ছুঁয়ে দেবো অধরা অতল ইভা আলমাস খুব ইচ্ছে হয় একবার তোমাকে ছুঁয়ে দেবো। ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে এক’শা হই বেলোয়ারি চুড়িতে বর্ষালী সুর হাঁটুজলে ডুব সাঁতার খেলি খেলাচ্ছলে তোমাকে ছুঁয়ে দেবার অভিনয় করি। তুমি শুধু আড়ালে থাকো। আলোতে মুখ লুকাও। জানো নিশ্চয়ই, অবগাহন ছাড়া সমুদ্রের অতল ছোঁয়া যায়না ডুবতে চাই,তোমাতে ভিষণ রকম ডুবতে চাই ডুবে ডুবে তোমার অধরা অতল ছুঁয়ে দেখতে চাই। সমুদ্র হও, আমাকে ভাসিয়ে দাও তোমার জোয়ারের স্রোতে আমি ভেসে যেতে যেতে আলগোছে তোমায় ছুঁয়ে যাবো, রেখে যাবো তোমার শরীরে আমার ইচ্ছের বদ্বীপ; নয়তো কৃষ্ণ চাঁদ হও গহবরে ডুবে যাব আমি অন্ধকারে ঠাঁই খুঁজতে গিয়ে অন্তত একবার তোমাকে ছুঁয়ে…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
চেহারা সুরৎ সুন্দর হলেই দেবদাস হালদার চেহারা সুরৎ সুন্দর হলেই আজ লাইক কমেন্টের ছড়াছড়ি! কি আছে তার লেখার ভিতর কেউ তাহা একটু পড়ি? দিন শেষে ঐ রাত্রিবেলায় তার লেখাটাই পুরস্কার পায়! তাই সে তখন ঘটা করে ফেসবুকে তা পোস্ট করে আর পুরস্কারের সনদ দেখায়? হায়রে প্রিয় বাংলাদেশ! রূপের সনদ দিয়ে আজ তুই সাহিত্যকেই করলি শেষ? ২৫.১১.২২ইং, শুক্রবার ঢাকা, বাংলাদেশ। (জ্ঞানের আলো)
একটা দুটো পুষ্পিতা চট্টোপাধ্যায় একটা দুটো তারা ফুটছে দেখ, ফুটছে দেখ হচ্ছি দিশাহারা। একটা দুটো ফুল ফুটছে দেখ, ফুটছে দেখ ভেবে না পাই কুল। একটা দুটো বাজি কুকুর লেজে ফুলঝুরিটা লাগিয়ে ছোটে পাজী। একটা দুটো কথা ফসকে গেলে বুকের ভাঁজে পাথর পাথর ব্যথা। একটা দুটো দিন জমাট মেঘে থমকে গেলে হই যে উদাসীন। একটা দুটো সুর গুনগুনিয়ে যায় সারাদিন গুঞ্জনে ভরপুর। একটা দুটো ভুল দেয় ভাসিয়ে জীবনবেলার সুখগুলো বিলকুল। Kolkata, India
জন্মদিনের শপথ – এটিএম ফারুক আহমেদ ২২.১১.২২ইং, ১৬.৪৫মিঃ আকাশ পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি মানুষ কতোদিনে তা’তো না জানি! পঁচা, কাদা, ঠনঠনে মাটি হতে তুমি তৈরি তারপরও কতো যতনে বীর্যে রূপ দেই আমি। তারপরও কি বসে থাকি, ওহে মোর সৃষ্টি? মায়ের গর্ভে আস, বাপের উদগ্র চেতনায় দুয়ের আকাঙ্খায় দুয়ের মিলনে মিলন হয় কতো সুখময় দু’জনে মিলে একজন হয় ভেবেছ নিশ্চয়ই? কতো ভাবনায় পথ চল, কতো লহমে ছোট স্বার্থের বসে, স্বার্থের আশে নীরবে শত কানাকানি কর ধান্দায় থাকি, ধান্দায় চলি তুমি আমি সে তিনি তিনি আর সে কাম সেরে কয়, আমি কি জানি সে করেছে, ও করেছে, স্বার্থে সব গোপনে করে প্রকাশ্যেও…
বেঁচে থাকার অভিনয়ে ।। গোলাম কবির।। কোনো কোনো গান শুনলে এখনো বুকের ভিতরে তোলপাড় করে উত্তাল সাগরের ঢেউ, মনেহয় কষ্টের বিশাল জলরাশি যেন আছড়ে পড়ছে বুকের নরম পলিমাটিতে, এলোমেলো করে দিচ্ছে মনন, ঘুণেধরা জগৎসংসার। কোনো কোনো গান শুনলে এখনো বিষণ্ণ দুপুরবেলা প্রখর রোদে কারো জন্য অপেক্ষার না ফুরানো প্রহরগুলো বিমূর্ত হয়ে ওঠে শিল্পীর ক্যানভাসে আঁকা দূর্বোধ্য ছবির মতো একদমই হৃদগহীনে, যে কষ্টগুলো একসময় জমা হতে হতে কঠিন শিলা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে যেনো ঘাস ও গাছপালাহীন ন্যাড়া একলা পাহাড়, সেইসব কষ্টগুলো মনে পড়ে যায় ভীষণ! স্মৃতির জানালা খুললেই তখন গভীর কুয়াশায় ঢেকে থাকা আনন্দের ঢেউ খেলানো ময়ূরপঙ্খী নাওয়ের ভাসান কিংবা বেদনার…
জন্মদিন এর শুভেচ্ছা প্রিয় কবি ও প্রকাশক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহকে : —————————————————————————————————- আজ ভিন্নমাত্রার কবি, কথাসাহিত্যিক, শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার, গল্পকার, বাচিকশিল্পী, রাজনৈতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, মানবাধিকার কর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, কবি মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ ৫১তম শুভ জন্মদিন। তার পিতা: মরহুম আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তার শেখ, মাতা: মিসেস জাহানারা সাত্তার জন্ম: ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর পৈত্রিক নিবাস- গ্রাম ও ডাক: পত্তাশী, উপজেলা: জিয়ানগর, জেলা: পিরোজপুর। পড়ালেখা: ডাবল এম, এ (ফার্স্ট ক্লাস)। লেখালেখি শুরু ১৯৯১ সালে ছাত্রাবস্থায়। প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ ১৯৯২ সালে ‘অভিব্যক্তি’। ‘অনির্বাণ’ নামে একটি পত্রিকার সম্পাদনা করেছেন দীর্ঘদিন। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন প্রায় ৩ বছর। তৎকালীন সময়ে কুয়ালালামপুর থেকে প্রকাশিত ‘মুক্তির…
ফেরার দেশে শিশুসাহিত্যিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম: না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন শিশুসাহিত্যিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম। সোমবার (২১ নভেম্বর) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তার পরিবার। মৃদু স্ট্রোকসহ শরীরের নানা জটিলতাসহ শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা, সঙ্গে নিউমোনিয়া ও নিম্ন রক্তচাপ ছিল তার। ছয় শতাধিক বইয়ের লেখক বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক, শিশু সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম ১৯৫০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে একাধিক স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (২০০৪-২০০৬) ও অধুনালুপ্ত চ্যাানেল ওয়ান (২০০৭-২০০৮)-এর মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৭ বছর তিনি…
চর্যাপদ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার প্রাচীন কাব্যিকরূপ সৈয়দা রুখসানা জামান শানু ‘চর্যা’ অর্থ আচরণ বা অনুশীলন, এই ‘চর্যা’ থেকেই ‘চর্চা’ শব্দটির উদ্ভব। অর্থাৎ বলা যায় মানুষের দৈনিন্দন জীবন রীতি নীতি এবং আচরণের একটি বহি:প্রকাশ কবিতায় বা শ্লোকের মাধ্যমে। আর এটি প্রাচীন ইতিহাসের একটি নিদর্শন। বলা যেতে পারে ভাষার আদি পিতা-মাতা।হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা প্রসিদ্ধাচার্যদের অনেকেই ছিলেন বাংলার অধিবাসী। শবরপা, কুক্কুরিপা ও ভুসুকুপা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। যে সকল ভাষা তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যচর্যার সঙ্গে বাংলার সম্পর্ককে প্রমাণ করে চর্যাপদের ভাষা বাংলা কি-না সে বিষয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল পরবর্তীকালে যার অবসান হয়েছে। এটি সৃজ্যমান বাংলা ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। চর্যাপদের রচয়িতা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ…
নার্গিস পারভীন ২০/১১/২০২২ ভিক্ষা দে এ এ বেন ন ন গো ও ও ও! ভিক্ষা আ আ আ! ঝন ঝন করে ওঠে একটা কণ্ঠস্বর। কলিংবেল টেপে না কোনদিন ও, দরজা ও ধাক্কায় না। কেবল বাইরের সিঁড়িতে এসে ধপ্ করে বসে পড়ে আওড়াতে থাকে– ‘ভিক্ষা দেবেন গো, ভিক্ষা। ওর কণ্ঠস্বরটা কখনোই শ্রুতি মধুর মনে হয়নি আমার কাছে। যেন মনে হতো গৃহিণীর হাত থেকে খসে পড়েছে একগুচ্ছ থালা বাটি। যার শব্দের অনুরণ প্রতিটা দেওয়ালে আঘাত করে ফিরে ফিরে আসে কানের পর্দায়। ওর আওয়াজটা অনেকটা তেমনিই। লিখতে বসলেই যখন ওই শব্দ কানে এসে পৌঁছায় নিমেষে ভাবনাগুলো ভেঙেচুরে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে– কাঁচ ভাঙার মতো…
অমীমাংসিত প্রেমকাব্য । সুরমা খন্দকার । দ্বি-পাক্ষিক প্রেমের মহড়া চলছিল সারা শহর জুড়ে… মফস্বলের রাত আর অলস বিকেল চলে যায় বিভক্তি, বিভেদ গ্লানিতে। কেবল আমরা পড়ে থাকি দ্বিধা দ্বন্দ্বে- হরদম দিনগুলো গল্পের মিছিল নিয়ে মুখরিত। আমরা মোহাচ্ছন্ন, মুঢ়তার অভিশাপ ঢাকতে, অগণন অন্ধকার রাতকে বিলীন করেছি কর্দমাক্ত পংকিলতায়। নিয়তির পরিহাসে আগুন জ্বলে বিক্ষিপ্ত বেদনার বসত ছুঁয়ে। আমাদের ইচ্ছেরা এপাড়া ওপাড়া ঘুরে পরিত্যক্ত হৃদয় দেয়ালের কোণায় মুখ গুঁজে পড়ে থাকে। আবার ওলট-পালট রোদ্র ঝড় আসুক উপেক্ষা করে সমস্ত মেঘ রেখা। আবার ইন্দ্রলোক পাক আলোর দেখা, এখানেই ধূমায়িত শতাব্দীর এক অমীমাংসিত প্রেমকাব্য।
