শিবলী
— সৈয়দা রাশিদা বারী
শিবলী কিছু মনে করতেছেন না। দুঃখ পাওয়া কষ্ট লাগা বলেও তার কিছু নাই। যোজন যোজন পরশ্রী কাতরতার থাবা ডিঙিয়ে, হিংসা জ্ঞাঙ সরিয়ে, কত শত রকম প্রতিক্রিয়া কাটিয়ে তাই উনি আজও আল্লাহর দয়ায় পৃথিবীতে টিকে আছেন। নইলে কবেই শিবলী নিজেই মরে ভূত কঙ্কাল হয়ে মাটিতে মিশে যেতেন। শিবলীর বেঁচে থাকার জন্যই তো শিবলীর সন্তানরা হয়েছে। শিবলীই যদি না থাকতো, সেখানে শিবলীর সন্তান থাকার প্রশ্নই ছিলো না। শিবলীর পিছনে শত্রু জ্ঞাঙ একেক সময় এক এক স্তর থেকে, প্রতিস্তর থেকে উদয় হয়। পূর্বেও হয়েছে এখনো হচ্ছে, যা শক্তিশালীভাবেই চলমান আছে। শিবলীর শত্রু শিবলী, শিবলী মায়ের পেটের ভিতরে যখন ছিলো এবং ভুমিষ্ট হওয়া থেকে শিবলীরই রক্তের সম্পর্কের চাচা গেদু মিয়া ছিলো! তখন শিবলীর চাচা শিবলীর মাকেই চায় নাই দুনিয়ায় বেঁচে থাক। ওই ভাষা সংগ্রামী নারী দুনিয়ায় বেঁচে থেকে, শিবলী নামের মেয়ে এ কন্যাকে জন্ম দিলে, কন্যা রূপে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দোষে, শিবলীকে ধামা চাপা দিয়ে মেরে ফেলানোর আদেশ নয় কড়া নির্দেশ দিয়ে দেয় দাইমাকে। এইগুলো ভিতরে ভিতরে সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোতে তখনও হতো। এবং বাতেনি কাজের একটি অংশ ছিল। আর অনেকাংশেই বাতেনি কাজগুলো জাহিরি করায় বরং অন্যায় ছিল। বলা যায় ষাটের দশকটা কাটিয়ে নেবার পর এইগুলো বন্ধ হয়েছে আইন প্রণয়ন হয়ে। আইন তো চালু হয় কিন্তু সেটা প্রতিষ্ঠা হতেও সময় লাগে। সময় লাগে কারণ সমাজ তো সহজেই যতই সৃজনশীল কাজ হোক তবুও নারী বিষয়ক অন্যায় বৈষম্য গুলোকে থামানোর রাস্তা খুঁজে পেলেও মেনে নেয় না। সমাজ মানেই নারীর উপর সাব্যস্ত করা পুরুষের সুযোগ সুবিধার একটা বড় অংশ এবং থাবা যেহেতু। কিন্তু এটাও বুঝতে হবে রাষ্ট্র পরিচালকরা রাষ্ট্রের সকল মানুষের মনোনয়ন সাব্যস্তর মাধ্যমেই যা কিছু মনে নয়ন করে। যার ফলেই এমনটা হয়। সেটা করতে হয় কারণ মানুষের ভালোর জন্যই তো, আগামী দিনগুলো পরিচ্ছন্ন রাখার জন্যই তো রাষ্ট্র পাঁচ বছর পরে পরে নতুনভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালিত হতে হয়। যতই যোগ্য হোক ভালো হোক একভাবে রাষ্ট্র হাতের মুঠোয় ক্ষমতার বলে ধরে রাখার কোন সরকারের অধিকার নাই। তাইতো পরিবর্তন আসে পরিবর্তন আসবে। নারীদের ঠকানোর মাত্রা অনেক কাল আগে থেকে দিনে দিনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যেমন, তেমন দিনে দিনেই সংশোধিত হচ্ছে। বেশ বড় অংকের একটা সময় নিয়ে সংশোধিত হতে চলেছে। এটা আসলে খুবই ভালো বিষয়। মহান আল্লাহর সারা জাহান হতে বর্বরতার যুগ কাটিয়ে, মানুষ আধুনিক যুগের সৃজনশীলতার সন্ধান পাচ্ছে এবং তা বাস্তবায়ন হচ্ছে। এটা আসলে আশার আলো। সাধারণত যাপিত জীবনের আইন প্রণয়নকারী সরকারও যেহেতু চেঞ্জ হয়। তাই এক সরকারের আমলে কোনদিনও কোন কিছুর সম্পূর্ণতা পাই না। রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা বন্ধ করলেন। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন তিনি দেখে গেলেন না। বাস্তবায়ন ঘটালেন বা করলেন কত কাল ধরে কত কবি সাহিত্যিক দিনের পরে দিন। উপন্যাসিক তাদের লেখালেখির মধ্যে প্রথমে, তারপরে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলো! তখনকার কবি সাহিত্যিকের লেখাগুলো পড়লেই সেটা আয়ত্তে আসে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষণ আরো অনেক মানবিক ব্যক্তিত্ব প্রশাসন এবং লেখকর এই ব্যাপারে অবদান আছে। ধর্মের বাহানা করে পুরুষরা স্বার্থের লোভে মজা করে স্বামী মারা গেলে, তার তপ্ত তাজা স্ত্রীকে কত নির্মল নিষ্ঠুর ভাবে আগুনের গোল্লায় ছুরি দিয়েছে! আহা ভাবাও যায় না!সতীদাহ প্রথা ভেঙে দিলে এবং এগুলো না করার আইন প্রণয়ন হলে তখনও সমাজ মেনে নেই নাই! কি নিকৃষ্ট সমাজের এক একটি রীতি! উদাহরণ দিতে ছোট্ট করে বলি, আজকের ২০২৬ এর সরকার নারীর মূল্যায়নে, শুধু কন্যা সন্তান জন্মিলে অন্য শরীকরা বাবা-মায়ের সম্পত্তিতে ভাগ বসায় এইটা দমন করেছেন! আলহামদুলিল্লাহ! তবে সতীদাহ প্রথার মত বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে। এটা নিয়ে তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বিশাল মজলিস করা যাচ্ছে না! বিশাল আকারে বলা যাচ্ছে না কারণ তাহলে তার পাঁচটি বছর ক্ষমতায় থাকা সমস্যা হবে। আছে না সমাজে নানান রকম পুরুষতান্ত্রিকতা! এইজন্যই অন্তত আমরা নারীরা চুপ থাকি যেহেতু বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে। আনন্দে এখনই উতাল পাতাল হলে ধন্যবাদের প্রহর মিলালে বিষয়টা উল্টিয়েও দিতে পারে যেহেতু সমাজটা অনেক খারাপ! শক্তিধর এবং প্রভাবশালী। পূর্বের কথাই ফিরি, সতীদাহ প্রথা বাতিলের পরবর্তী থেকেই নারীদের উপরে জুলুম অন্যায় করা লোপ পেয়ে চলেছে। তবে শিবলীর জন্ম নেওয়ার সময় কালে তখনকার যুগে নারীর উপরে করা কঠিন বর্বরতা ছিল না বটে কিন্তু কন্যা নবজাতক শিশুকে ধামা ধামাচাপা দিয়ে অথবা নুন গালে দিয়ে ইত্যাদি ভাবে মারা এইগুলোর ব্যাপারে কোন আইন চালু তখনও এখনকার মতন হয় নাই। ষাটের দশকের পরেও তাই ভিতরে ভিতরে এগুলো হয়েছে। কন্যা শিশুকে মেরে ফেলানো হয়েছে ব্যক্তি উদ্যোগে! এবং তা নিয়ে জটিল কোন সমস্যা হয় নাই! শিবলীকে মেরে ফেলানোর নির্দেশ দিয়েছিলো জাস্ট কন্যা হওয়ার দোষে। পেটের ভিতরে থাকতে তো বটেই আঁতুড় ঘরেও এমন নির্দেশ! তারপর বালিকা বেলা কিশোরী কাল থেকে আমৃত্যু ছিলো শিবলীর জীবনের উপর হামলাকারী যিনি তিনি অবশ্য রক্তের সম্পর্কের কেউ নয়, রতনের আব্বা! রতনের আব্বা শিবলী নামের ঝকঝকে লক লোকে উঠন্ত ফুটন্ত বালিকার প্রথম শ্রেণীর ফার্স্ট ডিভিশনের শত্রু। মানে ফার্স্ট ডিভিশনের সেই শত্রু শিবলীর দুলাভাই! যার পলিটিক্সে শিবলীর বড় বোনেরও অকাল অসুস্থতা এবং অন্য ধরনের ভোগান্তি হয়ে বলা যায় অকাল মৃত্যু হয়েছে! সুস্থকালে শিবলীর বড় বোন প্রতিমার মতো নয় প্রতিমার থেকেও আরো ভালো ছিল! সুন্দরী ছিল! ভুতে ধরার নামে জাদুটোনা করে, স্বার্থবাদী লোকটি সুন্দরী নিষ্পাপ বউটিকে জিম্মি করে রাখে ঘরের মধ্যে আটকিয়ে যুগের পর যুগ! আগেকার দিনে নারীর উপরে আইন প্রণয়ন এখনকার মতন জব্দ আকারে ছিল না। ওই সুযোগে বাইরে ফষ্টিনষ্টি করা পুরুষরা নিরপরাধী স্ত্রীকে নির্মম অত্যাচার কঠিন শাস্তি দিয়েছে! মানুষও তখন সমাজে ছিল না এগুলোর প্রতিবাদ করে। তখনো মানুষ নারীকে পশু বা ঘরের আসবাব পত্র জড় পদার্থ মনে করতো। আর অত্যাচারী স্বামী হলে সেটাকে ভাগ্য বলতো। বেচারী নারীর ভাগ্যের দোষ দেওয়া হতো। শিবলীর বুবু সুস্থ স্বাভাবিক থাকলে রতনের আব্বার খবর ছিল কারণ শিবলীর বুবু শিবলীকে অনেক বেশি ভালোবাসতো। প্রসঙ্গত বলয় ভালো শত্রুতার কারণ। শিবলী ছিল মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত পুরুষ বিদ্বেষী নয় তবে অন্যায়ের বিপক্ষে! সম্পূর্ণ প্রতিবাদী। শিবলীর বড় বোন প্রতিবাদী ছিল না সে ছিল বেশি আকারের লাজুক। সহজ সরল। এই সুযোগেই তাকে আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে নিয়ে গিয়ে, হিংস্র বড় জা, কি যেন খাইয়ে ব্রেন টাল করে দেয়! পরবর্তীতে তার স্বামী সুযোগে সদ্যে ভাগ করে এবং তার মেধা স্বাভাবিক জ্ঞান উল্টিয়ে কবজা করা হয়েছিল। অর্থাৎ মাথা অবশ করে রেখেই যা কিছু করে বেরিয়েছে! যার চিকিৎসা করাতে কারো হাতে ছাড়ে নাই! একলা নিজে নিজে করেছে! ইত্যাদি এই ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে গেলে লেখার পরিসর আরো বেড়ে যাবে অতএব ঐ প্রসঙ্গে বলবো না। স্ত্রীকে পাগল সাজিয়ে তালা মেরে ঘর বন্ধি রেখে, শিবলীর ধ্বংস করার প্রক্রিয়া সচল রাখা হয়েছে বা চলেছে। এই মর্মান্তিক পলিটিক্স করা, বিধির বিধান অনুসারে সেটা ছিল তার জন্য আনন্দের। তার অবর্তমানে এখন রতন। ফ্যামিলির মধ্যেই এমন স্থানান্তর পালা বদলের মত শিবলীর জীবনের হুমকি। চলার পথের হুমকি। কাজের হুমকি। এভাবে জীবনের শত্রু ব্রাজমান শিবলীর জন্ম থেকে। মায়ের পেটের ভিতরে থাকা থেকেই। কোন কিচ্ছা কাহিনী নয় এ ঘটনাক্রম সত্যি। তবে আল্লাহর তরফ থেকে অঢেল দয়া রহমত শিবলীর উপরে ছিল এবং আছে। নবীজিরও এই রকমই শত্রু ছিল জন্ম থেকে আমৃত্যু পর্যন্ত। এটা বলার জন্য বলা, নবীজির সাথে তুলনা করার জন্য নয়। একজন ভালোর, নিরঅপরাধীর পিছনেও শত্রু থাকে । বংশের ভিতরেই উদয় হয়ে থাকে, এটা হল তেমন এক উদাহরণ। শিবলীর চাচার ফ্যামিলিতে এখন আর শিবলীর জীবন নাশ করার মতন কোনো শত্রু নাই। ওই বাড়ির বিশাল শত্রু বাহিনীর স্তর চেঞ্জ হয়ে, শত্রু এখন একজনই আছে যে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে! ইদানিং তার কাছ থেকেই সাপ্লাই হচ্ছে নতুন নতুন ভাবে নতুন শত্রু! শিবলীর গেদু চাচার শত্রুতা তখনকার সবাই এমনকি এলাকা শুদ্ধ জেনে গিয়েছিল তাই শিবলীকে মারতে পারি নাই। দুলাভাইয়ের শত্রুতা শিবলীর মা আব্বা বুঝেছিল তাই মারতে পারি নাই। আর এখন তো শিবলী একলা নয়। এখন শিবলীর দুই বাচ্চা আছে তাদের ফ্যামিলি বা শিবলীর সন্তানের প্রজন্ম আছে। বিষয়টা অন্তত শিবলীর দুই ছেলের নলেজে দিতে হবে নইলে ওদের ক্ষতি হয়ে যাবে শিবলীর উইথআউট নলেজে। শিবলীর অবর্তমানে। নতুন শত্রুর তথ্য কেউ জানে না শুধু শিবলীই জানে। তবে শিবলীর দুই ছেলেকে সতর্ক করা প্রয়োজন যেহেতু শিবলী এখন একলা নয়। শিবলীর সুখ শিবলীর শান্তি শিবলীর বেঁচে থাকা শিবলীর অস্তিত্ব লেখালেখি সাহিত্য পৃথিবীতে কেউ চায় নাই। আর এমতাবস্থায় শিবলীর মঙ্গল উন্নয়ন উন্নতি চাওয়ার তো প্রশ্নই নাই। গাছে উঠলে যেমন মই টান মারে, গাছে উঠতে গেলে ঠ্যাং ধরেও টানে, শিবলী এমন অত্যাচার কাটিয়ে নিয়েছে জীবনে বহু! একমাত্র মহান আল্লাহর দয়ায়। নতুন শত্রুও চায়না শিবলীর কিছু। শক্তিশালী শত্রুই পারে নাই শিবলীর সৃজনশীল কর্মমুখর পরিবেশ থামাতে। মনুষত্ব সম্পন্ন মানবিক কর্ম পরিধি ঠেকাতে! নড়বড়ে শত্রু আর কি করবে কষ্ট দেওয়া ছাড়া। কিন্তু শিবলীর এই নতুন প্রজন্ম শত্রু জানে না কষ্ট বলে শিবলীর কিছু নাই! শিবলীর সন্তানেরও কিছু নাই কারণ ওরা তো শিবলীর সন্তান। যোজন যোজন শত্রুতা কাটিয়ে ওদের বাঁচিয়েছে! তো কষ্ট ওদের লাগবে কেন? এই জীবনে কারো ক্ষতি করি নাই শিবলী নিজে, বেঁচে থাকার প্রশ্নের প্রতি উত্তর ছাড়া, উপকারই করেছে। অপকার করি নাই। উপকারটাও সুযোগ পেলে কখনো কখনো সাপ্লাই দেওয়া প্রজনন শত্রুরা অপকারে সাজিয়ে নিয়ে, ভুল ব্যাখ্যায় রূপান্তরিত করে উপস্থাপনা করেছে! এখনো করছে। আর যারা শুনেছে ওই ইন্ধন নিয়েছে কান পড়াই কান দিয়ে, উল্টাপাল্টা হয়েছে উল্টাপাল্টা করেছে। তৃতীয় পক্ষের আমি একজন লেখক হিসেবে আমি তাদের বোকা বলবো না। তবে তারা কি, সেটা তারাই ভালো জানে। মহান আল্লাহর দয়ায় শিবলীর দুই ছেলেও তেমন হয়েছে কারো ক্ষতি করে না। পারতো পক্ষে উপকারই করে এবং কোন বিনিময়ও চায়না। সন্তানরাও নিঃশর্তে উপকার করে! আলহামদুলিল্লাহ। উতাল পাতাল গহীন জলরাশি ঝরনা সাগর অথবা ভরা নদীর ধারে নিয়ে শিবলীকে কেউ ধাক্কা দিলেও, কাটিয়ে নিয়ে বেচেই উঠেছে। খুবই স্বাভাবিক বিষয়, দুনিয়ায় দাবড়াতে গেলেও দৌড়াতে হয়। ধাক্কা দিলেও বিপরীত ধাক্কা খেতে হয়। ঝুল ঠেকাতে হয়। বিপরীত দৌড় ধাক্কা প্রতি ধাক্কা সামলানোর মতো ক্যাপাসিটি, এইটুকু রেশ বেশ ধারণক্ষমতা না থাকলে, তার জন্য ধাক্কা দেওয়া প্রযোজ্য নয়। ধাক্কা খাওয়া দুঃখজনক হলে সে দায় দায়িত্ব কার? বা কে নেবে? ধাক্কা মারা এবং দাবড়ানো উল্টো প্রতিক্রিয়ায় রুপ নেয়াটাও অস্বাভাবিক নয় যেহেতু। প্রাকৃতিক নিয়মে ছায়াও তো লাত্থি দিলে লাথি মারে! ধাক্কা দিলে ধাক্কা মারে! আর এমন হলে সে দায়ী কে হবে? কেউ নয় অদৃষ্ট। মানুষ তো কর্মফলে হেরে গেলেই অদৃষ্টের দোষ দেয়। শিবলীর বেলায়ও শিবলীর শত্রুর বোকা বন্ধু অথবা সরল সহজ সৎ কোন প্রতিনিধির সেটা হলে, সেটাও অদৃষ্টেরই দোষ। মহান আল্লাহও এই দোষ নেন না তাই ভাগ্যের দোষ হয়। শিবলীর কেউ সাগর কুলে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে মারতে গিয়ে নিজেই মরলে এটা কি আর শিবলীর দোষ? নাকি অন্যায়? তোর কান নিয়ে গেল চিলে, কানে হাত দিয়ে না দেখে, চিলের মারার জন্য চিলের পিছনে দৌড়ানোর মত পরের কথায় কেউ ভুল করলেও ওই ভুল বিপরীত ভুল হয়। সতর্ক না হয়ে গাছ কাটলেও গাছ গায়ে পড়ে। তারই মাথায় পড়ে।
এটা করে থাকলে সে ডাহা পাগল, বোকার হর্দ। নিজেকে বাঁচানোর অধিকার আল্লাহ প্রত্যেককে দিয়েছেন। একজন নিরপরাধী শত্রুতার মুখে বাচার স্বার্থে যা করতে হয়, যা করা লাগে, সেটা তার জন্য করা অন্যায় নয় বরং ফরজ এবং জায়েজ। তাই নদীর ধারে নিয়ে কেউ কারো ধাক্কা দিয়ে মেরে ফেলতে গেলে, ওই ধাক্কার জবাব, তাকেও ধাক্কা মারা! ঐ ঝুল না সামলাতে পেরে, সাঁতার না জানা শত্রু যদি ডুবে যায়, তলিয়ে অতলে হারিয়ে যায়, এই দায় কারো নয়! অমন উপস্থিতিতে বিপরীত ধাক্কা মেরে তাকে নদীতে ফেলে দিলে জনৈক বিপদগ্রস্থ বিপদ কাটিয়ে নিলে, এটাও বিপদগ্রস্তর জন্য ন্যায় কাজ! কোন গুনাহর কাজ নয়। ইজ্জত বাঁচানোর জন্য এবং জান বাঁচানোর জন্য দুষ্ট খুনীর খুন করাও ন্যায় এবং পূর্নি! ন্নিতিশীল এবং ফরজ কাজ। এমন সাফল্যতার আড়ালের কলঙ্ক কুলোটা জলাঞ্জলে হারিয়ে যাক। মাটি হয়ে মাটিতে মিশে যাক। পুড়ে ছাই ভস্মা হয়ে যাক। তবুও আল্লাহর সারা জাহানে নিরপরাধেই খালাস পাক। মুক্তি পাক। বাচুক।
১২.৯.২০২৬ ইং, দুপুর ২টা, শনিবার।

