সাবিনা, তুমি…
ড. মনোরঞ্জন দাস
(১)
সংস্পর্শে তোমার সংবাহন আছে
একাকারে
অধিকারে।
তুমি তোমার অনন্য তর্পণে
অনবদ্যতা আনো
জানো
তুমি সমুদ্যত সংসর্গে নিজস্ব
নির্মানে হও একক,
প্রথামাফিক।
তুমি ক্ষেত্রময় সুদূর সমারোহ,
তুমি দৃপ্তময় পরিচ্ছন্ন আবহ,
নির্ধারণে তুমি উজ্বল আলোকবর্তিকা,
প্রতিফলনে,
প্রতিসরণে।
তুমি যুগব্রতে সম্পন্ন,
জাগরুক বেলা,
সক্রিয়,
তুমি বিস্তারে নির্ণায়ক সময়,
ধারাপাতে,
মন-প্রপাতে।
তুমি সম্ভারে সমাহিত সকাল,
তুমি সমকালের স্রোতে সমুজ্বল।
(২)
তোমার গমনে তুমি একনিষ্ঠ,জানি।
সৃজনে তুমি গতি এক, সে আমি মানি।
গ্রহনে ও গঠনে তুমি সত্য- দর্পণ।
তোমারই প্রত্যয়ে তোমার নিত্য অর্পণ।।
যাবতীয় যোগে তুমি আলো, আলোময়।
উচ্চারণে তুমি অনুশীলন, শুদ্ধময়।
যোগে যোগে তোমারই প্রিয় উপমা তুমি।
কবিতার অঙ্গে তোমার হৃদয়ভূমি।
যাপণে তোমার অবগাহন আছে, অধিক।
সেখানেই তুমি মৌলিক ও যৌগিক।।
(৩)
আত্মরেখায় তোমার সবুজায়ণ
ম্রিয়মান নয়
নয়।
তুমি প্রহরের পাদদেশে
সবিশেষে
পরিসর চাও হাঁটা পথে অনুক্ষণ
সর্বক্ষণ,
যেন তোমারই তীর্থে,
জীবন চলে বোধে বোধে,
বোধোদয়ে,
দীপময়ে।
বিগলিত বিপণনে তোমার মন,
প্রিয় মননে,
থাকে প্রবর্তনে।
তুমি দুর্বার যাজনে
আর প্রাবণে
অনুগামী হও ভাবে ভাবে
সম্মেলনে,
অনুপ্রেরণে,
যেন বহনে তোমার বিদ্যালয়,
অবকাশে নয়, নয় অলসতায়,
এই-ই তুমি,
তোমার সম্ভবনা।
(৪)
সমাধানে তুমি যে আলো জ্বালো,
আর বলো:
এই ভৌগোলিক,
এই সমধিক,
সত্য সম্পর্কে তুমি আয়োজক হবে,
প্রতিবেশী হবে,
সামান্যে নয়,
বরং প্রমান্যে,
হবে দীর্ঘতর।
তুমি প্রাতিষ্ঠানিক পর্বে চাও
অস্তিত্ব, শ্রেষ্ঠত্বে
এই -ই আনুভূমিক,
এই-ই সাংবিধানিক,
চলাচলে সরলতা আনবে,
বিগলিত হবে,
সমস্বরে,
প্রতিস্বরে,
একাকারে
সবিস্তারে।
(৫)
চেতনায় তোমার এই প্রাচুর্য,
এই সাহচর্য,
মানবতার অঙ্গনে যেন বিকাশবেলা,
সারাবেলা,
যেন তুমি
শ্রীময় বৃত্তে মর্মস্পর্শী আধার
উৎকৃষ্ট,
প্রকৃষ্ট!
তুমি নিহিত নির্মানে নিপূণতা
ও নান্দনিকতা
পরস্পরে
পরম্পরে;
এখানেই তোমার বৈশিষ্ট্য সৌকর্ষে থাকে,
যথার্থতায় থাকে।
তুমি চয়নে
আর প্রসারণে
প্রার্থনার পাশে পড়শী হও, একাকারে,
এখানেই তোমার মননশীলতা,
প্রয়াসশীলতা,
পূর্ণতায়,
পরিখায়।
(৬)
অবলম্বনে তোমার এই বিকাশ,
এই প্রকাশ,
স্বাতন্ত্র্যে অনন্যতা আনে,
অফুরন্ত,
জীবন্ত।
ধারাপাতে তোমার প্রিয় কর্মধারা,
প্রতিধ্বনির স্রোতে হয় প্রতিধারা।
সংকলনে তোমার কথকতা,
প্রিয় বার্তা
হয়ে সৌন্দর্যে থাকে নিত্য
অপরূপে,
স্বরূপে।
(৭)
এসো, একবার, অনাবিল, তৃপ্তির সঙ্গী হই,
এসো, একবার আরতির ছন্দে নৃত্য করি।
চলো, উদাসী বাতাসের সাথে সবুজ মাখি,
চলো, মগ্নতায় প্রেমের মাদুর পাতি, মনে।
বলো, বিলাসী হবো না আর কোনোদিন,
বলো, সরলতায় হেঁটে যাবো হাঁটা পথে।
নাও, এই নাও সব সার্থকতা, তোমার,
নাও, সাথে নাও সব প্রবাহ তোমার।
দাও, সফলতা দাও, দুহাতে আমাকে,
দাও, বিচিত্রতা তোমার, নিত্য দর্পণে।
(৮)
উৎসবে, এই তোমার পর্বময় প্রাঞ্জলতা,
সার্বিকতা
গাজনতলার মাঠে থাকে উদাসী,
থাকে শুভাগমনে একা প্রয়াসী,
যেন
সমারোহে,
প্রিয় দ্রোহে,
অন্তরতম হবে কারো স্পর্শে,
সংস্পর্শে।
মাধুর্যে তুমি মেঘ হবে কি
মেদুরতায়
সমুদয়।
এর মাঝে উল্লাসে কারা যে
মাদল বাজায় দ্রামিক দ্রমিক
একক সত্যে,
আবর্তে।
এহেন
ঋদ্ধিতে,
বৃদ্ধিতে,
তুমি উন্মুক্ত প্রতিক্রিয়ায়
হবে কি দৈনন্দিন
সাধ্য-গতি,
সমস্বরে,
ঋদ্ধস্বরে।
(৯)
অনুভূতির গভীরে তোমার প্রকাশ
সম্পর্কে,
সাবলীল হলে,
প্রাত্যহিকতায় যাও, যাও প্রিয় আচারে,
শুদ্ধাচারে,
পরিধির পাশে পাশে তোমার গমন,
সংযোগে,
সম্ভোগে
যায় যদি তবে তোমারও পরিগ্রহে
এই কল্যাণময়তা,
অগনিত অধ্যায়ে,
সর্বাধ্যায়ে,
প্রেম বিলোবে ক্রমাগত
মানবতীর্থে,
সর্বহিতে।
পরিস্থিতর প্রসারে তোমার সমাগম,
সমুদ্যত সত্যে,
বৈশিষ্ট্য এক, একান্তরে,
দৃশ্যান্তরে।
(১০)
স্নিগ্ধ সমাহারে এই দিন, দিনমান,
তোমার অপার প্রবর্তনে যায়,
যায় শক্তির বৃত্তে,
প্রিয় ঝংকারে,
সারাৎসারে।
তুমি শোধনের তীর্থে, সংগ্রহনামা,
তুমি রোমন্থনে জানি, প্রবাহনামা,
উপকরণে বর্ষাবাহন থাকে তোমার,
আচরণে মিষ্ট মন্থন থাকে তোমার।
জোগানে তুমি যাবতীয় হও, হও যোগীষ্ঠ,
যেখানে তোমার বন্টন বিহার দাতা হয়ে
রয় রাজকীয় রথে
পরার্থে।
এখানেই তোমার মহান ব্রত ,
প্রিয়োদ্যত
সম্পন্নতায়,
অনন্যতায়
হয় মানবিক, সর্বস্বতায়, উপাচারে,
যথাচারে
তোমার শ্রমে, প্রিয় গৌরবের চাষ হয়,
তোমার সেবায় প্রিয় আরাধনা থাক,
অধিষ্ঠানে তোমার দেবালয়, তোমারই মন,
অভিযানে, তোমার মানবতার চাষ এখন।
লেখক: কবি, প্রাবন্ধিক, অর্থনীতিবিদ

