পরাজিত আমি (যয়া খান) নিমজ্জিত আমার পৃথিবী আজ অতল জলের গহ্বরে। নিভৃতে কাঁদে স্মৃতি ভেজা দিনগুলো, নিঃসঙ্গ দুঃখের প্রহর। নেই তুমি আর আমার অস্তিত্বের মাঝে, অনস্তিত্বে তোমার বসবাস। জল জমেছে বুকের ভেতর রোদের অভাবে, কঠিন উপহাস নিয়েছে কেড়ে, জীবনের যত রঙ। জীবন টা কেনো এত ছোট এতবড় আকাশ এর নীচে? আজ থেকে আমার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ নেই , নেই জোছনালোকিত আকাশ। দিন কেটে যায় রুদ্ধনীল বেদনার ঘরে, মন কাঁদে অন্তরালে। বড় একাকিত্বে আমার ছায়াই আমার সাথি। নিঃসঙ্গ বৃক্ষের মত সাজাপ্রাপ্ত আসামির মতো মৌন পাহাড়ের মত নিঃসঙ্গ আমি মেনেছি হার জীবনের কাছে। লেখক: প্রবাসী কবি। মেলবোর্ন , অস্ট্রেলিয়া
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
শকুন কাকের মা (মকবুল প্রধান) গাঁও গ্রামেও শকুন ঢুকে তা’দিয়ে যায় রোজ , কোথাও খায় টাকা পয়সা কোথাও ভূরিভোজ । ছোট্ট কাকে খবর পাড়ে শকুন আসে ছুটে , এদিক ওদিক তা’দিয়ে বেশ দাঙ্গা তোলে ফুটে । ডিমের বদল খবর পাড়ে শকুন দেবেই তা , দাঙ্গা ভালো ফুটায় বলে শকুন কাকের মা । পর ঝামেলার দেয় কামলা দাঙ্গাই করে চাষ , গাঁয়ে মানে না মোড়ল সাজে করে সর্বনাশ ।
কথার জমাট ঠিকানা হারিয়েছি যেদিন সেদিন খুঁজেছি নক্ষত্রের পথ ধরে নতুন জীবনের ঠিকানা। দিনের আলোয় ডুবে যায় সেই আশা, রাতের আঁধারে আবারও বুক চিঁড়ে বেরিয়ে আসে হতাশার চাদরে মুড়িয়ে এক খোলস ছাড়া মানুষের দেহ। অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে বিষন্নতার দীর্ঘশ্বাস, এক জীবনের গ্লানিবোধটুকু রাখে জমা নিঃসঙ্গতার বুকে। প্রাপ্তির সাথে মিশে আছে অজস্র নীল অপরাজিতা, সুখের আবেশ তাই হাওয়ায় মিলিয়ে যায় বাষ্প নিঃশ্বাসের সুগভীর ভাবনার অতল গহ্বরে। অস্থির চিত্রে আপন মনে খুঁজে চলা একান্ত নিজের অস্তিত্ব, সেখানে কেবল কিছু মৃত স্বপ্নের কঙ্কাল আছে অবশিষ্ট। দীর্ঘনিঃশ্বাস চাপা পড়ে আছে হৃদপিণ্ডের নিচে, রক্তের সাথে মিশে গেছে হাজার বছরের বিষন্নতা। কোলাহলে কান্নার শব্দ মিলিয়ে গেছে…
কামনা (তানজারীন ইফফাত শাতি) আমার পাতে পোড়া ভাত আমি সুখে নেই, আমার জীবনগাঙে ডাকে না জোয়ার শুধু ভাটাই পড়ে থাকে আমি সুখে নেই, আমার চাষের জমিতে ফলেনি কোন শস্যদানা শুধুই বিরাণ পড়ে আছে আমি সুখে নেই, আমার চোখ দুটো পোড়ে কেঁদেছি অনেক রাত আমি সুখে নেই। আমার নিশ্বাসে ক্ষোভ, বিদ্বেষ আমার কন্ঠে ঝরে পড়ে শত আবেগ আমার অন্তরে আগুন আমার জিহ্বায় রসনাতৃপ্তির ছোঁয়া নেই আমার কানে অভিযোগের কথা আমি কেবলি নারী এবং দোষই আমার ভুষন, কি করে সুখি হতে হয় আমি জানি না। আমি পূজারী নাকি আমায় ঘিরে দুঃখ নাচে? নেচে নেচে পুজো করে? আমি জলে ঝাঁপ দেই ডুবতে ডুবতে…
মম তটে বারি ঝরে জেবুন্নেছা সুইটি (পর্ব এক) চপলা এক হরিণী, নাম তার লাবণী। ঘরে থাকেনা মন, গ্রামের মেঠো পথে, বাগানে কিংবা পুকুর পাড়ে আনমনা হয়ে সেই মেয়েটি হাঁটতো সারাক্ষণ! কখনো আকাশের দিকে তাকিয়ে উদাসী মনে গুনগুনিয়ে গান গাইত ! কখনো আবার বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মাটিতে কবিতা লিখতো। আবার দেখা যেত পুকুরে ভেসে উঠা পোনা মাছের গায়ে ঢিল ছুড়ে মারত।পুকুরপাড়ে বসে বড়শি দিয়ে মাছ ধরা ছিল তার নেশা। কচু গাছ থেকে লতা ছেঁড়া তার শখের কাজ। মা চিৎকার করে ডাকতো “লাবণী… কই তুই? পড়ার টেবিলেও তো নেই! সারাদিন কোথায় যে থাকে মেয়েটা! ” মায়ের ডাক লাবণী কর্ণপাত হতনা। কারণ লাবনী…
মান আর কখনও গুনবো না দিন বলব না হয়নি দেখা কতকাল… হাঁটবে না পাশাপাশি, আঙুলে আঙুল ছু্য়ে কইব না কথা বসবো না মুখোমুখি মুছবো না, তোর লেপ্টে যাওয়া কাজল। আর কখনও চাইবো না তোর মুখপানে, হোক বাঁকা তোর টিপ ঠিক করে দেবো না আর… নিজেকে গুটিয়ে রাখব অভিমানে। কষ্টগুলো জমিয়ে রাখব খুব যতনে হৃদ গহীনে। আর কখনও করবো না অভিযেগ দেখে নিস, বৃষ্টি হলেও জেদ করবো না ভিজবার… বলবো না আর কতকাল ভিজিনি তোর ভালোবাসার বৃষ্টিতে, রাখবে না চোখ তোর অভিমানী দৃষ্টিতে। আর কখনও ঘুম ভাঙিয়ে বলবো না, ভালোবাসি হাতে হাতে রেখে বলবো না, আমরণ থাকবো পাশাপাশি… একদিন তোকে মুক্তি…
স্বপ্নের নাম পদ্মাসেতু। ।। সুরমা খন্দকার।। গর্ব আমার, গর্ব তোমার, দেশের টাকায় পদ্মাসেতু। প্রমত্তার বুকে গর্ব করে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে পদ্মাসেতু। জানান দিয়ে ক্ষিপ্র সমনে আমরা কভু নয় তো ভীতু। অহংকারের নাম পদ্মাসেতু! অধ্যায়ের নাম পদ্মাসেতু। ক্ষিপ্রতার নাম পদ্মাসেতু। স্বপ্নের নাম পদ্মাসেতু। যাত্রা স্হলে কষ্ট নিয়ে যে হয় না অস্ত। সরব হয়ে জেগে ওঠে বিশ্ব দেখে বৃত্তান্ত। ধন্য নেত্রী! ধন্য দেশ! ধন্য ধন্য বাংলাদেশ! উন্নয়নের মাইলফলক বাঙালির, নয় শুধু কংক্রিট অবকাঠামোর। পিছপা নয়, অবিচল থাকা শক্তি আর বিনয়ী অহংকার।।।
একজন সফিউদ্দিন আহমেদ তিনি আমাদের ই সেনবাগের একজন কৃতি সন্তান ।নিবাস সেনবাগ বাজার থেকে কিছুটা পূর্বে অবস্থিত গ্রাম জামালপুরে। সফিউদ্দিন আহমেদ। “সফি সাহেব ‘” নামেই তিনি সমাধিক পরিচিত ছিলেন। অত্যন্ত বর্ণাঢ্য , কর্মমুখর, বৈচিত্র্যময় জীবনের অধিকারি সফিউদ্দিন আহমেদ কর্মজীবনে একজন কাস্টমস কর্মকর্তা ছিলেন।১৯২২ সনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আব্দুল মজিদ পন্ডিত,মাতা মাহমুদা বেগমের চার পুত্র ও তিন কন্যা সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে স্ফুরণ ঘটে ক্ষুরধার মেধাশক্তির সঙ্গে সংগে মানবিক গুণাবলী ও নেতৃত্ব প্রদানের সহজাত বৈশিষ্ট্যের । পিতা আবদুল মজিদ পন্ডিত সাহেবের অসাধা্রণ বৈদগ্ধের সবটুকুই তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে মেধায় -মননে প্রাপ্ত হন। অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালীন সময়েই…
গল্প হবো (দিলশাদ জাহান খান) কোন একদিন হয়তো আমি গল্প হয়ে যাবো, যে গল্প তোমরা শুনাবে আরো হাজারো জনে। নাকি কেউ জানবে না কোন কিছু তুমি ছাড়া, একাকী কোন শ্রাবণ দিনে পড়বে আমায় মনে। হয়তো আমার গল্প আসবে কোন পত্রিকার প্রথম পাতায়, হয়ে নিখোঁজ কোন বিজ্ঞপ্তি। হাসি আনন্দে কেটে যাওয়া সোনালী সময়গুলি রয়ে যাবে নিখোঁজ হওয়া গল্পের কিছু প্রাপ্তি। নাহ্ আমি গল্প হবো নন্দিত কোন কর্মের, মহা জনারণ্যে চর্চিত হবে মুখে মুখে গল্প আমার। শুনে ভাববে সবাই তখন, কেন হয়নি জীবন তার মতো, নন্দিত কাননে ফুলের সমাহার। জন্মে সবাই অতি সাধারণ, কর্মে গড়ে জীবন মন্দ সব পাশ কাটিয়ে, উদ্ভাসিত হয়…
বৃষ্টি (ফেরদৌসী শারমীন সুমী) ভরদুপুরে এলোকেশে, একটু আধটু ভালোবেসে ; লুকোচুরি কানামাছি, হেলা ভুলে কাছাকাছি; ঘর ছেড়ে মেঘে যাওয়া, মেঘ ছেড়ে জলের হাওয়া; শাড়ীর পাড়ে রঙীন সুতো, ঝিলের পাড়ে পদ্ম দুটো; আমরা দুজন করব কূজন, পাড়ি দিব যোজন যোজন; তেপান্তরের মাঠ ছাড়িয়ে, সাগর নদী জল পেরিয়ে; বুকের ভেতর যেই না যাব- অমনি এক বৃষ্টি হব! ( হিয়া )
