ঘর জামাই আফছানা খানম অথৈ ঘর জামাই ঘরে থাকে বউয়ের আঁচল তলে, সব সময় চলতে হয় বউয়ের মন যুগিয়ে। সকাল সন্ধ্যা টিপতে হয় বউয়ের পা দুখানি একটু খানি ভুল হলে খাই বউয়ের পিটুনি। ঘর জামাই বড়ই অলস করতে চাই না কোন কাজকর্ম, তাই উঠতে বসতে শুনতে হয় বউয়ের গালমন্দ। বউ থাকেন সিংহাসনে বসে জামাই থাকেন পায়ের কাছে, যখন যা হুকুম করেন এনে দেন অনায়াসে। শ্বশুর শ্বাশুড়ি মহাখুশি জামাই তাদের ভালো মেয়ের কথায় উঠ বস করেন এ যে কত আনন্দ।
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
নির্মম ধানকাটা এস এম জাছিম অগ্রহায়ণ মাস, ক্ষেতে ক্ষেতে বিছানো বাইনধানের পাকা পাকা ছড়া। সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে আড়াআড়ি ধানের গতর স্লিপ কেটে যায় তার সোনালি রোদ। ধানগুলো নেচে উঠে, আর ঝিলিক ছড়ায় হলুদ। তার একটুখানি পর, ভয়ার্ত চোখে আমি দাঁড়িয়ে দেখলাম— কৃষকের নির্মম ধানকাটা, কী রকমভাবে তারা কাঁচির একেকটি পুছে আলগা করে নেয় দেকমুঠো ধানের জীবন ! আর তাদের উদোম শরীর— কয়েকটি বালক, আইল কেটেকুটে ক্রমাগত বের করে আনছে ইঁদুরের গর্তে গুম হওয়া মরা মরা ধান।
কবি ইকবাল হাসানের জন্মদিন। । লুতফুন নাহার লতা । কবি ইকবাল হাসানের জন্মদিন আজ। এই তরুণের ৭০তম জন্মদিন বেশ সাড়া জাগিয়ে দিয়েছে সবার হৃদয়ে। কবিকে শুভেচ্ছা জানাই। তিনি মানুষের ভেতরে বসবাস করেন পাখীর চলাচল নিয়ে। কখন যে কোথায় ডানা মেলে দিয়েছেন বোঝা ভার। আজ বাংলাদেশে তো কাল কানাডার টরন্টো, মন্ট্রিয়ল, অটোয়া, থাণ্ডার বে আবার কখনো আমেরিকা, ইউরোপ। এক আশ্চর্য নাবিকের মত দুর্মর তার চলার নেশা। অকল্পনীয় এক স্বপ্নচারী মানুষ। জগতে এমন স্বাধীন চিত্তের মানুষ বোধ করি খুব কমই আছে। ইকবাল হাসানের সাথে পরিচয় হয়েছিল বেশ আগেই, তখন আমার নিউইয়র্কের বাড়ীতে প্রায় প্রতি ছুটির দিনেই নাটক আর কবিতা গানের আয়োজন চলত…
অনুভূতির মন খারাপ। । সুরমা খন্দকার । আমার অনুভূতিদের কোন কারণ ছাড়াই মন খারাপ হয়। শুক্লপক্ষের চাঁদের জোছনা একাকী জ্বলে পরিশ্রান্ত হয় বলে। যাকে আমি কৃষ্ণপক্ষে খুব করে খুঁজেছিলাম। আমার অনুভূতিদের মন খারাপ হয় ব্যথার মায়াবতী নদীর অভিমান দেখে। দীর্ঘ ঢেউ তুলে যে আছড়ে যেতে চায় সাগরে, সব কষ্ট পুষে বুকে। অনুভূতিদের মন খারাপ হয় বিকেলের হলুদ আলো দেখে। যাকে আমি আনন্দিত করার চেষ্টা করেছি বহুদিন। যে কেবল মিলিয়ে যায় অহর্নিশ। অনুভূতিদের মন খারাপ হয় শুভ্র সাদা মেঘের ওড়াওড়ি দেখে। ছন্নছাড়া মেঘ কোথায় ওড়ে যায় বিষাদের তোড়ে। এমন অবেলায় মেঘমালা ওড়ে যায় কোন বরষায়। আমার অনুভূতিদের মন খারাপ হয়। আকস্মিক…
অচেতন অক্ষর সোহেলা পারভীন আমি তোমার একমুঠো আদর, কল্পনার রঙে মেখে নাও তার সবটুকু। তোমার আলোতে করেছি স্নান সেই স্মৃতি কি হতে পারে ম্লান? তুমি আমার কবিতার খাতা ছন্দময় ডায়েরির প্রতিটি পাতা। তোমারি চারিদিকে হয়ে গেছি ছায়া তুমিইতো জল জোছনার মায়া। অচেতন অক্ষরের মতো তোমায় করেছি অনবরত পাঠ। আমি তোমার রোদেলা উঠোন স্বর্গের অমৃত সুধা করেছি পান। তোমাকে হারাই যদি, সে হবে জীবনের অক্ষমতা। নিরালায় যদি কভু পরে মনে, তৃপ্ত হবে এক প্রেমে, জীবনের সর্ব প্রেম তৃষা। অপেক্ষায় রবো সন্ধ্যা প্রদীপ হাতে সেদিনও তুমি ছায়া হয়ে রবে মোর সাথে। জানো কি সায়ান্নের অন্ধকারে পড়তে পারি তোমায়? শিউলি কাননে শিশির সিক্ত…
ব্যথা সৈয়দা রোখসানা বেগম রাতে কি যেন একটা ব্যথা মাঝে মাঝেই বুকে চিন চিন করে উঠতো, হাতটা তোমার পিঠের নিচে ঢুকিয়ে দিতাম একটি আশ্রয়স্থল ভেবে। তুমি বিরক্ত হয়ে বলতে হাত সরাও আমার ঘুম নষ্ট হবে- আমি ঘুমিয়েছি ভেবে অন্য ঘরে চলে যেতে কবে, এভাবে অনেক কয়টি বছর কেটেছে তুমি দাওনি তো সে ভরসা আছি তোমার পাশে! কখন যেন হাত বাড়ানো বন্ধ হলো, কখন যেন ব্যথাটা সয়ে যেতে থাকলো, না পাওয়ার ব্যথা ও সয়ে যেতে থাকলো। আসলে সয়ে যায়নি- মেনে নিয়েছিলাম আর শূন্যতা? ভেবনা- ভরে দিয়েছি প্রকৃতির সাথে মিশে, ভালোবেসেছি সূক্ষ্ণ নির্মল সৌন্দর্য্য গুলো কে। কল কল শব্দে নুড়ির উপর দিয়ে…
গোধূলির রেশ হয়ে দ্রুত সরে যাচ্ছে সময় শীত বিকেলের মতো, সরে সরে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে আমার দুঃখগুলোও। দুঃখগুলো কত নিবিড় করে ভালোবেসে আমাকে জড়িয়ে ছিল, আমার নানা রঙের দুঃখ! ওরা এসেছিল, তাই বসেছিল হৃদয়ের কুঠিরে, খুব গোপনে বসেছিল, তবু্ও তো জড়িয়ে ছিল আমাকে। কতকিছু তো কত অবলীলায় আলগা হয়ে যায়, ছেড়ে চলে যায়,ভেসে চলে যায় ঠুনকো হাওয়ার মতো, অস্পৃশ্য আলোর মতো! কত কত অনুভব মরে গেছে সেই কবে মনে নেই, শীতের বিকেলের ঝরা পাতার মতো মাটিতে গুড়িয়ে মিশে গেছে। কত বিকেল তো মরে গেল জীবন থেকে, তবুও শুধু এই শীতের বিকেলগুলো কেমন করে যেন ফিরে ফিরে আসে মনে,অবসাদ, বিষাদে…
অমর একুশে বইমেলা ২০২৩ নিঃশব্দ সন্তরণ বইয়ের ধরন: কাব্যগ্রন্থ লেখক: রহিমা আক্তার লিলি প্রচ্ছদ: আল নোমান প্রকাশনী: প্রতিবিম্ব প্রকাশ। সম্পাদনায়: আবুল খায়ের। ISBN No: 978-984-96965-০-6 প্রতিবিম্ব প্রকাশ (সৃজনশীল লেখকের ঠিকানা) অফিস: বাড়ি:০১ (চতুর্থ তলা), সড়ক: ১৪/বি, সেক্টর: ০৪, উত্তরা, ঢাকা ফোন: ০১৭১৫৩৬৩০৭৯ ইমেইল: khair.hrm@gmail.com ওয়েব: https://protibimboprokash.com/ পেজ: https://www.facebook.com/protibimboprokash
একটা চিন্তা কাজ লীলা দেউরী আগ্রায় যাই আমি প্রতিদিন, কিন্তু আগ্রায়- তাজমহল দেখি না; হিমালয়ে যাই প্রিয় সুখের সন্ধানে, সেখানে শিবের ডঙ্কার কানে বাজে না বৃন্দাবনে ভ্রমনের জন্য যাই না, যাই রাধার চোখের জল ছুঁতে সেখানে জল কই, কৃষ্ণের বিরহ বুঝি না গয়া গিয়ে মনের উদ্ধার তৃপ্তিতে সকাল হয়েও- গড়িয়ে পড়া বিকেল চলে আসে,সমুদ্রের ঢেউয়ের মত! মানস সরোবরে, যেখানে সতীর দক্ষিণ হাত পড়েছিল সেখানে পুস্তক দর্শণ ভাগ্যে হয়ে ওঠে না! আর পুরীতে যে সতীর নাভি সেখানে ডান নিচের হাতে অভয় বরও চোখে পড়ে না কামরূপ? রক্তপাষাণ রূপিনী মূর্তিতে অন্ধকারে আটকে রেখেছেন নিজেকে সতীর আজও মুখ দেখি না! গেলাম শেষে লঙ্কায়,…
মানুষ হতে চাই না আর। মোঃ সেলিম হোসেন। আমি মুর্খ অবোধ নাই শ্রী মুখাবয়বের পোশাকের শ্রী বিশ্রী ছিন্ন পদে পদে নাই কদর আমি মুর্খ বলে। ঐ তো চলছে শত সহস্র জন সুললিত কণ্ঠে শুনি সুবচন পোশাকের বাহারে ছিটকাচ্ছে আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের ঝলক। কেউ সাহেব সাজে কেউ আলেম সাজে কতেক দেখ আদর্শ নেতা। আহা কী সম্মান! কী কদর! আধুনিক শিক্ষা, ধর্ম শিক্ষায় শিক্ষিত ওরা। কতো সম্পদ কতো অর্থ ক্ষমতা নখদর্পনে স্যার স্যার, হুজুর হুজুর, জ্বি জ্বি, হ্যাঁ ঠিক ঠিক আহা কী প্রাপ্তি! আমি মুর্খ, মুর্খতার চাপায় পিষ্ট হচ্ছি সর্বক্ষণ। ঐ তো দেখো, শিক্ষিত বেশের সুবেশী মুর্খের দল সাহেব, স্যার, হুজুর দমে…
