একটা তুমি তসলিমা হাসান প্রচন্ড মনখারাপে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে স্বান্ত্বনা দেবার মতো একজন ভালোবাসার মানুষ খুব দরকার সবার ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাওয়া ভীষণ কষ্টের মুহূর্তেগুলোতে কাছে টেনে নিয়ে চোখের জল মুছিয়ে দেবার জন্য যত্নবান কাউকে দরকার হয় নিজের অব্যক্ত কথা, লুকোনো ব্যাথা, মনের গভীরে লুকিয়ে রাখা হাজারো গল্প নির্দ্বিধায় বলতে পারার মতো বিশ্বস্ত একজন দরকার শিশির ভেজা সকালে, বৃষ্টিস্নাত দুপুরে, পড়ন্ত বিকেলে, পূর্ণিমার রাতে পাশাপাশি হাঁটার জন্য বন্ধুর মতো একজনের সঙ্গ দরকার নিজের সমস্ত ভালোবাসাটুকু, পরম যত্নটুকু, মূল্যবান বিশ্বাসটুকু দেয়ার মতো একজন একান্ত সৎ মানুষের দরকার সুখে-দুঃখে, অসুখে কিংবা মনখারাপে ছায়ার মতো পাশে থাকার মতো…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
বৃষ্টি হবে কবে হাবিবুর রহমান মাষ্টার (অবঃ) মধ্য গগনে রবি বেলা দ্বিপ্রহর পথঘাটে নেই কেহ নারী কি’বা নর। প্রখর রোদের রশ্মি, ঝিকঝিক মাঠ তটিণীর তটে তরী মাঝি শূন্য ঘাট। ফার্মের মালিকের চলছে আহাজারি প্রচন্ড তাপদাহে মোরগ যাচ্ছে মরি। পুকুর জলে করছে নাওয়া ক্ষণিক শান্তি লাভে অপেক্ষমান সবাই আজি বৃষ্টি হবে কবে!
অমোঘ নিয়তি শীরীন আক্তার নির্বাক,নিস্তব্ধ, নিঝুম নির্ঘুম রাতে দূরে কোন অজানায়, একটি কুকুর অবিরাম করুণ সুরে কেঁদে চলেছে বেদনায়। আমি লাশকাটা ঘরে রক্তের গন্ধের মধ্যে পড়ে আছি অসংখ্য লাশের মাঝে যেন এক পাখা হীন মাছি। সারাদিন কলুর বলদের মতো অমানুষিক খাটুনি খেটে চলৎশক্তিহীন হয়ে অসহায় দৃষ্টিতে শূন্যে তাকিয়ে রাত যায় কেটে। নেই কোনো কিছু বলার অধিকার শুধুই সেবা দিয়ে যেতে হয় থেকে নির্বিকার। অনবরত অন্যায়, অত্যাচার সয়ে সয়ে হয়ে গেছি সত্তাহীন অস্তিত্ব, আমার থাকতে নেই কোনো প্রকার ব্যক্তিত্ব। শুধুই করে যেতে হবে নিশিদিন দায়িত্ব পালন, অসুখ বিসুখ হলেও সহানুভূতির বদলে মিলে নির্যাতন। অসুস্থতা সেটাও মহা অপরাধ কাজ করতেই হবে, যদি…
‘ধ্রুবতারা হয়ে রও’ হাফিজুল হক (ড: জাফরুল্লাহ চৌধুরী’কে নিবেদিত কবিতা) কাকে বলবো, কে বুঝবে দুঃখের কথা? অমানিশা কেটে হবে উজ্জ্বল ভোর? ওখানে কে দাঁড়াবে বুকে নিয়ে জোর? কার কায়া হবে সত্যের হাতিয়ার, দ্ব্যর্থহীন কন্ঠ অশেষ আধার প্রেরণার? নাহ্, বড় খেয়ালী, অভিমানী তুমি! কেন বোঝোনি? বলো তো, যারা বিগত, তাদের যা অসমাপ্ত, আর যারা আছে, তাদের স্বপ্নের ফলন- তোমার যে ছিলো বড় দরকার! নাহ্, তুমি চলেই গেলে অভিমানে এমন, আমাদের স্বপ্ন হলো শ্মশান ছারখার! কে আছে? প্রস্তুত কি আছে কেউ- কিচ্ছু তোয়াক্কা না করে হবে আগুয়ান, হৃদয়ে তোমার ছবি নওজোয়ান, জাগাবে এক নতুন সকাল? নাকি অবিরত এক অসহ্য অধ্যায়: ভেদ-বিভেদে আমাদের…
গাইছি জয়ো গান নূরুল ইসলাম নূরচান তোমরা আমার ভাই তোমরাই আমার প্রাণ তোমাদের গুণ নিয়েই গাইছি জয়ো গান। কৃষক ফলান শস্য ফসল বাঁচায় মোদের প্রাণ তাই একতারা, দোতারায় শুনি রকমারি গান। কামার, কুমার, জেলে বাংলার প্রাণ কিষান তাই তোমাদের নিয়ে করে শিল্পীরা গান।
জিজ্ঞাসা আফরোজা জেসমিন। বলো বর্ষ ! এইবারও কি শুনতে হবে , তীব্র আর্তনাদ। এইবারও কি রাখবে পেতে মানুষ মারার ফাঁদ। এইবারও কি কৃষক ভাইয়েরা খাজনা দেবার তরে, শাসক গোষ্ঠীর চোখ ইশারায়, ঢুকবে কয়েদ ঘরে। এইবারও কি গরিব ঘরের, সুন্দরী সেই নারী, যৌতুকের-ই জন্য আবার, ফিরবে বাপের বাড়ি। এইবারও কি থাকবে দেশে, আকাল হাহাকার, পাশ করা সব সোনার ছেলে, রইবে ঘরে বেকার! এইবারও কি মার্কেটে লাগবে অনাকাঙ্ক্ষিত আগুন, জ্বলে পুরে সব ছাই হবে ক্ষতি কোটি কোটি গুন। হায়রে দেশ প্রতি বছর, একই পথ ধরে, বুড়ো হয়েই আছো নবীন ! কর্তব্যের ভারে ।
সাগরের নৌকো ভাসাই কথার সুরে – আরিফ মল্লিক পরিযায়ী পাখিটা ঘুমিয়ে পড়ে অভিমান আর ভালোবাসা না পাওয়ার অপেক্ষায় শেষ রাতে ম্যাসেজ দিয়ে দিয়ে অস্থির একবার ভেবেছিলাম একটা কল দেই তখনি মনে হলো এত রাতে কোনো সচেতন পুরুষ কি এভাবে কল দিতে পারে? জেগেই স্বপ্ন দেখছিলাম নীল শাড়িটা জড়িয়ে আছে আমার ভালোবাসার গোপন সব দিশা গুলো খোলা জানারার বাতাস মাঝে মাঝে দুষ্টু আঁচল সরিয়ে উন্মুক্ত করছে আমার মাথা রাখার নিশ্চিত সেই আশ্রম নিজের অজান্তেই কখন যে অনুমতি ছাড়াই এলিয়ে দিলাম নিজেকে গভীর ঘুমে আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে নিলো আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল তবুও তার সুবাস আমাকে ছাড়লো না ভাবলাম…
বিলাসী বৈশাখ খায়রুল ইসলাম মামুন তুমি শুভ, তুমি অশুভ, তুমি লীলা, উৎসব মুখর বাংলার তুমি বৈশাখ পহেলা। তুমি ধ্বংসের, তুমি সৃষ্টির বিভীষিকা তুমি কালবৈশাখীর। তুমি শস্যভরা ফসলের জমিন তার ভিতর হেটে যাওয়া কিশোরীর রূপ অমলিন। তুমি উদাসী বনের হাওয়া, বেনু বীণে রাখালের গান গাওয়া। তুমি কৃষকের হাসি, কৃষানির কন্ঠে সূর বারোমাসি। তুমি বটের ছায়া, সুরেলা পাখির গান, স্রোতহারা স্রোতস্বিনীর সকরুণ অভিমান। তুমি এক মেলা পঞ্চবটের মূলে, তুমি হিজল-জারুল-হিমচাঁপা বহতা নদীর কূলে। তুমি সুকঠিন বাঁধন, বাংলা ও বাঙালির মাঝে, তুমি বৈশাখ! উপমা তোমার- তুমি নিজে।
স্বপ্ন নদীর তীরে রুনা খান চলে এসো, এই শীতলক্ষা নদী তীরে স্বপ্নরা এখানে জলের কণায়, কণায় মিশে রয়েছে; আশারা বাঁধ ভাঙা নৃত্য করে চলেছে ঢেউয়ের প্রতিটি দোলায়, দোলায়। জলজ প্রাণীরা, গড়েছে সাম্য ও মৈত্রীর বন্ধন, প্রেম ও ভালোবাসার বর্ণচ্ছটায় জ্বল, জ্বল করছে নদীর জলের প্রতিটি বিন্দু। যদি ইচ্ছে করে, যদি তোমার মন চায়, তবে চলে এসো, এই স্বপ্ন নদীর তীরে । কাশফুলের দোলা বুকে নিয়ে আমি অপেক্ষা করছি তোমার আশার। নদীর এপার টায় , যেখানে আমি বসে. পাড় ভেঙে পড়ছে একটু একটু , ওপারে জাগছে, আবার নতুন চর। নতুন স্বপ্নের আশা বুকে নিয়ে সেখানে জাগছে, কচি সবুজ ঘাস। বাতাস সমর্থনে…
না-ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ইকবাল হাসান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (১২ এপ্রিল) দিনগত রাত ১২টার দিকে কানাডার টরন্টোর মাইকেল গ্যারন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন জাতীয় কবিতা পরিষদ এবং বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবি মোহন রায়হান। কবি ইকবাল হাসান দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন বন্ধুবান্ধব এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। খ্যাতনামা এই কবি অসংখ্য সৃষ্টিশীল কাজ করে গেছেন। তার কবিতা-গল্প-প্রবন্ধ দুই বাংলার সাহিত্যাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি অসাম্প্রদায়িক স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তবুদ্ধির চেতনার প্রতি আমৃত্যু শ্রদ্ধাশীল…
