এখনো তোমাকে ভালোবাসি [আফছানা খানম অথৈ] আকাশ ও শিলা দু’জনের রিলেশনের বিয়ে। আকাশ পরিবারের সেঝো ছেলে মাস্টার্স পড়ে। বড় দু’ভাই এখনো বিয়ে করেনি। তাই বিয়েটা আপাতত গোপন রাখা হয়েছে।শিলা পরিবারের ছোট মেয়ে।এখনো লেখা পড়া শেষ হয়নি অনার্সে পড়ে।পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বিয়ে..। তাছাড়া একটা বেকার ছেলেকে বিয়ে কেউ মেনে নেয়নি।দুই পরিবার অসন্তোষ্ট।দু’জনে হোস্টেলে থেকে লেখা পড়া করতো।বিয়ে করার পর হোস্টেল ছেড়ে দিয়ে ভাড়া বাসায় উঠল।কিন্তু দু’জনে ছাত্র সংসারের খরচ কিভাবে চালাবে। শিলার বাবা কয়েক মাস আগে মারা যান।শিলার লেখা পড়া, বিয়ে শাদী এসবের জন্য তিন লক্ষ টাকা ব্যাংকে তার নামে একাউন্ট করে রেখে যান।একাউন্ট থেকে কিছু টাকা তুলে শিলা কোনমতে…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
মনের কথা (শফিকুল ইসলাম হাসান) আমি চিরকাল বেঁচে রবো না ইহকালে। হয়তো মোর কবিতাখানি বেঁচে রবে সাহিত্যের বৃক্ষ ডালে। তোমরা চিরতরে ভুলে যাবে এই আমাকে। তবুও ছন্দের মাঝে মনে রেখো এই ক্ষুদ্র বন্ধু কে। আমি চিরদিন বেঁচে রবো না তোমাদের মাঝে। থাকতে চাই ছন্দে ভরা বইয়ের ভাঁজে। ডুবে গেলে জীবন বেলা উঠেনা সেই রবি। আজকে আছি সবার মাঝে কাল হয়তো ছবি। প্রকৃতির মাঝে চলতে ফিরতে লেখায় করেছি কত ভুল। ক্ষমা করে দিও শেষ বিদায়ের সমাধিতে ফুল। তোমরা সবাই সুখে থেকো নাহি নিও মনে ব্যাথা। আপ্লুত মনে যা লিখেছি সবি মনের কথা।।
গ্রাম তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছি ফেলে যাচ্ছি খড়কুটো ঘাসলতা একটা সরু নদী হৃদয় সম পর করে যাচ্ছি প্রাণের বান্ধব দূরে সরে যাচ্ছে একটা খেলার মাঠ আর আমার শৈশব নিয়ে খেলতে থাকা অগণিত সহপাঠী আর খেলার সাথী। ফেলে যাচ্ছি প্রাণের প্রাণী কুকুর বিড়াল ছাগল গরু ফেলে যাচ্ছি একটা গ্রামীণ আকাশ ফেলে যাচ্ছি কলিজা চিরে ফেললে যাকে দেখা যাবে – আত্মার আম্মাকে। ঘুম ঘুমিয়ে গেছে ঘুম ঘুমিয়ে গেছে রাতের বিছানায় দিনের কষ্ট ভুলেছে নয়ন আগামীকালের কষ্টরা দেখা দেয় চোখের ভেতর, সামান্য গভীরতায়। হৃদপিণ্ডের ভেতর রক্ত জমাট বাঁধা পুরনো রক্ত, কৈশোরের রক্ত সেই রক্ত তরল করলে দেখতে পাবেন প্রেমিকার ছবি। একটা মেয়ে বুড়ি…
তুমি যদি চাও তুমি যদি চাও আকাশ হবো ভেজা জোছনায় স্নান করবো তুমি যদি চাও দিগন্ত হবো মেঘপালকে সাঁতার দেবো তুমি যদি চাও জলরাশি হবো বিন্দু বিন্দু প্রেম দেবো তুমি যদি চাও ফুল হবো তোমার শ্বাসে ঘ্রাণ দেব তুমি যদি চাও অনুভূতি হবো তোমার মনের খোরাক দেব তুমি যদি চাও তারা হবো আঁধার রাতে পথ দেখাবো তুমি যদি চাও বাইজী হবো যুবতীর নাচে প্রাণ জুরাবো তুমি যদি চাও বাঁশি হবো তোমার সুরেই সুর দেবো তুমি যদি চাও হারিয়েও যাবো না ফেরার দেশে পথ হারাবো। একান্ত কথন কত যে দিন গিয়েছে কেটে অন্ধকারে একা আমার দূয়ারে এসেছে ভোর পাইনি তোমার…
কারোরই ছিলাম না আমি কোনো দিন ।। জাহানারা বুলা।। ( পর্ব -১) অনন্যা নরওয়ে ছেড়ে এসেছে প্রায় ছ’বছর। তবুও, তার শরীর মন জুড়ে লেপটে আছে সেখানকার জলবায়ু। মোসেসের পবিত্র অবয়বের আদলে একটি অবয়ব। আর, সেই দেহের উষ্ণ অনুভব। জীবনের অনেক ঘটে যাওয়া ঘটনাকেই ভুলে গেছে সে, ভুলতে পারছে না যা তা হলো নরওয়ের সেই বাড়ি আর বাড়ির সকাল, দুপুর, রাত। নরওয়ে তার মনের সাদা বোর্ডে কালো মার্কারের দাগের মত স্পষ্ট হয়ে জেগে আছে। এর কারণ, রজত এবং তার বাড়ি। দু’য়ে মিলে যেন এক সৌম্য সুখ রচনা করে দিয়েছিলো অনন্যার মনে। এই তো আজ ভোরেও, বিছানায় শুয়ে থেকে অনন্যা ফ্ল্যাশব্যাকে। মনে…
আকাশের চাঁদ (ইমতিয়াজ সুলতান ইমরান) আকাশের চাঁদ দেখে খুকু আজ ছড়া লেখে চাঁদ মামা চিকনা ঐ দেখো ঠিক না? ঠিক যদি বলে থাকি আয় করি মাখামাখি কোলাকুলি করব লাল জামা পরব। লাল জামা, নীল জামা দেয় বাবা, দেয় মামা… যাব মামা বাড়িতে চড়ে রেলগাড়িতে। রেলগাড়ি ঝিকঝিক ঈদ এলো ঠিক ঠিক রেলগাড়ি ছুটেছে… আঁখিঘুম টুটেছে। ঈদ এলো! ঈদ এলো… মনে খুব খুশি পেলো ঈদ মানে সমতা ঈদ মানে মমতা। ——————— ইমতিয়াজ সুলতান ইমরান ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক এয়ারপোর্ট, সিলেট।
তোমরা করে দিয়েছো বদনাম যে এক পবিত্র প্রেম ভালোবাসার মমতায় জড়িয়ে মানুষ বেঁচে থাকে সেখানে অহমিকা এনে তোমরা করে দিয়েছো বদনাম যে বিশ্বাসের বুনিয়াদ নিয়ে তৈরি হয় ভরসার ঘর সেখানে সন্দেহের বীজ বুনে তোমরা করে দিয়েছো বদনাম যে প্রেমে হৃদয় দিয়ে স্বপ্ন গেথে দুজন হয় আপন সেখানে অভিসারের নেশায় তোমরা করে দিয়েছো বদনাম যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তিলে তিলে গড়ে ওঠে সুখের নীড় সেখানে অধৈর্য অবহেলা তিরস্কারে তোমরা করে দিয়েছো বদনাম যে হৃদয়ের গভীরতার স্পর্শে দুজনের হয় মিলন সেখানে স্বার্থ লোভ আর তাচ্ছিল্য তোমরা করে দিয়েছো বদনাম তুমি আসবে আর ভালোবাসবে হোক না সেটা বৃষ্টিভেজা কোন প্রহরে যেখানে একগুচ্ছ কদম…
মনে পড়ে (মাহাবুবা বিথী) আষাঢ়ের বাদল দিনের প্রথম প্রহরে ঘনঘোর বরিষণে, হৃদয়ের করিডোরে ভালবাসার আকাশে বিরহের পাল উড়িয়ে, তোর কথা বড্ডো মনে পড়ে যায়। তুই হয়তো এখন ডুবে আছিস অফিসের ল্যাপটপে কিংবা মেসেন্জারের ইনবক্সের ব্যস্ত সময়। বৃষ্টির শহরের ঠান্ডা হাওয়ায়, এক কাপ গরম কফি হাতে ভিজতে মন চায় তোর সাথে। কি এক নিরব অভিমানে, আমার অপেক্ষাগুলো তোর কাছে আজকাল উপেক্ষিত হয়ে রয়। চাতক যেমন খুঁজে ফিরে জলের উৎসভূমি, মহাকালের স্রোতে, আমিও হাতড়ে বেড়াই তোর ইপ্সিতো ভালবাসার রাগিনী। স্মৃতির জোৎস্নায়, আমাদের ছেলেবেলায়, রাস্তা ভূলে যাবার ছলে বর্ষাতি গুটিয়ে রেখে হুড খোলা রিকশায় ভিজতাম দুজনায়। তারপর,পথের ধারে টং দোকানে, গরম চায়ের উষ্ণতায়,…
পুনরাবৃত্তি (ফারহানা হ্যাপি তাসমিন) সন্ধ্যার ধূসর রঙ টাও আঁধারে বিলীন হয় গোধূলির রঙেও নামে আঁধার। জীবনের নিষ্ঠুর আহুতি জীবনের আনাচে কানাচে কতো শত মায়ার বন্ধন ছিন্ন হয়। সজ্জিত গৃহ অবহেলায় হয় মলিন শক্তির দেয়াল ফেটে চৌচির গৃহ থাকলেও আশ্রয় মেলেনা সবার। প্রলয় যখন বয়ে যায় , তখন সে চেয়েও দেখেনা একটি বৃক্ষের বৃক্ষ হয়ে ওঠার পিছনে কতো শতো ক্ষতোর চিহ্ন নিয়েই শেষ পর্যন্ত বৃক্ষ হয়েছিলো সে সবুজের গল্পে ভুলেছিলো যে জন্মের কষ্ট। প্রলয়ের তান্ডবে যতো ফুল ঝরে পড়েছিলো একটি ফুল মিটিমিটি হেসেছিলো সেদিন জল কাঁদার মাখামাখি দেখে সখ্য করেছিলো জল কাঁদার স্যাতস্যাতে গল্পের সাথে মনে পড়ে একটি ফুল থেকে বৃক্ষ…
বাবার সেই সাইকেলের বেলের শব্দ (মিমি মাহজাবিন) শেষ বিকেলের সূর্যালোকের আলাদা একটা নেশা আছে। আজ এতটা বছর পর ফিরছি সেই নেশায়। ছোট্ট বেলায় দিবসের শেষ প্রহরে যখন পুতুল বৌ খেলতাম তখন সাইকেলের টুং টং শব্দ মনের মাঝে আলাদা একটা ভালোলাগা তৈরি করতো। কোনোকিছুই না ভেবে দৌড় লাগাতাম সেই টুং টাং শব্দকে লক্ষ্য করে। হ্যাঁ সারাদিন পর বাবা এসেছে আমার। ঠিক এই সময় প্রতিদিনই আমার কাছে ঈদের খুশির মতো ছিলো। প্রতিটা দিনশেষে অপেক্ষায় থাকতাম কখন সেই কাংক্ষিত সাইকেলের বেলটা শুনবো। আর ছুটির দিনগুলোতে বাবার সাথে চলতো পুকুরে ডুব সাঁতারের খেলা। যখন স্কুলে ভালো রেজাল্ট করতাম মেধা তালিকায় আমার নাম দেখে বাবা…
