মায়ের স্মৃতি
-মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ
(নাম: মিসেস জাহানারা সাত্তার, জন্ম- ১ জানুয়ারি ১৯৫২- মৃত্যু : ২ সেপ্টেম্বর, বুধবার, ২০২৬ )
মা, তুমি আজ নেই
তবু ঘরের প্রতিটি কোণে তোমার অস্তিত্ব,
নীরব দেয়ালে তোমার মায়াভরা মুখ,
তোমার কণ্ঠের সেই মধুর ডাক
প্রতিনিয়ত যেন ভেসে আসে বাতাসে।
শুধু হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারি না তোমায়
এইটুকুই আমার সবচেয়ে বড় কষ্ট।
মিসেস জাহানারা সাত্তার
শুধু একটি নাম নয়,
একটি মায়াময় পৃথিবীর নাম,
একটি ছায়াঘেরা বৃক্ষের নাম,
একটি সন্তানের নিরাপদ আশ্রয়ের নাম।
বাগেরহাটের মাটিতে জন্ম তোমার,
সৈয়দ শামসুল হকের আদরের কন্যা তুমি।
আলহাজ্ব আব্দুস সাত্তারের সহধর্মিণী হয়ে
পত্তাশীর মাটিতে গড়েছিলে ভালোবাসার সংসার।
সংসার ছিল তোমার কাছে শুধু ঘর নয়
ছিল ভালোবাসা, দায়িত্ব আর ইবাদতের এক পবিত্র স্থান।
কত সহজ ছিলে তুমি মা!
ছিল না কোনো অহংকার,
ছিল না কারও প্রতি বিদ্বেষ।
অন্যের কষ্টে তোমার চোখ ভিজত,
অন্যের প্রয়োজনে তুমি ছুটে যেতে।
নিজের কথা ভুলে
অন্যের মুখে হাসি ফোটানোই যেন
ছিল তোমার জীবনের এক নীরব সাধনা।
পবিত্র কুরআনের পাতায় পাতায়
তুমি খুঁজে নিতে শান্তি,
তেলাওয়াতের সুমধুর ধ্বনিতে
ভরে উঠত ঘরের বাতাস।
ইসলামী গ্রন্থ ছিল তোমার নিত্যসঙ্গী
দুনিয়ার ব্যস্ততার মাঝেও
আখিরাতের কথা ভুলে যাওনি কখনো।
শিশুদের দেখলে
তোমার মুখে ফুটত অন্যরকম এক আলো।
তাদের হাসিতে তুমি হাসতে,
তাদের আনন্দে খুঁজে নিতে নিজের আনন্দ।
আর নিজের সন্তানদের জন্য—
তুমি ছিলে এক নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম।
নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়ে
সন্তানদের স্বপ্ন পূরণ করেছো।
শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছো
তোমার প্রতিটি সন্তানকে।
তোমার মমতার ঋণ
কোনো শব্দে লেখা যায় না মা,
কোনো কাগজে তার হিসাব মেলে না।
আজ সেই মা নেই!
আজ ঘরে ফিরেও
মাকে খুঁজে পাই না।
মায়ের কণ্ঠ শুনি না,
মায়ের হাতের স্পর্শ পাই না।
কেউ আর আগের মতো করে
জিজ্ঞেস করে না—
“কেমন আছো বাবা?”
এই একটি প্রশ্নের মূল্য
মা-চলে যাওয়ার পরই বুঝলাম।
২ সেপ্টেম্বর—
দিনটি কি কোনোদিন ভুলতে পারব?
এই দিনেই তুমি
দুনিয়ার সফর শেষ করে
চলে গেলে মহান আল্লাহর জিম্মায়।
একটি দরজা বন্ধ হলো,
একটি পৃথিবী শূন্য হলো,
আর আমাদের জীবনে নেমে এলো
এক দীর্ঘ, নিঃশব্দ রাত।
মা, তুমি চলে গেলে
কিন্তু তোমার দোয়া কি চলে গেছে?
না মা,
তুমি রয়ে গেছো আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসে,
প্রতিটি প্রার্থনায়,
প্রতিটি অশ্রুবিন্দুতে।
রাত গভীর হলে
তোমার কথা মনে পড়ে,
চোখের কোণে জল আসে,
মনে হয়
যদি আর একবার তোমার কাছে বসতে পারতাম,
যদি আর একবার বলতে পারতাম—
“মা, তোমাকে খুব ভালোবাসি।”
কিন্তু সময় বড় নিষ্ঠুর মা,
সে কাউকে ফিরে আসতে দেয় না।
তাই আজ তোমার জন্য
আমাদের হাতে নেই কোনো উপহার,
আছে শুধু দোয়া।
হে মহান আল্লাহ,
আমাদের মায়ের জীবনের
যত ভুল-ত্রুটি, যত অপরাধ
তুমি তোমার অসীম রহমতে ক্ষমা করে দাও।
তাঁর কবরকে নূরে ভরে দাও,
কবরকে জান্নাতের বাগান করে দাও।
তাঁর একাকী কবরের সঙ্গী হও,
তাঁর প্রতি রহমতের দরজা খুলে দাও।
হে পরম করুণাময়,
যে মা আমাদের দুনিয়ার আলো দেখিয়েছেন,
তুমি তাঁকে আখিরাতের অনন্ত আলো দিও।
তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের
সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করো।
মা,
তুমি দুনিয়ার সফর শেষ করেছো,
কিন্তু আমাদের হৃদয়ে তোমার সফর
কখনো শেষ হবে না।
তুমি থাকবে
আমাদের দোয়ায়,
আমাদের অশ্রুতে,
আমাদের স্মৃতিতে,
আমাদের প্রতিটি ভালো কাজে।
যতদিন বেঁচে থাকব,
ততদিন তোমার জন্য দোয়া করব,
আর একদিন আমরাও যখন
এই দুনিয়ার সফর শেষ করব,
সেদিন যেন মহান আল্লাহর রহমতে
জান্নাতের কোনো এক সবুজ বাগানে
আবার তোমার দেখা পাই।
সেদিন আর কোনো কান্না থাকবে না মা,
থাকবে না বিচ্ছেদের কষ্ট;
শুধু বলব,
মা- আমরা তো এখানেই থাকার জন্য এরাদা করেছিলাম।
এই উদ্যান, এই ঝর্ণাধারা এই অনন্ত সুখ থেকে হে আল্লাহ আমাদেরকে কোথাও নিয় না।
আমরা এখানেই থাকবো।
হে আল্লাহ তুমি তুমি আমাদের উপর করুনা করো।
আমীন।
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উত্তরা, ঢাকা

