অনন্ত সত্তার সূর্য মুহম্মদ নূরুল হুদা (মুনূহু) ‘প্রথম দিনের সূর্য প্রশ্ন করেছিল,’ দ্বিতীয় দিনের কাছে সেই প্রশ্ন ছিল, অন্তিম দিনের প্রশ্নে সন্ধ্যা নিরুত্তর: সত্তার অনন্তপাড়ি অনঙ্গের ঘর। নতুন সত্তার আছে নতুন স্বরূপ সত্তায় সত্তায় মালা, বন্ধন অরূপ, রাঙামাটি পার হয়ে অসীমের পথ, বলাকার ডানা হলো সমুদ্র-পর্বত। জীব থেকে জীবে জীবে সত্তা বিবর্তিত, কোনো প্রাণ কোনো জন্মে হয়নি তো স্থিত; প্রশ্নে প্রশ্নে আত্মমুক্তি, স্বতন্ত্র সন্ধান, অনন্ত সত্তার সূর্য, অনঙ্গের ঘ্রাণ। সত্তার বদল হলে সত্তা কাঁদে ঘরে, হেসে ওঠে সূর্যাবর্তে সৌর সত্তান্তরে। ২৫ বৈশাখ ১৪২৯, ৮ মে ২০২২
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
প্রেমে পড়েছি [ড. নজরুল ইসলাম খান ] নদীর পাড়ে জন্ম আমার নদীতেই সাঁতার, নদীতেই গোসল, নদীর পাড়েই বেড়ে ওঠা। কখনও অনুভব করিনি- নদী আমাকে ভালোবাসে অথবা আমি নদীর প্রেমে পড়েছি। যেদিন সন্ধ্যা নদীতে ট্রলার ডুবি হলো, সেদিন বুঝেছি নদী আমাকে সত্যি সত্যি ভালোবাসে। কারণ নদীর পানিতে আমি ডুবে যাইনি, ভেসে যাইনি, নদী আমার প্রাণ কেড়ে নেয়নি। সেদিন থেকেই আমি নদীর প্রেমে পড়েছি! আর গাইতে শিখেছি- ‘ও নদীরে একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে’—- আমার জন্মস্থান থেকে অনতিদূরেই সমুদ্র। সমুদ্র পাড়ের মানুষের জীবন যৌবন দেখে দেখেই বড় হওয়া। কখনও সমুদ্রকে অপর মনে হয়নি, শক্রও ভাবিনি। মাঝে মাঝে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেললেও…
দলছুট [দিলারা মেসবাহ] দলছুট, দলছুট ডুব দেই যুগান্তরের জলায়– ভ্রুভঙ্গি শিখিনি পাঁজরে ভাঁজের রুমাল স্বপ্নভুক মৃদু মন, হেলেঞ্চা বথুয়া থরথর নতুন সড়কে হাঁটি নিধুয়াপাথার! লিলুয়া বাতাসে ওড়ে নিমগন্ধ ধূপগন্ধী ঘুম শস্যভূমি তুলসিমালা গুচ্ছ ধান পোয়াতি প্রহর ভাঁটবনে সূঁইচোরা সরপুঁঠি জলজ বাসর পাতাবনে জলের চৌকাঠে লিখি নিবিড় হরফ হাইভোল্ট চাতুরি চমকায় মন্ত্রগুপ্তি সাজাও কারিগর। সাজাও অন্তত উষ্ণ কর্পোরেট কবিতা আমার পাঁজরে প্রিয় জোনাকির ঘর।।
শরতের শিউল ফুল [ফরিদা বেগম ] তাং ৩।৯।২০২০ শরত এলে মনে পড়ে শৈশবেরি কথা, ছোট্ট বেলার স্মৃতিকথা সুখ আনন্দের ব্যাথা। বাড়ির বগান ছেঁয়ে যেত শিউলি ফুলের ছরা, সে ফুল দিয়ে চলতো মোদের রঙিন মালা গাঁথা। শরত এলে মনে পড়ে তারুন্যেরি কথা, বাড়ির লনে লাগাই আমি একটি ফুলের চারা। কমলা বোঁটায় সাদা ফুলে মনটা কেড়ে নিত, পাড়ার সকল বৌ-ঝিরা, ফুল কুড়িয়ে ঠাকুর পূজা দিত।। শরত এলে এখনো আমি শিউলি ফুল বুঝি, পথের ধারে কুড়িয়ে পাওয়া শিউলি ফুল খুঁজি। কুড়িয়ে পাওয়া ফুলের গন্ধে মন যে উদাস হয়, ফেলে আসা দিনগুলো আর ফিরে পাবার নয়। শরতের শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ শুভ্র রুপ, ঋতু বৈচিত্রের…
আমাকে মানুষ বলো [ফারজানা ইয়াসমিন] আগারগাঁও, ঢাকা আমাকে নারী বলে ভেদাভেদ করো না, আমি মানুষ হয়ে বেঁচে থাকতে চাই আমাকে মানুষ বলো। আমাকে শুধু স্বামী নামে যুক্ত করে অস্তিত্ব হীন করে জীবিত রেখ না, আমাকে আমার নামে ডাকো। আমার নাম মুছে দিয়ে আমাকে সন্তানের মায়ের পরিচয়ে চাপা দিয়ে রেখ না, আমাকে আমার প্রিয় নামে ডাকো। আমাকে আমার শ্রম, ভালোবাসা থেকে মর্যাদা দিও, আমার চার দেয়ালে জগৎ টাকে গৃহিনীর নাম দিয়ে, আমার পরিচয় ক্ষুদ্রে আবদ্ধ করে রেখ না। আমাকে শুধু নারীত্ব দিয়ে বিচার করো না, আমাকে মানুষের মতো করে বাঁচার অধিকার দিও। আমাকে সমস্ত বেড়ি পরিয়ে দিয়ে বন্দী করে রেখ না,…
হাহাকার তুমি জানলে না এই হৃদয়ের কান্না। তুমি দেখলে না দু’চোখের এই বন্যা। তুমি খুঁজলে না ভালবাসার ঠিকানা। তুমি জানলে না- তুমি ছাড়া আমি অসমাপ্ত । তুমি রয়েই গেলে ঘুমন্ত। মায়া আমি উড়ন্ত একটা মাছি ঘুরে ঘুরে দুঃখ কুড়াই মায়ার খেলায় ভাসি। আমি দুঃখ বিলাসী পাখি। জানা গল্প এই যে আমি কাঁদছি দেখো দেখছেনাতো কেউ বুকের ভেতর গুমরে কাঁদে ছোট গল্পের ঢেউ।
মন বাঁধন [আরজু আরা] জলহস্তি জলে থাকে ডুবে শীতল পরশ পাওয়ার জন্যে। হাতি দল বেঁধে চলে দলের শক্তি বাড়াতে। আমার শীতল পরশ তোমার ভালোবাসার মাধ্যম। দল বেঁধে নয়ত প্রয়োজন থাকে যদি, তোমার উন্মুক্ত প্রস্থান। বয়ে নিয়ে যাবে সুদূর প্রান্তর, যেখানে নদী আর আকাশের মিলন। যা কিনা দেয় প্রমাণ, তোমার আহ্বানের শ্লোগান। চাঁদ, তারার আলোকিত আলোয় দেখিয়ে দেয় তোমার বদন অবলিলায় । তাতে থাকে, এক চিলতে হাসির ঝলক ভরিয়ে দেয় আমার হৃদয় অঙ্গন। ভালোবাসার কড়ি ডরে বাঁধব তোমারে। লোকলজ্জা নাহি ডরি পাশে যদি থাকো, জীবন ভরি! এতেই যে সর্ব সুখ, ভালোবাসা যে অটুট । তোমারে না পাওয়ার দু:খ হয়ে থাকুক আমার…
অন্যরকম [ড. নজরুল ইসলাম খান] দীর্ঘদিন কথা না বলার পর আবার যখন কথা বলা হয় সেই কথা বলার আবেগটা অন্যরকম। ঝগড়ার অনেকদিন পর আবার যখন দেখা হয় সেই দেখা হওয়ার সাধ অন্যরকম। লম্বা একটা বিরতির পর আবার যখন প্রেম শুরু হয় সেই প্রেমের উষ্ণতা অন্যরকম। ভালোবেসে কলঙ্কিত হওয়ার পর আবার যখন নিষ্কলুষ ভালোবাসা তৈরি হয় সে ভালোবাসার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। বছরের পর বছর সত্য লুকানোর পর যেদিন সত্যটা প্রকাশ করার মত মানুষের সাথে দেখা হয়- সে দিনের স্মৃতি অন্যরকম। শৈশব কৈশোর কিংবা যৌবন পেরিয়ে পৌঢ়ে এসে যখন প্রেমিকার সাথে হঠাৎ দেখা হয়ে যায় সেই মুহূর্তটা অন্যরকম। যাকে বইয়ের পাতায় পড়ে…
দেখতে কেমন ; কি জানি ! [মো. আসাদুল হক] চাঁদপুর সদর- ২৮. ০৪. ২০২২ খ্রী. আহা- কী সুবাস আসে ! ঢেউ তুলে বাতাসে পাখা মেলে কী সুন্দর ভাসে ! ক্ষণে ক্ষণে বসে ঘাসে । এই যে আলো ছায়া নিত্য ফুটে ফুল নয়া কতো যে স্নিগ্ধ কায়া ! ভোরশিশিরে দেখো গিয়া । ভোরের মধু বেহাগে কেউ ঘুমে কেউ জেগে যে গিয়েছে আগে পড়েছে সে ফুলের অনুরাগে । কপোত-কপোতীর বাক-বাকুম ফাগুনের ধুম, নেই ঘুম সবাই উড়ুমদুড়ুম প্রহেলিকার কুমকুম । ফাল্গুনী সমীরণী সুনয়নী যে, নেয় সে চিনি খুলে কুন্তল বেণী সাজে বসম্তের চারিণী । দেখতে কেমন ; কি জানি ! বলতে পারে টলটলে…
অদ্বিতীয়া [তসলিমা হাসান] (১) আজ পহেলা ফাগুন, ফাগুনের আগুন লেগেছে সবার মনে। বসন্ত আজ সমাগম। কৃষ্ণচূড়া লাল হয়ে আছে গাছের ডালে। শিউলী ও বকুল ফুলের গন্ধ বাতাসে ভাসছে। “রেখা” বাসন্তী রং এর শাড়ী পরে পহেলা ফাগুন অনুষ্ঠানে এসেছে। রেখা ইডেন কলেজে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ে বাংলা সাহিত্যে। অপরুপ সুন্দরী ও লাবণ্যময়ী এক মেয়ে সে। প্রথম দেখাতেই চোখ সরাতে পারবে এমন পুরুষ মানুষ খুব কমই আছে। রেখাকে অনেকদিন যাবত পছন্দ করে ও ভালোবাসে জাহিদ। রেখাও জাহিদকে ভালোবাসে। জাহিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সে ছাত্র। রেখা ও জাহিদ বরিশালের একই জেলার মানুষ হলেও গ্রাম আলাদা- আলাদা। তবে একসাথে স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে,…
