উৎসর্জন হাসান ওয়াহিদ ৫ অক্টোবর ২০২১ এক ফালি মেঘ অঙ্গের বসন করে আকাশ যখন দাঁড়িয়ে তখন সকালের দোয়েল ছোট ছোট ছুরি হয়ে কেটে দেয় অন্ধকার। আমার চিন্তনে কোনো পরাভব না-রেখে নিজের শরীরকে দু’হাতে আলিঙ্গন করে আয়নার সামনে দাঁড়াই অভিবাদনের ভঙ্গিমায়। আবারও দেখিে — মধ্যবিত্ত অন্ধকার ছাপিয়ে পৃথিবীর আলোর বিভোর সম্প্রীতি। ভাবি,পৃথিবীতে বহুবারই রোদ তীব্র হলো সে রোদ কি শুষে নেয় যাবতীয় স্মৃতি-কোপানো অশ্রুজল, নমনীয় নদী আর নতুন বৃষ্টি? দিনশেষে টুকরো রাত মুখে নিয়ে পাই চন্দ্র বিনা রজনীর তপ্ত স্মৃতির স্বাদ — আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় প্রতিটি তারার ওপরে দাঁড়িয়ে একটি করে বাকহীন দেবদূত। স্মৃতিচিহ্নে ছায়া-ছায়া দাগ মেখে শুষে নেয়া…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
একবার ডাক দিয়ে দেখো বেদুইন পথিক একবার ডাক দিয়ে দেখো কেমন এক পৃথিবী আকুলতা নিয়ে উবু হয়ে বসি তোমার সামনে তোমায় সাষ্টাঙ্গে প্রণামার্থে। মুক্ত বিহঙ্গের জীবন ত্যাজিয়া দেখো কেমন উচ্ছল আকুলতায় সানন্দে বন্দিত্ব বরি। তোমার সে ডাকের অপেক্ষায় নিশাচরের মতো জেগে কাটাই রাত, তোমার ডাকের ক্ষীণ আশায় নিবিষ্ট সাধনায় মজি হরেক স্বপ্নে সাজাই হৃদয়ের তপোবন। একবার ডেকেই দেখো না কতটা কাছে আসি তোমার কতোটা কাছাকাছি হই তোমার! যতোটা কাছে এসে আদম পড়তে পেরেছিলো হাওয়ার অস্থির দুচোখে পৃথিবীর প্রথম সমর ইশতেহার। যতোটা সান্নিধ্যের জন্যে মজনু হয় শহিদ প্রেমিক আমি তার চেয়েও কাছে চলে যাবো তোমার। একে একে হয়ে যাবো আরেকটি এক।
ফরিয়াদ মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম রচনাঃ ২৯.০৯.২০২১ খ্রীঃ অবলা কমলার সামন্ত মেয়ে অবন্তী জীবনের হাটে কষ্ট করে বিকিকিনি দিনরাত, শিউলী ঝরা সাজের বেলা নিত্য দেখেছে সে দেখেনি কভু সূর্য রাঙা প্রভাত, দু’মুঠো সুখের আশায় কত বার স্বপ্নের হার কত সয়েছে প্রতিঘাত। নির্লজ্জের মত দক্ষিণা বেহায়া বাতাস কেড়ে নিয়েছে মাথার উপরের সদয় হাত, পাড়ার উঠতি বেজন্মাদের কাছে খুয়েছে অকালে সে জাত! যৈবতি কন্যা আশায় বেধেছে বুক, মুখ ও মুখোশের নরপশুদের কতল করবে কেহ, সেদিন রক্ষা পাবে বাড়ন্ত বাহানায় রূপবতীর অস্পর্শ দেহ যেনো এক মোহ! কাজীর বিচারে হয়ে যাবে পার জীবন যৌবনের বেদখল হবে না তো আর! হে ইশ্বর নেও তুলে নিজের হাতে…
নোনাজল তাহেরা খাতুন বাকহীন শব্দে ভাসে বিরহী মন মনে পরে পুরোনো দিন কষ্টের নোনাজলে সাঁতরে বেড়ায় শূন্যতার ভেলা তুমিবিহীন। চোখে চোখে হয়না কথা ভাসেনা স্বপ্ন কল্পনায় ভাসাবো সুখের নাও দুজনে ডুবে যাবে না বেদনায়। বিরহে প্রেম সত্য চিরদিন মিলনে ঢাকে যন্ত্রণায় প্রেম আর মোহ এক নয় নিঃশব্দে তাই কাঁদায়। না পাওয়ার জ্বালা সয়ে যায় মানিয়ে সময়ের টানে পেয়ে হারানোর ব্যথা কাঁদে মৃত্যু ডেকে আনে। একতরফা প্রেম হয়না কখনো সে হয় মরিচিকা উজ্জ্বল আলোর নীচে শুধুই কালো বেদনারেখা। দেহের লোভে প্রেম থাকেনা নফসের লীলাখেলা খায়েস মিটিয়ে যায় পালিয়ে ডুবায় প্রেমের ভেলা। বিকেল,, ৫.০০ ৫.১০.২০২১
শত্রু আলমগীর হোসেন আরিফ শত্রু তোমরা আছো বলেই পড়ছে ধরা ভুলগুলো, চোখের সামনে আসছে ভেসে দূর্বলতায় ভরা গুনগুলো। গুনগুলোকে শক্তি ভেবে গর্ব করছি নিয়মিত, দোষগুলো সব সামনে এনে, করছো আমার মাথা নত। শত্রু তোমরা পরম বন্ধু, চোখের কোণে রাখো মোরে এই ধন্যবাদ টা শেষ হবে না, কৃতজ্ঞতা সারাজীবন ধরে। কাছের মানুষগুলোও অচেনা হয় জীবনের ব্যস্ততাতে তবু তোমরা ছেড়ে যাওনা, কুৎসা গুলো থাকো রটাতে। তোমরা আমায় হিংসা করো, ঘৃণাও কিছুটা করো তোমাদের ভয়ে কখনো কখনো থাকি জড়োসড়ো। হিংসা, ঘৃণা আর কুৎসা গুলোয় হই আমি দূর্বিষহ, সুখের খোঁজে মাঝে মাঝেই ছেড়ে যেতে চাই এই গ্রহ।
কলঙ্কিনি: পর্ব#০১ নাজনীন সুলতানা আজ আমার স্বামী প্রমোশন পাওয়ার জন্য আমাকে বিক্রি করে দিলো তার বসের কাছে। আর তার বস হচ্ছে আর কেউ না আমার প্রাক্তন… আজ দুপুরে কাজ করতে ছিলাম। আমার হাজবেন্ড পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে কানের কাছে বললো, আরিয়ানঃ আজ বাইরে ঘুরতে যাবো সারা বিকেল ঘুরে বাইরে হোটেলে রুম নিয়ে থাকবো, রেডি থেকো পাগলি (এই বলে চলে গেলো) তার কথায় আমি অবাক হলাম কারণ, তিনি আমাদের বিয়ের পর মেনেই নেয়নি আমাকে।খুব খুশি লাগছে, তাই তারাতারি কাজ গুলো করে ফেললাম। কাজ শেষ করে আয়নার সামনে গিয়ে নিজের সাথে নিজেই কথা বলতে লাগলাম।হঠাৎ একটা মেসেজ আসলো তিনি দিয়েছেন।মেসেজে, “একটু সুন্দর…
অতীন্দ্রিয় অবগাহন জেবুননাহার জনি সাদা মেঘে লেখা ছিল ভাগ্য লেখন সিক্ত মনে স্নিগ্ধ ছায়া চূর্ণ করে ডুবে যায় মেঘলা রাতের চাঁদ ছায়ায় শিথিল পথে কে যেন হেঁটে যায় নিবিড় পায়ে জ্বোনাক জ্বলা সন্ধ্যায় দোল খায় শিহরণ শাখায় শাখায় মুছে যায় অতৃপ্ত আঁচলে পড়ন্ত রাতের সিঁথির সিদুর উত্তাল ভৈরবে শিশির ঝরিয়ে অতীন্দ্রিয় অবগাহনে হৃদয়ের তোলপাড়ে সাধ শুধু সাধ থেকে যায় কপালে তোমার একটি চুম্বন…
অধিকার তাসনিয়া রহমান আমাকে ছুয়ে দেবার যাবতীয় অলিখিত অধিকার তোমার হাতে অর্পিত হয়েছিলো বহুকাল আগেই তবুও তুমি অধিকার বলে শরীর ছোও নি তুমি মন ছুয়েছো দিনে দিনে গভীর থেকে গভীরে মাতাল বন্যতায় আজ আমি ব্যাকুল তোমায় ছুয়ে দেবার অপেক্ষায় তোমার প্রেমের অন্তরতা, গভীরতা আমাকে মরিয়া করে তুলেছে কী জাদু! কী মায়া! আর দশ টা পুরুষের থেকে ভিন্নতাই তোমার অলংকার তোমার নিগুঢ়তা আমার ঐশ্বর্য সঞ্চয় করে কোনো সুদর্শন যুবক আমার মন কাড়তে পারে না আমি আঁটকে আছি! আমায় টেনে নাও তোমার বুকে গ্রহণ করো কৃতজ্ঞতার সব পূজোর ফুল একটি একটি করে যা কুড়িয়েছি আমি শত বছরে ও হে প্রেম পুরুষ আমায়…
চান্নি পসর রাইত জেসমিন জাহান চাঁদের দেশে কিনতে বাড়ি সত্যি বলছি! চাই না আমি আমার কাছে জমির চেয়ে চাঁদনি পসর অনেক দামি। কলঙ্ক-দাগ নিয়ে গায়ে চাঁদ জাগে দূর আকাশের প’রে জ্যোৎস্না ফুলে গাঁথা কাব্য সুখ নির্ঘুম রাতে পড়ে ঝরে ঝরে। যোজন যোজন দূরে চন্দ্রকলা চিরটাকাল দূরেই না হয় থাকো উথাল পাথাল জোছনা ঝরুক রাতে! জাগিয়ে আমায় রাখো। প্রাণের বসত যেথায় আছে শোনো, সেথায় আমার বাস রূপেরমোহ দিলাম জলাঞ্জলি এ মনেতে ভালোবাসার আশ।
স্মৃতির কিমচি শিরীণ আক্তার ফায়ারপ্লেসের আগুনটা উসকে দেবার মত করে শুকিয়ে আসা ক্ষতটাকে আবারো একটু খুঁচিয়ে দেই যে ক্ষতগুলোকে আড়াল করে রাখে রক্তঝরা হৃদপিন্ড। জ্বালা পোড়ায় চোখের পানি বেরিয়ে এলেই বেশ প্রশান্তি বিছানায় মাথাটা এলিয়ে চলে যাই বহু বহুদিন পেছনে খুঁজে খুঁজে মনে করার চেষ্টা করি কখন কী হয়েছিল, ভালোই তো লাগে যখন দেখি সেসব দিনের অণু-পরমানু কিছুই ভুলিনি। আয়নার প্রতিবিম্বের মত ঝকঝকে এক আমি এসে খুলে দেয় স্মৃতির সে ঝাঁপি মৌচাকের মতো সেই কুঠুরীতে সুখ -দুঃখের বিভিন্ন স্মৃতির আলাদা বাস সব স্মৃতি সুখ স্মৃতি হলেও শুধু তোমার কাছে এসেই কেন যেন থমকে যায় মন! ছাতা পড়ে একটু ও যাতে…
