শেষ পর্যন্ত
— সালেক উদ্দিন
—বহুদিন আগে আপনার একটি লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম।
-কতটা?
-এতটাই যে এত দ্রুত এত কাছে এসেছিলাম।
—কী লিখেছিলাম তাতে?
* ভালোবাসার কাছে কোনো প্রত্যাশা থাকতে নেই। ভালোবাসা প্রতিদান যা দেওয়ার এমনিতেই দেয়।
—আর?
—প্রত্যাশা এলে ভালোবাসা সরে যায়। প্রত্যাশা গভীর হলে ভালোবাসা ভেঙে যায়।
-বাহ, সুন্দর তো!
-আপনার মনে নেই?
-মনে রাখার দরকার নেই।
-কেন?
-কারণ,এটাই আমার বিশ্বাস।
* আপনাকে ভালোবাসা আরেকটি কারণ ছিল।
— কি সেটা?
—আপনার মুখের শোনা গ্রীসের সেই চিত্রশিল্পীর গল্প।
—কোনটা?
—শিল্পীর আঁকা অষ্টাদশী রমণীর বস্ত্রহীন ছবি দেখে সবাই অশ্লীল বলেছিল।
—হ্যাঁ , সে সময় যুব সমাজকে বিভ্রান্ত করার দোষে শিল্পীকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছিল।
-আদালতে দাঁড়িয়ে শিল্পী বলেছিলেন, না তিনি কোন অশ্লীল ছবি আঁকেন নি। তাই না?
-তোমার তো বেশ মনে আছে দেখছি।
—সেই ছবির এক পায়ে মোজা এঁকে দিয়ে শিল্পী বলেছিলেন, “চিত্রটি আগে ছিল প্রকৃতি, এখন অশ্লীল হলো”।
—তুমি গল্পটা বুঝেছিলে?
—মনে হয়েছিল বুঝেছি।
২
—এত রাতে ছাদে কি করছেন কবি?
* চাঁদ দেখছি।
* শুধুই চাঁদ?
-তুমি?
-হ্যাঁ ,আমি কাব্য। আজ আমি প্রকৃতি।
-আমি কবি।সেই শিল্পী।
-এবার বলুন, কে বেশি সুন্দর—জ্যোৎস্না, না আমি?
উত্তর দিচ্ছেন না কেন?
—তুমি।
—জ্যোৎস্নার চেয়েও?
—হ্যাঁ। শুধু তুমি।
—আপনার চোখ আকাশ থেকে নেমে এলো কেন?
—কাব্য…
—শেষ পর্যন্ত মোজাটা পড়িয়ে দিলেন কবি?

