বর্ষাকাল চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু আষাঢ় শ্রাবণ বর্ষাকাল বছর ঘুরে আসে, মেঘের ভেতর লুকিয়ে তখন সূর্যমামা হাসে। বৃষ্টি পড়ে সারাটা দিন টাপুর টুপুর তালে, বৃষ্টি পড়ে টিনের চালে সবুজ গাছের ডালে। বৃষ্টি পড়ে মাঠটা জুড়ে বনের পাখী চুপ, এই বর্ষায় বাংলাদেশের পালটে যায় রূপ। বৃষ্টিতে সব ভিজে ভিজে দুষ্টু ছেলের খেলা, কদম গাছের ডালে ডালে যেন ফুলের মেলা। বর্ষাকালে পুকুর ঘাটে সোনা ব্যাঙের গান, এই বর্ষায় এই বাঙালির তাইতো নাচে প্রাণ। _____________ বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
বাবুর দাদীমা শারমিনা ইয়াছমিন বাবুর লক্ষী দাদীমা, খায় শুধু মিঠা পান। ঠোঁট লাল করে, বেসুরে গায় রসিক গান। একদিন না পেলে, নেয়ামত সেই মিঠা পান, গোমরা মুখে হায়, যায় যায় তার প্রাণ। পানের সাথে খায় জর্দা, চুন ,সাদা পাতা। সুপারি না কিনলে, মুখ’টা শুকিয়ে তেজপাতা। ছোটদের মতো অভিমানে, বদ্ধ রুমে মুখ ফুলিয়ে। বকবক সুরে দেবে চোদ্দ গুষ্টির নাম ভুলিয়ে। দাদীমা দেখতে শ্যামলা, নয় তো তেমন কালো। পান পেলে উনার, মনটা থাকে ভীষণ ভালো। বয়সে চুল পেকেছে, বুড়ো হয়নি তো মন। নাতির সাথে সবসময়, হেসে খেলে কাটায় জীবন।।
তুমি তো সেই মোহাম্মদ মিজান উদ্দীন চেপে ধরেছে মন, তোলপাড় অকারণ হঠাৎ হয়েছে সনে, প্রথম পরিচয়, কেমন জানি, বৃষ্টির ছন্দে, মনে হাওয়া হতভম্ব হচ্ছে,অশান্ত জমিন হৃদয়। নয়ন এক দুষ্টু, কেমন অনুভব চলছেই, প্রহরে প্রহরে মন, কথা বলে ভেতর, দিবানিশি উড়ছে, অন্য রকম ছোঁয়া নিয়ে সত্যি কি জানি, সেই কি নিবে খবর। নম্রতা সুরে,সুন্দর পরিচিতি এক ক্যাফে, মুগ্ধতা ছুঁয়েছে, মনের খুব গহীনে, কোমলতা হৃদয়,ধীরে ধীরে ভবেতে ভাবে আমার উপলব্ধি, সেই তোমার নামে। শুকনো মন মাটিতে, প্রেম ফুলের বাগান আশায় বাধঁছে,প্রতি নিয়তেই, অনুভূতি হাসছে, তোমার তরে ভাবতেই সত্যি বলছি, তুমি তো সেই।
ইট-পাথরের পাদদেশে তসলিমা হাসান বিস্তীর্ণ জমিন জুড়ে ব্যাপক উর্বরতায় চাষ হতো যে ফসল সবুজে সবুজে ভরে যেত যে জমি, জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবল চাপে বসত বাড়ি নির্মাণের ধূম আর অনু পরিবার গঠনের চলমান প্রক্রিয়ায় আবাদি জমি আজ চরম সংকটে। বড় বড় ইমারতের ছাদেও চলছে চাষাবাদ বিশিষ্ট কৃষি সাংবাদিক শাইখ সিরাজ স্যারের ভাষায় যদি বলি — তাহলে কারোরই অজানা নয় ” ছাদ কৃষির” নাম। কেন জানি মনে হয়, কৃষিও আজ যাদুঘরে। অনুরূপ নদী-নালা-পুকুর-ডোবা বাঁশ ঝাড়ে পাখির কলতান সবই বিলুপ্ত প্রায় — ফ্ল্যাট বাসার ব্যলকোনিতে খাঁচায় পোষা ময়নার ডাকে কি মন ভরে? কৃত্রিম পার্ক আর রিসোর্ট সেন্টারে কি গোল্লাছুট খেলা যায়? মাটির মানুষ…
অভীপ্সা সাঈদা আজিজ চৌধুরী সদাস্মিত যন্ত্র নগরী মাধুরী অনুভব সুরেলা সঙ্গীত। তোমার ভৈরবী ব্যাকুল সুর হৃদয়ে তরঙ্গ খেলে অবিরত। আমার অভীপ্সা তোমাকে জুড়ে, দেবালোকে তুমি উর্বশী রক্তিম আবেগ নিয়ে আমি অবিশ্রান্ত বিরহে বানভাসী। বুকের ভেতর দ্যুতিময় ক্যানভাস রক্ত মন্জরী চিত্রলিপি হৃদয়ে পুন্জীভূত অভিমান নিস্তরঙ্গ জীবন ছিঁড়ে যায় গ্রন্থি। বুকের বুননে কত পুষ্প ফুটালে তুমি হবে যে তুষ্ট কতগুলো চাঁদের লকেট দিলে উপহার আমায় দেবেনা কষ্ট। পানকৌড়ি বেশে প্রেমিক সেজে জলজ পুষ্প নীড় বাসনা শতাব্দীকাল ধরে তুমি অধিশ্বরী প্রেমিকা কেমন কপট ছলনা। রক্ত মাংস মানবী নাকি মিশরের রাণী পিরামিডের মমি এত শত বন্দনা চন্দ্রাণী রচনা পদ্যের স্রোতে ভাসি। কেন বন্দনা নিজেও…
বন্ধুত্বের বন্ধন রাবেয়া আহমেদ চামেলী বন্ধুত্ব হচ্ছে ভালোবাসার এক প্রগার বিশ্বাস, তাকে অটুট রাখবো যতক্ষন থাকবে নিঃশ্বাস। মনে হয় হৃদয়ের মাঝে, সারাক্ষণ আপ্লুত রাখি, আনন্দের ঝরনা ধারা তাইতো ভাগ্যবান তারা যারা খুশির বন্যাধারা করে প্রকাশ। আমি তুমি সবাই যেন এক হয়ে যাই, একরাশ ভালোবাসা পেয়ে এসো না সবাই মানুষের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে শান্তির পরশ লাগাই। এতে আনন্দ খুশি সুখ যেন খুঁজে পাই। বর্ণিল শুকতারাগুলো যেন মিলেমিশে করছে বিশাল উদারতার বিকাশ। বন্ধু আছে নির্ভরতা আর বিশ্বাসে বন্ধু হচ্ছে চাওয়া পাওয়ার ঊর্ধ্বে। সমুদ্রের গভীরতার এক কষ্টের ঝলক বন্ধুুর আনন্দ সুখে থামছে না পলক। এসো না আমরা পৃথিবীর মানুষের ভিন্নতা দূর করে,…
বেদনার চাষ মোহাম্মদ শাহানুর ইসলাম ফসল ফলাবো ভেবে লাঙলের ফলা হাতে শুরু করেছিলাম অকর্ষিত ভূমির কর্ষণ দুই হাতে তিলে-তিলে বপণ করেছিলাম ফসলের বীজ বাহুর বলে চর্মের ঘামে আর হৃদয়ের দামে গড়ে তুলেছিলাম এক সুবিশাল সবুজাভ পৃথিবী পত্রপল্লবে ছড়িয়ে দিয়েছিলাম প্রেমের সিক্ত ধারা অতি যত্নে লালিত স্বপ্নকে রূপ দিতে বিনিদ্র প্রহরীর ভূমিকায় ছিলাম অবিচল দিনের পর দিন রাতের পর রাত এভাবেই চলছিলো হৃদয়ের শব্দহীন কোমল সাধন …একসময় স্বর্ণাভ ফসলের ভারে— সুবাসিত মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর চারপাশ নিজের হাতে ফলানো ফসল একান্ত অধিকারে চাইতেই বিপত্তির দৌরাত্ম না! না! না! নিষেধাজ্ঞায় অসংযত অবরোধ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর শ্বাস নিয়ে নীলাভ আকাশে তাকিয়ে ভাবি: ফসলের…
স্মৃতিতে ইছামতী সোহরাব হোসেন (শিক্ষক) চাচা এটা কি নদী? এর নাম কি ছিল? সাহেব এই নদীর কথা বলছেন, এর নাম ইছামতী নদী। চাচার মুখে ইছামতীর হারানো স্মৃতি, বলতে বুক ফেটে কান্না আসে ——— প্রচুর যৌবনে কলকল রবে বয়ে চলত এই নদী। হয়তো – নদী বুড়া হলে সৌন্দর্য হারায়, প্রকৃতির কাছে বন্ধক রাখে তার যৌবন; থাকেনা তার ক্রোধ ও ধারালো স্রোত , তখন নদীর বাটে তাকালে শুধুই চোখে পড়ে তার নির্মম হাহাকার! নদী পাড়ের মানুষের ভিতর খুঁজলে পাওয়া যায় শতশত নদীপ্রীতি। নদী যদিও সর্বস্ব হারিয়েছে, হারিয়েছে নদী পাড়ের মানুষ! কিন্তু, স্মৃতি রোমাঞ্চ লুকিয়ে আছে শত বাঁধায় আটকিয়ে! যে নদীতে অবাধে সাঁতার…
বিরহের বাঁধনে (গীতিকবিতা) মোর্শেদা চৌধুরী এ্যানি অন্তর মাঝে মোর কষ্ট জ্বালা হতে পারিনি তোর গলার মালা, শত শত স্রোতের বিপরীতে হেটে জীবন যৌবন মোর কাদায় মিশে।—-২ বার প্রতি মুহূর্তে ফুটন্ত ফুলের ছোঁয়া দিতে দিতেই গেলো প্রাণ খোয়া, সর্বত্র দিয়েও যারে যায় না দেখা, মুখপানে ভেসে উঠে মলিন রেখা। অন্তর মাঝে মোর কষ্ট জ্বালা হতে পারিনি তোর গলার মালা।—-ঐ মেহেদি পাতার মতো লাল রঙ্গে বেঁচেই মরছি হায় কাঁটার আঘাতে! জনম গেলো মোর আশায় আশায় কেড়ে নিয়ে গেলে মুখের ভাষা। প্রতি মুহূর্তে ফুটন্ত ফুলের ছোঁয়া, দিতে দিতেই গেলো প্রাণ খোয়া। সর্বত্র দিয়েও যারে যায় না দেখা, মুখপানে ভাসে শুধু মলিন রেখা! ধন…
না ফেরার দেশে জেরিন বিনতে জয়নাল মনে পড়ে কী সেদিনের কথা? নির্জন বৃষ্টিস্নাত পথে, তুমি আর আমি। নগ্ন পায়ে পিচ ঢালা রাস্তা, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিরিষ গাছগুলো যেন দেহরক্ষী। দু’ধারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে। এক ঝাঁক দেহরক্ষীর মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম আমরা। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর মেঘের গর্জন। মনে পড়ে? হঠাৎ কীভাবে ভয়ে পেয়েছিলে মেঘের গর্জনে! সেদিন তো কথা দিয়েছিলে,কখনও ছেড়ে যাবেনা, প্রতিটি বর্ষা আমার সাথে কাটাবে। শর্ত দিয়েছিলে, নগ্ন পায়ে নির্জন রাস্তায় বড় বড় গাছগুলোকে সাক্ষী করে হাঁটতে হবে। হাঁটতে হবে তোমার হাতে হাত রেখে, খোলা কোনো মাঠে বসে দুজনে একসাথে চাঁদ দেখব, তারা গুণব। উপভোগ…
