কালো বউ (ফারজানা ইয়াসমিন) আমার দুইজন নিজেদের পছন্দে বিয়ে করেছি। দুই পরিবারের কেউ মেনে না নিলেও মানতে বাধ্য হয়েছে। যা হওয়ার হয়ে গেছে। কিছু করার নেই। বিয়ের কথা জানতে পেরে শশুর আব্বা আমাকে ঢাকায় দেখতে এলেন। দেখে চলেও গেলেন। জানি না তার আমাকে পছন্দ হয়েছে কিনা। ফোনে রনি (আমার স্বামী) শাশুড়ী মা-র সাথে কথা বলতে দিল। আমাদের বাড়ি যেতে বললেন তিনি। আমার বাবা এলেন না আমাকে দেখতে।মা ছোট বোনকে নিয়ে চুপচাপ দেখে গেলেন। কেমন আছি আমি। হাজারো চিন্তা নিয়ে মা কিছু না বলে চলে গেল। যাই হোক বাড়ি গেলাম। বড় ছেলের বউ। ছেলে তাদের এত সুন্দর। বউ কালো! তাদের মনেও…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
কোন মুগ্ধতা নেই (তসলিমা হাসান) ইচ্ছে করে সমস্ত ঘুম এক পাশে রেখে কারো চোখে মুগ্ধতা খুঁজি। এই মুগ্ধতা যেন তেন মুগ্ধতা নয়। চোখের ক্লান্তি, মনের ক্লান্তি দূর করে যে, সে মুগ্ধতা আমি বারংবার খুঁজি। কিন্তু পাই না। কিছুই পাই না। এত এত চোখের ভিড়ে ক্লান্তি দূর করার মতো কোনো অক্ষি খুঁজে পাই না। এক বিকেলে আমি বসে ছিলাম উদাস মনে আমার নোটবুকের শব্দগুলো বার বার তিরস্কার করে বলছে “ওরে। উদাস মনে বসে থাকা পাগল হওয়ার লক্ষণ” ভালো ভালো শব্দ লিখ” এক মুহূর্তে আমার মনে হলো তাহলে শান্তি খুঁজতে গিয়ে আমি কী ভুল পথে এগোচ্ছি? তার পর কেটে গেল কয়েকদিন, সপ্তাহ,…
মায়া হরিণ [সুমনা খান] এ শহরের মানুষগুলি বড্ড বেরসিক! বিষাদের চন্দ্রবনে বসে, প্রাণ খুলে হাসতে জানে না- পাখির কলকাকলিকে ভাষায় রূপ দিতে জানে না! এখানে,সোনার হরিণের পিছু ছুটতে ছুটতে সবাই- মায়া হরিণের কথা বেমালুম গেছে ভুলে সত্য,সুন্দর,সরলতাকে- দিয়েছে দূরে ঠেলে। এ শহরের মানুষগুলি বড্ড একা! প্রাচীন মৃত আত্মাদের সাথে কথা বলতে জানে না- আপন পরিচয়কে খুঁজতে জানে না মায়ের কোলে শুয়ে- গল্প শুনতেও জানেনা, জানেনা ভালোবাসতে- আপন আত্মার মৃত্যু হলে পারে প্রাণ খুলে হাসতে! প্রেম-প্রকৃতি ভালোবাসার -মোহ কাননে, এদের দৃষ্টি রয়েছে বাঁধা এক একজন মানুষ কেমন বিষম গোলকধাঁধা! এ শহরের মানুষগুলি সোনার হরিণের পিছু ছুটতে ছুটতে মায়া হরিণকে গেছে ভুলে-…
নিজের ঠিকানা [ফরিদা বেগম] ১৮.০৬.২০২২ মেয়ে তোমার বাড়ি কই ? আমিতো জানি তোমার বাড়ি এই গাঁয়ে, শ্বশুরবাড়ি ঐ তোমার বাড়ি কই গো নারী তোমার বাড়ি কই? জন্ম নিয়েছিস এই বাড়িতে, শৈশব যৌবন সব কেটেছিস এই গাঁয়েতে, শিক্ষা দীক্ষা আনন্দ সব করেছিস এই গাঁয়েতে, ভাত রান্না করিস পরের বাড়িতে, আপন ভেবে বাস করিস পরের বাড়িতে, যেমন পরের ঘরে বাঁধে বাসা বাস করে চড়ুই তোমার বাড়ি কই গো নারী তোমার বাড়ি কই? শৈশব কৈশোর কাটলো বাপের আশ্রয়ে যৌবন কাটলো স্বামীর সাথে শ্বশুরালয়ে বৃদ্ধ কালে আশ্রয় নাই আর ছেলের কাছে রই। তোমার বাড়ি কই গো নারী তোমার বাড়ি কই?
এসো জাগ্রত (জাহানারা বুলা) তোমার পালকে বৃষ্টির ফোঁটা অঝোর ধারায় ঝরে আমি পুড়ে যাই খরার আগুনে আষাঢ় প্রত্যাশা করে আষাঢ় বুঝি তোমারই মতন দূরাশার হতাশা আমার চাওয়াকে অবমূল্যায়ন করে দেয় সহসা! পূবালী হাওয়ার দেখা পাওয়া ভার তুমি নাই পশ্চিমে মেঘের কাছেও জল পাই না হাত পেতে নিঃসীমে আড়াল হয় না সূর্য সহসা সংজ্ঞার হাহুতাশ মেঘগুলো সব দূরে উড়ে যায় ঠোঁটে নিয়ে পরিহাস! তবুও আছি চাতকের মত আকাশের দিকে চেয়ে জমিন কাঁপিয়ে বৃষ্টি নামুক শীতলতা দিক ছেয়ে আমার সকল সবুজ-অবুঝ ডালপালা নুয়ে যায় এসো জাগ্রত ভিজে যাক দেহ- প্রেম এইটুকু চায়। ১৭ জুন, ২০২২ ঢাকা।
অসমাপ্ত প্রেম (সোহেলী পারভীন মণি) তোমার অস্থির অধরে গাঢ় চুম্বন দিলাম বারবার তোমার উষ্ণ স্পর্শে শরীর আমার কেঁপেছিল থর থর জ্বর জ্বর মনে হলো এক নতুন পৃথিবীর গভীরে ডুবে গেলাম অতলান্ত কামনার সাগরে– গভীর থেকে আরো গভীরে। তীব্র অনুশোচনা বোধ– হৃদয় হতে নেমে আসে আমি তার সামনে নতজানু হয়ে আত্মসমর্পণের ভঙ্গিমায় বসে– নিজস্ব সমস্ত সত্বার বিনিময়ে তোমাকেই পেতে চেয়েছিলাম, অথচ তুমি এলে একরাশ কামনার আগুন নিয়ে। নিজেকে বিলিয়ে দেবার পরও তোমার চলে যাওয়া, তোমার ভুলে যাওয়া, আমার তুলনায় যেন তোমার বেদনাবিহীন নিস্পৃহ লুটেরার মতো আমাকে লুট করে তোমার নিষ্ক্রমণ– এ খেলা কেমন! ঘাসেরা,সূর্যালোকে স্বর্ণালী হয়ে অপেক্ষায় বসে আছে বসন্তের যৌবনে…
খরস্রোতা নদী [সাবিনা সিদ্দিকী শিবা] জীবন এক খরস্রোতা, বহতা নদী। পাড় খুঁজে পাবে তুমি, ধৈর্য্য ধরো যদি। কচুরিপানা পানা হয়ে, এঘাট ও ঘাট ভিড়ে। দিন শেষে ফিরে এসো, সে-ই আপন নীড়ে। এপাড় ভেঙে ওপাড় গড়ে, এই তো নদীর খেলা। পরিশেষে বুঝি আমরা, শেষ হলে বেলা। কত-শত দুঃখ স্বাক্ষী, খরস্রোতা নদী। সারাজীবন বয়ে চলে, একাই নিরবধি। ভাঙা-গড়ার মহোৎসব, মেতে থাকে পাড়ও। এক জীবনে ফুরিয়ে গেলে, নেই ক্ষতি কারও….
“ভালোবাসা মানে” ভালোবাসা মানে তোমাকে নিয়ে চিন্তার মেঘে ঢাকা ভালোবাসা মানে তোমার বুকে মাথা রেখে একটু জড়িয়ে থাকা ! ভালোবাসা মানে তোমার সাথে দুষ্টামি কথা গুলো নির্দ্বিধায় বলা ভালোবাসা মানে তোমার সাথে আমার পাশাপাশি পথ চলা! ভালোবাসা মানে খুনসুটি রাগারাগি আর তোমার ধমকে উঠা ভালোবাসা মানে তোমার কথায় কান্না করে অভিমান করা ! ভালোবাসা মানে মন আমার আবেগে শিহরিত ব্যাকুল বন্য ভালোবাসা মানে ছোটো ছোটো চিন্তা আর খেয়াল তোমার জন্য! ভালোবাসা মানে তোমার ঠোঁটে আমার ঠোঁটের আলিঙ্গন ভালোবাসা মানে তোমার আমার শরীরের মিলন! ভালোবাসা মানে তোমার উতপ্ত নিঃশ্বাসের অনুভূতি ভালোবাসা মানে তোমার কাধে মাথা রেখে নিঃশব্দ তিথি! ভালোবাসা মানে আমার…
বৃষ্টি ভেজা স্বাদ কত কাছে চাও! দুকূল ভাসাতে, জলে ধুয়ে দিতে চাঁদ ; তোমার দু-চোখে, সেঁধিয়ে রেখেছ, জাদুকরী এক ফাঁদ; ফাঁদে ধরা দেয় পুণ্য জোছনা মেঘের জলজ মেয়ে; লুটিয়ে পড়েছে খসড়া জীবন প্রণয় ঝুমকো পায়ে। তুমি যদি চাও উড়িয়ে বাতাস বৃষ্টি আসবে ছুটে তুমি যদি চাও ভিজবো দু’জনে চুপিচুপি একজোট। তোমার বাহুর ভিজে ভিজে ওমে খরসুখ এই মনে খুলে খুলে পড়ে বকুল পাপড়ি ক্ষণিকের চুম্বনে। খুলে দিলে বলে সব কটি বাঁধ থইথই এই মোহনা করেছো পূর্ণ সমুদ্র সত্তা এসেছে চাঁদের বন্যা। তোমার সোহাগে আতুর দু’চোখে জেগেছে গোপন মিথিলা পিয়াসী চাতকী ডেকে ডেকে বলে তুমি কি সেই রঙিলা। এই আমি আর…
আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে (এম এ বাশার) আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে গাছে গাছে কদম ফুল, দেখতে বেশ লাগে! কদম ডালে পাখি বসে গান গাহি যায় মন আনন্দে, তোমার আশায় পথ চেয়ে রয় ঐ কদম গাছের তলে! আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে গাছে গাছে কেয়া ফুল, সুবাস ছড়ায় তাতে! বন্ধু তুমি নাহি এলে ফুল সুবাসের মাসে, তোমার কথা মনে হলে দুঃখ মনে লাগে! ফুল সুবাসে পাখি হাসে হাসে সর্ব মানব মন, মোর মুখে হাসি নাহি দুঃখ সঙ্গী জীবনভর! এম এ বাশার নয়াপাড়া-মাটিফাটা, শ্রীবরদী-শেরপুর।
