“এইসব দিন রাত্রি ” ছোট গল্প মা দিবসের নিবেদন শাহানা জেসমিন জীবন এতো ক্ষুদ্র। এই ক্ষুদ্র জীবনে কত সৌন্দর্য উপভোগ করছি। কত সৌন্দর্য দেখিনি চক্ষু মেলিয়া। জীবন এতো ছোট্ট ,সময় এতো কম,আয়ু এত ধরা বাঁধা এটা ভাবলে মন খারাপ করে, চোখের কোনে জল জমে। একটা মন খারাপ পাখি বুকের মাঝে ছটফট করে,একটা কচ্ছপের আয়ু আমাদের থেকে বেশী। একটা বৃক্ষের আয়ু আমাদের থেকে বেশি। আমরা এত কম সময় নিয়ে কেন এলাম এত সু্ন্দর পৃথিবীতে আহা। স্বল্প আয়ুতে পৃথিবী সুন্দর আর জীবন সুন্দর। নিশুতি রাতের বুকে ঢেউ খেলে যায় দূরের জেলখানার ঘন্টায় পেরোনের সময় আবর্তে। আর নদীর জলের ঝিলিমিলি পানিতে ফিরে যায়…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
তুমি মা। সুরমা খন্দকার। যে ক্ষণে কুক্ষণে ডাকে কাছে, যে গ্রহণ লাগায় ফোটাতে পারে পূর্নিমা আলো। যাকে দেখলেই দূর হয়ে যায় সমস্ত অমানিশা কালো। জগতের সমস্ত জখমের তুমিই এক মলম। জগতের সব ভালোবাসা ভুল হয় কেবল তুমিই অকৃত্রিম। তোমার থাকা সমস্ত দুর্বার জয় করা- ত্রিভুবন, বসুধা নিজেই সম্রাজ্ঞী সম্রাট যেন কেবল আমার এ ধরা। তোমার না থাকা যেন সারা দুনিয়া ফাঁকা – যেন ভিক্ষাপ্রার্থী,ভিখারি স্নেহের, বাৎসল্য, মমতা আদরের। তোমার নিস্তব্ধতায় এক টুকরো নৈশব্দ রোপন করেছি বুকের গহীনে, নিভে গেছি রাত্রির মতো দুচোখের সীমানায় কোনো জল নেই, হৃদয়ের কপাটে দুর্ভিক্ষ কড়া নাড়ে, কেবল ভালোবাসার আকাল। কেউ পারেনা তোমার মতো করে। হৃদয়ের…
মা দিবস উপলক্ষে ছোটগল্প। বিশেষ দিবসের মা –জিল্লুর রহমান। তালুকদার সাহেব টিভি চ্যানেলের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছেন আর বার বার ঘড়ি দেখছেন। কখনো চেয়ার থেকে উঠে রুমে পায়চারি করছেন। তার চোখে অনেক স্বপ্ন, এবার তাকে ফুলবাড়ী পৌরসভার মেয়ব পদে দলীয় মনোনয়ন নিতে হবে, পৌরসভার মেয়র হতে হবে। তিনিই হবেন ফুলবাড়ী পৌরসভার পৌরপিতা, কথাটা ভাবতেই তালুকদার সাহেবের বুকটা ভরে গেল। আজকাল রাজনীতি করতে গেলে মিডিয়ায় ঘন ঘন চেহারা দেখাতে হয়। আর যারা তার মতো টিভি চ্যানেল পর্যন্ত আসতে পারে না, তারা ডিজিটাল ব্যানার দিয়ে মানুষের দোয়া চায় কিন্তু তালুকদার সাহেবের দুটোই প্রয়োজন। তারও ডিজিটাল ব্যানারে শহরের রাস্তার দুপাশে ভরে যাবে, সেব্যবস্থা…
মার সেই রেডিওটা শাহানা জেসমিন সেই শৈশবে একটা আলতার শিশি বুকে জড়িয়ে ধরে সারারাত ঘুমিয়ে ছিলাম নতুন জামাটাও বুকে জড়িয়ে ছিলাম সারারাত এক জোড়া নতুন জুতোর প্যাকেটও ছিলো পাশে আহা কী সুখ, ঈদের সুখ! কতগুলো কাঁচের চুড়ি, নীল আসমানী রঙ চুড়ি কত বার প্যাকেট খুলেছি আর দেখেছি আহা!ঈদ আনন্দ! মার জন্য লাল ডুরে পাড় শাড়ি গায়ে ঘষামাজার জন্য সুগন্ধি সাবান, আর সুগন্ধি তেলও ছিলো আহা কত সস্তা সুখ, তবুও তবুও বুক ভড়া আনন্দ, মার লারে লাপ্পা চুড়িটাও ছিলো! একদিন বাবা গয়না গড়াতো যারা দত্ত বাড়িতে গেলো মার বিয়ের ভারি অঙুরিগুলো গলিয়ে পাতলা চুড়ি বানিয়ে আনলো, ডিজাইনটা ছিলো গোলাপ ফুলের! মা…
অবহেলা। রাবেয়া আহমেদ চামেলী নারী বলে কি আমাদের প্রতি এতো অবহেলা। যারা তাদের চিন্তা চেতনায় মূর্খ তারাই শুধু নারীদের নিয়ে করে হেলাফেলা। জঘন্য এ সমাজ ব্যবস্থাটাই ভালো না তাই তো ভাবি ওরা কি মনুষ্য জাতি। সারাক্ষণ নারীদের জীবনের বাতি নিভে দিচ্ছে রাতারাতি। এভাবে থামাতে পারবে না ওদের জীবনের গতি। কল্যাণ কাজের জন্য অর্জন করছে শক্তি। ভালো মন্দ নিয়েই হচ্ছে সুবুদ্ধি। তাদের ভালবেসে প্রকাশ কর সম্মতি। নারীদের জীবনের দুঃখ কষ্ট দুর্গতি মানুষের মনের গভীরে সত্যি মাঝে মাঝে মন টায় থাকেনা ফুর্তি। আনন্দ দুঃখের কত স্মৃতি রেখে যায় নারীদের অম্লান কীর্তি। তাই তো তখনই নারীদের প্রকাশ পাই ভাবমূর্তি। জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পরাশক্তি…
মা আফলাতুন নাহার শিলু তোমার সান্নিধ্য, স্নেহের পরশে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী করেছি, প্রবল প্রতিকূলতাকে মেনে নিয়ে মনোবল দৃঢ় করেছি মা। দৈনন্দিন অভ্যাসগুলো রপ্ত করতে করতে অভ্যস্ত হয়েছি শৃংখলতার বেড়াজালে অপ্রত্যাশিত ব্যবহারের কারণে দূরত্ব বাড়েনি কারো সাথেই কষ্টকে মনে চেপে রাখার নিরাময় তুমিই দিয়ে গেছো মা।। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার আর কটু মন্তব্যের বিরোধিতা করতে সর্বদা অটুট থাকার প্রেরণা ছিলে তুমি,, স্বেচ্ছায় সেবা আর সহমর্মি হওয়ার শিক্ষা তোমার দেওয়া অনন্য উপহার মা।। তাচ্ছিল্যকে উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়ার দীপ্ত পদক্ষেপের প্রথম ধাপ তো তোমারই হাত ধরে মা, নি:সংকোচে সত্যকে স্বীকার করে সচেতন হতে শিখিয়েছ, সমাজের নেতিবাচক মন্তব্যকে দোষ দেওয়া অনর্থক মনে করতে বলে…
কয়লা বা ব লু ম ও লা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জেনেছি প্রতিটা মানুষের মধ্যেই আছে মহা মূল্যবান রত্ন রত্নের ভান্ডার। এক একটি রত্ন পরশ পাথরের চেয়েও মূল্যবান এক একটি পরশ পাথর মানুষের দুঃখের সাক্ষী বহন করে। যার জীবনে যতো দুঃখ তার বুকের মধ্যে ততো পোঁড়া কয়লার স্তুপ আর পোঁড়া কয়লার মধ্যেই থাকে পরশ পাথর নামক এক মহা মূল্যবান বস্তু। কোন কোন মানুষ তার অন্তরের মধ্যেখানে স্তুপ স্তুপ কয়লার মহা স্তুপ জমা করে রাখে, সে পোঁড়া কয়লার কিছু অংশ যদি কোন মহাসাগরে নিক্ষেপ করা হতো, তবে সাগরের সমস্ত নোনা জল বাষ্প হয়ে নিমিষেই উড়ে যেতো। জীবনে এক একটি মানুষ যে…
বেদনার কোরাস আফলাতুন নাহার আমায় একা ফেলে চলে গেলে সুখের খোঁজে! সুখ!!! সুখী হতে কতকিছু লাগে বলতে পারো? এত এত পৌষ গেছে, বসন্ত গেছে ফিরে আসোনি! শৈশবের বারান্দায় দাঁড়িয়ে খুঁজেছি তোমায় কৈশোরের কুয়াশার আঁধারে আক্রান্ত পাহাড়ের শীর্ষে খুঁজেছি তোমায়! জলপাই ফলের রঙে রঙিন শহরের গলিপথে খুঁজেছি তোমায়! যৌবনে সন্চিত স্বর্ণমুদ্রার বাক্সের ভিতরে খুঁজেছি তোমায়! আক্ষেপ-তাড়িত কবিতার জীবদ্দশায় খুঁজেছি তোমায়! মৃত্যর কাছে নিজেকে সমপর্ণ করে প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ খুঁজেছি তোমায়! তবু বলিনি সুখ চাই! সুখের খোঁজে যাইনি কোন আনন্দিত আতংকে ভরা আবেগীয় পরিমন্ডলে! অপেক্ষার শহর, এ শহর থেকে অন্য শহর,,, কেবলই পাথর! কবিতার শব্দ আজ নিথর, গানের সুর আজ বেসুর, করতলে পায়রার…
একটুকরো কাগজ সোহরাব হোসেন। বউমা ঘরে আছো ও বউমা ? জি আছি——–! তো এত রাতে কেন ডাকছেন? এক টুকরো কাগজ হবে? বহুদিন লিখিনা মনের কষ্টগুলো। তোমার শাশুড়ী গত হয়েছে প্রায় একযুগ! হঠাৎ মনটা শুধু ছটফট করছে, ভাবলাম মনের আকুতিগুলো লিখে রাখি! বুড়া মানুষ——— পরে হয়তো আর মনে নাও হতে পারে। শুধু একটুকরো কাগজ চাই, বউমা? মনে রেখো; এর বেশি কখনো চাইবো না। আমি জানি! যুক্তিসংঙ্গত এই মানসিক চাহিদার দাবি খুব মানসম্মত তবুও হয়তো ওটুকুই জুটবে না। তোমাদের কাছে তেমন অপরাধ নেই! তারপরেও অনুরোধে বলছি? কিছু না ভেবে একটুকরো কাগজ দাও! ততোটা সুন্দর আর সুমসৃণ না হলেও চলবে, শুধু কলমের কালিগুলো…
বড় অচেনা লাগে নাছরীন মিতা চেনা এ শহরটাকে বড় অচেনা লাগে চেনা এ পৃথিবীটাকে বড় অদ্ভুত লাগে প্রিয় মানুষের হাসির আড়ালেই লুকিয়ে আছে অন্য পৃথিবী! তবু সব অভিমান অভিযোগ পেছনে ফেলে রেখে ফিরে যাই বার বার। প্রতিদিন প্রতিমূহুতেই মনের অজান্তে কতো রঙীন স্বপ্নকে ধূসর রঙে সাজাই প্রিয় মানুষের হাসির আড়ালে অচেনা পৃথিবীটাকে দেখে। চেনা শহরটাকে বড় অচেনা লাগে।
