১) যে পথে সমুদ্র ও বালি
যে পথে চলেছে সমুদ্র সে পথেই হাঁটছে বালি,
অন্ধকার ছুঁয়ে দিচ্ছে নোনাজলের আঁখি
কেউ কারো নয়, তবু আজন্মের এই চলা,
ঢেউয়ের বুকে জমা আছে সহস্র না-বলা কথা।
পিছুটান নেই, তবু বেলাভূমি জুড়ে স্মৃতিরা জেগে ওঠে,
আকাশের নীল মিশে যায় ওই দিগন্তের রাগে।
জল সরে গেলে তটে পড়ে থাকে নিঝুম হা হা কার,
বালি জানে, ফিরে আসাটাই সমুদ্রের অধিকার।
পায়ে পায়ে আঁকা জলছবিগুলো মুছে দেয় লোনা হাওয়ার স্রোত
জীবন মানেই তো অকারণ আসা আর অকারণ যাওয়া।
তবু যে পথে চলেছে সমুদ্র সে পথেই হাঁটছে বালি,
শূন্য হদয় ভরে ওঠে দিয়ে যায় এক সমুদ্র পদাবলী।
২) অন্তরের বুক পকেট
তোর ইচ্ছেগুলো
আমায় দে, রাখবো অন্তরের বুক পকেটে।
একচিলতে হাসি, কিছু মিছে অভিমান,
সব কুড়িয়ে নেব অতি অনুভবে।
মেঘলা দিনের কোনো অলস বিকেলে
যদি ঝরে পড়ে তোর আনমনা ছায়া,
আমি একলা বসে কুড়িয়ে নেব আলো,
বুকে জড়িয়ে রাখবো তোর মেখে থাকা মায়া।
ঝড় উঠুক না যতই বাইরে,
তোর যত গোপন, যত না-বলা কথা—
সযত্নে জমা থাকবে আমারি গভীরে,
ছুঁতে পারবে না কোনো বিষাদ ব্যথা।
তোর ইচ্ছেগুলো
আমারই থাক, ভালোবাসার রঙে আঁকা…
বুক পকেটে যত্নে থাক তোর দেয়া মধুর স্মৃতি,
জোছনার আকাশটাতে যখন দেখবি তারা—
ভাবিস আমায় মনে মনে,
আছিস তুই বুক পকেটে মিষ্টি সুবাস মেখে।
কাঠপোড়া রোদে তোর আবছা ছায়া,
বিকেলের হালকা হাওয়ায়—
মনে মনে জেনে রাখিস,
বুক পকেটে আলতো আদরে রেখেছি তোকে যত্নে।
তখনও মনে রাখিস,
মৃদু মৃদু বাতাসে—
আছিস তুই আমার বুক পকেটে,
ভালোবাসার গভীর মাঝারে

