কিশোরী মেয়ের হঠাৎ পিরিয়ড বন্ধ: বাবা-মায়ের করণীয়
আফসানা ইয়াসমিন অর্থী
আমরা যারা শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে কাজ করি, তারা প্রায়ই একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি হই। একজন মা হয়তো চুপিচুপি এসে বলেন, “আপু, আমার মেয়ের দুই মাস ধরে পিরিয়ড হচ্ছে না। কিন্তু ও কিছুই বলছে না, শুধু চুপচাপ থাকে।” এই এক বাক্যের পেছনে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে ভয়, লজ্জা, সংকোচ আর একটা না-বলা কষ্ট।
কিশোরী মেয়ের পিরিয়ড হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া সব সময় বড় কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়। কিন্তু এটা একটা সংকেত। শরীর বা মন, কোনো একটা কিছু আমাদের জানাতে চাইছে। আর সেই সংকেত কীভাবে ধরা হবে, সেটাই ঠিক করে দেয় মেয়েটি নিরাপদ বোধ করবে, নাকি আরও গুটিয়ে যাবে।
এই লেখাটা বিশেষ করে আজকের জেন-জি ও মিলেনিয়াল বাবা-মায়ের জন্য। আপনারা তথ্যের যুগে বড় হয়েছেন, আপনাদের সন্তানরা আরও বেশি ডিজিটাল দুনিয়ায় বড় হচ্ছে। তাই আগের প্রজন্মের চেয়ে অনেক বেশি খোলামেলা, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির সুযোগ আপনাদের হাতে আছে।
পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার সম্ভাব্য কারণ
প্রথমেই একটা কথা মনে রাখতে হবে। পিরিয়ড বন্ধ হওয়া মানেই খারাপ কিছু ঘটেছে, এমন নয়। বিশেষ করে পিরিয়ড শুরুর প্রথম এক-দুই বছরে চক্র অনিয়মিত হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে কারণগুলো জানা থাকলে আমরা আতঙ্কিত না হয়ে ধাপে ধাপে এগোতে পারি।
শারীরিক কারণ:
* হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া
* খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন, যেমন অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড, চিনিযুক্ত পানীয়, অথবা খাবার কমিয়ে দেওয়া
* হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, যেমন পিসিওএস (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম)
* থাইরয়েডের সমস্যা
* অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা কঠোর ব্যায়াম
* ঘুমের অনিয়ম
* রক্তস্বল্পতা বা পুষ্টির ঘাটতি
মানসিক কারণ:
* পড়াশোনা বা পরীক্ষার চাপ
* বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন, বুলিং
* পারিবারিক অশান্তি
* দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তা বা মন খারাপ
* ভয় পাওয়ার মতো কোনো অভিজ্ঞতা
গর্ভধারণ:
একটা বিষয় আমরা অনেক সময় বলতে চাই না, কিন্তু বলা দরকার। পিরিয়ড বন্ধ হওয়ার একটা কারণ গর্ভধারণও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটা কোনো সম্মতিহীন বা নির্যাতনমূলক ঘটনার ফল, আবার কখনো কিশোর বয়সের সম্পর্কের ফল। যেভাবেই ঘটুক, মেয়েটির তখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপত্তা, সহমর্মিতা আর সঠিক চিকিৎসা। শাস্তি বা অপমান নয়।
গবেষণা কী বলছে
মানসিক চাপ ও মাসিক চক্র: আমেরিকান কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকলজিস্টস (ACOG) মাসিক চক্রকে কিশোরীর স্বাস্থ্যের “ভাইটাল সাইন” বা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দেয়। তাদের মতে, পিরিয়ড বন্ধ বা অনিয়মিত হলে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক অবস্থাও খতিয়ে দেখা উচিত। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ প্রভাবিত হয়, যা ডিম্বাশয়কে হরমোনের সংকেত পাঠায়। ফলে চাপে থাকলে চক্র থেমে যেতে পারে।
অভিভাবকের আচরণ ও সন্তানের খুলে বলা: কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে হওয়া বিভিন্ন গবেষণায় বারবার দেখা গেছে, যেসব পরিবারে বাবা-মা শান্তভাবে শোনেন এবং বিচার করেন না, সেখানে সন্তানরা বিপদে পড়লে বাবা-মাকে জানানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। উল্টো দিকে, যেসব পরিবারে শাস্তি, চিৎকার বা লজ্জা দেওয়ার প্রবণতা বেশি, সেখানে সন্তানরা সমস্যা লুকিয়ে রাখে। এতে সময়মতো চিকিৎসা বা সুরক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
অর্থাৎ, আপনার প্রতিক্রিয়াই ঠিক করে দেয় পরের বার সে আপনার কাছে আসবে কি না।
উদাহরণ গল্প ১ : ওজন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে পিরিয়ড বন্ধ
(বোঝানোর জন্য একটি কাল্পনিক উদাহরণ)
তিথি, বয়স পনেরো। ক্লাস টেনের ছাত্রী। গত ছয় মাসে তার ওজন প্রায় আট কেজি বেড়ে গেছে। স্কুল, কোচিং আর পড়াশোনার চাপে সে বাইরে খেলাধুলা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিল। সারাদিন পড়ার টেবিলে বসে থাকত, আর রাতে পড়তে পড়তে চিপস, নুডলস, কোল্ড ড্রিংকস খেত। সকালের নাস্তা প্রায়ই বাদ যেত।
তিন মাস ধরে তার পিরিয়ড হচ্ছিল না। তিথি কাউকে কিছু বলেনি। সে ভেবেছিল, নিশ্চয়ই তার সঙ্গে ভয়ংকর কিছু ঘটেছে। বন্ধুরা তার ওজন নিয়ে ঠাট্টা করত, তাই সে আরও লজ্জায় গুটিয়ে গিয়েছিল।
একদিন তিথির মা লক্ষ্য করলেন, মেয়ে খাবার টেবিলে আগের মতো কথা বলে না। দুই মাসের বেশি হয়ে গেছে, ব্যাগে প্যাড নেই, বাথরুমেও কোনো চিহ্ন নেই। মা প্রথমেই প্রশ্ন করলেন না। একদিন রাতে মেয়ের পাশে বসে বললেন, “আমি তোর মা, কিন্তু তার আগে তোর বন্ধু। তোর কি কিছু নিয়ে মন খারাপ? আমি কোনো বকা দেব না, শুধু শুনব।”
তিথি প্রথমে কাঁদল। তারপর বলল, তার ভয় লাগছে, শরীর কেমন বদলে যাচ্ছে বুঝতে পারছে না।
মা পরদিনই মেয়েকে নিয়ে একজন শিশু ও কিশোর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা গাইনোকলজিস্টের কাছে গেলেন। পরীক্ষায় দেখা গেল, তিথি গর্ভবতী নয়। ওজন বৃদ্ধি এবং হরমোনের কিছুটা ভারসাম্যহীনতার কারণে চক্র থেমে গিয়েছিল। চিকিৎসক একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শও নিতে বললেন।
পরিবার মিলে তারা ছোট ছোট পরিবর্তন আনল। সবাই একসঙ্গে সকালের নাস্তা করা, বিকেলে একসঙ্গে হাঁটা, রাতে স্ক্রিন টাইম কমানো। কেউ তিথিকে “মোটা” বলল না, কেউ ওজন নিয়ে খোঁচা দিল না। চার মাসের মধ্যে তার চক্র ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলো, আর সবচেয়ে বড় কথা, মা আর মেয়ের সম্পর্ক আরও গভীর হলো।
এই গল্প থেকে শিক্ষা: সব সময় ভয়ংকর কিছু ঘটেনি। কিন্তু মেয়েটি ভয় পাচ্ছিল। সেই ভয় ভাঙতে পেরেছিল মায়ের নরম আচরণ।
উদাহরণ গল্প ২: যখন কিশোরী গর্ভবতী
(বোঝানোর জন্য একটি কাল্পনিক উদাহরণ)
নাদিয়া, বয়স ষোলো। ইদানীং সে অন্যরকম হয়ে গিয়েছিল। আগে যে মেয়ে সারাক্ষণ কথা বলত, সে এখন নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে থাকে। খাওয়ায় অরুচি, সকালে বমি বমি ভাব, স্কুলে যেতে চায় না।
দুই মাস পিরিয়ড হয়নি। নাদিয়া জানত কারণটা কী হতে পারে, কিন্তু বাবা-মাকে বলার সাহস পায়নি। সে ভাবত, বললে বাবা রেগে যাবেন, মা কাঁদবেন, পরিবারের সম্মান যাবে। বন্ধুদের কাছেও লজ্জায় বলতে পারেনি।
একদিন নাদিয়ার মা মেয়ের ফোনে একটা সার্চ হিস্ট্রি দেখলেন। প্রথমে ধাক্কা খেলেন, বুকটা ধক করে উঠল। কিন্তু নিজেকে সামলালেন। মনে মনে ভাবলেন, “এখন চিৎকার করলে সমস্যা মিটবে না, মেয়েটাকে আরও হারিয়ে ফেলব।”
তিনি আগে স্বামীর সঙ্গে আলাদা করে কথা বললেন। ঠিক করলেন, দুজনেই শান্ত থাকবেন। তারপর রাতে মেয়ের পাশে বসে হাত ধরে বললেন, “নাদিয়া, আমি জানি তুই কিছু একটা নিয়ে খুব ভয়ে আছিস। আমি রাগ করব না। তুই যা-ই বলিস, আমি তোর পাশে আছি। আমরা একসঙ্গে সমাধান বের করব।”
নাদিয়া অনেকক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর কাঁদতে কাঁদতে সব খুলে বলল।
মা তাকে জড়িয়ে ধরলেন। প্রথমেই বললেন, “তুই বলতে পেরেছিস, এটাই সবচেয়ে সাহসের কাজ।”
পরদিনই তারা একজন গাইনোকলজিস্টের কাছে গেলেন। পরীক্ষায় গর্ভধারণ নিশ্চিত হলো। চিকিৎসক নাদিয়ার বয়স, স্বাস্থ্য, আইনি ও মানসিক দিকগুলো বুঝিয়ে বললেন। পরিবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন কাউন্সেলরের সাহায্যও নিল। ঘটনার পেছনে যদি কোনো জোরজবরদস্তি বা নির্যাতন থাকত, তাহলে আইনি সহায়তা ও সুরক্ষার ব্যবস্থাও নেওয়া হতো। বাবা-মা নাদিয়ার পাশে থেকে তার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিলেন।
বাবা প্রথমে খুব রেগে গিয়েছিলেন, কিন্তু মায়ের পরামর্শে নিজেকে সামলে নিলেন। পরে মেয়েকে বললেন, “আমি তোর ওপর রাগ করিনি, আমি ভয় পেয়েছিলাম। আমরা সবাই মিলে এটা সামলাব।”
এই গল্প থেকে শিক্ষা: বাবা-মায়ের প্রথম পাঁচ মিনিটের প্রতিক্রিয়াই ঠিক করে দেয় সন্তান আর কখনো মুখ খুলবে কি না। চিৎকার করলে সমস্যা বড় হয়, শান্ত থাকলে সমাধানের পথ খোলে।
বাবা-মায়ের করণীয়: ধাপে ধাপে
১. আগে নিজের আবেগ সামলান
রাগ, ভয়, লজ্জা, দুশ্চিন্তা, এসব আসবেই। কিন্তু সন্তানের সামনে যাওয়ার আগে একটু থামুন। গভীর শ্বাস নিন। প্রয়োজনে সঙ্গীর সঙ্গে আলাদা কথা বলে নিন। মনে রাখুন, এই মুহূর্তে সন্তান আপনার চেয়েও বেশি ভয়ে আছে।
২. নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করুন
সবার সামনে নয়, ভাইবোন বা আত্মীয়ের সামনে নয়। নিরিবিলি একটা সময় বেছে নিন, যেমন রাতে ঘুমানোর আগে বা একসঙ্গে হাঁটতে বেরিয়ে। মুখোমুখি বসে জেরা করার চেয়ে পাশাপাশি বসে কথা বলা অনেক বেশি সহজ।
৩. কথা শুরু করুন ভালোবাসা দিয়ে, প্রশ্ন দিয়ে নয়
যেমন বলতে পারেন:
* “আমি লক্ষ্য করছি তোকে একটু অন্যরকম লাগছে। আমি তোর জন্য চিন্তা করছি।”
* “তুই যা-ই বলিস, আমি তোকে ভালোবাসি, এটা কখনো বদলাবে না।”
* “কোনো বকা নেই, শুধু শুনতে চাই।”
যা বলবেন না:
* “তুই কী করেছিস?”
* “লোকে জানলে কী বলবে?”
* “আমাদের মুখ পুড়িয়ে দিলি।”
৪. মন দিয়ে শুনুন, মাঝপথে থামাবেন না
সে হয়তো থেমে থেমে বলবে, কাঁদবে, চুপ করে যাবে। ধৈর্য ধরুন। নীরবতাকেও জায়গা দিন। মাঝপথে উপদেশ বা সমালোচনা শুরু করবেন না।
৫. যা বলেছে, তা বিশ্বাস করুন
কিশোর-কিশোরীরা সাহস করে বললে বিশ্বাস করুন। সন্দেহ করলে বা দোষ দিলে সে আর কখনো মুখ খুলবে না।
৬. দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান
পিরিয়ড দুই-তিন মাস বন্ধ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শিশু ও কিশোর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা গাইনোকলজিস্ট প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে সঠিক কারণ নির্ণয় করবেন। ঘরোয়া অনুমান বা ফার্মেসির ওষুধের ওপর ভরসা করবেন না। গর্ভধারণের সন্দেহ থাকলে আরও দেরি করা উচিত নয়, কারণ সময়ই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
৭. যদি নির্যাতনের ইঙ্গিত থাকে
সন্তান যদি কোনো নির্যাতন বা জোরজবরদস্তির কথা বলে, মনে রাখুন, এতে তার কোনো দোষ নেই। তাকে বারবার সেই ঘটনা বলতে বাধ্য করবেন না। দ্রুত চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নিন। বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ এবং শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮ এ যোগাযোগ করা যায়।
৮. মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করুন
শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি একজন শিশু কাউন্সেলর বা মনোবিদের সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করুন। কষ্ট চেপে রাখলে তা অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদি দুশ্চিন্তা বা বিষণ্নতার রূপ নেয়।
৯. গোপনীয়তা রক্ষা করুন
আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টা ছড়াবেন না। সন্তানের আস্থা ভাঙলে তা ফিরে পাওয়া কঠিন।
১০. দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্ক গড়ুন
একটা ঘটনা সামলে নেওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তে সম্পর্ক তৈরি করতে হয়: একসঙ্গে খাওয়া, গল্প করা, তার পছন্দের বিষয়ে আগ্রহ দেখানো।
জেন-জি ও মিলেনিয়াল বাবা-মায়ের জন্য বিশেষ কিছু কথা
আপনারা এমন প্রজন্ম, যাঁরা হয়তো নিজেরা ছোটবেলায় এসব বিষয়ে কথা বলার সুযোগ পাননি। কেউ আপনাকে পিরিয়ড নিয়ে খোলাখুলি বোঝায়নি, বা প্রশ্ন করলে ধমক খেয়েছেন। এই চক্র ভাঙার ক্ষমতা আপনাদের হাতেই।
* সন্তানের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই শরীর, পিরিয়ড ও নিরাপত্তা নিয়ে বয়স উপযোগী আলোচনা করুন। সমস্যা আসার আগেই এই আলোচনা স্বাভাবিক করে রাখুন।
* “গুড টাচ, ব্যাড টাচ” এবং “না বলার অধিকার” শেখান।
* তাকে জানিয়ে রাখুন, “যেকোনো পরিস্থিতিতে তুই আমাকে বলতে পারিস, আমি তোকে বিচার করব না।”
* সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্তানের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকুন, কিন্তু গোয়েন্দাগিরি নয়, আস্থা দিয়ে।
* প্রয়োজনে নিজেও কাউন্সেলিং নিন। বাবা-মা শান্ত ও সুস্থ থাকলে সন্তানও নিরাপদ বোধ করে।
চিৎকার কেন সমাধান আনে না
চিৎকার করলে বাবা-মা সাময়িকভাবে নিজের উদ্বেগ কমান ঠিকই, কিন্তু সন্তানের ওপর তার প্রভাব হয় উল্টো। মস্তিষ্ক তখন “ফাইট, ফ্লাইট বা ফ্রিজ” মোডে চলে যায়। সে হয় মিথ্যা বলে, নয়তো চুপ করে যায়, নয়তো পালিয়ে যেতে চায়। ফলে আমরা সত্যটা জানতে পারি না, আর সময়মতো সাহায্যও করতে পারি না।
উল্টো দিকে, বন্ধুসুলভ আচরণ মানে প্রশ্রয় দেওয়া নয়। এর মানে হলো, সীমারেখা বজায় রেখেই সম্মান ও সহমর্মিতা দিয়ে কথা বলা। সন্তানকে বোঝানো যে সমস্যাটা আমাদের দুজনের মধ্যে নয়, সমস্যাটা আমাদের সামনে, আর আমরা একসঙ্গে তার মোকাবিলা করছি।
উপসংহার
কিশোরীর পিরিয়ড বন্ধ হওয়া একটা শারীরিক ঘটনা হতে পারে, আবার একটা মানসিক সংকেতও হতে পারে। কারণ যা-ই হোক, বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় ভূমিকা হলো সন্তানের কাছে “নিরাপদ জায়গা” হয়ে ওঠা। এমন একটা জায়গা, যেখানে সে ভুল করলেও ফিরে আসতে পারে, ভয় পেলেও মুখ খুলতে পারে।
মনে রাখবেন, আপনার সন্তান একটাই। সমস্যা আসবে, যাবে। কিন্তু সন্তানের আস্থা একবার হারালে তা ফিরে পেতে অনেক সময় লাগে। তাই চিৎকার নয়, জড়িয়ে ধরুন। প্রশ্ন নয়, আগে শুনুন। আর দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান।
লেখক: কবি, গবেষক, চাইল্ড কাউন্সেলর

