ফেলে আসা দিন যয়া খান জীবনের শেষ জোছনায় কপোলে কিঞ্চিত কুন্চন ধূসর বর্ণের একগাছি এলোমেলো কুন্তল। পরিপাটি স্মৃতিতে তোরঙ্গের কপাট খুলে মধ্যে রাতের জোছনায় স্মৃতির রথে চড়ে ফিরে যাই সেই শৈশবের যাপিত দিন রাত্রিতে। নির্মিত নিয়মের শিকল ভেঙ্গে ভৈরবের তীর ছুঁয়ে কাশবনে ছুটোছুটি দুবেনীর চপলা হরিণীর। বাঁধ ভাঙা বানে ভেসে যাওয়া প্রানোচ্ছোল রোদেলা দুপুরে। হিজল বনের হাতছানি ফুলপাখিদের মেলায় মুখরিত চড়ুইভাতি। নীল ঘুড়ি আর প্রজাপতির পিছে ছোটাছুটি। রুপকথার গল্পে গল্পে আর স্বপ্নের জগতে ভেসে যাওয়া, মুহূর্তে নিঃশ্বেষ রাত্রি । কি সহজ সরল নিঃস্বার্থ সেই হরিনশাবক আর চড়ুইপোষার বালক বেলা। দক্ষিণা সমীকরণে ভবঘুরে সেই কতশত সুখস্মৃতি ভেসে বেড়ায় আবেগি দৃষ্টি্র আঙিনায়।…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
আবার পাই যেন সাক্ষাৎ ম,আ,কুদ্দুস পদ্মা বাহঃ সুন্দর বোধের অন্তর কষ্ট পায় কেন মন সুখ কী বা ধন। মন উড়তে উড়তে যায় গন্তব্যের সীমান্তে না পেয়ে ফিরে আসে অশ্রু জল বৃষ্টি হয়ে। অবশেষ অনুভূতির কষ্ট ক্লান্ত ঈগলের নীড় ভ্রষ্ট ভাঙে স্মৃতি মিথ্যের ঘর কী সুন্দর কৌতুক, মিথ্যে সান্ত্বনা মন চায় ঘাটে ফেলতে নোঙ্গর ক্ষণিক বিশ্রামের পেলে বন্দর যেতে পথে শেষ কথাটি বলা আবার পাই যেন সাক্ষাৎ তোমার দেখা!
কম কম জগলুল হায়দার মুক্তাগাছার মণ্ডা যেমন ঢাকার যেমন টমটম টাঙ্গাইলে তেমনি মিলে টেস্টি যতো চমচম। মিললে পড়েই বেশি খাবা? না খোকা, খাও কম কম। ঢাকার যেমন তেজগাঁ পোর্ট কলকাতার অই দমদম সিলেট বেশি বৃষটি মেলা এক্কেবারে ঝম ঝম। মিললে পড়েই ভিজবা বেশি? না খোকা, ভিজ কম কম। বেশি খাইলে ডায়াবেটিস বেশি ভিজলে সর্দি বকবে তখন আব্বু আম্মু ভাইয়া এবং ছোড়দি।
কোথায় তুমি জেবুন্নেছা জোৎস্না (আমেরিকা) কোথায় তুমি, ও-হে বিধাতা? গেড়েছ কি আসন ভজনের স্তুতি’তে? মসজিদ-মন্দিরের জপ, ধূঁপ-ধুনে- ঝুলিয়ে পা, এঁটেছ কি বসে মধ্য বিত্তের গলাতে? খুঁজছি তোমায় অখন্ডিত পৃথিবীর খন্ডিত বিভাজনের দ্বারে— বিশ্বাসের বিন্যাসে, আপোষহীন ঈশ্বরাচিত্র গ্রিনিচ রেখার আলোকিত তারে। অবিনশ্বর, সুললিত স্তবকের বিশেষণে- শুনছ কি তুমি কাশ্মীরি শিশুর কান্না? দুঃখী দ্রাঘিমার ক্ষুধার আর্তনাদে সোমালিয়া- সিরিয়া’য় মানবতার অবমাননা! নষ্ট পৌরুষের অহংকারী প্রপ্রাতে আজ তুমিও কি সমঝোতায় দ্বিধান্বিত? অভিবাদিত সমকামীতা উলঙ্গ প্রজাতন্ত্রে, পূঁজি বাজারে রমরমা পুরোহিতের চক্রান্ত! ইতিহাসের নথিপত্র বলে কথা – মানচিত্রে বারুদের গন্ধ; রক্তে বিশ্বাসঘাতকতা। গো-মুত্র-মাংসের দ্বন্ধ হিন্দু -মুসলমানে- আমার তো এখানে নয়তো থাকার কথা— কোথায় তুমি, ও-হে বিধাতা!
পুরুষ তুমি অহংকারী মাসুমা নিরু পুরুষ তুমি অহংকারী তোমার ভেতরে খুব অহংকার একটা মেয়ে তোমাকে ভালোবেসে নিঃস্ব হলো নিজের ইচ্ছেয় তাকে নির্বাসন দিলে তার কোন খবর রেখেছ অবশেষে? ভালোবেসে দু’জনে একে অপরকে কিন্তু সিদ্ধান্ত নিলে একাই পুরুষের অহংকারে। ভালো থাকার সিদ্ধান্তে তুমি পুরুষ তাই আমাকে হারিয়ে যেতে হলো নীরবে নিজের ইচ্ছেকে মূল্য দিয়ে অহংকারকে টিকিয়ে রেখেছ। তোমার কি একজন নারীর প্রয়োজন ছিল না তোমার কি চলবে নারী ছাড়া? তোমার ভেতরে খুব অহংকার তুমি অহংকার করো পৌরুষেয় জন্ম দিতে পারো নতুন শিশুর সে অহংকারে নিজেকে পুরস্কৃত করো বার বার কিন্তু নতুন শিশু জন্ম দিতে সাধতে হবে না আমায়? কচুর পাতায় বীর্য…
সৎ কাজ দিল আফরোজ রিমা আমাদের জন্য কল্যানকর যে সমস্ত কাজ, সেগুলোই সৎ কাজ। যে কাজ অকল্যানকর তা অসৎ কাজ। আল্লাহ সৎ কাজ পছন্দ করেন। কারণ সৎ কাজের মধ্যেই মানুষের কল্যান রয়েছে। চুরি করা অসৎ কাজ। অন্যদিকে চুরি না করে আমানত রক্ষা করা বা প্রতিবেশীকে তার সম্পদ চুরি যাওয়ার আশঙ্কা থেকে মুক্ত রাখা সৎ কাজ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সেই কাজে খুশী যে কাজে তার বান্দার কল্যান সাধিত হয়। নবী রাসুলগণের দায়িত্ব ছিল মানুষের কাছে আল্লাহর দ্বীন পৌছে দেওয়া । এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের ভাল কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিতে হয়েছে। হযরত আদম (আঃ)…
অনন্ত মিথিলার নিরন্তর অপেক্ষা জেবুন্নেছা সুইটি আঃহাঃ জীবনটা যদি নিশিত রাতে বোম্বে চানাচুর, বৃষ্টি ভেজা কল্পনার মতো হতো! ভালোবাসা পেলবিত “মেহেদি পাতার রঙের আত্মকাহিনী বড় বেশি কষ্টে… প্রেমে-বিরহে অনন্ত মিথিলার জন্য অপেক্ষায় দিন গুণতে গুণতে শেষে, মিথিলাকে কাছে পেলো। ওহে, আমি সেই “অনন্তর মিথিলা হতে চাই। এসো, এসো ওগো অন্তত। ভোরের ট্রেণে চড়ে চলে এসো… আমি ভেজা মেঘের রাজ্য হতে নেমে তোমার আলিঙ্গনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি। চৌচালা নিকতনের সেই টিনের ঘরে অঞ্জলি দিবো, হাসনুহেনার সুভাস নিয়ে চৌকাঠের দখিনা দুয়ারে…! এসো অন্তত এসো হে….! নিশিত রাতে টিনের ঘরে বৃষ্টির ছন্দে ঘুম কেড়ে নিলো আমার তোমাকে নিয়ে তোমার স্মৃতি জড়িয়ে…! একমুঠো বোম্বে…
কষ্টের ফেরিওয়ালা নাজমুন নাহার লাডলী কষ্টের ফেরিওয়ালা ও কষ্টের ফেরিওয়ালা কষ্ট তোমার কি ? কত কষ্ট বেচো তুমি কোনটার দাম কত জানতে পারি কি? ঝুড়িতে তোমার আর কত কষ্ট আছে আমার থেকেও বেশি? কষ্টের রং শুধুই কি নীল লাল সবুজ হয় না কি তোমার কষ্ট আমায় দিবে করব ফেরি তোমার মতো বন্দি থেকে মুক্তি দিবে কি? তুমি কত্তো স্বাধীন বাড়ি বাড়ি ফেরি করো দূর দূরান্ত ছুটে চলো আমার আকাশটা জানো ভীষণ ছোট। কষ্টের ফেরিওয়ালা ও কষ্টের ফেরিওয়ালা তুমি আমার বাবাকে ঐ আকাশে দেখেছো কি? ওখানেই তারা হয়ে আছে দেখা হলে বলো তার আদরের মেয়ে ভালো নেই তাকে ছাড়া। এখন আর…
অমানিশা রবীন জাকারিয়া মেঘাচ্ছন্ন আকাশ এক টুকরো চাঁদের ভূতুরে আলোয় চেয়ে থাকি অপলক! চরকা কাটা কোন বুড়ি দৃশ্যমান হয় না, বরং এক পরিশ্রান্ত নারীকে দেখি মমতা ভরা চোখে৷ দুহাত দিয়ে চোখ কচলিয়ে আবারো চেষ্টা করি গভীর দৃষ্টিতে সেই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, ফ্যাকাসে চাঁদ আর সেই রহস্যময়ী নারীকে! নিজেকে আবিষ্কার করি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, জীর্ণ এক রান্না ঘরে৷ যেখানে নিভু নিভু প্রদীপের আলোয় আমার স্বপ্নের বাতিঘর, মমতাময়ী মা একমুঠো ভাত রাঁধছেন৷ বাটনায় পটলের ফেলে দেয়া ছাল দিয়ে কী ভীষণ যত্নে ভর্তা করছেন! প্রচন্ড ক্ষুধায় গরম ভাত আর ভর্তার ঝালের গন্ধ যেন নেশা ধরায়৷ থালাটাতে ভাত আর ভর্তা দিয়ে মা বললো, আজ বাজার করা…
সুগন্ধ তসলিমা হাসান মৌমিতা একটি বাতাবি লেবু গাছ লাগিয়েছিল। মন প্রাণ ঢেলে ওর যত্ন করেছিল। পানি ,সার দিয়েছিল,নিয়ম করে রোদ্দুর লাগিয়েছিল। দিনে দিনে গাছটি রূপসী হয়ে বেড়ে উঠছিলো। মৌমিতা অপেক্ষায় ছিল কখন ও তাকে ফল দিবে, আর ফল খেয়ে ওর দেয়া শ্রমের কস্ট ভুলে যাবে। কিন্তু না কোন ফল ফলছে, না ফুল হচ্ছে। পরাগায়ন করা হলো, তাতেও কাজ হলো না। দিনে দিনে গাছের প্রতি যত্নের কমতি দেখা দিল। মৌমিতার মনে হলো গাছটি ঠিক যেনো ওর একমাত্র ছেলে প্রিন্সের মতো। কেউ তার শ্রমের মূল্য দিল না। তাই সে আজকাল গাছটির দিকে তেমন মায়ার দৃষ্টিতে আর তাকাতে পারে না, তাকালেই মনে হয়…
