Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ

বাঁ পাশের আমি (পারভীন আকতার) তোমার বাঁ পাশে আমার ঠাঁই হয়নি কখনো জানি আমার জীবনে সূর্যোদয় যখন এনেছিলে জানতাম একদিন ঠিক গোধূলি আসবে;সূর্যাস্ত হবে। তুমি সুডোল মনের গভীরে গিয়ে খনন করেছো বন্যা বয়ে দিয়েছিলে মাথুরের কূয়ার মত প্রেমলীলায়। অজস্র জলরাশির ভিড়ে নুড়ি কুড়ানোর খেলায় মত্ত ছিলাম তোমার সুবজ পত্রের খামে। ব্যথার আঁধারে নিঃশব্দ জোনাকির মন্থর চলে যাওয়া আলো না জ্বালিয়ে নিবুত বাতির তলদেশে হারিয়ে গিয়েছে ঠিকই তোমার প্রিয়তমা। কান পেতে শুনো সেই মুমূর্ষু কান্নার কলরোল। এখনো বিদগ্ধ মহলের ওপারে আর্জি করছে। বলছে আকুতি ভরা কন্ঠে,কাছে এসো প্রিয়তম। তোমার আমার কতই না স্বপ্ন ছিল। ভালোবেসেও তবু হার মেনে নিলে। আমি অব্যক্ত…

আরো পড়ুন

ক্লান্ত পথিক [নাজমুন নাহার লাডলী] ১০/০৯/২০২১ ক্লান্ত পথিক নদীর ধারে বসো পাশে ভালোবেসে দুদণ্ড জিরানোর বড় সাধ হয় । স্রোতোস্বিনী মা বয় নিরবে মৃদুমন্দ হাওয়া পরশ বুলায় পথিকবর তোমার অপেক্ষায় । একেলা রমণী শ্রান্ত অতি আজ আর নেই খেয়া মাঝি আধুনিকতার ছোঁয়া চারিদিকে । দূর গাঁয়ে সবুজের প্রশান্তি শান্ত আকাশ শান্ত নদী রমণীর হৃদয়ে কিসের অশান্তি । পথিকবর একটু বসো শুনে যাও নদী ও নারীর না বলা যন্ত্রণার গল্পখানি । এ পথে আর গরুর গাড়ি চলে না বউ নিয়ে খেয়াঘাঁটে বাঁধা নেই তরী । দূরে দেখা যায় ব্রীজখানি মেঠোপথ আজ হয়েছে বিলীন ইঁট পাথর চেপেছে বুকে । যন্ত্রদানব চলে ঝমঝমিয়ে…

আরো পড়ুন

সাগর ও আমি (লাবণ্য সীমা) নূপুর পায়ে হেঁটে ছিলাম অনেক টা পথ সঙ্গী ছিলো কেবল গাঙচিল। দূর বালুকাময় সেই পথে আমি সাগর পাড়ের সাগরের সাথেই দেখা করে এলাম। সাগরের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলাম। তুমি এত গভীর কেনো? তোমার হৃদয় এত প্রসস্থ কেনো? তোমার গহবরে কত রকমের প্রাণীকুলের বসবাস। নাম না জানা কত উদ্ভিদ । বিশ্বভান্ডারের অর্ধেক বিস্ময় তুমি কেমন করে তোমার বক্ষে আগলে রেখেছো ? নিরব সাগর হঠাৎ উতলা হয়ে উঠিলো, ধেয়ে আসলো তীরে এক ঝটকায়,আমায় ভিজিয়ে দিয়ে বললো, আমি উচ্ছাস , আমি প্রেমিক, আমি উম্মাদ, আমি ভয়ংকর তান্ডব। আমি চণ্ডালের আরেক রূপ। তুমি আমাকে জানতে এসেছো? কঠিন দুঃসাহসিক নারী তুমি,…

আরো পড়ুন

অনুভবে তুই [সুরমা আক্তার] আমার একটা আকাশ চাই। যে আকাশ থাকবে তোর ভালোবাসার রঙে সাজানো। সেই রঙে রাঙিয়ে আমি উজ্জীবিত রবো সদা সর্বময়। সেই রঙ করবে আমায় স্বর্গীয় সুখে আন্দোলিত।। মন খারাপের সময় রঙের জ্যোতি আমাকে আলোকিত করবে। মনের নীল কষ্ট গুলো যখন ভর করবে আমার আঙিনায়, তখনই তোর ভালোবাসার বৃষ্টিতে সিক্ত হবে এ মন। আমাকে ভালো রাখতে যেনো সদা প্রস্তুত তোর ভালোবাসার রঙ গুলো।। আজ আমার জীবনের পূর্নতায় জড়িয়ে তোর ভালোবাসার পরশ। আমার আশার পূর্নতা পাক তোর দীর্ঘ ভালোবাসা। এযে এক অন্য রকম অনুভূতির মধ্যে ভালোথাকা। তোর রঙে রাঙিয়ে যে আমি চিরো যৌবনা।। ভালো থাকিস তুই সাদা সর্বময়। ভালো…

আরো পড়ুন

ইন্দ্রজাল [সামসুন্নাহার] ২৮/৫/২২ স্বার্থপরতার ইন্দ্রজালে সময় হারিয়েছো ? এখন ঘোর অন্ধকার ‌‌ রাস্তা বদল করবে ? সে তো গুড়ে বালি । অন্ধকারকে সঙ্গী করে চোখের জ্যোতি টাকে জোনাকি পোকা ভেবে এগিয়ে চলো ইন্দ্রজালের গহবরে । সমাজ দিবে বাহাবা সার্থক কারিগর । আর কি চাই বলো এ অবেলায় ? জন্মের সূত্র দিয়ে অংক কষ মিলবে ফলাফল। হয়তো সেটা শূন্য হবে তবে তাতে কি ? শূন্য হাতে এসেছিলে শূন্যেই না হয় শেষ হবে । শ্রম, মেধা, সময় ও সাক্ষী দিবে নোবেলটা না পেলেও পেতে পারো কিন্তু অস্কার টা ঠিকই পাবে নিঃসন্দেহে।

আরো পড়ুন

ডোমিনো (জাহানারা বুলা) পর্ব-৩ স্মৃতির পড়ার ঘরটা ওর ভীষণ পছন্দের। সাজসজ্জা নেই। কিন্তু, নিচে থেকে ভেসে আসে কামিনী ফুলের ঘ্রান। বড় জানালায় জাপটে ধরে আছে ডিপ ম্যাজেন্টা বাগানবিলাস। সেখানেই গ্যাট মেরে বসে আছে আনোয়ারের সাথে কফি খেয়ে ফিরে আসার পর থেকে। মায়ের প্রশ্নের উত্তরও কিছু দেয়নি। মা খেতে ডেকে গেলো, খেতেও যায়নি। এই মাত্রই এক পসলা অনাহুত ভারি বর্ষণ হয়ে আবার থেমেও গেলো। সোদা মাটির ঘ্রাণ টেনে ওঠালো সেই ভারি বর্ষণ। কামিনী ফুলের ঘ্রানে মৌমৌ করছে পড়ার ঘরটা। অনেক সবুজ পাতা সহ বাগানবিলাসের চেহারাটা ভারি সুন্দর দেখাচ্ছে। ধূলোয় ঢেকে যাওয়া গাছটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখন বৃষ্টির টুপ টুপ জমে থাকা পানি…

আরো পড়ুন

প্রাণের নবী মোহাম্মদ (সুরমা খন্দকার) নবী আমার খোদার প্রেমী খোদার-ই পিয়ারে শান। পথের দিশা নবী আমার প্রাণ প্রদীপের নূরের ধ্যান। নবীর প্রেমে মশগুল হয়ে হয় না কেহ হিংস্র নবীর জন্যে যান কোরবান ঈমানেরই অংশ। কটুক্তি আর অমার্জনীয় আদবে হয় না নবীর ক্ষতি, দুনিয়া আর আখিরাতে তিনিই সবার গতি। স্বয়ং মুর্শিদ যার প্রেমে পাগল ত্রিভুবন সব তাঁরই আগল, তাকেই করো অসম্মান সময় থাকতে ক্ষমা চাও নচেৎ শাস্তি হবে আঞ্জাম । কলিজায় যে আঘাত দিলি তুই তো আমার ভাই এক বোঁটায় দুটি ফুল ফোটালো মালিক সাঁই । এক পৃথিবীর শ্বাস নিই তুমি আমি দু’জনে জাত পাত কেন খোঁজ তুমি বন্ধু সুজনে।

আরো পড়ুন

প্রেম নগরে তুমি কোন এক অবসরে এসো, এসে দেখে যেও দু’জনার প্রেম নগরের কি বেহাল দশা; কেমন জানি অচেনা মনে হয় চিরচেনা অতি সাধের এই প্রেম নগরটা। কোন কিছুই যেন নেই আর আগের মতো, তোমার বিরহে প্রকৃতি হয়ে উঠেছে বিরূপ। চৌচালা টিনের ঘরটা উড়ে গেছে অশুভ ঝড়ে; শূন্য ভিটে, সবুজ গাছপালায় মড়ক লেগেছে। সর্বত্র পোড়া মাটি আর বাতাসেও পোড়াপোড়া গন্ধ, ছোট্ট নদীটা মরে একেবারে জলশূন্য নদীপাড়ে শরৎকালে কাশফুলের আর দেখা নেই; শান বাঁধানো পুকুর ঘাটে শেওলা জমেছে। বাগানের ফুল গাছগুলো একটিও অবশিষ্ট নেই ভোরের পাখিরা কিচিরমিচির করতে আসেনা আর আমগাছে ঝুলানো দোলনাটায় দোল খায়নি কতোদিন। প্রাণবন্ত সবুজ সুনসান প্রেম নগরটা…

আরো পড়ুন

আবার ফিরে আসতে চাই (মুন্নি নূরুল হুদা) ০১/০২/২০২২ আবার ফিরে আসতে চাই এই বাংলায় কবির মত শঙ্খচিল শালিকের বেশে নয়, বাবার আদরের সেই ছোট্ট খুকুটির বেশে। ফুল কুড়াবো সেই শিউলিতলায় ভোরের মৃদুমন্দ হাওয়ায়। কিংবা কৃষাণীর ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে যেখানে খইয়ের ধান ছড়াবে শিশু উঠোনে, ছুটে বেড়াবো সরিষার ক্ষেতে আপন মনে ঘুঙুরপায়ে সাঁতরাবো সারাদিন দিঘিরজলে। ফিরে আসতে চাই আমি সেই বাংলায়। সঙ্গী হতে চাই সেই ডিঙি নায়ের, পার হবো নদীর এপার ওপার। দূর থেকে আসবে ভেসে ভাটিয়ালি সুর, পালতোলা নৌকার কোন মাঝির কন্ঠে মন ভরাবো সেই মধুর গানে। মায়ের কোলে ঘুমিয়ে যাবো পুঁথির সুরে, দুচোখ জুড়ে রূপকথার স্বপ্ন বুনবো জোৎস্নামাখা চাঁদের…

আরো পড়ুন

কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ মুহম্মদ নূরুল হুদা (মুনূহু) বলো, কোথায় সেই কহর, কোথায় সেই চম্পকনহর? কোথায় বালকবালিকার বিহঙ্গশিস্, কোথায় সেই ঢকঢক আদিবিষ? আমিও যে আমার নই এ কথা আমার চেয়ে আর কে বেশি জানে? তাহলে তুমি কি করে আমার হবে, কিংবা আমি কি করে তোমার? অঙ্গ দেখিয়ে তুৃমিও কত বঙ্গ যে জয় করলে হে আদিনিসঙ্গ? তারপর নিজে নিজেই বনে গেলে মহামতি হিমালয়শৃঙ্গ! তুমি কি চেঙ্গিস না হলেও অন্তত শেষমোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ? কেবল প্রেমের শ্লোক উচ্চারণ করেই কি বাজি ধরলে অমরত্বের? বটে, তা তো ধরবেই। তোমার হাজারকোটি বছরের ইতিহাসে কে সেই নির্বিকল্প অমর-অজর? কে সেই অদ্বিতীয় প্রমাণক? না, নেই কোনো সদুত্তর, নেই…

আরো পড়ুন