বহুদিন কোনো গল্প লিখিনি (ফারুক নওয়াজ) বহুদিন কোনো গল্প হয়নি লেখা যাকিছু দেখেছি সবই যে আমার কবিতার চোখে দেখা। মানুষের ভিড় যেখানে গল্প থাকে– নেতার মঞ্চ যেখানে তৈলো মাখে– চামচা যেখানে হাঁটুজোড়া মুড়ে রাখে; সেখানে হয়নি যাওয়া… ফলে গল্পের উপাত্ত কোনো হয়নি আমার পাওয়া। যাইনি, যেখানে ভূয়ো জাতকের ধান্দাফিকির প্রবল যেখানে চলছে পদলেহনের প্রাপ্তি ডবল ডবল সৃষ্টির নামে যেখানে চলছে মাদকিনীদের ছোবল সেখানে দিইনি উঁকি– অতএব কোনো জ্যান্তকাহিনী লেখার নিইনি ঝুঁকি। হাঁটিনি সেপথে– যেপথে দুস্থ হাত পেতে থাকে চেয়ে বাধ্য হয়েছে হাঁটতে যেপথে অসহায় কোনো মেয়ে সূতহত্যার কষ্টে জনক গিয়েছে যে পথ বেয়ে হাঁটিনি তাদের পিছু– লেখা হয় নাই তাইতো…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
২৪ মে প্রয়াত হয়েছেন ষাটের দশকের অন্যতম কবি ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী হাবীবুল্লাহ সিরাজী (৩১ ডিসেম্বর ১৯৪৮—২৪ মে ২০২১) আশির দশকের শুরুর দিকে যখন কবিতার অমোঘ টানে প্রবলভাবে আলোড়িত, সে সময়েই ‘কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী’ নামের সঙ্গে প্রথম পরিচয়। ঢাকার নিউমার্কেটের মূল প্রবেশফটক পার হয়ে বাঁ পাশের বারান্দায় পা ছুঁলেই শুরু হয়ে যেত সারিবদ্ধ বইয়ের দোকান। টানা বারান্দার শেষে ডান দিকে মোড় নিয়ে আরও প্রায় কয়েক শ গজ পর্যন্ত ছিল বইয়ের রাজ্য। বুক ভিলার শোকেসে থরে থরে সাজানো থাকত ঝকঝকে সব কবিতার বই। সেই সব বইয়ের ভেতর দাও বৃক্ষ দাও দিন, মোমশিল্পের ক্ষয়ক্ষতি, মধ্যরাতে দুলে ওঠে গ্লাশ, হাওয়াকলে জোড়া…
আকাশ নদীর আত্মাহুতি [শাহান আরা জাকির পারুল] আজকাল খুব বেশি নিঃসঙ্গ লাগে আকাশের! বড্ডো বেশি মনে পরে নদীকে ! কি ভেবেছিলো দুজনে, আর কি ঘটে গেল ! ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে শুধু ! নিম্ন জাতের ছেলে আকাশ!বাবা, ডোম কানাইলাল আকাশকেও এই কাজেই লাগিয়েছিলেন! একই পাড়ার মেয়ে নদিয়া কে প্রেম করে বিয়ে করেছে আকাশ ! নদীয়া কে আকাশ আদর করে নদী বলে ডাকে ! সবকিছু সুন্দর ভাবেই কেটে যাচ্ছিলো ! আকাশ ডোম এর কাজ করলেও নদী ভালো একটা কাজ পেয়ে যায় ! হটাৎ কোন এক ভিনদেশি বাবু এসেছে তাদের পাড়ায়! একাকি! তাকে দুমুঠো রান্না করে দিতে হবে ! জাতকুল জানার পরও…
প্রেয়সীর প্রেমে অভিষেক হবে (কামরুল ইসলাম) প্রতীক্ষায় সময় চলে যায়, উৎসুক নগরে প্রণয়টুকু ফিরে আসে এই তো আমি, এই আমার বিশ্বাসের বন্ধন এইখানে মুখদর্শন হবে, গাছপালা তরুলতা পশুপাখির কীর্তনের আসর হবে এই সত্য সকল অসাধ্যকে জয় করে, তখনই অবাধ প্রেম হবে আমারও একজন প্রেয়সী আছে, যে সকল বন্ধনে আবদ্ধ থেকেও ভালোবাসে তার শৈশব থেকে কৈশোরে উত্তরণ, বাড়ন্ত শরীরে অজানা অনুভূতি অতঃপর যুগলবন্দী ধর্মের আচারে, সকল বাঁকে পরিবর্তন ঘটে অনাগত জীবনের গদ্যপদ্যে শৌর্যহীন হয়ে পড়ে, তবুও শ্লোক গাঁথে এসব অজানা কোন এক প্রণয়, কেউ হয়তো চাঞ্চল্যে পূর্ণ করে নেয় আমি বনভূমির কোলে আশ্রয় নিতে নিতে বলি, আমি প্রমোদস্বর্গে আছি এই তপোবনে…
অভিমানী কবিতার খসড়াগুলো [নাসরীন মিতা] খবর রাখো না কতোদিন– ঠিক মনে নাই। বিস্মৃতির ঝড়ে, তবু মনে পড়ে জোছনার রাতে মিছেমিছি জোনাকিকে খুঁজে গেছি কত । নিয়ন আলোয় কবিতা লিখতে গিয়ে মনে পড়েছে বারংবার তোমার দগ্ধ অভিমান আর অনবদ্য কবিতার কথা। তুমি যখন আমায় ছেড়ে নিরুদ্দেশ কবিতারা তখনও অবাধ ভালোবাসায় আমার আঙুলের ডগায় ঝুলে বলে, লিখে যাও, তোমার নীল ডায়েরিটার বুকে। তোমার গায়ের সোঁদা গন্ধ, কেয়াপাতার তরণী হয়ে ভেসে আসে মনগাঙের বুনো জ্যোছনাতে। তখনও আবার কবিতারা আমার আঙুলের ডগায় ঝুলে বলে, লিখে যাও তোমার আঁখির অগ্নিরেখায় প্রাণের কবিতা নির্ঘুমে, মাঝরাত চুমে চুমে।
তুমি, আমি এবং কুহেলিকা আমি তোমার ঋণ-পরিশোধ করতে চাই না কেননা, আমি তোমার বোঁবা-বিষণ্ন প্রেমের কাঙাল! তোমার কাছে;ঋণী থাকতে চাই কারন,যেখানে ঋণ থাকে না সেখানে থাকে, দেওয়া- নেওয়া নামক প্রতিযোগিতার, বিশ্রি- প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আর হ্যা! শুধু তোমার সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে চাই না, কেননা, আমি তোমার অসুন্দরেরও পূজারী। তোমার হৃদয়ের মাঝে নিতে চাই ঠাঁই হিয়ায় বাধবো হিয়া… পরানের সাথে পরান মিলাবো থাকবেনা দেওয়া- নেওয়া। মুখোশের মুখোমুখি চকিতে সেদিন শুনলাম-বস্তির ছেলেরা বলছে- “ভগবানের ভদ্র পল্লীতে তুমুল তান্ডব নৃত্যের শখ- আচ্ছা ঈশ্বর কেন্দ্রিক রাজনীতিটা কেমন একরোখা আর টক- কেমন যেনো অহংকারে ধরে সাধুসঙ্গ – মানুষ রূপী গরীব পশু সবটা’ই তার রঙ্গ… ধরে কেমন…
রহস্যের গণ্ডিতে তুমি {রিতুনুর} স্বপ্নের মাঝে হঠাৎ একদিন ভেসে উঠলো তোমার অস্পষ্ট ছায়া। তোমার জন্য এখন ও আমার লাগে গো মায়া। হেঁটে যাচ্ছো তুমি ছায়া পথে, নীহারিকারা তোমার সাথে। মনে পড়ে গেলো, হাতে হাত ধরে আমরা দু’জন হাটতাম মধু পূর্ণিমা রাতে। তোমার মনে নেই অথচ আমি যেমন ছিলাম আজও আছি সেই। নিজ হাতে ভালোবেসে একদিন তুমি দিতে খোঁপায় গোলাপ তুলে। পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার পরে তুমি সব গেছো ভুলে!! ঘুমের মাঝেই হাটতে লাগলাম, আমি তোমার পথটি ধরে, কিচির মিচির পাখির ডাকে ভেঙে গেল ঘুম ভোরে। জেগে দেখি তখনো আবছা আলো, চাঁদ তাঁরারা আকাশে করছে জ্বলজ্বল….. হৃদয়ে উঠলো সমুদ্রের ঢেউ চোখ বেয়ে…
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী, তৎকালীন পূর্ববঙ্গের প্রথম মহিলা গ্রাজুয়েট, ইডেন কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ টাঙ্গাইলের গর্ব ফজিলাতুন্নেছার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা- জন্ম: ১৮৯৯ । মৃত্যু: ২১ অক্টোবর ১৯৭৭ ★১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছিলো, একটা ছেলে যদি একজন মেয়ের সাথে কথা বলতে চায়, তবে তাকে প্রক্টর বরাবর দরখাস্ত দিতে হবে। শুধুমাত্র প্রক্টর অনুমতি দিলেই সে কথা বলতে পারবে। এছাড়া নয়। এমনকি তার ক্লাসের কোন মেয়ের সাথেও না। ★ডিসেম্বর ১৯২৭, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাত্র ৬ বছর পর একদিন কোলকাতা থেকে একজন যুবক এলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখবেন। কয়েকজন বন্ধু বান্ধব নিয়ে সে ঘুরতে বের হলো। তখন কার্জন হল ছিলো বিজ্ঞান ভবন। ঘুরতে…
রামমোহন রায়ের জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য রাধাকান্তর পরাজয় হিন্দু কলেজের চারদিকে ঘন জঙ্গল ছেয়ে রয়েছে। বট, অশ্বত্থ, নিম, জামরুল গাছে পরিবেষ্টিত এই অঞ্চল। অদূরে অতি বিরাট একটি দীঘি। সেই দীঘির চারপাশে দুপুরবেলা মাছ ধরবার জন্য যেন ধ্যানমগ্ন ভঙ্গিতে, সারিবদ্ধভাবে উপবেশন করে শৃগালের পাল। রাত্রে তারা আবার হুক্কা- হুয়া স্বরে তীব্র চিৎকার করে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে। সুবিশাল জলাশয় বা দহটিতে এত শৃগালের বসতি বলে জায়গাটিকে অনেকে শিয়ালদহ বলে অভিহিত করে আজকাল। এই অঞ্চলে মানুষের বসতি প্রায় নেই বললেই চলে। একটু দূরে চিৎপুর আর জোড়াসাঁকো গেলে দেখা যাবে কল্লোলিনী কলকাতার মানুষের জনজীবন। প্রচুর গাছ কেটে শুধু এখানে গড়ে উঠেছে হিন্দু কলেজ নামের এই শিক্ষা…
বিশ্ব আমার (জগলুল হায়দার) আরব আমার ইরান আমার ভারত আমার চীনও কদম কদম খোদার পথে কাটছে রাত আর দিনও। তুর্কি আমার মিশর আমার বিশ্বজুড়েই দেশও পামির ডাকে সাহারা কয় আমার বুকেও এসো। ফোরাত আমার দজলা আমার যমুনা আর নীলও ভলগা থেকে আমাজানও আমায় সুধা দিলো। সুমের আমার আশের আমার আমার ব্যাবিলনও হরপ্পা আর ম’ঞ্জোদারোর সভ্যতার অই মনও। ককেশাস আর মঙ্গল আমি আমিই সাদা কালো ইব্রাহিমের পুত্র আমার বুকে হেরার আলো। সহজ আমি সরল আমার তাই অবিরাম চলাও বাইবেল* আমার কোরান আমার শোভন কৃষ্টি কলাও। বাঙ্গাল আমি পাঞ্জাবি আর সোমালি আফগানও সেই তৌহিদ কাফেলাতে এই ইতিহাস জানো। মানুষ আমি রাসুল আমার…
