তুচ্ছ আমি জেরিন বিনতে জয়নাল সকল অপেক্ষার অবসর ঘটিয়ে অপ্রাপ্তির খাতায় আজ তোমার নাম। তোমার জন্য সাধনা করেছি বহু বছর কিন্তু, তুমি যে সাধ্যের বাইরে তা মাত্র জানলাম। আমি ভালো আছি আমার মত করে, তুমি চাইলে যেতে পারি আরও অনেক দূরে। আমি হতে পারি তুচ্ছ, তবে মূল্যহীন নই। তোমার মন জমিনে ঠাঁই হয়নি, তাই অবহেলার কুটিরে বাস করব, তা নয়। আমি মুক্ত আকাশের অচিন পাখি, ডানা মেলে উড়তে জানি নীল আকাশের বুকে। আমি কথা বলি মেঘেদের সনে, ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেই সবার মনে। হয়তো কোন ক্ষনে, মুখোমুখি হব আবার- কথা হবে তো সেদিন? নাকি এড়িয়ে যাবে চোখে চোখ পড়লে? পথভ্রষ্ট…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
বাবা গল্প আফছানা খানম অথৈ রফিকুজ্জামান হাই স্কুল টিচার ছিলেন। দু’ছেলে এক মেয়ে হওয়ার পর উনার স্ত্রী মারা যান। তিনি ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর বিয়ে করেননি। যাক দু’ছেলে ভালো ভাবে মাস্টার্স কমপ্লিট করেছে।আর মেয়ে ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর ভালো বর দেখে তার বিয়ে দিয়ে দিলেন।রফিকুজ্জামান এক সময় চাকরী থেকে অবসর নিলেন।ততদিনে দু’ছেলের চাকরী হয়ে গেল।বড় ছেলে জাবেদ ব্যাংক অফিসার, ছোট ছেলে আবির অডিট অফিসার।যাক ভালো ভাবে বাবা ছেলের দিনকাল অতিবাহিত হচ্ছে।বড় ছেলে জাবেদ রিলেশন করে বিয়ে করল।তার কয়েক মাস পর ছোট ছেলে আবির ও বিয়ে করে বউ ঘরে তুলল। এর ফাঁকে কেটে গেল কিছু সময়।এক দিন দু’ছেলে প্রস্তাব করল।…
ছবি ফ্রেমে সমরেশ কবি সুরমা খন্দকার ক্ষতি হলো আকাশের কাঁদছে প্রকৃতি, বিলাপে ফুল, পাখি, নদী বৃষ্টির চোখে জল পাহাড়, চা বাগান, জলপাইগুড়ির কান্নার ঢল তোমার চলে যাওয়ার পর- অনর্গল… ভালোবাসা ক্ষণিকের নয়, অনন্তের তুমি অথবা তোমাদের কালের সাক্ষী হয়ে রইল ‘উত্তরাধিকার’ অবসন্ন হৃদয় গল্পচ্ছলে কবিতা লিখবে না আর… অসমাপ্ত কথার মতো আজীবন রবে জন্মান্তর রাজনীতির জটিল আবর্ত বুঝিয়ে দিলে দাহ্য বস্তুর কোন সৃষ্টিশীল ক্ষমতা নেই প্রকারন্তর শুভ সময়ের ডাক দিলো অশুভ ‘কালবেলা’ এ আক ছেলেখেলা… সহস্র বছর ধরে কয়েকশো বছর কেটে যাবে- ‘কাল পুরুষ’ ‘দীপাবলি’রা সংগ্রাম করতে শিখে গেছে একাকী আরেকটু বাকী, বাকী বুরুশে বেণী টানা হুঁশ ছেড়ে যায়নি মাধবীলতাকে…
বলতে গেলেই মহাবিপদ দেবদাস হালদার এমন অনেক কথা আছে কখনো তা যায় না কাউকে বলা? আর বলতে গেলেই মহা বিপদ! চালান দেয় কেউ গজারি কাঠের চলা? সন্দিগ্ধ এ মনটাও তখন একটু হলে ও দোটানাতে ভীমড়ি খায়! পরিশেষে সব কিছুতেই আসে দ্রুত স্থবিরতার অনেক দায়? তারপরেও থাকে কিন্তু লোকলজ্জার ওই উল্টো সিধে উটকো ভয়? শেষ অবধি টেণ্ডলের হয় পোয়াবারো আর মজাও সে হাতিয়ে লয়?
মা গো তুমি কত দূরে ডা: সুরাইয়া হেলেন অনন্তকাল শুধু হাহাকার হায় মাগো তুমি কোথায়,কোথায়? মাগো তুমি কত দূরে, কত দূরে, কখন আসবে মাগো আবার ফিরে? অনন্তকাল ঘুরে ঘুরে বারে বারে আসবে কি ফিরে বহু অন্ধকার পায়ে ঠেলে তোমার ফেলে যাওয়া এই স্বপ্ননীড়ে? আদি-অন্ত এই স্বর্গসম পৃথিবীর তীরে জড়াতে আবার আমায় স্নেহমায়া ডোরে মাগো তুমি কোথায়,কোথায় কত দূরে, কত দূরে, কত দূরে? —————————————– (মা দিবসে সকল মায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসা।রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সাগীরা।)
ছায়া সঙ্গী অনিতা দাস আমি তাহার ছায়া সঙ্গী হলেম বসন্ত না ফুরানোর দিনে এক রাত্রির যাত্রী হলেম নক্ষত্রের দলে, জোনাক আলোর ঝিলমিলিতে সঙ্গী হলেম নিশি ভোর হলে জামরুলের বনে দৌঁড়ে চলি ছুঁয়ে দেখবো বলে, কঙ্কন পরা রমনীর কোমল হাতের স্পর্শে তোমায় জাগবো সহস্র বছর ধরে। কেন জানি শত যুগ অপেক্ষার পরে তুমি এলো নির্ঝরের লক্ষ কোটি স্বপ্ন নিয়ে, অতীতের যত গ্লানি ম্লান করে সিংহল সুমুদ্র হতে গুটি গুটি পায়ে হেটে নিস্তব্ধ বুকে ঢেউ জাগাতে। মহাকালের যাত্রায় জীবন রেখে প্রেমের অর্ণিবান শিখা জ্বেলে পুরোনো অশ্বত্থের নিচে ধ্যান মগ্ন ঋষির নিশ্চল আসন পেতে অনন্তকালের পরে তাহারেই বাধিলাম আমি আমৃত্যু, আরেক জন্মের অপেক্ষায়…
একটি চায়ের কাপের গল্প শাহানা জেসমিন অ্যাওরটিক ভাল্ব যেদিন প্রতিস্থাপন করা হলো তোমার বুকে সেদিন আবারও ভালোবাসা প্রতিস্থাপিত হলো অথচ দেখো বৈশ্বিক দুর্ভিক্ষে বিশ্বমানব সভ্যতার অর্ধেক অংশ মুছে যাবে, পাঁচশ কোটি মানুষের মৃত্যুর হুমকি! যেখানে খাদ্যের নিরাপত্তা নেই ভালোবাসার নিরাপত্তা কিভাবে হবে? প্রীতিপূর্ণ আদান প্রদানও লোপ পাবে। স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির সঙ্গে ভালোবাসাও ক্রোক হবে একসঙ্গে থাকা ক্লোজ আপ সম্পর্কও ক্লোন হবে শষ্যধ্বংশকারী দুর্গন্ধ যুক্ত কীট এখন বোধের শরীরে! কালের জঠর থেকে বেড়িয়ে আসবে কী সোনালি সারস! উড়বে কী আনন্দে! যেভাবে প্রতিটি ভোর ফিরে আসে গভীর রাত ফুরালে। টং চায়ের দোকানে বসে চা খাওয়া হতো দুজনের কত হসপিটালের কেন্টিনের চায়ের কাপে…
দূরত্ব মারজিয়া পপি হৃদয়ের খুব কাছে রেখেছিলাম তোমায়, এক আকাশ দূরত্ব বাড়িয়ে মুখে না বলেও বুঝিয়ে দিয়েছো, আমাদের সম্পর্ক শুধুই একটা নাম মাত্র। তাতে কোনো মায়া নেই কোনো টান নেই। তবুও, টানহীন সম্পর্ক বয়ে বেড়াই ছাদহীন ঘরের মতো৷ টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে ঘরের চালায়, সব ভিজে ভেসে যাচ্ছে জলে৷ যেভাবে চোখের জলে ভেসে যাও তুমি দূর থেকে বহুদূরে৷ যোগাযোগ কমতে কমতে, একটা সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে সম্পর্ক হয় নিশ্চিহ্ন৷ তবুও যেন ভালোবাসা রয়ে যায় মনে, অপেক্ষায় নতুবা আক্ষেপে৷ রয়ে যায় স্মৃতিতে৷
জীবনের গল্প মোঃ নিজাম উদ্দিন জীবন থেকে নেয়া জীবনের গল্প, কখনো কখনো হয়তো এমনই হয়!! কখনো অল্প স্বল্প; কখনো পূর্ণদৈর্ঘ্য! কখনো সাজানো গুছালো; কখনো অগুছালো এলোমেলো; লিখতে গেলে এক, বলতে গেলে আরেক!! জীবন থেকে নেয়া; কিছু গল্পের আড়ালে সুখ, কিছুতে দুঃখ! কিছুতে সূর্যের হাসি মাখা; কিছুতে পূর্ণিমার শশী!! জীবন থেকে নেয়া; কখনো মেঘের আড়ালে, কখনো বৃষ্টির ছলে কখনো নোনা জলে, কখনো আপন মনে কখনো প্রকৃতির ছায়ায় মায়ায় কায়ার নেমে আসে! জীবন থেকে নেয়া; কিছু গল্প কষ্টের তীব্রতা ভয়ে আনে কিছু গল্প সুখের ভেলায় ভেসে চলে! কিছু গল্প ছলে, কিছু গল্প কলে কিছু গল্প চঞ্চল, কিছু গল্প টলমল! কিছু গল্প মনের…
যদি আমায় পড়ে মনে সি কে পল্লব যদি আমায় কখনো পড়ে মনে , তাকিয়ে দেখিয়ো বলাকা সারি দল বেধে উড়িতেছে গোধূলি লগনে।। ঊষাকালে দোয়েল পাখি শীষ দিয়ে মধুর সুরে গান গাইছে আনমনে।। যদি আমায় কখনো পড়ে মনে তুষারে দুধে মাখানো রঙে ভরেছে তেপান্তর শরৎ বেলায় কাশবনে।। সাদা মেঘ লুকোচুরি ছুটোছুটি আর খেলা করছে একে অপরের সনে।। সারা আকাশ জুরে তারার মেলা গভীর নিশিতে তাকিয়ে দেখিয়ো আকাশ পানে। যদি আমায় কখনো পড়ে মনে তাকিয়ে দেখিয়ো মেহেদি পাতা পরে আছে ক্ষত-বিক্ষত কলিজার মাঝখানে।।
