জীবন বোধ
তানিয়া রহমান প্রেমা
জীবন থেকে পেয়েছি অনেক শিক্ষা
হয়েছে সেথায় প্রচুর অভিজ্ঞতা
শিখিয়েছে কষ্টের আসরে ধরা ধৈর্য্য
মিলেছে কতোইনা অহেতুক আবর্জনা।
জীবন এক নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলা ঘড়ি
যে আর কখনোই পিছনে ফিরে দেখেনা
ফুরিয়ে যাওয়া অমূল্য সময়ের জন্য
কাতরাতে হয় টানতে হয় ঘানি চিরকাল।
কারো মিথ্যে অভিনয়ে ফেসে যাওয়া
কেউ করেছে বিশ্বাস ঘাতকতা
কেউ দিয়েছে লেপ্টে ছলনার কালী
কারো সংস্পর্শে এসে হয়েছে জীবন ধ্বংস।
এভাবে প্রতিটি স্তরে স্তরে পৌঁছে
খেয়েছে কেউ অসম্ভবাবনীয় ধোঁকা
গড়িয়ে পরেছে কেউ অবৈধ পথে
জড়িয়ে গিয়েছে কেউ অপরাধে।
সুখী মানুষের ভীর নেই বললেই চলে
দুঃখী জীবনের টানাপোড়েনে কাঁদছে বেশি,
হাহাকারের বিভীষিকাময় দ্রোহের চাপাকলের নিচে সবাই মরছে পিষে।
বর্তমান অবস্থা
তানিয়া রহমান প্রেমা
বিশ্বাসের আজকাল পরেছে আকাল
এই বিশ্বাসেই কেউ কেউ খেয়েছে ধরা,
কাকে করবে বিশ্বাস কাকে করবে অবিশ্বাস
ঠকে গিয়ে কেউ করছে হায় হুতাশ।
ভরসা যোগ্য মানুষটি আজ সমাজে বিরল
আগে বসে ছলে কৌশলে পেছনে মারছে ছুড়ি।
কেউ ভরসার হাতটিই ছেড়ে দিচ্ছে অনিশ্চয়তায়।
কারো ভরসাহীনতায় জর্জরিত জীবন।
আস্থাশীল গতিপথেও পরে বিরাট বাঁধা
কেউ কারো উপর আস্থা রেখে হারাচ্ছে সর্বস্ব,
আস্থারও আজকাল নেই কোন রাস্তা
ধোকায় পরে মানুষের বেহাল অবস্থা।
আশায় বেঁধে বাসাও অকালে যাচ্ছে ভেঙে
কারো কাছে কিছু আশা করাটাও এখন ভুল,
কে, কখন, কিভাবে, কাকে করবে নিরাশার জ্বালে বন্ধি সেথায় সব মগ্ন।
অগুছালো জীবন
তানিয়া রহমান প্রেমা
অগুছালো জীবন নিয়ে হেঁটে হেঁটে
ক্লান্ত দেহের রক্তক্ষয়ী আত্নচিৎকারে,
জাগ্রত বুকের ধুকপুকানির কাপুঁনি
পাইনা খুঁজে কোন আশ্রয় যোগ্য ছায়া।
ভাঙাচুরা মন নিয়ে পরে আছি পথে
জমা কষ্টের ধুলায় মেখে গিয়েছি ঢেকে,
বিষাদের ছাপ স্পষ্ট মুখে লেপ্টে
আছি দাঁড়িয়ে ঘোর অন্ধকারে।
অন্তর দহনে জ্বলছি প্রতিনিয়ত
পুঁড়ে যাওয়া ছাইয়ের চাপে পরে,
বিষাক্ত বিভীষিকার কালো ধোঁয়ায়
আচ্ছন্ন আশাহীন জ্বালে বাঁধা জীবন।
টুটা ফাটা হৃদয় ঘরে নিরব আর্তনাদ
বিষন্নতার দীর্ঘশ্বাসে ধোঁয়াশায় ঘেরা,
অতৃপ্ত আত্মার অস্তিত্ব চির অক্ষুণ্ন
বিদীর্ন করে দেওয়া জীবনের রেশ।
তোমার সান্নিধ্য
তানিয়া রহমান প্রেমা
তোমার কোমল স্পর্শে ভরে গেল মন
ভেঙে গেল ধীরে ধীরে সব অভিমান,
ঘুচিয়ে গেল যত জমে থাকা দুঃখ
উড়ে গেল নিমিষেই যত সব কষ্ট।
তোমার মিষ্টি ছোঁয়ায় ভুলে গেলাম সব
কমে গেল শত যাতনার জ্বালা,
দূরে সরে গেল সব নিদারুণ যন্ত্রণা
মিটিয়ে দিলো শত বুক ভরা আশা।
তোমার সান্নিধ্য করে দিলো বেপরোয়া
ঝরিয়ে দিলো যত দুর্ভোগের ক্লান্তি,
ছড়িয়ে দিলো চোখে রঙিন স্বপ্ন
ভাসিয়ে দিলো নতুন প্রেমের জোয়ারে।
তোমার ইশারায় জেগে গেল অন্তরচক্ষু
বেড়ে গেল স্ব জোরে হৃদয়ে স্পন্দন,
পরিনত হলো সব স্বপ্ন বাস্তবে
পাওয়া হয়ে গেল জীবনের সর্বস্ব।
শিক্ষক গুরু
তানিয়া রহমান প্রেমা
শিক্ষক আমার জ্ঞানের পিতা
মা-বাবা দিয়েছে জন্মের ধ্বনি
তাঁদের আশীর্বাদে জ্ঞানের আলোয়
জীবন আমার হয়েছে ধন্যগুণী।
আমি কবি, আমি চিকিৎসক, আমি রাজা-মহারাজ
সবই শিক্ষা গুরুর অমূল্য দান
তিনি গড়ে তুলেছেন মানুষ আমাকে
তাঁরই কৃপায় পেয়েছি সম্মান।
মানুষের ঘরে জন্ম নিলেই
মানুষ হওয়া হয় না কভু
আলোর পথে দিশা দেখাতে
প্রেরণ করেছেন তাঁকে প্রভু।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড
শিক্ষক তার নাবিক-মাঝি
অমানুষকে মানুষ করে
তিনিই সৃষ্টির প্রধান কাজি।
শিক্ষা গুরু সকলেই সমান
বিশ্বজুড়ে যতই রয়
তাঁদের ছোঁয়ায় জ্ঞানী হয়েছে
দেশবরেণ্য যত মহিমাময়।
জ্ঞান-জগতের অফুরান ভাণ্ডার
তাঁরাই জ্ঞানের দীপস্তম্ভ
অন্ধকার চিরে আলোর পথে
তাঁরাই গড়েন জীবনের গম্ভীর সম্ভ্রম।
শিক্ষকতা এক মহান পেশা
সব দেশ ও মহাদেশে
তাঁদের জন্য ধন্য এ জাতি
বাঁচে তারা বীরের বেশে।
শিক্ষক সকল জাতির বিবেক
সবার উপরে তাঁদের স্থান
তাই তো আমরা শ্রদ্ধাভরে
জানাই তাঁদের অগাধ সম্মান।
জীবন একটা নাটক
তানিয়া রহমান প্রেমা
জীবন সেতো একটা রম্যরচনায় রঙ্গমঞ্চ
যেখানে সবাই নির্দিধায় অনায়সে
একেকজন
যে যার জীবনের তাড়নায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে
করে যাচ্ছে অসম্ভব নিখুঁত অভিনয়।
স্নেহ, মায়া,ভালোবাসা আজকাল নেই বললেই চলে
লোক দেখানোর আয়োজনে ব্যাস্ত সকল মানুষ
আজ স্বার্থ ছাড়া কেউ এক পাও হাটে না
সব কিছুতেই স্বার্থ খোঁজা একদল সুবিধাবাদী লোক।
কেউ জীবন যুদ্ধে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে দিব্যি করে যাচ্ছে সংগ্রাম,
আবার কেউ আছে মগ্ন নাটকীয়তায় অভিনয় করতে করতে তবুও হয়না ক্লান্ত।
হাসি,আনন্দ, সুখ গুলো যেন আজ সবই কৃত্রিমতাময়,
যে যত বেশি অভিনয়ে সেরা
সে ততোধিক সুখি কথাটার নেই কোন আসল ভিত্তি।
নাটকীয়তায় হারিয়ে ফেলছে সব ব্যাক্তিত্ব,
বিলিন হচ্ছে মানুষের সত্যিকারের অস্তিত্ব।
স্বাধীনতা চাই
তানিয়া রহমান প্রেমা
অধিকারের প্রশ্ন যখন সার্বজনীন
তখন রক্তে আগুন জ্বলে স্বাধীনতার
বিশ্ব মানবতা যখন ভূলুণ্ঠিত
তখন জেগে ওঠে চেতনা
স্বাধীনতা আমার জন্মগত অধিকার।
জাতি, জাতিতে ভেদাভেদ,
সাদা আর কালো,বংশ আর বঞ্চনা
মানি না, আমি মানি না
শিরায় শিরায় ধমনীতে ওঠে মহাপ্রলয়
তখন, স্বাধীনতা আমার তপ্ত মরুর বুকফাটা তৃষ্ণা।
জাতীয়তাবাদ আমার অনুভূতি
শৃঙ্খল ভাঙা আমার প্রাণের আকুতি
স্বাধীনতা আমার মাথার মুকুট
আমি কেন পরাধীন, হৃদয়ে আমার বিদ্রোহ
শেকল ভাঙার গান এই অপবাদ আমি মানি না।
মুক্তির মহামন্ত্রে উজ্জীবিতধ্যানে, জ্ঞানে,চেতনায়
স্বাধীনতা, চাই আমি স্বাধীনতা।
স্বাধীনতা আমার নিঃশ্বাসে বোনা প্রতিটি স্বপ্ন
অন্ধকার ভেদ করা দীপ্ত আলোর অনন্ত রূপ
শোষণের দেয়াল ভেঙে উঠুক নতুন প্রভাত
মানবতার ডাকে জাগুক সমতার জয়গাথা।
আমি মাথা নত করবো না কোনো শৃঙ্খলের কাছে,
আমার কণ্ঠে জেগে থাকুক মুক্তির অগ্নিবাণী
স্বাধীনতা, তুমি আমার চিরন্তন প্রেরণা।
যুদ্ধ মানে!
তানিয়া রহমান প্রেমা
যুদ্ধ মানে বিশ্ব নেতাদের রক্তের হলি খেলা,
যুদ্ধ মানে দেশ ও জনপদ ধ্বংসের মিলন মেলা।
যুদ্ধ মানে কোটি মানুষের অনাহারে কাটানো দিন,
যুদ্ধ মানে মৃত্যুপুরি নগড় জনপদ বিলিন।
যুদ্ধ মানে আকাশ বাতাসে শুধুই বারুদের গন্ধ,
যুদ্ধ মানে দেশ ও জাতির সব যোগাযোগ বন্ধ।
যুদ্ধ মানে স্বামী হারা সন্তান হারা মায়ের করুন আর্তনাদ,
যুদ্ধ মানে জলস্থল আর আকাশ সিমায় কঠিন বজ্রঘাত।
যুদ্ধ মানে মরনাস্রের খেলা অভিশাপ,
যুদ্ধ মানে পূন্যময় জীবনের
অনন্ত কালের মহাপাপ।
যুদ্ধ মানে কোন স্বাধীন মানচিত্রে কালো শকুনের থাবা,
যুদ্ধ মানে পরাধীনতার গ্লানি জাতির বিবেক বোবা।
যুদ্ধ মানে ধ্বংসের উপর কারো বিজয়ের উল্লাস,
যুদ্ধ মানে বিজয়ের নেশায় দেশ ও জাতির সর্বনাশ।
যুদ্ধ মানে কামান,মিসাইল,ট্যাংক, গুলির কান ফাটানো চিৎকার,
যুদ্ধ মানে পারমাণবিক বোমার ভিবিষীকাময় ধ্বংসের হুংকার।
যুদ্ধ মানে রক্তগংগা দীর্ঘ লাশের সারি,
যুদ্ধ মানে ধ্বংসলীলা রাস্তাঘাট ঘরবাড়ি।
তুমি তো চাঁদ!
তানিয়া রহমান প্রেমা
তুমি তো সেই দুরের চাঁদ! দুরেই থাকো কাছে এসোনা!
এই স্পর্শকাতর মৌন গহ্বরে থাকনা অনুভূতিটা লুকায়ে।
তুমি তো চাঁদের মত দুরে বসেই অপরূপ সৌন্দর্যে অস্পষ্টা নিয়ে!
রূপের মোহে এক নিমিষেই করেছো আমায় পাগলপারা।
তুমি যে দুর থেকেই আরো অত্যাধিক বেশি আকর্ষণীয়!
যেন নীল শাড়ি পরা আকাশের কপালে এক বিন্দু টিপ তুমি!
শত ইচ্ছের ভিরে গুরিয়ে যাওয়া আর্তনাদে তোমাকে পাওয়ার
আকুল প্রার্থনায় মগ্ন সারাক্ষণ এই অবুঝ বোকা নির্বোধ মন।
তবুও মানে না হৃদয় তোমাকে পাওয়ার আকাঙ্খাটাই নিছক!
তোমাকে চাওয়াটাই যে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।
তোমার সান্নিধ্য, স্পর্শ যে বড়োই দুরূহ ব্যাপার!
থাক না! দুর থেকেই ভালোবেসে যাবো চিরদিন,চিরকাল।
ব্যার্থতায় আর অপূর্ণতায়ই আমি সন্তুষ্ট!
হোক না হয় আমার ভালোবাসা অমর!
ক্ষণিকের ভালোবাসা
তানিয়া রহমান প্রেমা
হৃদয় জমিতে ক্ষণিকের ভালোবাসার বিজ বপন করে দিয়ে,
জেগে উঠা রোপন করা চারার যত্ন নিলে না!
অযত্নে বেড়ে ওঠা চারায় জন্ম নিলো রঙিন স্বপ্ন জড়ানো সবুজ পত্র-পল্লব,
উজ্জীবিত হওয়া পত্র – পল্লবের খবরও নিলে না।
সেই চারায় গজানো আশা-ভরসার শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে গেল চতুর্থ দিক,
ছড়ানো ছিটানো শাখা- প্রশাখার জানারও প্রয়োজন মনে করলে না।
ভালোবাসায় লালিত ধীরে ধীরে বড় হওয়া গাছে এসেছে নতুন কুঁড়ি,
বিন্দু বিন্দু প্রেম জড়ানো কুঁড়ি
একটু দেখারও চেষ্টা করলে না।
ভালোলাগার অনুভূতিতে গড়ে ওঠা প্রস্ফুটিত একগুচ্ছ শুভ্র সাদা ফুল,
সুবাসের টানে একটু আসারও প্রয়োজন বোধ করলে না।
ক্ষণিকের প্রেমে পরা উন্মাদ মন আনন্দে উচ্ছ্বসিত আকুতি ভরা কন্ঠে ডেকে যায় নীরবে,
একটু শুনারও চেষ্টা করলে না।
এক নজরে:
নাম: তানিয়া রহমান প্রেমা
বাবা: (মরহুম) হাজী মোঃ আব্দুর রহমান
মা: খুরশিদা রহমান
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএ/বি এস এস পাস (গ্রাজুয়েট)
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয়।
কলেজ/ইন্টারমিডিয়েট: কেরানীগঞ্জ গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ।
স্কুল /বিদ্যালয়: জিনজিরা পীর মোহাম্মদ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।
ঠিকানা: কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
লেখালেখি: কৈশোর জীবন থেকে। একক বই রয়েছে ২টি ও যৌথ কাব্যগ্রন্থ রয়েছে ১৬টি। বেশ কয়েকটি সনদ ও ১৭টি পুরুস্কারপ্রাপ্ত।
বর্তমান অবস্থা: ভারতীয় কোলকাতার একটি “ই” পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন এবং বেশ কয়েকটি অনলাইন কবিতার গ্রুপের মডারেশনের কাজে সক্রিভাবে কর্মরত।

