৪৪ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক সেমিনার
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আজ ৩রা আগস্ট ২০২৬/১৯শে শ্রাবণ ১৪৩৩ সোমবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির পরিচালক ও সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সমীর কুমার সরকার। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান দর্শন শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষক ও চিন্তক সৈয়দ নিজার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক সাঈদ ফেরদৌস, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক কামার আহমাদ সাইমন, কবি ও সম্পাদক রেজাউল করিম রনি এবং শিক্ষক ও গবেষক শর্মি হোসেন। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
সমীর কুমার সরকার বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি জুলাই-আগস্ট মাসজুড়ে নানা আয়োজন করেছে। জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় ছাত্রদের আহ্বানে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং সফল হয়েছে, তা এদেশের ইতিহাসে চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সৈয়দ নিজার বলেন, শুধু হতাহত ও নিহতের বিবেচনাতেই নয়, রাষ্ট্রকাঠামোয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রভাব অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। ৫ই আগস্ট ২০২৪ বাংলাদেশে আক্ষরিক অর্থেই প্রথাগত রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ৫ই আগস্টের পর কার্যত পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছিল। এটি ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রের সব কাঠামোর এক চরম শূন্যতা। তখন আমরা দেখেছিলাম, কীভাবে সমাজ নিজেই নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিল। অভ্যুত্থানে সংগঠিত শিক্ষার্থী-সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ছাত্রশক্তি। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর ছাত্রশক্তিকে বিস্তারিত কোনো রাষ্ট্রকল্প নিয়ে হাজির হতে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থানে একমাত্র সমঝোতার ভিত্তি হতে পারত প্রাণের অধিকার, কিন্তু সেই অধিকারই এখনো অর্জিত হয়নি। তাই অভ্যুত্থানকে যদি বিপ্লবের দিকে নিয়ে যেতে হয়, তবে আমাদের উচিত প্রাণের অধিকারকে ভিত্তি করেই অগ্রসর হওয়া।
আলোচকবৃন্দ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেবল রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তনের বিষয় নয় বরং রাষ্ট্রচরিত্রের সর্বাত্মক পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছে। ছাত্রদের আহ্বানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এ গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত করেছে কারণ সকলের মুক্তির আকাক্সক্ষা এক স্রোতবিন্দুতে এসে মিলিত হয়েছিল। তারা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা সেই কাক্সিক্ষত মুক্তি অর্জন করতে সক্ষম হইনি; তবে এই দায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয় বরং বলা চলে আমাদের সকলের। জুলাই-শহিদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করতে আমাদের সবাইকে গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষায় গণ-মানুষের সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াইকে জারি রাখতে হবে।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, নানা আয়োজনে বাংলা একাডেমি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণ করছে কারণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, জনমানুষের মুক্তির স্বপ্ন বাস্তবায়ন কষ্টসাধ্য হলেও অসম্ভব নয়। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মানসে আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দিকে উপনীত হয়েছি। অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রত্যাশা-সব মানুষের আকাঙ্ক্ষিত বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মাহবুবা রহমান।

