জিজ্ঞাসা আফরোজা জেসমিন। বলো বর্ষ ! এইবারও কি শুনতে হবে , তীব্র আর্তনাদ। এইবারও কি রাখবে পেতে মানুষ মারার ফাঁদ। এইবারও কি কৃষক ভাইয়েরা খাজনা দেবার তরে, শাসক গোষ্ঠীর চোখ ইশারায়, ঢুকবে কয়েদ ঘরে। এইবারও কি গরিব ঘরের, সুন্দরী সেই নারী, যৌতুকের-ই জন্য আবার, ফিরবে বাপের বাড়ি। এইবারও কি থাকবে দেশে, আকাল হাহাকার, পাশ করা সব সোনার ছেলে, রইবে ঘরে বেকার! এইবারও কি মার্কেটে লাগবে অনাকাঙ্ক্ষিত আগুন, জ্বলে পুরে সব ছাই হবে ক্ষতি কোটি কোটি গুন। হায়রে দেশ প্রতি বছর, একই পথ ধরে, বুড়ো হয়েই আছো নবীন ! কর্তব্যের ভারে ।
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
সাগরের নৌকো ভাসাই কথার সুরে – আরিফ মল্লিক পরিযায়ী পাখিটা ঘুমিয়ে পড়ে অভিমান আর ভালোবাসা না পাওয়ার অপেক্ষায় শেষ রাতে ম্যাসেজ দিয়ে দিয়ে অস্থির একবার ভেবেছিলাম একটা কল দেই তখনি মনে হলো এত রাতে কোনো সচেতন পুরুষ কি এভাবে কল দিতে পারে? জেগেই স্বপ্ন দেখছিলাম নীল শাড়িটা জড়িয়ে আছে আমার ভালোবাসার গোপন সব দিশা গুলো খোলা জানারার বাতাস মাঝে মাঝে দুষ্টু আঁচল সরিয়ে উন্মুক্ত করছে আমার মাথা রাখার নিশ্চিত সেই আশ্রম নিজের অজান্তেই কখন যে অনুমতি ছাড়াই এলিয়ে দিলাম নিজেকে গভীর ঘুমে আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে নিলো আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল তবুও তার সুবাস আমাকে ছাড়লো না ভাবলাম…
বিলাসী বৈশাখ খায়রুল ইসলাম মামুন তুমি শুভ, তুমি অশুভ, তুমি লীলা, উৎসব মুখর বাংলার তুমি বৈশাখ পহেলা। তুমি ধ্বংসের, তুমি সৃষ্টির বিভীষিকা তুমি কালবৈশাখীর। তুমি শস্যভরা ফসলের জমিন তার ভিতর হেটে যাওয়া কিশোরীর রূপ অমলিন। তুমি উদাসী বনের হাওয়া, বেনু বীণে রাখালের গান গাওয়া। তুমি কৃষকের হাসি, কৃষানির কন্ঠে সূর বারোমাসি। তুমি বটের ছায়া, সুরেলা পাখির গান, স্রোতহারা স্রোতস্বিনীর সকরুণ অভিমান। তুমি এক মেলা পঞ্চবটের মূলে, তুমি হিজল-জারুল-হিমচাঁপা বহতা নদীর কূলে। তুমি সুকঠিন বাঁধন, বাংলা ও বাঙালির মাঝে, তুমি বৈশাখ! উপমা তোমার- তুমি নিজে।
স্বপ্ন নদীর তীরে রুনা খান চলে এসো, এই শীতলক্ষা নদী তীরে স্বপ্নরা এখানে জলের কণায়, কণায় মিশে রয়েছে; আশারা বাঁধ ভাঙা নৃত্য করে চলেছে ঢেউয়ের প্রতিটি দোলায়, দোলায়। জলজ প্রাণীরা, গড়েছে সাম্য ও মৈত্রীর বন্ধন, প্রেম ও ভালোবাসার বর্ণচ্ছটায় জ্বল, জ্বল করছে নদীর জলের প্রতিটি বিন্দু। যদি ইচ্ছে করে, যদি তোমার মন চায়, তবে চলে এসো, এই স্বপ্ন নদীর তীরে । কাশফুলের দোলা বুকে নিয়ে আমি অপেক্ষা করছি তোমার আশার। নদীর এপার টায় , যেখানে আমি বসে. পাড় ভেঙে পড়ছে একটু একটু , ওপারে জাগছে, আবার নতুন চর। নতুন স্বপ্নের আশা বুকে নিয়ে সেখানে জাগছে, কচি সবুজ ঘাস। বাতাস সমর্থনে…
না-ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ইকবাল হাসান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (১২ এপ্রিল) দিনগত রাত ১২টার দিকে কানাডার টরন্টোর মাইকেল গ্যারন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন জাতীয় কবিতা পরিষদ এবং বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবি মোহন রায়হান। কবি ইকবাল হাসান দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধব এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। খ্যাতনামা এই কবি অসংখ্য সৃষ্টিশীল কাজ করে গেছেন। তার কবিতা-গল্প-প্রবন্ধ দুই বাংলার সাহিত্যাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি অসাম্প্রদায়িক স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তবুদ্ধির চেতনার প্রতি আমৃত্যু শ্রদ্ধাশীল…
সবিতার সত্য সংসারকথা অঞ্জলি দেনন্দী, মম কলকাতার বিধান সরণীর বিরাট চার তলা বাড়ির মেয়ে। বাবার বড় বাজারে দুটি ব্যবসা চলছে। একটিতে সেলাই মেশিন তৈরি হয়। আরেকটিতে যাবতীয় দর্জি কাজের জিনিস পাওয়া যায়। ব্যবসার বাড়িটিও চার তলা বিশাল। পাত্রী সবিতা দেখতে খুবই সুন্দরী। তেইশ বছর বয়সে বিয়ে হল। পাত্র দেবী প্রসাদ কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে বি. কম. পাস। কলেজ স্ট্রীটে প্রাইভেট ফার্মে জব করে। হাওড়ার সালকিয়াতে বউকে নিয়ে ভাড়া থাকে। হুগলীর চৈতন্যবাটী গ্রামে প্রচুর জমি, সম্পত্তি আছে। সেখানেই তার পরিবারের সদস্যরা থাকে। বিয়ের এক বছর পর সবিতা ও দেবী প্রসাদের এক কন্যা জন্ম নিল। এর…
জীবন-তরী বনানী সিনহা চলছে জীবন তরী উজান কিবা ভাটির দিকে তাতে কি? করেছে কি আমায় এতটুকু ফিকে! রঙ বেরঙের কত নৌকায় হয় চেনা জানা বুঝে না বুঝেই ভেড়ে আমার নৌকো খানা। আনমনে ভেবেই চলি আমার পাল তুলে অন্য হাতের বৌঠাতেও চলি, পাল যায় খুলে। সত্য এটাই নৌকা চলে কখনো কারও ইচ্ছায় বয়ে চলে তখনো জীবন নিজের অনিচ্ছায়। হাল ছেড়ে দিলে হয়তো পেয়ে যাবো স্বাধীনতা জীবন তরী চায় না কখনো, এহেন দীনতা। ঝড় তুফানে পড়ে যখন ভাসি নীল দরিয়ায় মুখোশধারী বন্ধু স্বজন দূর থেকে দূরে সরে যায়। প্রতিকূল কাটিয়ে নৌকা যখন আবার অনুকূলে যাবো না ভুলে প্রকৃত মিত্র, রাখবো হৃদয়ে তুলে।…
ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্মরণেঃ মোঃ হাবীবুর রহমান তিনি যা করেছেন ক’জনে তা করে! লড়েছেন ঠেকাতে যতো অন্যায় অনাচারে, যতো দিন বেঁচে ছিলেন মাথা উঁচু করে! নিজের যা ছিলো সবই মানুষের তরে, সম্পদ-ই নয় শুধু নিজ দেহ অকাতরে! এমন দরদী মন সে-কি আসে বারে বারে, আসে কদাচিৎ যুগে যুগে শতবর্ষ পরে। মুক্তি-সংগ্রামে এসেছিলেন বিলিতি আয়েশ ছেড়ে, সে-ই যে এলেন রয়ে গেলেন থেকে গেছেন একেবারে। সকল ক্রান্তি ও দুর্যোগে জাতি পেয়েছে পাশে তারে, চিকিৎসা-সেবা আঙিনায় দিয়েছেন উজাড় করে। নিশ্চিত করেছেন সুলভ স্বাস্থ্য-সেবা গণমানুষের তরে, ওষুধ হাসপাতাল আর বিদ্যাপীঠ; যেথা চিকিৎসক গড়ে। সত্যের উচ্চারণে ছিলেন অকুতোভয় দারুন প্রজ্ঞা ভরে, আজ তাঁর বিদায়ে শোক-স্তব্ধ…
দুরত্বরেখা কাকলী কর ঝুমা দুরত্ব বাড়ছে ঊর্ধ্বশ্বাসে… ধ্বস নেমেছে অন্তরের অন্তঃপুরে সংবেদনশীল অন্তর, বুদ্ধের মূর্তির মতোন শান্ত চোখ তবুও, এঁকে যায় দিগন্তের বোবাকান্না ধূসর রেখা। দ্বৈরথের দাবানলে অন্ধকার আকাশ নিস্পৃহতায় আঁকে নীরব কান্নার ছবি থেমে গেছে পাহাড়ি নদীর সঙ্গমের ঢেউ কেঁপে ওঠে নোনা অতলান্তিক কষ্টের বুক ভালোবাসা ফিকে হয়ে গেছে নিয়তির মানচিত্রে বেহালার করুণ সুর বাজে অনিশ্চিত জীবনের ক্ষত- বিক্ষত, অব্যক্ত গল্পের লোবান উদ্ধত নিয়তির নিষ্ঠুর দর্পনে। _________________ কাকলী কর ঝুমা টেক্সাস, আমেরিকা এপ্রিল ১০, ২০২৩
চলে গেলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। একই সঙ্গে অবসান হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গণবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় ওষুধ নীতির এক রূপকারের কর্মময় বর্ণাঢ্য জীবনের। রাজধানীর গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে মঙ্গলবার রাতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ক্ষণজন্মা মানুষটির বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রধান কিডনি বিশেষজ্ঞ ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রধান চিকিৎসক অধ্যাপক মামুন মোস্তাফী মঙ্গলবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানান। জাফরুল্লাহ চৌধুরীর চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান সমন্বয়কারী অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অধ্যাপক ডা. মামুন মোস্তাফী বলেন, ‘অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আপনাদের জানাচ্ছি, আমাদের প্রিয় বড় ভাই আমাদের মাঝে আর নাই।’ __________________ ডা.…
