মন বাঁধন [আরজু আরা] জলহস্তি জলে থাকে ডুবে শীতল পরশ পাওয়ার জন্যে। হাতি দল বেঁধে চলে দলের শক্তি বাড়াতে। আমার শীতল পরশ তোমার ভালোবাসার মাধ্যম। দল বেঁধে নয়ত প্রয়োজন থাকে যদি, তোমার উন্মুক্ত প্রস্থান। বয়ে নিয়ে যাবে সুদূর প্রান্তর, যেখানে নদী আর আকাশের মিলন। যা কিনা দেয় প্রমাণ, তোমার আহ্বানের শ্লোগান। চাঁদ, তারার আলোকিত আলোয় দেখিয়ে দেয় তোমার বদন অবলিলায় । তাতে থাকে, এক চিলতে হাসির ঝলক ভরিয়ে দেয় আমার হৃদয় অঙ্গন। ভালোবাসার কড়ি ডরে বাঁধব তোমারে। লোকলজ্জা নাহি ডরি পাশে যদি থাকো, জীবন ভরি! এতেই যে সর্ব সুখ, ভালোবাসা যে অটুট । তোমারে না পাওয়ার দু:খ হয়ে থাকুক আমার…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
অন্যরকম [ড. নজরুল ইসলাম খান] দীর্ঘদিন কথা না বলার পর আবার যখন কথা বলা হয় সেই কথা বলার আবেগটা অন্যরকম। ঝগড়ার অনেকদিন পর আবার যখন দেখা হয় সেই দেখা হওয়ার সাধ অন্যরকম। লম্বা একটা বিরতির পর আবার যখন প্রেম শুরু হয় সেই প্রেমের উষ্ণতা অন্যরকম। ভালোবেসে কলঙ্কিত হওয়ার পর আবার যখন নিষ্কলুষ ভালোবাসা তৈরি হয় সে ভালোবাসার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। বছরের পর বছর সত্য লুকানোর পর যেদিন সত্যটা প্রকাশ করার মত মানুষের সাথে দেখা হয়- সে দিনের স্মৃতি অন্যরকম। শৈশব কৈশোর কিংবা যৌবন পেরিয়ে পৌঢ়ে এসে যখন প্রেমিকার সাথে হঠাৎ দেখা হয়ে যায় সেই মুহূর্তটা অন্যরকম। যাকে বইয়ের পাতায় পড়ে…
দেখতে কেমন ; কি জানি ! [মো. আসাদুল হক] চাঁদপুর সদর- ২৮. ০৪. ২০২২ খ্রী. আহা- কী সুবাস আসে ! ঢেউ তুলে বাতাসে পাখা মেলে কী সুন্দর ভাসে ! ক্ষণে ক্ষণে বসে ঘাসে । এই যে আলো ছায়া নিত্য ফুটে ফুল নয়া কতো যে স্নিগ্ধ কায়া ! ভোরশিশিরে দেখো গিয়া । ভোরের মধু বেহাগে কেউ ঘুমে কেউ জেগে যে গিয়েছে আগে পড়েছে সে ফুলের অনুরাগে । কপোত-কপোতীর বাক-বাকুম ফাগুনের ধুম, নেই ঘুম সবাই উড়ুমদুড়ুম প্রহেলিকার কুমকুম । ফাল্গুনী সমীরণী সুনয়নী যে, নেয় সে চিনি খুলে কুন্তল বেণী সাজে বসম্তের চারিণী । দেখতে কেমন ; কি জানি ! বলতে পারে টলটলে…
অদ্বিতীয়া [তসলিমা হাসান] (১) আজ পহেলা ফাগুন, ফাগুনের আগুন লেগেছে সবার মনে। বসন্ত আজ সমাগম। কৃষ্ণচূড়া লাল হয়ে আছে গাছের ডালে। শিউলী ও বকুল ফুলের গন্ধ বাতাসে ভাসছে। “রেখা” বাসন্তী রং এর শাড়ী পরে পহেলা ফাগুন অনুষ্ঠানে এসেছে। রেখা ইডেন কলেজে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ে বাংলা সাহিত্যে। অপরুপ সুন্দরী ও লাবণ্যময়ী এক মেয়ে সে। প্রথম দেখাতেই চোখ সরাতে পারবে এমন পুরুষ মানুষ খুব কমই আছে। রেখাকে অনেকদিন যাবত পছন্দ করে ও ভালোবাসে জাহিদ। রেখাও জাহিদকে ভালোবাসে। জাহিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সে ছাত্র। রেখা ও জাহিদ বরিশালের একই জেলার মানুষ হলেও গ্রাম আলাদা- আলাদা। তবে একসাথে স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে,…
তার জন্যে (আজিজুন নাহার আঁখি) ২৮/০৪/২০২২ তাকে সান্নিধ্যে না পেলে আজ বুঝতেই পারতাম না অবহেলা কাকে বলে? কিভাবে অবজ্ঞা করা হয়? কিভাবে অপমান করা হয়? তাকে ভালো না বাসলে আজ বুঝতেই পারতাম না অভিনয় কাকে বলে? কিভাবে বঞ্চনা করা হয়? কিভাবে নিঃস্ব করা হয়? তাকে বিশ্বাস না করলে আজ বুঝতেই পারতাম না বিশ্বাসঘাতকতা কাকে বলে? কিভাবে শঠতা করা হয়? কিভাবে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়? তার স্বপ্নে বিভোর না থাকলে আজ বুঝতেই পারতাম না হতাশা কাকে বলে? কিভাবে নিরাশ করা যায়? কিভাবে সব স্বপ্ন ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া যায়? তার মাঝে বিলীন না হলে আজ বুঝতেই পারতাম না হৃদয় ভাঙা কাকে বলে?…
স্মৃতিকথা-ইফতার থেকে সেহেরী [তাহ্ মিনা নিশা] ইফতারে ভাজি ভুজি আমার পছন্দ নয়। আমি ভেতো বাঙ্গালী।এক কামড় খেজুর খেয়ে অল্প পানি মুখে দিয়েই ভাত খাওয়া শুরু। খাওয়া শেষে নামাজ পড়ে একটু এদিক ওদিক পায়চারি করা বা ফেইসবুক খুলে বসা। হাতের কাছে রাখি সবার খেয়ে বেঁচে যাওয়া বাকী ফ্রুটসগুলো। কাটা ফল তো বেশীক্ষণ থাকে না, আর স্বামী কিম্বা বাচ্চারাও এগুলো আর খাবেনা। তাই আমিই স্বপ্রলুব্ধ হয়ে এগুলো সাবার করার দায়িত্ব নিয়েছি । আমার আবার খাবার নষ্ট করতে কষ্ট হয়! ভাজি ভুজি যে আমার এক্কেবারে পছন্দ নয় তা নয়, মুচমুচে কড়কড়ে ভাজা লোভনীয় খাবার কার না ভালো লাগে? আমারও লাগে , ভালো লাগে,…
মেঘ, বৃষ্টির খেলা [ফরিদা বেগম] ১১/৮/২০২০। মেঘের উপর মেঘ করেছে চলছে মেঘের খেলা, মেঘের খেলা দেখছি আমি সকাল সন্ধ্যাবেলা। কোথা থেকে মেঘ আসে আর কোথায় চলে যায়, মেঘ রানী তোর খেলা দেখে সময় কেটে যায়। দেখতে দেখতে হঠাৎ যেন, ঝিরিঝিরিয়ে বৃষ্টি এলো লনে আকাশ জুড়ে রোদের ছোঁয়া ঝিলিক দিলো বনে। বনের আকাশ মনের আকাশ সব আকাশেই আলো পড়লো এসে, ভরলো ভূবন, ভূবন ডাঙ্গায়, সুখ আনন্দের খুশীর জোয়ার বইছে অবশেষে।।
তুমি নশ্বর পৃথিবী (মোঃবকুল ইমাম) হে পৃথিবী তুমি সুন্দর বটে তবে নও অবিনশ্বর, মোরা একসাথে পথ চলি তবু জানি তুমি নশ্বর। তব হাত ধরে চলি এ পথে তোমার প্রেমে পড়িবনা তবু, চোখে চোখ রেখে কাজ করি তবু ভালবাসিব না কভু; যে আমার প্রিয় যাকে ভালবাসি সে যে অবিনশ্বর, তোমার আমার স্রষ্টা সে যে বিশ্ব অধীশ্বর।। তোমার রূপের চাকচিক্যে ভুলাতে চাও তা জানি, তোমার বিত্ত বৈভব নিয়ে করে লোকে কানাকানি ; যারা নিজেরে চিনেনি তোমাতে ব্যকুল চোখে বিধে দাও শর, তুমি যে হেথায় পান্থশালা ক্ষণিক জীবন তর। তোমার অগাধ বৈভব চেয়ে আমি যে অনেক দামী, তোমার মোহেতে তাইত পড়িনা আমি তোমার…
মোবাইল চুরি (বি এম মোহসীন) ২৪.০৪.২০২২ তিন সদস্যের সংসারে মোর তিনখান থাকার ঘর আয়েশ করে বসত করি চার তলার উপর। চার তলাতে মোবাইল চুরি বিশ্বাস কি আর হয় চুরি যাওয়া সত্য বটে মিথ্যা মোটে নয়। বিশ রোজা ভোর চারটা সেহেরিতে উঠলাম দুসেট মোবাইল চার্জে দিয়ে ডাইনিং এ ছুটলাম। আট মিনিটে সেহেরী খেয়ে এসে দেখি ভাই চার্জার সহ মোবাইল দুটো যায়গা মত নাই। কে নিয়েছে কোথায় গেছে হম্বিতম্বি করি গিন্নি পুত্রের সোজা জ্ববাব দেখিনাইতো সরি। একটু পরে খেয়াল করি পাশের পর্দা তোলা পিছনে তার বন্ধ থাকা জানালাটা খোলা। বুঝতে পারি কি ঘটেছে হম্বিতম্বি মিছে বাহির থেকে চোর বাবাজি সেট দুখানা নিছে।
স্বনামধন্য কৌতুক অভিনেতা আনিসুর রহমান আনিস। আনিস বাংলাদেশের মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা। জন্ম ১৯৪০ জলপাইগুড়ি, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত মৃত্যু ২৮ এপ্রিল ২০১৯ ঢাকা, বাংলাদেশ কৌতুক অভিনেতা আনিস চলচ্চিত্রে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন অভিনেতা নয়, চিত্রসম্পাদক হিসেবে। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ভ্রাতৃদ্বয় এহতেশাম ও মুস্তাফিজের লিও দোসানী ফিল্মসে সহকারী সম্পাদক ও পরিচালক ছিলেন তিনি। এ দুই নির্মাতার মাধ্যমেই একসময় অভিনয়ে নিয়মিত হন আনিস। ১৯৬০ সালে বিষকন্যা ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। ১৯৬৩ সালে মুক্তি পায় আনিস অভিনীত প্রথম ছবি জিল্লুর রহমান পরিচালিত ‘এইতো জীবন’। তারপর থেকে তিনি অভিনয় করেই গেছেন। বাংলাদেশ…
