Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ

পথের আত্মকথা হিল্লোল তালুকদার আমি পথ বলছি…. হে পথিক, আমি তোমাদেরই সৃষ্টি, তোমাদের প্রয়োজনেই সৃষ্টি কর আমাকে, আবার তোমরাই আমাকে কর ধ্বংস। প্রতিনিয়ত নতুনভাবে তৈরি করছ আমাকে। আমাকে মাড়িয়ে তোমরা পৌঁছে যাও এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, কখনো পাত্র হেটে, কখনো বা যানবাহনে। যেতে যেতে ফেলে যাও কতশত ঘামের ফোঁটা, কত শোকাতুর অশ্রু অথবা আনন্দঅশ্রুও। আমার বুকে মিশিয়ে দিয়ে যাও কত ক্ষুদ্র প্রাণী, যাদের হিসাবও তোমরা রাখ না। মিশিয়ে দিয়ে যাও কত শত তাজা প্রাণ, যাদের জন্য তোমরা ক্ষনিক আহাজারি করো, অথচ আমাকে সহ্য করতে হয় তাদের আর্তচিৎকার, মরে যাওয়ার আগে একফোঁটা পানির জন্য অথবা অপ্রত্যাশিতভাবে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, আমাকে…

আরো পড়ুন

তোমাকে লেখা চিঠি কল্পনা সুলতানা তোমাকে লিখলাম নীল চিঠি বিষণ্ণতা আর বিষাদে ভরা নীল খামে— বিষাদ ছুঁয়েছে আজ মন ভালো নেই! নিরবতার গভীর অরণ্যে ডুবে আছি এই আমি। আমার অনুভবে সারাক্ষণ একটি বধির শব্দ আমাকে পিছু ডেকে ডেকে যায়, সে শব্দে আমি দিশেহারা। যতবার আমি পিছু ফিরে চাই তৃষিত আঁখিতে কিছু দেখিতে না পাই! প্রত্যাশা প্রাপ্তির আড়ালে আহত এ-ই আমি, ভালোবাসার দহনে পুড়ে পুড়ে ছাঁই হয়েছি বার বার, তবুও সব অভিমান সব অবহেলা ঝেড়ে মুছে ফেলে তোমাকে খুঁজে নিয়েছি বার বার। সেদিনও তোমাকেই ভালোবেসেছিলাম আজোও তোমাকেই ভালোবাসি। ভালোবাসি ভালোবাসি— নিথর এ শব্দটি ছুড়ে দিয়েছি আকাশে বাতাসে ও পরবাসে। আমার অসহায়…

আরো পড়ুন

১) “স্বাপ্নিক কল্পকথা” হৃদ্যতা-সহমর্মিতার বাগানের কাব্য অনুরণনে জাগিয়া উঠে অনিবার, দু’চোখ মেলিয়া দেখি হাওয়ায় উড়ে মমতা-মায়ার বন্ধনে স্বপ্নের পাহাড়। পাখির কন্ঠে মায়াবী লহরীর তান পূণ্যর্তায় ভরে যাক বিবেক রাজ্যপুরী, তরঙ্গায়িত কূলধ্বনি বদ্ধ দুয়ার খুলে স্বাপ্নিক শুদ্ধতায় ভরাক জনার স্বপ্নপুরী। আমি স্বপ্নদ্রষ্টা এক ভগ্ন আত্মার কবি প্রতিবাদী হই অহর্নিশি অন্যায়ে পংক্তির অস্ত্রে, বিবাগী আমি ব্যর্থ ক্ষণে ক্ষণে! সাহিত্যের পাদপৃষ্ঠে রেখে যেতে চাই সত্য ভাবনার অলংকৃত গুচ্ছকথা। হে কবি স্বপ্ন বিদ্যমান বলে আছে কলমের গতি- তেজস্বী কন্ঠ মিলাও না কখনো অসামঞ্জস্য, অনাবাদের চাষে। অনুভবের ক্ষমতা ঊর্ধ্বমুখী করো! বজ্রকন্ঠে গেয়ে যাও দিগ্বজয়ী গান, প্রেম কাননে রচিত হোক প্রেমাষ্পদের গুলবাগিচার স্বরবিতান। ২)…

আরো পড়ুন

পুকুর পাড়ের লাল-জামরুল গাছ -সাঈফ ফাতেউর রহমান পুকুরটা যথেষ্টই বড়, দৈর্ঘ্যে এবং পরিসরেও একপ্রান্তে টিকু-মিকু’দের বাড়ি, অন্যপারে হেডমাষ্টারের আবাস হেডস্যারের বাসার দেওয়ালের বাইরে জামরুল গাছ ডালপালা ছড়িয়ে জন্মাবধি দেখে আসছি, বাবা বলতেন, তিনিও দেখেছেন এমনই বড় আজও আছে গাছটি তেমনই, বিস্তৃত পরিসরে শাখা প্রশাখার সম্ভার লাল লাল জামরুল, সুস্বাদ, প্রচুর ফলন, ডালে ডালে থোকায় থোকায় নিষেধ করে না কেউ, কেবল পাঁচিলের পাশ থেকে কোমল রমণীকণ্ঠ, পইড়ে যাইয়ে ব্যাতা পাইয়েনা বাজানরা, সাবধানে গাছে চড়ো, আর নরম ডালে যাইয়ে না বাবারা! গাছটি এখনো আছে, ফলভারানত প্রাবীন্যের ছাপ যদিও পড়েছে সর্বাঙ্গে তার পুকুরটিও পড়ন্ত বিকেলের মত বিশীর্ণতায় পরিচর্যার অভাবে শ্রীহীনতায় অতীত যৌবনের স্মৃতি…

আরো পড়ুন

যে ব্যথা গোপন। । ছোটগল্প । সালেহা ফেরদৌস। কাকের কা কা কা কর্কশ রবে ঘুম ভাঙলো ঈশিতার। যদিও ঘুমের সময় নয় এখন। আসরের আযান পড়েছে। অফিস থেকে ফিরে বিছানায় শুতেই ক্লান্তিতে চোখ জোড়া মুদে এসেছিল কেবল। এমন অসময়ে কি কাক ডাকে? বিরক্ত মুখে হাই তুলে বারান্দায় গেল ঈশিতা। ঈশিতাকে দেখা মাত্র কাকটা বারান্দা থেকে উড়ে গেল। সামনের বাসার ছাদে গিয়ে বসলো কাকটা তবে কা কা রব বন্ধ হলো না। কাকের কা কা শব্দ শুনলে ঈশিতার দুশ্চিন্তা হয়। ঈশিতা জানে এসব কুসংস্কার তবুও ঈশিতার মনে হয় এই কর্কশ ডাক যেন বিপদের কথা শোনাতে আসে ঈশিতাকে। কাকটার দিকে পেছন ফিরে ঘরে চলে…

আরো পড়ুন

এসেছে রমজান রোকসানা রহমান এসেছে রমজান, খুলেছে রহমতের দ্বার। মেতেছে মানুষ নামাজ রোজায়। খালি হাতে প্রভু ফেরাবে না কাউকে, করেছে অঙ্গিকার। রোজা এসেছে সবার দ্বারে, গরিব-ধনী একাকার করতে। একই নিয়মে খেতে হবে খানা, সেহেরী, ইফতার যত হোক খাবারের আইটেম, খেতে পারবে না আযান বিহীন। একটু ভাবো মমিন মুসলমান, ত্যাগ করো সকল অহংকার। যত টাকা ঘুষ দাওনা কেন, মাগরিবের আযানের আগে খেলে রোজা হবে না তোমার। ভেবে দেখো একবার গরীবের যে নিয়ম তোমার ও তাই। তবে কেন আমরা করি অবিচার? আল্লাহর কাছে সকল মানব সমান। ভেবে দেখো কতটা সঠিক, এই রমজানের বিধান। চলো সবে ঈমান আনি, রোজা রাখি, করি দান দুহাতে।…

আরো পড়ুন

১) ফাল্গুনী কন্যা প্রকৃতির ফাল্গুনী কন্যা, বসন্ত ছুঁয়েছে তাই ধন্যা! বসন্ত হরষে আজ কপোল যে রাঙা, আনন্দবীণা বাজে কাননে ঘুম ভাঙা! চুপি চুপি আয় বসন্ত বায়, নিভৃতে হৃদয় কুঞ্জ ছায়! আনন্দময় বসন্ত সমীরণ, সুখকর কানন বিচরণ! ফুল ফুটুক হৃদয় কাননে! মধুর হাসি আধো নয়নে! রাঙা অধর নয়ন কালো, ফাগুন দিনে লাগে ভালো! শিমুল পলাশের কত শাখায় শাখায়, দিকে দিকে রাঙা রঙের শিখায় শিখায়! কুঞ্জে কুঞ্জে জাগে বসন্ত আনন্দে, আনমনা মন মোহিত আম্র মুকুল গন্ধে! হৃদয়ে কী আনন্দ জাগায় ওরে কে’ আছিস কোথায়, নব কুসুমপল্লব নব গীতে আয় তোরা আয় রে আয়! কোথা হতে বয় এত প্রাণভরা প্রেম-হিল্লোল! হৃদয়কুসুম ফুটে পুলকভরা…

আরো পড়ুন

কবি কাকলী কর ঝুমা’র দুইটি কবিতা: ১) একটি চিরকুট টেবিলে তোমার লেখা চিরকুট পেলাম লিখেছো, “বড় ভালোবাসি তোমায়” আমার মেঘের পৃথিবীর ক্লান্তিগুলো হাওয়ার তোড়ে উড়ে গেল নীল প্রজাপতি হয়ে। মনের গহীনে জোসনার ঢল! অশ্বথ গাছের মতোন ডাল-পালা ছড়িয়ে তোমায় ভালোবেসেছি, তেত্রিশ বছরের আকাঙ্খিত কথাটি আজ প্রথমবার শুনলাম। একটিবার এসে ছুঁয়ে দেখে যাও কতোটা নিবিড়ভাবে তুমিময় এই আমি। ২) অভিমানের ঝড়োমেঘ নিথর চোখের চাহনিতে গলে পড়ছে অভিমান মনটা যেন মেহেদি পাতার রঙে রাঙা বাইরে থেকে তাজা সবুজ ভেতরটা গাঢ় খয়েরি জমাট বাঁধা রক্তকণিকা! পাথর চোখে ক্ষয়ে যাওয়া শ্রাবণ ঝড়োমেঘ অহর্নিশ বজ্রপাত ধ্বনি মনের অন্তরালে, অতলান্তিক অভিমান জলে পুষে রাখা নাবিক…

আরো পড়ুন

অবশেষে নূরুল ইসলাম নূরচান তোমার আমার পরিচয় অনেক দিনের। কলেজে প্রথম ক্লাসের দিন পরিচয় হয়েছিল দুজনের। তুমিই প্রথম প্রপোজ করেছিলে ভালোবাসার। আমিও রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। এরপর অনেক লেনাদেনা হয়েছে তোমার আমার, যদিও আমি কোন মতেই প্রথমে রাজি ছিলাম না এসবে। তুমি নানা প্রলোভনে আমাকে করায়ত্ব করেছো, ফায়দা লুটেছো ইচ্ছে মতো। পাকা কথাবার্তা চলছিল আমাদের বিয়ের অবশ্য আমার চাপাচাপিতেই এসব হচ্ছিল। হঠাৎ একদিন বললে, ‘চলো আমরা ঝাউবন পাহাড় নৈসর্গিক দৃশ্য দেখবো।’ তুমি বললে, আমি পাথরে ফুল ফোটাতে পারি, পারি সাগর সেচে মুক্তামণি আনতে তাই তোমার কথায় রাজি হয়ে গেলাম। আমরা উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় বসে গল্প করছিলাম। তুমি বললে, তোমার কপালে একটা…

আরো পড়ুন

আজ কথাসাহিত্যিক জসিম মল্লিক-এর জন্মদিন, শুভেচ্ছা নিরন্তর। এক নজরে লেখক পরিচিতি: জসিম মল্লিক। জন্মঃ ১৭ মার্চ ১৯৬১, বরিশাল, বাংলাদেশ। কথাসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক। জীবন যে এক আশ্চর্য্য গল্প, বয়ান; জসিম মল্লিক তার নিপুণ কারিগর। যে জীবনকে নিবারন করা যায় না, অনিবার্য; জসিম সেই কাহিনীই তুলে ধরেন। গভীর বোধ, বেদনা আর বিহলতা না থাকলে জীবনকে কতটুকুই বা বোঝা যায়। বোঝে মানুষ? হয়তো তা বুঝতেই জসিম ছুটে যান বরিশাল থেকে টরন্টো, নিউইয়র্ক থেকে লসএঞ্জেলেস, কোলকাতা থেকে ওয়াশিংটন ডিসি , আবার লন্ডন থেকে ডালাস। পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। ডানা ঝাপটানো পাখির মতোন। এই বয়ে চলা, উড়ে চলাই তাকে ঋদ্ধ করেছে, জীবনের বোধ…

আরো পড়ুন