
পাষাণ পৃথিবী ফিরোজ পাটওয়ারী পাষাণ পৃথিবীতে ক্ষণজন্মা হয়ে পেয়েছি অনেক কিছু, বুঝতে পেরেছি আজব জগৎ’টি বড্ড উঁচু-নিচু! এখানে মানুষ ভালবাসা বিকিয়ে দুঃখটাকেই কেনে, প্রয়োজনের তাগিদে আপন হওয়া মানুষদেরকেই চেনে! এখানে মানুষ দুঃখ-দুর্দিনে যাঁদেরকে কাছে পায়, স্বার্থান্বেষী মনগহীণে আবার তাদেরকেই ভুলে যায়! এখানে মানুষ বড়ই নিঠুর রয়না মনে পিছুদিন, তবুও মানুষ তোমাদের তরে রইল আমার অনেক ঋণ! জন্মেছি আমি তোমাদের জন্য লুটে-পুটে খেয়ে নিও, বিনিময় তেমন চাইবনা কিছু কষাঘাত’টা একটু দিও! ক্ষমা করবে জানি নিশ্চিত যদি থাকে অজ্ঞতা কিছু, ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতাসহ অনুরোধ নিয়ে ঘুরছি তব পিছু!
একান্তই আমার আমি আয়শা সাথী সব কিছুর উর্ধ্বে, নিজেকে ভালবাস; অযাচিত কামনায় পিষ্টে হৃদাসনটা, যে অন্ধকার অমানিশায় আচ্ছন্ন কর- প্রতি সূর্যজ্বলা দিবস বেলায়, সেথায় আলোর বিচ্ছুরণের অন্বেষণ অনন্তকাল নিজের উপরই অর্পিত হোক! সুপ্রিয়া’র বয়ে আনা আলোক বার্তা, হয়তো নব অনুপ্রেরণায় অনুরক্ত করতো, হয়তো মুছে দিত কলুষিত বিষণ্ণতাগুলো, হয়তো কোন এক প্রত্যাশিত কালিসাঁঝে- কেউ একমুঠো জোনাকি আলোয় রাঙাতে অপেক্ষার প্রহর গুনতো তেপান্তরের ঘাটে! সেটা যখন বিধির লিপিতে দুষ্প্রাপ্য, তবে থাক না লক্ষ-কোটি আলোকবর্ষ দূরে। যা একান্তই নিজের করে পাওয়া হয়নি, তা না হয় না পাওয়াই থাক! তোমার তরে তুমি তো রইলে! তোমার দিগন্ত বিস্তৃত বিরানভূমি, তারকারাজি সজ্জিত অসীম আকাশ, নতুবা জোনাকি…
জলরঙ সাঈদা সানজিদা মেঘে-মেঘে চলো ঢাকি আকাশের রঙ আঁধার গগনে বাঁধি যাপিত জীবন খুব ভোরে ঝুপ করে নামি চলো জলে জলরঙে রাঙা হবো কায়ার কাঁপনে রঙে-রঙে মাখামাখি হয়ে একাকার মায়াবী নেশার ঘোরে জাগে শীৎকার। ঠোঁট আর ললাটের সন্ধি যখন কপোলেও দিও এঁকে তিল চুম্বন। মেঘ হয়ে ভেসে যাও আকাশের গায়! বহে নদী কলকল বৃষ্টির আশায়! নিজেরে বুঝতে তবে এতো কেন দেরি! আকাশ সাজাতে গড়ো মেঘ মঞ্জরি জলরঙে রাঙাও আজ মেঘেদের রঙ রঙের ছটায় দাও তুলির আঁচড়।
নিউইয়র্ক-ফেরৎ দার্শনিক ড. সলিমুল্লাহ খানের প্রিয়দিন-জন্মদিনে, সাবেক স্ত্রী তসলিমা মুনে’র কলমে দাম্পত্যের দাগগুলো: সালেম সুলেরী তিনি প্রবল-পান্ডিত্যে মুখর বাংলাদেশের বিরলপ্রজ দার্শনিক। অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান– যিনি স্বনামে সুপরিচিত। প্রকাশনা, টক-শো, স্পষ্টবাদিতা আর যথাস্থানে যথা-কোটেশন প্রদান..। ড. সলিমুল্লাহকে এনে দিয়েছে ‘বিশ্ববাঙালির’ খ্যাতি। জন্ম ১৯৫৮-এর ১৮ আগস্ট, কক্সবাজারের দ্বীপভূমি মহেষখালিতে। সে বিবেচনায় সলিমুল্লাহ খান একজন ‘সমুদ্রসন্তান’ও। আমি জীবনচক্রে বৃহত্তর রংপুর থেকে ঢাকায় থিত হই ১৯৮১-তে। সে বছর দুটো বই বেরোয় সলিমুল্লাহ খানের। প্রথম কাব্যগ্রন্থ : ‘এক আকাশের স্বপ্ন’। প্রবন্ধগ্রন্থ : ‘বাংলাদেশ : স্টেট অব দ্যা নেশন’। এ-নামটি নিয়েছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাকের উদ্ধৃতি থেকে। আলোচনা লিখেছিলেন প্রথাবিরোধী বুদ্ধিজীবী আহমদ ছফা। ড.…
