নির্বোধ কৃষ্ণজন (মো: মজনুর রহমান) মনটা খুব ফুরফুরে হয়ে উঠল আসিফের! অবশেষে টাকাটা পাওয়া গেল। মক্কেলটা খুব যন্ত্রণা করছিল। এমন খচ্চর সে জীবনে দেখেনি; টাকাটা খসাতে প্রায় তিন মাস লেগে গেল। আসিফ হাউজিং-এ চাকরি করে। একজন যথার্থ ভদ্রলোক হিসেবে সবর্দা চলার চেষ্টা করে। তার একটাই আফসোস! এখনো ঢাকায় বাড়ি করতে পারেনি। উপরিটা যদি ঠিকমতো না কামাতো, না জানি কী হতো? আসিফ উপরিকে ঘুষ মনে করে না। এটা হক। এটাকে বলা যায় উৎসাহ মানি। এটা এখন স্বীকৃত ব্যাপর। তার মতে- কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি পেলে বেতনটা হল ঐ লোকের প্রতি প্রতিষ্ঠানের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ। আয়ের মূল উৎসই হল প্রতিষ্ঠানের সাথে দায়বদ্ধ মক্কেলদের থেকে যত…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
ঈদুল ফিতর সংখ্যা-২০২২। দশম বর্ষ। তৃতীয় সংখ্যা। কালের প্রতিবিম্ব:
745 বার পড়া হয়েছে
আমার শৈশব স্মৃতি দিল আফরোজ রিমা ১ম পর্ব শৈশব স্মৃতির কথা বলতে গেলে প্রথমেই মনে পড়ে আমার সবুজ গ্রাম, দাদা-দাদি, চাচা-ফুপু, মা – বাবা, ভাই-বোনের কলকাকলীতে মূখর আমাদের গ্রামের বাড়ি। আমাদের বাড়ি আমার স্মৃতির পাতায় আমার হৃদয় দড়জায় এক ভালবাসার স্বর্ণ মন্দির। ফুল ও ফলের গাছে ছায়াঘেরা ছিল সুবিশাল বাড়িটা। দক্ষিণ মুখো বাড়িটার সামনেই ছিল অবারিত সবুজ শষ্যের মাঠ। বাড়িতে বেশ কিছু ঘর ছিল। আমার দাদা-দাদীর ঘরটি ছিল সবচেয়ে বড় আর সুন্দর। শানবাঁধানো লাল রঙের বারান্দার নিচে ছিল বড়ো বড়ো সিঁড়ি। সিঁড়ির দু’পাশে বসার জায়গা। সকাল বিকাল ওখানটাতেই জটলা হতো, গল্প হতো। সেই বারান্দাটা আমার মনে এক বিশাল জায়গা জুড়ে…
দূরত্ব জুড়ে নিশীথের নীল জোৎস্না (ফেরদৌসী শারমীন সুমী) সবাই যখন দুপুরে বিশ্রাম নিতে যায় নীল তখন চিঠি লেখে নীলাকে৷ তার একটি চিঠি লেখার প্যাড আছে৷ অনেক পুরোনো প্যাডটি৷ কলেজে পড়বার সময় নীলা দিয়েছিল কোন এক ঈদে৷ নীল তখন টগবগে এক কিশোর যে কিনা হরহামেশাই রঙ বেরঙের রঙ্গনের মত প্রেম দেখতে পায় তার চতুর্দিকে৷ নীল দেখতে শ্যাম বর্ণ৷ চেহারায় কোন এক মায়া জুড়ে আছে চোখ দুটোতে৷ হরিণের মত কাজল পড়া চোখ যেন৷ এর উপর শারীরিক কাঠামো অত্যন্ত পুরুষালি৷ লম্বা পাঁচ ফিট ১১ ছুঁই ছুঁই! ভ্রু- যুগল যেন কালো থেকে কালো হয়ে উঠেছে চোখের সাথে পাল্লা দিয়ে৷ আর সবচাইতে সুন্দর তার হাসি৷…
বৃষ্টি তুমি অনেক মিষ্টি (পূরবী আলামীন) বৃষ্টি তুমি যাও থেমে যেতে হবে অনেক দূর। যখন তখন আসো নেমে, যেমন আজকে ভরদুপুর। আমি যখন চাই তোমায়, তুমি তখন যোজন দূর তোমার হাতে নাই সময়, কষ্ট রাখি হৃদয় পুর। তোমার চাওয়ার অনেক দাম, ইচ্ছে হলেই নামো জোরে। তোমার অনেক নাম ধাম, সেই দেমাকে যাই মোরে। তোমার আছে বিদ্যুৎ বান আছে আরো ঝড় তুফান। আমার কণ্ঠে করুন গান তবু আমার নাইক মান। বৃষ্টি তুমি অনেক মিষ্টি সৃষ্টি কর্তার অপর দান। তাইতো সবাই দেয় দৃষ্টি, আমিও মানি তোমায় প্রাণ। দুপুর ২.৩০ ২০/০৬/২০২১
ও নদীরে, পদ্মা নদীরে মুহম্মদ নূরুল হুদা (মুনূহু) নদী আমার নদী পদ্মা আমার নদী আমার মায়ের দুধের নহর পদ্মা নিরবধি তোমার বুকে মুখ লুকিয়ে আছি আপন নীড়ে ও নদীরে, পদ্মা নদীরে হিমালয়ের হিমবাহ গঙ্গোত্রীর ধারা, বুক থেকে তার মা-গঙ্গা ছুটলো পাগলপারা, ছুটতে ছুটতে দুই তনয়া পদ্মা ভাগীরথী, দুদিকে তার দুই মোহনা এক সাগরে যতি — নদী আমার নদী পদ্মা আমার নদী বাংলা মায়ের দুধের নহর বইছে নিরবধি ও নদীরে,পদ্মা নদী রে ঢেউথইথই অথই জলে অপার ডুবসাঁতার একুল ওকুল দুকুল ভাসে ভাসে নদীর পাড় ঘাটের পরে ঘাট পেরিয়ে খেয়া পারাপার, স্বপ্নপথেই স্বপ্নসেতু সত্য হলো যদি… নদী আমার নদী জলেস্থল সুখে দুখে…
বাবার নামে খোলা চিঠি। (হোস্নেয়ারা বকুল) আজ বাবা দিবস। খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে তোমাকে চিঠিটা লিখছি । তোমাকে আমি সম্বোধনটা করতে পারছি না। কারণ জীবনে তো কখনও ঐ ডাকটা ডাকাই হলো না। তুমিকি আর কারো বাবা হতে পেরেছো? কেউ কি তোমাকে ঐ নামে ডাকে ? সে যদি তোমাকে ঐ নামে ডাকে তবে আমি পারিনি কেন? কি অপরাধ ছিলো আমার। মায়ের মুখে শুনেছি সেই সাত মাস বয়সে আমাকে আর মা-কে ফেলে চলে গেছো। আর কখনো খবরও নাওনি । আমার নানা মামারা চেষ্টা করেও তোমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি । কেন এমন করেছিলে? মা বলতো আমি যখন কথা বলা শিখলাম, বাবা ডাকতে…
নিশ্চুপ নিশ্চল (সুরমা খন্দকার) চিৎকার করে ফিরে আসবার কথা ছিলো না, তবু আমার ভিতর জুড়ে মোহের যে ইন্দ্রজাল, তাতে প্রবল অবিশ্বাস নিয়ে আমি অপেক্ষা করি- এই কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবিশ্বাস তুমি মিথ্যে করবে। যেমন করে বৈশাখী ঝড় ওলট-পালট করে সব! আজকাল বড়ো বেশি অপুষ্ট, রুগ্ন প্রিম্যচিউর শিশুর মতো মনে হয় আমাদের সম্পর্কগুলো। বাড়তি অক্সিজেন ছাড়া যে নিতান্ত অসহায়। ভীষণ পলকা গাঁথুনী আমাদের অনুভূতিদের। যা দিয়ে হৃদয়গুলো বেঁধে রাখা যায় না। তাইতো এখানে দু’একটা বিশুদ্ধ আবেগ অবলীলায় বেকার। অনুভূতিদের শরীর জুড়ে হীনতার ছাপ। কোথায় যেন শব্দেরা অকেজো। তাই নৈঃশব্দের হোক কথামালা। দু’চোখে লুকিয়ে থাক পদ্মদীঘির জল। আর ফিরে যাবার জন্য একটা হৃদয় ও…
স্বপ্নচাষী (মোঃ আব্দুল হামিদ সরকার) আমি এক স্বপ্ন চাষী, স্বপ্নেই করি বাস, মুঠো মুঠো খোয়াব জ্যোতি ফেলি দীর্ঘশ্বাস। স্বপ্ন দেখি দক্ষিণা হাওয়ায় উড়বে শত কপোত, শান্তির সওগাত আনবে ঠোঁটে করবো সাম্যের শপথ। মানবতার নদী থাকবে সরব, নাহি কোমবে নাব্যতা, সাম্য মৈত্রী উদারতায় ভরবে শতশূন্যতা। নয়ন জুড়ে স্বপ্ন পুষি ছড়িয়ে দেই তা, গুণীজনকে করবো ভক্তি, সন্মান আর শ্রদ্ধা। ভোরের আলোয় প্রজাপতি গায় যে কত গান, চলবো ছুটে গাঁয়ের বাটে দুলবে সজীব প্রাণ। ছিন্নহারার লইবো খবর, দিবো সেবা তাদের, জনকল্যাণে নিবেদিত, জয় যে হবে ব্রতের। প্রীতি দিয়ে লইবো বুকে অনাথ শিশু যারা, পথের ধারে ছেঁড়া বস্ত্রে ক্লিষ্ট দেহ তারা। পলকে পলকে দেখি…
