বাকরুদ্ধ দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আজীমি জীবন সংগ্রামের এক একটি মুহূর্ত আমায়, ক্লান্ত করে এগিয়ে যায় অসীম প্রত্যাশার দ্বারে, দিনের শেষে অজস্র ব্যাকুলতায় হিসাব কষে যাওয়া, গণক যন্ত্রের যোগ ফল শুধুই শূন্য। আমার ইচ্ছেগুলো নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকে, অনুভূতিহীন এক অজানা বাকরুদ্ধ দ্বার প্রান্তে, সময়ের ক্লেদাক্ত সম্পাদ্যগুলো চোখের পাতায় এঁকে যায়, রংহীন তুলির আঁচড়ে জীবনের অব্যক্ত ছবি। এক জলহীন রক্তস্রোতে ভেসে যায় জীবনের বিদীর্ণ আশা, হতাশার কালো চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমায় বর্ণিল স্বপ্নরা, কত রঙধনুর সিঁড়ি বেয়ে আসা স্বপ্নের রজনী, নিভৃতে কেটেছে একাকী অশ্রু ভেজা পালঙ্কে। কখনো কখনো জানালার কার্ণিশ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ি, বিষণ্ণ নির্বিকার অভিমানের সুরেলা শব্দ হয়ে, কত উৎসব…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
ভালোবাসা “ভালোবাসা” শব্দটা হয় না কখনো পুরানো.. হয় না কখনো মলিন..হয় না ধূসর কিংবা বর্ণহীন যা শুধু রামধনুর রঙে রঙিন.. হোক না সেটা এপার কিংবা ওপারের..তারপরেও ভালোবাসা তো শুধুই ভালোবাসা-ই!! ভালোবাসি আমি চাঁদকে ভালোবাসিনি, আমি জোৎস্নাকে ভালোবাসিনি, আমি মেঘকে ভালোবাসিনি, আমি বৃষ্টিকে ভালোবাসিনি, আমি সমুদ্রকে ভালোবাসিনি, আমি পাহাড়কে ভালোবাসিনি, আমি ফুলকে ভালোবাসিনি, আমি পাখিকে ভালোবাসিনি, আমি শুধু রোদ্দুরকে ভালোবেসেছি; আমি শুধু পুড়ে যেতে ভালোবেসেছি, অবহেলা আর আগুনের লেলিহান শিখায়, আমি কেবল রোদ্দুরকে ভালোবেসেছি, হাত বাড়ালেই জ্বলে যাবো জেনেও ভালোবেসেছি, ঐ তেজে ছাই হবো জেনেও ভালোবেসেছি, আমি দূরত্বকে ভালোবেসেছি, আমি অস্পৃশ্যতাকে ভালোবেসেছি, আমি শুধু দহনকে ভালোবেসেছি, আমি শুধু যন্ত্রনাকে ভালোবেসেছি, আমি…
আমার শহরে তোমায় নিমন্ত্রণ এই অপরাহ্নে চল হারাই মৃত্তিকা মায়ায় জারুল ছায়ায় ঘাসের চাঁদরে ভয় নেই হাতটা শক্ত করে ধরো আমার শহরে শুনো সমুদ্রের কান্না ফেনিল জলোচ্ছাস নিরাপদ বলয়ে কম্পনে কায়ায় মৃদু আলোয় উঁকি দেয়া সূর্যের ঝলকানিতে ধুরুধুরু বুকে আমার শহরের আকাশ দেখো কতটা নীল নিরিবিলি নির্বাসন কোলাহল বিমুখতায় বিষন্ন বিধুরতায় খড়কুটো কুড়িয়ে রেখে যাই স্পর্শের ঋণ আমার শহরে তারার মিছিলে জোছনায় ধোয়া কাঁধে মাথাখানি ক্রমিক সুখে অলিগলি ঘুরে সুপ্রসন্ন হও হৃদি অনুভবে হারাই সুখের সুতনু ছন্দে আমার শহরে প্রতিটি সূর্যোদয় সূর্যাস্তে উদিত হও শুদ্ধ হও দুহাতে জাগাও বরষার নব জলধারায় তোমায় ছুঁয়ে কদম ফুটুক প্রথম হও সবুজ হও উর্বরা…
তোমার কাছে যেতে চাই: তোমার কাছে আসবো ভেবে স্বর্গসুখ প্রাপ্তি আমি, ডুবে যাই কল্পনার গহীন সমুদ্রে। দেখবো তোমার ঐ মায়া ভরা মুখ সেই আশায় গুনছি প্রহর, করছে বুক ধুক ধুক। তোমার কথা ভেবে ভেবে যেন কাটছে না প্রহর এই মধুক্ষণ ! তন্দ্রাচ্ছন্ন আমি, চেয়ে থাকি দূর আকাশ পানে হারিয়ে যাই চাঁদের দেশে। সেখানে বাঁধবো ছোট্র একটা ঘর তুমি আমি নীল প্রজাপতি হয়ে। উড়ে চলবো মনের সুখে, প্রাণ জুড়াবো তোমায় ভালোবেশে। নিরাশ করোনা প্রিয়, আজ আমারে ! ফিরিয়ে দিয়ো না তুমি শূন্য হাতে ঠাঁই দিয়ো তোমার কর্মব্যস্ত জীবনে, কোরিও স্মরণ স্মৃতির গাংচিলে। আমি যে প্রেম কাঙ্গালিনী তোমার নতুন গল্পের, গল্পটা হবে…
প্রচলিত শব্দ-জিজ্ঞাসা কোথায় কি ব্যবহার করতে হবে: কোন/কোনো/কোনও ‘কোন’ শব্দটি ইংরেজি which-এর মতোই অর্থ প্রকাশ করে। যেমন : Which way is the wind blowing ? (কোন পথে/দিকে বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে ?)। অনেকে ’কোন্’ লেখেন, যা বর্জন করাই শ্রেয়। এটি এখন, যখন, যেমন ইত্যাদির মতোই স্বয়ং-উচ্চারণনির্ভর শব্দ,; এ ক্ষেত্রে হস্-চিহ্ন প্রয়োগ করে উচ্চারণ দেখিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আর ’কোন’ লিখতে কখনও ভুলে ‘কোণ’ লেখা যাবে না; তা হলে corner বা angle অর্থ প্রকাশ পাবে। তা ছাড়া, ’কোন’ শব্দটি কোনো’/’কোনও’ অর্থে ব্যবহার করা সংগত নয়। ‘কোনো’ ও ’কোনও’ সমার্থক। প্রথম শব্দটি অতিব্যবহৃত, দ্বিতীয়টি সাম্প্রতিক। ’কোনো’/’কোনও’ ইংরেজি Any বা of which শব্দের মতোই…
শব্দ-বোধিনী (প্রচলিত শব্দ-জিজ্ঞাসা) হৃৎপিণ্ড/হৃদপিণ্ড: ‘হৃদপিণ্ড’ একটি অতিব্যবহৃত ভুল শব্দ। এ-ক্ষেত্রে ব্যাকরণসম্মতরূপে শুদ্ধ শব্দটি হলো : হৃৎপিণ্ড (হৃদ্+পিণ্ড )। ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মানুযায়ী পূর্বপদের শেষ বর্ণটি যদি ‘দ্’ হয় এবং পরপদের প্রথম বর্ণ ক-বর্গ বা প-বর্গের প্রথম দুটো বর্ণের একটি কিংবা ‘স’ হয়, তবে ‘দ্’ স্থানে‘ ’ৎ’ হবে। একই নিয়মে গঠিত আরও কিছু শব্দ : হৃৎকমল, হৃৎকম্প, হৃৎপীড়া, হৃৎস্পন্দন। সর্বজনীন / সার্বজনীন ‘সর্বজনীন’ অর্থ হলো ‘সর্বসাধারণের জন্য অনুষ্ঠিত’ বা ‘বারোয়ারি’; যেমন : সর্বজনীন অনুষ্ঠান। অপর দিকে, ‘সার্বজনীন’ অর্থ সকলের মধ্যে প্রবীণ’ বা ‘সর্বশ্রেষ্ঠ’; যেমন : সার্বজনীন ব্যক্তিত্ব। কিন্তু প্রায়শ ‘সর্বসাধারণের জন্য অনুষ্ঠিত’ অর্থে ’সার্বজনীন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়, যা ঠিক নয়। খ্-জাত…
শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন : ন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের ৬৯তম জন্মদিন আজ। ১৯৫০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বড় ক্যানভাসে গতিশীল ও পেশিবহুল মানুষের ছবি আঁকতে ভীষণ পছন্দ তার। তার চিত্রকর্মে বিচ্ছুরিত হয় রমণীর অলৌকিক ও অসীম শক্তি। বরেণ্য চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ শুধু শিল্পীই নন, একাত্তরে হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। প্লাটুন কমান্ডার হিসেবে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন স্বাধীনতাযুদ্ধে। তাঁর ক্যানভাসজুড়েও মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ। বিশ্বজুড়ে খ্যাতিমান এই চিত্রকরের জন্মদিন আজ। শিল্পী জীবনের প্রতিটি ক্ষণ তিনি উপভোগ করেন সৃষ্টিশীল কাজের মধ্য দিয়ে। তাঁর শৈল্পিক অভিব্যক্তি কেবল শিল্পের ভূবনকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেনি, পৌঁছে গিয়েছে গণমানুষের কাছে। সমসাময়িক মানুষ ও সময়ের…
মা-কে পড়ে মনে এবিএম সোহেল রশিদ। পড়ন্ত বিকেলে, পশ্চিমাকাশে আগুন জ্বলে মেঘপুঞ্জ রক্তাক্ত হয়ে যায় বিদায়ের কান্নায় নীড়ে ফেরা পাখি, অবহেলায় ডানা ঝাপটায় ঢেউয়ের ফণায় সূর্য ডুবে, তিতাসের জলে। . পাথর চোখে বৃষ্টি, আঁচল জড়ানো স্মৃতিচারণে মা-কে পড়ে মনে আমার, মা-কে পড়ে মনে। . দুঃসময়ে একতারা, সুরের দংশনে রক্ত ঝরায় আশ্রয়ের মুখখানি, মুঠো মুঠে মায়া উড়ায় মায়ের হাসির ঝিলিক, সোনা ঝরা রোদ্দুর বুকে তুলে ঝড়, এ যেন স্নেহভরা সমুদ্দুর। . হারিয়েছে মা, ঐ নভোমণ্ডলের তারায় তারায় বলে না আর কেউ ‘আয় খোকা, খাবি আয়!’ মা, রেখে গেছে হাজারো স্মৃতি, অমৃত মধুর আমি আসবো মা, বল তুমি কতদূর, কতদূর। . কষ্ট…
আমার অতিপ্রিয় এক ছড়াকবির নাম রফিকুল হক। পঞ্চাশের দশকে তার লেখালেখির সূচনা। দীর্ঘজীবন তিনি ছড়ার সঙ্গে যুক্ত। তার রক্তে ছড়ার সুর প্রবহমান। তিনি ছড়ার ছন্দে কথা বলেন। তিনি ছড়ার মতোই জীবনযাপন করেন। রাজসিক এবং বর্ণাঢ্য তার জীবন। লৌকিক ঐতিহ্যের সুরে রং মিশিয়ে তিনি আধুনিক ছড়া রূপায়িত করেন। মূল ধারার প্রকৃত ছড়াকবি তিনি। তিনি আজীবন সৎ ছড়া লিখেছেন। কখনো ভেজাল ছড়া লেখেননি। বিপুল বিস্তারিত তার ছড়ার পৃথিবী। অজস্র লিখেছেন। লিখেছেন বলা ঠিক হবে না। তিনি ছড়া বানিয়ে তোলেন। মায়ের হৃদয়ের আকুতি তার ছড়ার ছত্রে ছত্রে। ভালোবাসার গন্ধ পাওয়া যায় রফিকুল হক দাদুভাইয়ের ছড়ায়। আশ্চর্য রকমের মৌলিক তার ছড়া। কখনো মনে হয়…
একটি শরৎ ভোর বেগম ফিরোজা খান শরৎ ভোরের আগমন প্রাণে নব ঝঙ্কারে ছুটছে মানুষ অগণন। চারিদিকে পাখির কলরব; যেন মুখরিত সব। আকাশটা মেঘলা মেদুর মনটা বেদনায় বিধুর; একাল সেকাল উচ্চাভিলাসীরা, নাক উঁচিয়ে হাসে নিতান্ত; হাজারো দরিদ্র ও সহজ সরল মানুষের, সব সময়’ই করুণ জীবন বৃত্তান্ত। কে যেন গাইছে গান, রাখালিয়া মেঠো সুরে মিষ্টি ভারী; প্রভাত সূর্যের আগমনে মনটা যেন সুরেলা হোলো পরশে তা’রি। সব শিশুর’ই জীবনে আসুক সোনালি সবুজ চেতনার দিন । সকল পুরাতন জ্বরাজীর্ণ নাশি, ক্রমে যেন হয় বিলীন। রাতের অন্ধকারকে প্রভাত সূর্য দিয়েছে মুক্তি সব ঝিনুকেই থাকে না সুক্তি; বিলের মাঝে পদ্ম পাতায় ভরা ভিড় করেছে বিলের ধারে…
