শান্তির ধর্ম জানি–মানি না (শীরীন আক্তার) ১৫/০৬/২২ মুসলমানদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব – ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। বাংলাদেশে মুসলমানদের সংখ্যাই বেশি। তাই এ দুটি উৎসব ইসলাম ধর্মের মানুষের অতি আকর্ষণীয় ও মর্যাদার উৎসব।শব-ই বরাতের পর থেকে রমজান মাসকে সামনে রেখে যখন গোটা বিশ্বের মুসলমানেরা সওয়াব অর্জনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে, বাংলাদেশের মুসলমানেরাও তাই। কিন্তু অতীব দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, যে দেশের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যের সাথে অবিরাম যুদ্ধ করে ; সে দেশের প্রধান দুই উৎসবকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে। তারপর একে একে সকল ভোজ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়াতে থাকে। দাম বাড়ানোর…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
একদিন শেষ হয় পথ চলা [মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম] রোদ চশমায় আটকে পৃথিবীর সকল আশা ও আলো, আঁধারে যতই প্রদীপ জ্বালো সবই যেন বেজায় কালো, ঘর যারে করেগেছে পর মিছেই খোঁজা তারে জীবন ভর সাঙ্গ হল বেলা নষ্ট হল ফুলের বাসর কষ্টে এ চরাচর! ভেঙ্গেছে কবে চাঁদের হাট কি হবে আর দিয়ে পত্র পাঠ! জনশূন্য নদীর ঘাট বিধবা সময়ে আগুনে পুড়ে এ মাঠ। আদতে সবাই যার তার মত একলা জীবন যুদ্ধে বেহুলা, খেলছেখেলা ওপরওয়ালা ছাড়তে হবে ভবের রঙশালা! নিঃসঙ্গ নিঃশব্দে স্বপ্নভেলা একদিন শেষ হয় এপথচলা। খাসনগর, বাঞ্চারামপুর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বাংলাদেশ। রচনাঃ ০৮.০৬.২০২২ খ্রীঃ
মুখোশধারী (আমেনা খানম) আজ বছর দু’এক হতে চলছে কিছুতেই রিয়া ও ঔশীর বাবা জহুরুল হক সুস্থই হচ্ছেন না। এর মধ্যে একবার স্ট্রোকও করেছেন।ইদানিং কিডনির সমস্যা জনিত রোগেও ভুগছেন।তাছাড়া ডায়াবেটিসও আছে।তার আর সুস্থ হবার কোন রাস্তাই যেন খোলা নেই।বিভিন্ন চিন্তায় শারমিন জাহান যিনি রিয়া ও ঐশীর মা তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।তাই বিভিন্ন সময়ে রিয়া ও ঐশীর মায়েরও শরীরটা ভালো থাকছে না।রিয়া অর্নাস থার্ড ইয়ারে, ইংরেজি নিয়ে অনার্স করছে আর ঐশী এস.এস.সি দিবে। প্রায়ই রিয়ার মা শারমিন জাহান আফসোস করছেন কাছের দু এক আত্মীয় স্বজনের কাছে যদি রিয়ার বাবা জহুরুল হক বেঁচে থাকতে থাকতে রিয়ার বিয়েটা দিতে পারতেন!এদিকে মন মতো পাত্রও পাওয়া…
একাত্মতা [রাবেয়া হোসেন] যেখানে তোমার সূর্যাস্ত আর কৃষ্ণচূড়ার রঙের খেলা যেখানে তোমার সাগরের ঢেউ আর পাখীর কলতানের মিলন মেলা; যেখানে তোমার নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে সবুজ ঘাসের একাত্মতা, ঠিক সেখানেই থেকো দাঁড়িয়ে… কৃষ্ণচূড়ার ফুল কুড়িয়ে, বিছিয়ে দিও আমার পথের কাঁটাগুলো সরিয়ে পাশে থেকো হাতে হাত রেখে বিশ্বাসের অনুভব দিবো তোমার কপালে এঁকে যদি শিহরিত হয় শরীর জড়তায়; জড়িয়ে ধরে বলবে কি ছেড়ে যেওনা আমায়। Rabeya Hossain কানাডা: জুন ১৩; ২০২১
এক একক একাত্ব (জগলুল হায়দার) আদম থেকে শীষ শিষ থেকে ইদ্রিস নিয়ে একই রুহু সেই ধারাতেই নুহু। নুহু থেকে সাম ইয়াফেস আর হাম এরপর মহান পিতা হলেন আব্রাহাম*। ইব্রাহিমের ফিল এলেন ইসমাইল এবং আরেক ডাক হাসেন ইসাহাক। ইসাহাকের রেশ ইয়াকুব ও এষ ইয়াকুবের ধুপ মহাত্মা ইউসুফ। সেই ইউসুফের ঋণ আসলো মুসার দিন। মুসার সাথে হারুন ভ্রাতৃ জুটি দারুণ। সেই ধারাতে মাবুদ পাঠিয়ে দিলেন দাবুদ**। দাউদ থেকে দান এলেন সুলেমান। জাকারিয়ার ধন ইয়াহিয়া (জন)। এমরানের শিশু এলেন প্রেমিক যিশু। ইসমাইলের ধারায় কেদার এসে দাঁড়ায় সেই ধারারই চান হয়েছে আদনান। আদনান থেকে কোরেশ অতুল প্রেমাস্পদ এলেন ধুলির ধরায় মহান মুহাম্মদ। ইব্রাহিমের পুত্র…
চিৎকার (শুক্কুর আলী খোরাসানী) অসভ্য ছিল তখন প্রাচীন মানুষ কাপড়বিহিন ছিল বিবস্ত্র স্বভাবে নিয়মের অজ্ঞতায় শিক্ষার অভাবে তাইতো তাদের বলি আদিম মানুষ। সময়ের বিবর্তনে রূপান্তর হলো একদা কাপড়ে পেল ভদ্রতার শিক্ষা সৌন্দর্য বর্ধন আর শারিরীক দীক্ষা পোষাকের আচ্ছাদনে রাখডাক হলো। এখন শ্লোগান চলে আধুনিকতার মানুষ বুক ফুলিয়ে চলছে তো বেশ খুল্লামখুলা অঙ্গতে প্রতিযোগি রেশ স্বল্পবসনা ধনিকা চায় স্বাধীকার। আমরা আজ স্বাধীন নয় পরাধীন পর্ণ তারকা যখন নেচে গেয়ে যায় তখন ন্যায় নীতিটা বুঝা বড়ো দায় সমাজের অনেকাংশ পাপের অধীন। অর্ধনগ্ন তনুরুপী হাঁটে শবনমে খোলা ময়দানে আর জন সমাগমে এর নাম স্বাধীনতা? আধুনিকা চুমে জাগ্রত হবে বিবেক,কতো রবে ঘুমে? তাদের পক্ষেই…
“মেয়ে” রুমানা মকবুল একটি মেয়ে তার বাবাকে প্রশ্ন করল, বাবা আমাদের উঠোনে যে গাছটা আছে সেটা পাশের বাগানে লাগানো যায় না? বাবা- “মা, ওটা চার বছরের পুরোনো গাছ, নতুন মাটিতে মানিয়ে নিতে পারবে না! মেয়ে- (চেখে জল) তোমার আঙিনায় ও তো একটা চারাগাছ এখন ২২ বছরের পুরোনো হয়ে হয়ে গেছে, সে কিভাবে নতুন জায়গায় বাঁচবে? বাবা- (কিছুক্ষন ভেবে)” এই শক্তি পৃথিবীতে একমাত্র মেয়েদের’ই আছে, তাইতো তারা কল্পবৃক্ষের সমান!যে নিজের নতুন জায়গা মানিয়ে সারাজীবন অন্যের জন্য বাঁচে!” “কর্মক্ষেত্রে ফিরিবার পূর্বে আমার শ্বশুর আমাকে ডাকিয়া বলিলেন,’বাবা’,আমার মেয়েটিকে আমি সতেরো বছর ধরিয়া জানি,আর তোমাকে এই ক’টি দিনমাত্র জানিলাম,তবু তোমার হাতেই রহিল। যে ধন…
স্বামীকে ভাই বলে সম্বোধন করতে পারবে কিনা, ইসলামের বিধান: সাধারণত স্ত্রী তার স্বামীকে সম্মান প্রদর্শন করবে—এটাই স্বাভাবিক। তাই এ সম্পর্কে ফাতাওয়া শামিতে বর্ণিত আছে, ছেলে কর্তৃক তার বাবাকে এবং স্ত্রী কর্তৃক তার স্বামীকে নাম ধরে ডাকা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। ইবনে আবেদিন শামি (রহ.) ওই বক্তব্যের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘বরং এমন শব্দের মাধ্যমে ডাকা উচিত—যেটা সম্মান বোঝাবে। যেমন—হে আমার সর্দার, অমুকের বাবা ইত্যাদি অথবা সম্মানসূচক পেশার সঙ্গে সংযুক্ত করে ডাকবে। যেমন—ইমাম সাহেব, ডাক্তার সাহেব ইত্যাদি)। কারণ, বাবা ও স্বামী—তাদের উভয়ের হক একটু বেশি। (রাদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার : ০৬-৪১৮) তবে স্ত্রীকে বোন বা আপু বলে ডাকা মাকরুহ। হাদিস শরিফে…
জল আস্তরণ অদেখা অনল জ্বলে অবিরাম পাঁজর ডাকা হৃদয়তলে না আছে ধোয়া না যায় ছোঁয়া দগ্ধ ভষ্ম যাতনা প্রতি পলে। বরষার শ্রাবন আঁখিযুগল বহে অঝর ধারায় অশ্রু লহর ভাসি দিনমান সেই স্রোতে নিয়ে কষ্টের নীল বহর। চাঁদ জাগা রজনী, জোস্নার প্লাবন স্নিগ্ধ মলয় সুনসান খুশিতে দোল তটনীর জল, আমি নিশ্চূপ নির্বাক বোহেমিয়ান। কান্নারা গেছে সুখের বাড়ি বাজিয়ে দুখের নুপুর বিষন্ন মর্মর প্রতিক্ষণ আমার উদাস তপ্ত দুপুর। আমি বালির বুকে আঁকি ছবি জল আস্তরণে লিখি নাম দিগন্ত নীলিমায় উড়িয়ে স্বপ্ন খুঁজি স্বপ্নের ডান বাম। রৌদ্রছায়া জুড়িয়ে ক্লান্ত কায়া সবুজ তরুবিথীর ডাল পথেপথে আজ যোগিনীবেশে গুড়ি হয়ে বেসামাল। আহার নিদ্রা নির্বাসনে অনাহারে…
মৃত্যুই শেষ সুষমা (সুরমা খন্দকার) অজস্র রজনী ঘুমাই না। অপরিপক্ক ভুলের কাছে অভ্যস্ততা বনাম অভিমানরা যাকে গ্রাস করে, সেতো নিজ থেকে নিস্পৃহ জীবনের সুচনা করে। মৃত্যুর দিকে তর তর এগিয়ে যাওয়াই যে জীবনের নাম। জীবনের সূচনাই যে মৃত্যুর জন্য। পুরো জীবন যেন তিন ঘণ্টার সিনেমা। এ যে পরম সত্য জেনো, নির্মম সারকথা – মৃত্যুই হলো শেষ সুষমা। তবু স্বপ্নরা অর্গল ভেঙে আহত পাখির মতো ডানা ঝাপটায় । পুরোনো, গতদিনের স্মৃতির মতো ফাঁক ফোকরে আটকে থাকে উড়ে বেড়ানোর স্বাধীনতা। স্বপ্নরা দুঃখ আলিঙ্গন করে নিঃসঙ্গ স্বাধীন হয়। অদ্ভুত মায়ার বৃষ্টিতে স্বপ্নরা কাঁদে একাকী। কবিতার শেষ যতি চিহ্নের মতো স্বপ্নরা একা একেলা।
