Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ

ভালোবাসা নাকি মোহ স্বপন কুমার বৈদ্য সেদিন স্টেজ শোতে দর্শক সারিতে তোমাকে দেখার পর হতে প্রতিটি ভোরে আকাশের আঁচলায় তোমাকে খুঁজি প্রতিটি দুপুরে মেঘের ছাদ হতে বৃষ্টি নামাই প্রতিটি বিকেলে গঙ্গার ধারে ছুটে যাই পাড়া মহল্লা বন বাঁদাড় কিছুই বাদ রাখিনা শুধুই খুঁজি খুঁজি খুঁজি তোমাকে আরেকবার দেখার প্রবল ইচ্ছায় ; প্রতিটি রাতে ভালোবাসার বীজ বপন করি অন্ধকারের বীজতলায় মস্তিষ্কের স্নায়ু ছিঁড়ে কুটি কুটি করি তোমার অস্তিত্ব খুঁজে বের করতে ; কখনো সারারাত জেগে জেগে কবিতা লিখতে শুরু করি দেয়ালে তোমার ছায়া দাঁড় করিয়ে রেখে , কবিতাগুলো আর কবিতা থাকে না এক একটা আরব্য উপন্যাসে পরিণত হয় লিখে চলেছি তো…

আরো পড়ুন

সহমরণ রিমি কবিতা বৈশাখের দাবদাহে রক্তে লেগেছে নাচন, তোমার ঘাম তৃষ্ণায় হৃদয় জুড়ে আকন্ঠ দহন। যে প্রচন্ডতায় হৃদয় নিংড়ে ভালোবেসেছিলাম, তার চেয়েও তীব্র প্রচন্ডতায় খানখান করে দিয়েছো আমার হৃদপিণ্ড। চুপটি মেরে থাকি বলে ভেবো না আঘাতে কষ্ট পাই নি! অযাচিত মৃত্যু যন্ত্রণা কেমন হয় জানি না, তবে এর চেয়ে ভয়ানক হয় না বোধ হয়। সরে এসেছি বলে ভেবো না খোঁজ নেই না তোমার, প্রতি মুহুর্ত জড়িয়ে আছি তোমার এপাশ ওপাশে। যতটা আস্থায় জড়িয়েছিলাম তার চেয়ে দ্বিগুণ দ্বিধায় ছাড়িয়ে নিলে নিজেকে। যতটা নির্ভরতায় আঁকড়ে থেকেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি নির্মমতায় নিমজ্জিত করলে অন্ধকারে। তোমার চোখের দিব্য প্রেমে এক নিমিষেই যে জীবন…

আরো পড়ুন

একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে রেজাউদ্দিন স্টালিন ঠিক মতো কিছুই হয় না বাড়ি থেকে বেরুনোর সময় দরোজার মুখে কুলুপ আঁটা হয় না জামার একটা বোতাম সাবানে খাওয়া প্যান্টের ভেতর থেকে শার্টের বিদ্রোহ জুতোর ফিতে ক্ষুধার্ত বলে ঠিক মতো দাঁড়াতে পারে না চশমার জানালায় মেয়াদোত্তীর্ণ কাঁচ দ্বিখণ্ডিত শ্বাসকষ্টে ঘড়ির কাঁটার নিঃশ্বাস নিভে আসছে সূর্য স্থির বলে কতদিন প্রিয়জনের সাথে দেখা হয় না তাই বলে পৃথিবীর কোনো কিছু থেমে নেই পরাশক্তির ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে বৃষ্টির ফোঁটায় ইসরাইল টেনে লম্বা করছে রক্তের রেখা চিনের মৌমাছিরা সিল্করোডে সাজোয়া যান নিয়ে ছুটে যাচ্ছে ইউক্রেনের সব গম খেয়ে ফেলছে রুশট্যাঙ্ক আমেরিকা জুতোর তলায় রোধ করে রেখেছে…

আরো পড়ুন

ভালোবাসার লাইব্রেরি (সাঈদা আজিজ চৌধুরী) রুদ্রদিন রুধির আত্মা, শান্তির জল ঢেলে দাও। হে প্রভু, ভালোবাসার লাইব্রেরি নির্মাণ করে দাও। অলৌকিক ভালোবাসার, সম্প্রীতির ভালোবাসা হে প্রভু, ভালোবাসার লাইব্রেরি আরও বিপুল করে দাও। আত্মার অন্ধকার গুহায় আলোর স্ফূরণ দাও সংকীর্ণ হৃদয় প্রশস্ত করে দাও, বিভাজন দূর করে দাও ভালোবাসা সম্প্রীতির সরু গলি আরও বিস্তৃত করে দাও। জোনাকির ক্ষুদ্র আলো, অন্ধকার সিঁড়ি আলোর দৈন্যতা অপারঙ্গম মানুষ, জোড়ায় জোড়ায় মৌলিক মানুষ চাই এ পৃথিবীর আনাচে কানাচে কোণায় কোণায়। হে প্রভু, ভালোবাসার লাইব্রেরি আরও বিপুল করে দাও। সভ্যতার দ্রাঘিমায় আমরা মানুষেরা এখনও বর্বর– বিবস্ত্র উল্লাস আমাদের লোহিত কণিকায় সাম্প্রদায়িকতার সূক্ষ্মজাল নীরব বিস্তার দ্রোহের আগুনে পুড়ে…

আরো পড়ুন

মায়া সৈয়দা শাফিনাজ মায়া বড় শক্ত বাঁধন মায়া সীমানা ছাড়িয়ে আকাশ ছুঁতে চায় মায়া রঙ ছাড়া চোখের জলে মিছেই সোনার তরী সাজায় মায়া কাঁদায় আবার, মায়াই মনের মাঝে তোমার লাগি রূপকথার অট্টালিকা সাজায় মায়া সুপ্ত ভালোবাসার মুক্ত ঝিনুক ও বটে,,,,, ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, ২৩.০৪.২০২৩

আরো পড়ুন

আঙ্গিনায় ঝোড়ো বৃষ্টি – পলক রহমান। এবার গ্রীষ্মের তাবদাহ উষ্ণতার বৃষ্টি ভিজিয়েছে ভিরমি আকাশ, ভাসিয়েছে মরণোন্মুখ দগ্ধ পোয়াতি প্রকৃতি, আতুড়ে ফলন । ভিজছিলাম আমিও কর্মঠ জলে উদোম শরীরে। অনুভবে ছিল তোমার নিকোনো শরীর। প্রতিক্ষায় আমি খুঁজছিলাম বিলম্বিত কামনার জলজ আঙ্গিনা। খুঁজছিলাম উপচানো ঝোড়ো বৃষ্টি। দিদ্রোহী ছিল চোখের শুকনো পাতা। তীর্যক রোদের ফলায় তোমাকে তাই খুঁজিনি। আসলে খোঁজাও যায়নি। পাখিদের কন্ঠে ছিল আহাজারি, প্রসব বেদনায় মেঘ ছিল দীগন্ত আড়ালে। বাতাস ঝোড়ো মূর্তি হয়ে খুঁজেছে উলঙ্গ বৃষ্টি, ভেজা মাঠ, শালিকের শরীর। জল গড়ানো শুকনো নদীর নাভী। বিদ্যুৎপোড়া মেঘের রণ চিৎকারে ঘরের জানালা দরজা বন্ধ করতে গিয়ে বৃষ্টির ছাঁটে ভিজে যেতেই আজ অনুভবে…

আরো পড়ুন

লুকানো বসন্ত শিরীনা ইয়াসমিন কে কাকে আগে চিনেছিলো? কখন হৃদয় বাঁধা পড়েছিলো? কখন বুকের মাঝে লুকানো বসন্ত জেগে উঠেছিলো? টের পায়নি দুজনের কেউ। বারবার পথের টানে ফিরেছে একই পথে। আজ আবার সেই পথে হাঁটছে যখন — একটু ছোঁয়ায় শিহরণ জাগলো মনে! কাঙ্ক্ষিত স্পর্শে গগনে জলধি উঠছে ডেকে বাকশক্তিহীন, অবস দেহ, বয়ে চলেছে সর্বশক্তি নিয়ে। আনন্দে ভাসছে, শরীর টলছে, আকাশ কাঁপছে দু’ফোটা বৃষ্টি যেন আজন্ম কাঙ্ক্ষিত। আকাশ যেন প্রতীক্ষায় ছিলো এই মোহময় ক্ষণের! আকাশ আর মনের দেয়া গর্জে চলেছে কম্পিত হৃদয়, আবেশে চোখ এলো বুঁজে। অজান্তেই হাতের মুঠোয় হাত, পরস্পর হাত ধরাধরি করে হাঁটছে– কী হতে চলেছে? জানেনা ওরা! যেন কল্পিত…

আরো পড়ুন

০১) বীভৎসতায় আতঙ্ক স্মৃতির কপাট খুলে যায় মস্ত হা করা চোয়ালে স্বাধীনতা শব্দটির উন্মিলনে— অপ্রতিরোধ্য অস্ত্রের ঝনঝনানির শব্দ, সারিবদ্ধ মাথার খুলির দৃশ্যচিত্র চোঁখে মুখে বীভৎস আতঙ্কে হিম জড়ায় । খেই হারানো মনের চিপাগলি ঘর্মাক্ততায় ভিজে জনপদের ঘাটে ঘাটে শকুনের ঠোঁটের তৃষ্ণার প্রতিচ্ছবি ছায়া হয়ে ভাসতে থাকে— চিন্তাগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে অচেনা রাজ্যের প্রবেশ পথে; নিজের মধ্যে নিজেকে হাতড়াতে থাকি মগ্ন অচৈতন্যে। শহীদের রক্ত স্রোত,ভাসমান লাশের দুর্গন্ধ শিরার মাঝে স্বগোতক্তি হয়ে চিৎকার করে— হাড়ের জীবাশ্ম মাটি ভেদ করে বলতে থাকে স্বাধীনতা অর্থ কী —দাও বলে ত্যাগীর আত্মার হাহাকার বায়ুর বুকে ঘুরছে! শহীদ জননীর চোঁখে নদীর জল ঠিকানা পায়, অশ্বত্থ বৃক্ষের তলায়…

আরো পড়ুন

নীরব অশ্রুরেখা কাকলী কর ঝুমা নির্ঘুম রাত, অপূর্ণ স্বপ্ন! চারিদিক গভীর শূন্যতার সিন্ধু জল, চোখের অন্তরীণে বিমূর্ত আগুন ছবি, এ যেন ধুসর আকাশে ঘননীল অশ্রুপাত! আমার একাকিত্বের আর্তচিৎকার তুমি শোননি, শুনেছিল মেঘ, গর্জে উঠেছিল বারংবার ক্রোধের অনলে! ঝাঁকরা চুল উড়িয়ে ভেসে এসেছিল হাওয়া; আকাশে উঠেছিল ঝড়ঝম্পা। ইন্দ্রের ধনুক দৃপ্ত প্রতিবাদ করেছিল লুন্ঠন-উল্লাসে! আমার কম্পিত চোখ তোমার জন্য প্রতীক্ষা করেছে সহস্রবার, প্রতিবার হয়েছে রক্তাক্ত! তোমার মনের অতল জল স্পর্শ করতে যেয়েও পারিনি, হয়েছি পালছেঁড়া নৌকা! অবশেষে হলাম নিকষ নিস্তব্ধ রাতের ঘূর্ণিঝড়, অন্ধকার শ্মশানের ফসিল।

আরো পড়ুন

নাম, সর্বনাম। সুরমা খন্দকার। খেদোক্তি নিয়ে খুঁজিনি কখনো কোনো প্রত্যাখানের মানে। পারিনি কিছুই করতে বেজায় ব্যকুল মনে দু’হাতে অবলীলায় ঝরে যাওয়া সময়, সে সব জানে…. ভালবাসি বলায় যে শক্তির পরিচয় তা এই দূর্দশাগ্রস্ত মনে একান্তে লালিত শক্তি আমার গোধূলি জমা দু’চোখে স্বপ্ন নাকি দুঃস্বপ্ন? না অজানা দুর্গতি যাচাই করিনি কভু, মেনে নিয়েছি অবলীলায় … তুমি না বললেই না হয়ে রয় কথারা সাজেনা গোলাপ কুঁড়িতে তুমি এগিয়ে আসলেই তোমার পাদ দাগ পড়লেই,সৃষ্টি গোলাপ বাগানের একেই, এতো কিছুর পাওয়া ও সর্বহারা…. জানি, তুমি উদাস নও স্থির পথিক — বললেই বেরিয়ে আসে জীবন থরোথরো প্রেম, অস্থির দিক্কিদিক প্রাণ পায় মরু সমতলে বেখেয়ালে ছুঁয়ে…

আরো পড়ুন