গতকাল ছিল ইউসেপ আমবাগান-এর সাথে আলোর দিশা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমার এবং চট্টগ্রামের অন্যান্য অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের বিশেষ মতবিনিময় সভা। উল্লেখ্য, প্রতি ছয়মাস অন্তর উনারা এইরকম সভার আয়োজন
করেন। ইউসেপ আমবাগান-এর প্রতিনিধি রোজিনা আপার সাথে আমার পরিচয় হয় ২৪-এর ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নিষ্ঠা ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রামে।
ইউসেপ একটি কারিগরি শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান। বিদেশি এনজিও বলা যায়। সম্পূর্ণ বিদেশি সাহায্যে এঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি পরিচালিত হয়ে থাকে। যেহেতু নিষ্ঠা ফাউন্ডেশন, আলোর দিশা ফাউন্ডেশনের সাথে আমি আছি, এজন্যই ইউসেপ-এর স্কুলগুলির বিভিন্ন প্রোগ্রামে আমি যাই। আমাদের আলোর দিশা ফাউন্ডেশনকে এক বছরের জন্য চট্টগ্রামে অবস্থিত ইউসেপ স্কুলগুলির ছাত্রদের মধ্যে শিক্ষা সামগ্রীসহ অন্যান্য সবধরণের সহায়তা,– যেমন, সেলাই মেশিন, বিশুদ্ধ পানীয় জলের মেশিন এইধরণের সহায়তা প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়। রোজিনা আপা, নন্দিতা দিদি, এঁরা খুবই আন্তরিক।
ইউসেপ TVET আমবাগান এবং ইউসেপ চট্টগ্রাম-এর রিজিওন-এর ম্যানেজার ইঞ্জিনীয়ার মাসুদ আলম স্বাক্ষরিত দাওয়াতনামা পাই ১৯ তারিখ। পরদিনই দুপুর ১২টায় এই সভা। আমি আলোর দিশা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান চবি অধ্যাপক ডঃ মুহাম্মদ নুর হোসাইন ভাইকে ফোন করে এই নিয়ে আলোচনা করলাম। উনি বললেন, আপা, ঠিক আছে, আপনি যান। ২০ তারিখ যথাসময়ে পৌঁছে যাই সভাস্থলে। নন্দিতা দিদি, রোজিনা আপা খুব খুশী হলেন আমাকে পেয়ে। আমার লেখার প্রশংসা করলেন। আমি ধন্যবাদ দিয়ে আসন গ্রহণ করলাম। একে একে সবাই এসে পড়েছেন। প্রধান অতিথি মেরিডিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান কোহিনূর কামাল তখনও এসে পৌঁছান নি। এজন্য মিটিং শুরু হতে কিছুটা দেরি হলো। ইউসেপ-এর পক্ষ থেকে বলা হলো, উনি যেহেতু বর্তমানে ইউসেপ চট্টগ্রাম-এরও চেয়ারম্যান, তাই আমরা উনি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।
বেশ কিছুক্ষণ পর কোহিনূর কামাল আপা এসে পৌঁছেন। শুরুতেই উনি অন্য একটা মিটিং এ থাকায় আসতে বিলম্ব হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন। ইউসেপ-এর পক্ষ থেকে যিনি মূল বক্তা ছিলেন, উনি এবার বক্তব্য দেয়া শুরু করলেন, নন্দিতা দিদি স্ক্রীনে ইউসেপ-এর বিভিন্ন কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সবকিছু বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করলেন। এরই মধ্যে আমাকে বলতে বলা হলো, আমি আমার পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানের নাম, আলোর দিশা ফাউন্ডেশনের সম্প্রতি বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচী সম্পর্কে খুব সংক্ষেপে বললাম। এরপর উপস্থিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে আগত ভাই-বোনেরা উনাদের নাম, পরিচয় দেন। সবশেষে মেরিডিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান কোহিনূর কামাল আপা তাঁর পরিচয় দেন। আরও জানতে পারলাম, উনি চট্টগ্রাম লায়নেরও সভাপতি। খুব ভালো লাগলো শুনে এবং জানতে পেরে। আলোচনা এগিয়ে যেতে উপস্থিত হলেন ইউসেপ চট্টগ্রাম রিজিওনের ম্যানেজার ইঞ্জিনীয়ার মাসুদ আলম।
উনিও অন্য একটা জরুরি মিটিং এ থাকার জন্য আসতে দেরী হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করলেন। বড়ই মনটা খারাপ হয়ে গেল, যখন জানতে পারলাম, বিদেশি আর্থিক অনুদান আসা বন্ধ হয়ে গেছে, বৈশ্বিক নানা অসংগতির কারণে। চট্টগ্রামে মোট আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্থাভাবে দুইটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে চলেছে। কিভাবে এই দুটি এবং অন্য সবগুলি প্রতিষ্ঠান চালু রাখা যায়, তারজন্য কর্তৃপক্ষ উপস্থিত সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সবশেষে
রিজিওনাল ম্যানেজার ইঞ্জিনীয়ার মাসুদ আলম তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, সভাপতি কোহিনূর কামাল আপা তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এরপর সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আমি গতকাল এরপর আরও দুটি বিশেষ জরুরী কাজে ব্যস্ততম দিন কাটাই। রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ বাসায় এসে নুর হোসাইন ভাইকে মেসেজ দিয়ে সময় নিই, উনি আমাকে লিখেন ১০-৩৫ পরে উনার সাথে সবকিছু বিস্তারিত আলোচনা করে আমার কাজ শেষ হয়।
ধন্যবাদ সবাইকে।
লতিফা জাহান
চট্টগ্রাম
২১-৭-২৬

