Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ

মিতা হক: ‘রূপে তোমায় ভোলাব না’ মিতা হকের চলে যাওয়ার এক বছর: ১. এ কথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রবীন্দ্রসংগীতে নিমজ্জিত সাধক মিতা হক ছিলেন আমাদের প্রজন্মের অগ্রগণ্য শিল্পী। সাধারণ সংগীত বোধসম্পন্ন মানুষের অনুভবেই ধরা পড়ে যে, তার কণ্ঠ যেমন ছিল সুরেলা তেমনি গানের ভাবকে তিনি ধারণ করতে পারতেন হৃদয় দিয়ে। রবীন্দ্রসংগীত তিনি যেমন অন্তর থেকে ভালোবাসতেন তেমনি এর জন্য যে তার গভীর দায়বোধ ছিল তা বোঝাও আয়াসসাধ্য ব্যাপার নয়! রবীন্দ্রসংগীত তার কাছে বাণিজ্যপণ্য হয়ে ওঠেনি, ছিল নিজের অনুভবের শিল্পিত প্রকাশ মাধ্যম! অন্য দিকে রবীন্দ্রসংগীতের শিল্পী হিসেবে তাঁর প্রধান পরিচয় থাকলেও পঞ্চকবির গানেও সমধিক পারঙ্গমতা ছিল! ২০২১ সালের…

আরো পড়ুন

ফাউল [জগলুল হায়দার] লিটার দিয়া রোড মাপা আর মিটার দিয়া পানি মাপলে পরে ঠিক হবে তা কন তো কতোখানি? বর্গফুটে গ্যাস মাপা আর ঘনফুটে রেখা মাপলে পরে যায় কি পাওয়া সঠিকতার দেখা? এইভাবে তো মাপতে গেলে বাঁধবে খালি কাউল ফুটবল দিয়া হ্যান্ডবল খেলা মাপলে পূরাই ফাউল! সসীমতার বিজ্ঞান দিয়া অসীমতার ধর্ম মাপলে বিজ্ঞান, ধর্ম কারোই থাকবে না মূল মর্ম। বিজ্ঞান ধর্ম আপন আপন জায়গাতে ভাই সত্য ধর্ম জাগায় বিশ্বাস যেমন বিজ্ঞান নানা তত্ত্ব। বিজ্ঞান যেথায় শেষ সেখানে ধর্ম করে যাত্রা এই কমনসেন্স না থাকলে তো হইবা ফাউল-ফাত্রা। Canada:

আরো পড়ুন

বিশুদ্ধ ভোরে। [সুরমা খন্দকার] তুমি টিপ পরেছো বলে অশ্রাব্য কথায় লাগাম দেয়া কঠিন। অশুদ্ধ আবেগ যখন শব্দের পাল্লায় নিরর্থক, বিলীন। লক্ষ কথায় কাঁচের চুড়ির মতন ঝনঝন শব্দে ভাঙলো তার ব্যক্তিত্ব। রক্তাভ চাহনির চেয়ে প্রখর কোনো কটাক্ষ নেই। হয়তো সেও বুঝে গেছে রুগ্ন মানসিকতায় শুষে নেয় মানবিকতা। আফসোস হয়! মৌল চাহিদায়, নিঃশেষ হয় প্রাণ। তীব্রতর ক্ষুধায় শ্যাওলা জমে বর্ণিল মনে। তুচ্ছ হয়ে যায় পৃথিবীর সব মায়া জীবন যুদ্ধে! কেবল অপেক্ষা করছি, কাঙালের মতো অপেক্ষা করছি- পৃথিবী হাসবে বিশুদ্ধ ভোরে, দয়া করে এটুকু ভুল না – তুমি মানুষ, আমি মানুষ পৃথিবীর ইথারে ওথারে।

আরো পড়ুন

জড়ো করা অন্ধকার [চাঁদ সুলতানা মার্জেনা] ভুলে থাকার শর্ত দিলে গাছতলার ঐ বেঞ্চিতে বসে, আকাশে আধখানা চাঁদ ছিল পৌষের শিশির ছিল দূর্বাঘাসে ! আমি মুখ লুকিয়ে কাঁদবো নাকি দৌড়ে পালাবো ভাবিনি, ভিতরে কি হয়েছিল সেদিন ঝড় জল মিলে বাদল হয় বুঝিনি! একখানা ঘর ভিতর থেকে বন্ধ নিয়তি মুড়ায়ে রাখে তার চাবি, ধূলি ঝড় চক্ষু অতিক্রম করে উড়ে টুকরো টুকরো সব দাবী! এলো মেলো খেয়ালে ঝরে অনুভব ধরে আরেকটি বিষয়, শর্ত দিলে চলে যাও আমার পৃথিবী তোমার সঞ্চয় ! ভূলূন্ঠিত হবো নাকি চিৎকার দিবো ভিতর ভেঙে হয় চুরমার , আমি কি আমি ছিলাম সেদিন আজ‌ও জড়ো করি সেই অন্ধকার!

আরো পড়ুন

নিশ্বসন বাসনা [নিলুফার ইয়াসমিন রুবি] গভীর রাতের নিশ্ছিদ্র অন্ধকার যেনো চেয়ে আছে; প্রভাতের রবির আশে, জীবনের অনন্ত স্বপ্ন ছুঁয়ে থাকে নিরন্ন ক্ষীণ আশার আকাশ চাঁদ ভালোবাসি,তবুও চাঁদ যেনো চিরসুখের নয়—- যা কিছু সুখের উচ্ছ্বসন বলয় সব; সব যেনো দিনের প্রভায়! ভালোবাসা, ভালোবাসা খেলা লুকোচুরি মরিচিকার মতোই— জীবন ঘর বাঁধে নিরেট কঠিন আকাঠা যুক্তিপরম্পরায়—- তবুও সুখ খুঁজে যায় ময়ুরাক্ষী স্বপ্নপাখায় অথবা কোন গাছেচড়া সটান করে দড়িবাঁধা দোদুল দোলনায়। প্রিয় বলে যারে বুকে নেই,সেতো চির প্রিয় নয়—- দূরে বসে প্রিয় হাতছানি জীবনের দোল কেটে দেয়—- বার বার টেনে নিয়ে যায় অশনি মধুর মোহের বকুল তলায়। আমার হয়না সেথায় দোল বাঁধা; প্রিয় সুভাসের…

আরো পড়ুন

রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই-এর জন্মদিন, নিরন্তর শ্রদ্ধা ৯ এপ্রিল ছিল দাদাভাইয়ের জন্মদিন। ১৯২৫ সালে নানার বাড়িতে জন্মেছিলেন তিনি। ফরিদপুরের পাংশার সেকালের প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সম্পাদক রওশন আলী চৌধুরী ও এয়াকুব আলী চৌধুরী ছিলেন দাদাভাইয়ের নানা। দাদাভাইয়ের আসল বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানার ভবানীপুর গ্রামে। তাঁর পিতার নাম মৌলভী মোখাইর উদ্দীন খান। শৈশবে মাকে হারিয়ে নানা বাড়িতেই তিনি বড় হন। পাংশা জর্জ স্কুলে পড়াশোনা করেন । হাটটিমা টিম টিম / তারা মাঠে পারে ডিম / তাদের খাড়া দু’টি শিং / তারা হাটটিমা টিম টিম। কিংবা- বাক বাকুম পায়রা / মাথায় দিয়ে টায়রা / বউ সাজবে কাল কি / চড়বে সোনার পালকি। এই দু’টো…

আরো পড়ুন

শেষের চাওয়া [ফারুক নওয়াজ] একজীবনে কী আর তেমন লাগে.. যেটুক পাওয়ার পেলাম চাওয়ার আগে। চাওয়ার আগেই আকাশ ভরা তারা.. চাওয়ার আগেই চাঁদের উজলধারা.. চাওয়ার আগেই বৃষ্টি টাপুরটুপুর.. চাওয়ার আগেই ইমলিছায়ার দুপুর.. মায়ার আবেশ ঝাবুকবনের হাওয়া.. চাওয়ার আগেই সাঁঝের জোনাক পাওয়া।.. চাওয়ার আগেই ঝিঁঝির ঝিনিকঝিনি.. শিরীষবনের মনকাড়া শিঞ্জিনী.. চাওয়ার আগেই ঢেউ জাগানো নদী.. কাশের ঝোপে বাতাস নিরবধি।.. চাওয়ার আগেই তিনিশ ফুলের হাসি.. চাওয়ার আগেই ভোরের শিশিররাশি.. চাওয়ার আগেই পলাশবনে কুহু.. সবুজ ঘুঘু ডাকল মুহুর্মুহু।.. সব পেয়েছি চাওয়ার আগেই যখন চাওয়ার কথা ভুলেই গেছি তখন।.. এখন শুধু শেষের পাওয়া বাকি.. এই পাওয়াটা চাইতে হবে নাকি!.. শেষের চাওয়া মাঠের শেষে নদী– নদীর ওপার…

আরো পড়ুন

তিন। জলি ভাবী ও জাহিদের চোখ ভিজে এলো। ভরা বর্ষায় বুড়িগঙ্গাও পোয়াতি নববধু। প্রায় চারশ বছর আগে বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠা ঢাকা শহরের এক কন্যার বধু বেশ দেখে বুড়িগঙ্গাও যেন অশ্রুসিক্ত হলো। হঠাৎ আসা একটি ঢেউ জলিল মাঝির নৌকায় আছাড় খেয়ে জল লাফিয়ে ওঠল এবং একটু শীতল জল ঢুকে গেল ছৈয়ার ভেতর। ভিজে গেল নববধুর লাল টুকটুকে বেনারসি শাড়ির আঁচল, জলি ভাবীর বাঁ-হাতের মধ্যমা আঙুল। জলের কঞ্জুস একটি ফোঁটা এসে শ্রাবন্তির চোখের ভেতর লুকালো। ঠান্ডা জলের ছিটেফোটায় একাকার হয়ে গেল শ্রাবন্তির কষ্টের গরম লোনাজল। সে সময় ছৈয়ার ভেতর ঢুকল অপু চৌধুরী। শ্রাবন্তির বর। জলি ভাবীর ভাষায় কোনহানকার কোন বাঙাল পোলা।…

আরো পড়ুন

ঘুণেপোকা [শাহানা চৌধুরী] ঘুণেপোকা ছেয়ে গেছে যত্র তত্র কি দেশ আর কি বিদেশ সবখানে নির্দয়তার সাথে বাসা বেধেছে ঘুনে ধরা সমাজ, অপসংস্কৃতি মৌলিকতার অভাবে বিবেগমান মানুষ আজ দিশেহারা, জোয়ান ছেলে মেয়েরা ডুবে থাকে সারা দিন রাত ইনটারনেট ও ফেইজবুকে। নাওয়া খাওয়া লেখা পড়া সব ছেড়ে পড়ে থাকে এই দুনিয়া ছেরে, ইনটারনেটের দুনিয়ায়, অস্থির জীবনে ভালোবাসে হিরোইন আর ইয়াবাকে কেউ সাজে ডাক্তার, কেউ সাজে উকিল কেউ বা পুলিশের আইজি সেজে হাতিয়ে নেয় সাধারণ মানুষের রুটি রুজির রোজগার। নকলে ছেয়ে গেছে সমগ্র দুনিয়া সারা দিন ভাবে শুধু সার্থ পরের মতো, নিজে কেমন করে ভালো থাকা যায় অসহায় মানুষ দিয়ে কার্য করে সমাধান,…

আরো পড়ুন

অচেনা গন্তব্য (সুরাইয়া সুলতানা) ০৬-০৪-২২. চেনা রাস্তায় ফিরে আসি রোজ ঘরে সারা দিনমান ঘুরি কতো অচেনা পথ, জীবনের অলিগলিতে খাই হোঁচট পায়ে ঠেকে নেই নতুন চলার শপথ। দৃশ্যমান পথগুলো সহজেই চেনা যায় অন্তরের অলিগলি পথ চেনার নেই যে উপায়, কোন পথে হাটি কোন পথ ভুল কোন পথে কাটাঁ না, আছে কিছু ফুল!

আরো পড়ুন