অভিমান রাবেয়া আহমেদ চামেলী কার অভিমানে বসে আছো কি ভাবছো সারাক্ষণ। অভিমান তখনই প্রকাশ পায় যখন তার মনের কষ্টের বহিঃপ্রকাশ ঘটে । তখনই অজানা কষ্টের হাহাকার অভিমানে রূপায়িত হয় বটে। অভিমান কিন্তু থেকেই যায় মনের গভীরে। মনের অজান্তে ব্যথা পুষে রাখে সরবরে । চাপা কষ্টের হাহাকার কেউ শুনতে পায় না। হয়তো বা কখনো অশ্রু দিয়ে বুঝিয়ে দেয় মনের কষ্টের যন্ত্রনা কখনো মানুষের কাছ থেকে পায় না কোন সান্ত্বনা। একটু ভালোবাসা দিলেই কিন্তু মনের কষ্টের যন্ত্রনা একটু ঘুচে যাবে, হয়তোবা তখনই সুখ শান্তির ছোঁয়া পাবে। কিন্তু হৃদয়ে কষ্টের রিনিঝিনি ঝংকার থেকেই যাবে। কেন কেন মানুষকে কষ্ট দেওয়া হয় বলতে পারো? মানুষ…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
সহনশীলতা রুবেল হক সে তোমাকে বুকে ধারণ করেছে। তোমায় হাটতে শিখিয়েছে। কথার মালা তুমি কন্ঠে নিয়েছো। তার জলে, স্থলে ও আকাশে তুমি উড়ছ। তার হৃদয়ের রস তুমি পান করছো। তার রসহীন রসায়ন তোমাকে রসে মজিয়েছে তোমার রক্তে ধরিয়েছ প্রোটিন প্রবাহ দুষ্ট হরমোন তোমায় নাচিয়ে ছাড়ছে তোমাকে শাসন করছে, তোমাকে ধ্বংস করছে। সে আর কেউ নয়, সে তোমার প্রেয়সী তোমার অকৃত্রিম সুখের সাগর তোমার কুট কুট জ্বালা-উজ্বালা তোমার তারুণ্য, তোমার হুংকার, তোমার উচ্চারণ। সে আর কে বা হবে, মৃত্তিকা সে হল সুন্দর-ধরণী, এই বিপুলা পৃথিবী। হ্যাঁ আমি পৃথিবীর কথাই বলছি যেখানে আসার সময় তোমার নিয়ন্ত্রণ ছিল না চলে যাওয়ার সময় হাজার…
পৃথিবীর পানশালায় অনিতা দাস আমি নেশাগ্রস্থ মদ্যপ মাতাল নই তবু বহু কাল ভালোবাসা পাইনি কেউ আসেনি আমায় ভালবাসতে। গির্জায় ঘণ্টা বাজলে মনে মনে খুব অসহায় লাগে, কেউতো স্নান করিয়ে দিয়ে বলেনি! এসো গা মুছে দেই, শাড়ি পর, টিপ পর , চলো গির্জার প্রার্থনায় যাই। আমি নিঃশব্দে চুপচাপ গির্জার পিছনের বেঞ্চিতে বসে যীশুকে বলেছি কেউ কি ভালোবাসতে আসবে না আমায়? কেউ কি অপরাজিতা ফুল এনে বলবে না এসো খোপায় পরাই, আমি প্রতীক্ষায় ভগ্ন মনোরথে নিজের আস্তানায় ফিরি। দিন গিয়ে মাস, বছর, যুগ পেরুয়, ভাবি পৃথিবীর পানশালায় হয়তো আর দেখা হবে না! মৃত্যুদূত এলে কাকে বলব জল দাও! বয়স বাড়ছে, মনে হলেই…
রক্তাক্ত এপিটাফ জান্নাত সীমা। বন্ধুহীন এ শহরে আমি স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকি। পিচ ঢালা রাজপথে আমি একলা চলি! হেঁটে চলি গন্তব্যের ঠিক পিছনের দিকে। উল্টো পথে উল্টো রথে আমি সরে সরে যাই দুর হতে দুরে। সাদা থানে মোড়া এক একটা মানুষ যেন কফিন বন্ধী এক একটা জীবন্ত ফসিল। বছরের পর বছর পিঠে বয়ে চলেছে দগদগে ক্ষতময় রক্তাক্ত এফিটাফ! যন্ত্র মানবের প্রেমহীন শহরে আমি কারো করুনা খুঁজি না। চটচটে ঘর্মাক্ত মুখে আমি প্রেম ফেরি করে বেড়ায় পথে হেঁটে করুনা বেচি। বান্ধবহীন একাকীত্বে যখন বুকের বাঁ পাশটায় অলিন্দ আর নিলয়ের ঠিক মাঝখানে অহেতুক ঝড় উঠে, তখনও আমি হাহাকার করি না। বরং বুক ভরে…
নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ ১৫/০৯/২৩ ইং শুক্রবার, সকাল ১০-০০ টা। গাঙচিলের ৪৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং গাঙচিলদাদু খান আখতার হোসেনের ৬৭ তম জন্মদিন উপলক্ষে সারাবিশ্বব্যাপী কেক কাটা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে গাঙচিল উত্তরা শাখা কার্যালয়ে। সভাপতি — বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট কবি, গীতিকার, অভিনেতা এ টি এম ফারুক আহমেদ সভাপতি, গাঙচিল উত্তরা শাখা, ঢাকা। প্রধান অতিথি এবং দেশব্যাপী কেক কাটা অনুষ্ঠানের উদ্বোধক — বিশিষ্ট কবি ও অতিরিক্ত সচিব (অব.) মিজানুর রহমান সভাপতি, গাঙচিল কেন্দ্রীয় কমিটি। বিশেষ অতিথি — শহিদুল ইসলাম বিশিষ্ট কবি ও অধ্যক্ষ, সরকারি আদর্শ মহাবিদ্যালয় ঝিনাইগাতী, শেরপুর। মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বিশিষ্ট কবি ও স্বত্বাধিকারী, ভিন্নমাত্রা মিডিয়া ভিশন। শাহী…
ফেলে আসা দিনগুলো জহুরা রহমান প্রভা বহু বছর পূর্বে- তোমাকে নিয়ে কঠিন সংগ্রামের গতিপথ ধরে সবুজ শ্যামল মফস্বল গ্রামের মহামায়া ছেড়ে ইট, বালি, আর কংক্রিটের শহরে পাড়ি জমাই মনে কি পরে না? সেই অতীতের মধুমাখা ক্ষণ। অজানা অচেনা শহরে- অট্টলিকার আশপাশের পিচঢালা রাস্তার বুকে সুখের নীড় খুঁজতে খুঁজতে জীবন চলার পথে সেদিন বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম মনে কি পরে না? সেই অতীতের একসাথে হেঁটে চলা। যান্ত্রিক নগর জুড়ে- চারপাশে হুইসেলর উচ্চ আওয়াজে ঘুমহীন রজনী তবু সোনালি প্রভাতের প্রতীক্ষায় প্রহর গুনা প্রয়োজনের তাগিতে জীবিকার অন্বেষণে মনে কি পরে না? সেই প্রতীক্ষার প্রহর। তোমার বিনাশ সময়ে- নিজের সবটুকু স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে চড়াও…
ভাঙনের খেলা নাসরিন ইসলাম পুড়ে যায় চিত্ত তুষের অনলে পুড়ে পুড়ে ছারখার নিমেষেই অবয়ব তুলতুলে মন ভস্ম ছাই হতে চলছে! তোমার শহর? মস্তিষ্কের অলিগলি হৃদয়ের আলপথ ঐ মাংস পোড়া উৎকট গন্ধ টের পায়নি? পায়নি টের! লাগেনি নাসিকায় ছিঁটেফোঁটা গন্ধ। সিঁদুর রাঙা দগদগে ঘা পূর্ণ অবয়ব বিষম যন্ত্রণায় ব্লাকহোলে ছুঁটছে আত্মা– তবুও নেই ভ্রুক্ষেপ, অস্থির চিত্ত কাতরায়- তোমাতেই হাতরায় দু’নয়ন কাংখিত বদন দর্শন’র প্রতিক্ষায় পথ চেয়ে থাকে নিরন্তর। পুড়ে খাটি হও, খাটি হও পুড়ে! সেই শব্দ বাক্যের তর্জন গর্জনে কর্ণকুহরে চলছে তোলপাড়, স্বজন কে নিয়ে মনের কুঠুরিতে পাশাখেলা? নাকি বাজিধরা, নয়তো ভেবে বসে আছো, জগত-সংসার এ যেন তুরুপের তাস! শুনে নেও,…
জল তরঙ্গ অনিতা দাস জীবন যেন জল তরঙ্গের খেলা হাসি কান্নায় ভরা রুপোর থালা, বুকের কাছে এলে, যত্নে করি কান্না গুটিয়ে গিয়ে পদ্মের মত মেলি পাখনা। উড়তে উড়তে প্রেমিকের হাত ধরে চোখে চোখে চখা চখি, প্রনয়ের খেলায় ভাসি আর ভাসি। নীল বারান্দায় বসে থেকে চায়ের চুমুকে চশমায় আটা এক জোড়া চোখ, হৃদয়ের ক্যানভাসে ভাসে কামনা নিয়ে বুকে, ঘুমাই পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব মর্মে মর্মে টের পায়, ঠোঁট থেকে ঠোঁটে উষ্ণ মধু মাখাই গোপন ব্যথায় মন কুঁকড়ায়, মিলনের ঝড় ও জোয়ারে ভিতর ভাসে। ভাদ্রের প্রখর তাপে দেহ তাপাই তুমি বিহীন রাত্রিগুলি গোপন অশ্রু জলে শুধু ভাসাই, জীবনের শেষ দিনগুলো শুধু যেন তুমি আমি…
আমার পরিচয় – সৈয়দ শামসুল হক আমি জন্মেছি বাংলায় আমি বাংলায় কথা বলি। আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি। চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে। তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ? আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে। আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে। এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির বেদি থেকে। এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে এসেছি বাঙালি আউল-বাউল মাটির দেউল থেকে। আমি তো এসেছি সার্বভৌম বারোভূঁইয়ার থেকে আমি তো এসেছি ‘কমলার দীঘি’ ‘মহুয়ার পালা’ থেকে।…
রূপাই – জসীম উদ্দীন এই গাঁয়ের এক চাষার ছেলে লম্বা মাথার চুল, কালো মুখেই কালো ভ্রমর, কিসের রঙিন ফুল! কাঁচা ধানের পাতার মত কচি-মুখের মায়া, তার সাথে কে মাখিয়ে দেছে নবীন তৃণের ছায়া। জালি লাউয়ের ডগার মত বাহু দুখান সরু, গা-খানি তার শাওন মাসের যেমন তমাল তরু। বাদল-ধোয়া মেঘে কে গো মাখিয়ে দেছে তেল, বিজলী মেয়ে পিছলে পড়ে ছড়িয়ে আলোর খেল। কচি ধানের তুলতে চারা হয়ত কোনো চাষি, মুখে তাহার জড়িয়ে গেছে কতকটা তার হাসি। কালো চোখের তারা দিয়েই সকল ধরা দেখি, কালো দাতের কালি দিয়েই কেতাব কোরান লেখি জনম কালো, মরণ কালো, কালো ভূবনময়; চাষীদের ওই কালো ছেলে সব…
