Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ

তোমার আমার মাঝে – ফারহানা আহাসান তোমার আমার মাঝে একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে এটাই স্বাভাবিক। হয়তো তুমি আর আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারো না আমার চাওয়া পাওয়া। কারণ আজ আর তোমার চোখ আমার চোখের দিকে স্থির হয় না। আসলে তুমি জানতে চাওনা আমারও কিছু বলার আছে। সেদিনও হয়তো দুরে নেই, যখন তোমায় ছুঁয়ে দেখার আশায় বসে থাকবো। আমি আস্তে আস্তে তলিয়ে চলেছি প্রতিনিয়ত, তোমার এক কাপ চায়ের সঙ্গী আমার হয়ে উঠে না। কারন আমার উঠন জুড়ে শুধু তিক্ততা জায়গা করেছে। দোষটা কি দুজনের, না আমার একার কিংবা তোমার। কোথায়! কখনো জিজ্ঞেস করলে না সারাদিন ঠিক ঠাক ছিলাম তো? জীবনের…

আরো পড়ুন

আহ! হোসনে আরা রিতা আহ! আমি বাঁচতে চাই আমি বাঁচতে চাই আমাকে ছেরে দাও বলছি ছেরে দাও। আমার আকাশ এখন কালো মেঘ ভেসে বেড়ায় অসীম নীল ডানা মেলে উড়ে যায়, স্বপ্নের গাংচিল অথচ আমি বলতে পারিনা আমি ও তোমাদের মত মুক্তো আকাশে ভেসে বেড়াবো আমার আতৎচিতকার চারিদিকে প্রতিধ্বনি হচ্ছে তুমি কি শোনতে পাও? স্নিগ্ধ সকালের প্রতীক্ষায় ক্লান্ত দুপুর থমকে দাঁড়ায় এই দিগন্ত, চোখের সীমানায় কেউ কি ডাকে? নিশ্চুপ গভীর মায়ায়? – আহ! কখনো ভাবি দৃষ্টিগোচরে হালকা বাতাস ছুঁয়ে যায় আমাকে এ হচ্ছে প্রকৃতির প্রাণে র ছুঁয়াতে । জীবনের নাশকতা কখনো আত্মসুখ হতে পারে না , নগ্নতা দেহের স্পর্শ আত্মসুখ নয়…

আরো পড়ুন

অন্ত্যমিল কানিজ ফাতেমা যতই তোমরা জ্বালবে আগুন রুদ্ধ করবে দ্বার, অকূল পাথারে অথৈ সাগরে খুঁজে নেব আমি পার। তোমরা আমায় তুচ্ছ জ্ঞানে যতই ফেলবে ছুঁড়ে, মেঘ হয়ে উড়বো আমি অসীম আকাশ জুড়ে। যতই তোমরা বিদ্ধ করবে বিষের বাক্য বান, ফনিক্স হয়ে বক্ষ পেতে অনল করবো পান। যদি কালো রাতের অশুভ ছায়া প্রাণকে করে বিদ্ধ, নব নব রূপে জন্ম নেব আমি যে অনিরুদ্ধ। আমি মায়া হবো ঘুর্ণিবাতে অসীম জীবন ভাসিয়ে নেবো, লক্ষ কোটি হৃদয় ছোঁবো জীবনের মাঝে বিলীন হবো। আমি স্বপ্ন নীল শঙ্খচিল হাওয়ায় ভাসি অনাবিল, নানান রূপে জীবন দেখি খুঁজো না আমার অন্ত্যমিল।

আরো পড়ুন

আবরার এইচ বি রিতা আচমকা নয়, দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা আপনার সৃষ্টির চেষ্টার পর আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম যে, আমি মারা যাচ্ছি অক্সিজেন হ্রাস পাচ্ছিল, যা আমার সঞ্চালনকে ধীর করে দেয় নিঃশ্বাস নেওয়া অসম্ভব হয়ে গেল শরীরের প্রতিটি একক অংশ এমনকি আমার রক্তের রেখাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল আমি রক্তক্ষরণ করছিলাম, আপনার সৃষ্টিরা বুঝতে পেরেছিলেন আমার হার্টবিট, রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল আমি চিৎকার করেছিলাম, কিন্তু কেউ শুনতে পায়নি মরে যেতে যেতে এক ফোঁটা পানির আবদার; তাও রাখেনি সেই মুহূর্তে আমি বুঝতে পেরেছিলাম, আপনার সৃষ্টি হৃদয়-রোগে আক্রান্ত আমার কিছুই করার ছিল না; শক্তির উৎসটুকু শুধু হারিয়ে ফেলা ছাড়া। অবশেষে দেখলাম, স্কিপিং রোপ আর…

আরো পড়ুন

একটি বইয়ের আত্মকাহিনি গুলশান কবীর আমার নাম ‘তোমার চোখের জল’। আমার জনকের নাম হুমায়ূন কবীর ঢালী। এবছর আমার ৩০ বছর পূর্ণ হলো। আমার খুব আনন্দ লাগছে ৩০ বছর পূর্ণ করতে পারায়। সাধারণত বাংলাসাহিত্যে বিখ্যাত লেখকদের ভালো বই ছাড়া কেউ টিকে থাকতে পারেনি। যেমন বাংলাসাহিত্যে টিকে আছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিভুতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসুদন দত্ত, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম, তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়সহ অনেক লেখক। এসব লেখকের বই এখনো দাপটের সাথে বিচরণ করছে পাঠকদের মনে। এদের পরেও অনেক লেখকের বই রয়েছে যা টিকে গেছে এবং টিকে থাকবে। এই তালিকাও ছোট নয়। শওকত ওসমান, মাহমুদুল হক, আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস, শওকত আলী,…

আরো পড়ুন

ভূতের নামে বানোয়াট গালগল্প: লুৎফর রহমান রিটন ভূতের নামে মন্দ কথা রটিয়ে দিলো নিন্দুকে নিন্দুকেরাই বাড়িয়ে বলে। বৃত্ত বানায় বিন্দুকে। সব ভূত তো খারাপ হয় না, অল্প ক’জন হইলে কী? ভাইবা দেখো ভূত সমাজকে খাটো কইরা কইলে কী! একটা দু’টোর কীর্তি দেখে ভূতকে খারাপ বইলো না নিন্দুকদের রটনাকে সইত্য ভেবে চইলো না। অল্প ক’জন খারাপ মানুষ আছে বলেই ভেবো না– ‘মানুষ খারাপ’ বললে তুমি সেইটা মেনে নেবো? না। ভূতও তেমন, অল্প কিছু মন্দ ভূতের কারণে– মানুষগুলো ব্যস্ত থাকে ভয়ের স্মৃতিচারণে! সেই কবে কোন মন্দ ভূতটা দাঁত খিঁচিয়ে আসছিলো লম্বা নখের ভয় দেখিয়ে হাঁহাঁ হিঁহিঁ হাসছিলো কোন ভূতটা নেঁকো সুরে ভূতং…

আরো পড়ুন

কবি হেলাল হাফিজ-এর শুভ জন্মদিন দ্রোহ ও প্রেমের কবি হেলাল হাফিজের আজ ৭২তম জন্মদিন। ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি।  নেত্রকোনা শহরে কেটেছে কবির শৈশব, কৈশোর ও প্রথম যৌবন।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র তিনি। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় রচিত ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি তাকে কবিখ্যাতি এনে দেয়।  ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’। ৩৪ বছর পর আগামী ডিসেম্বরে যুগপৎ ঢাকা ও কলকাতা থেকে প্রকাশ হচ্ছে ৩৪টি কবিতা নিয়ে তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। ২০১৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান কবি হেলাল হাফিজ। —————–// ৬৯-এ পুরো দেশ যখন মুক্তির নেশায় মত্ত, তখন পাকিস্তানি…

আরো পড়ুন

রম্যগল্প ‘অবাক সঙ্গীত’ শাহেদ ইকবাল কথা ছিল দীপালি আমার জন্য অপেক্ষা করবে। আমি সন্ধ্যায় দীপালির কাছে যাবো। আমার কাছে থাকবে একটি আংটি। সারপ্রাইজ গিফট। আমি সেই আংটি দীপালির আঙুলে পরিয়ে দেব। এখন আমি আংটি পরিয়ে দিচ্ছি ঠিকই। ঘড়িতে সময়টাও ঠিক আছে। কিন্তু দীপালিকে নয়, আংটি পরাচ্ছি গোঁফওয়ালা এক দারোয়ানকে। যার হাতে প্রমাণ সাইজের একটি লাঠি। কারণ কি? আমার অফিস দিলকুশায়। দুপুরবেলায় হঠাৎ একটি আমন্ত্রণপত্র পেলাম। আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে রিয়াজ। রিয়াজ আমার বন্ধু। পেশায় শিল্পপতি। সেই বন্ধুর ভাতিজার একক সঙ্গীত সন্ধ্যা। সেই ভাতিজা কখন গান শিখল, কার কাছে গান শিখল কিছুই জানতাম না। আজ হঠাৎ এই আমন্ত্রণপত্র। সেই সাথে জরুরি ফোন। না…

আরো পড়ুন

নিশ্চুপ আরাধনা রুনা আক্তার স্বপ্না অন্তরের বোবা ভাষা ইতস্তত ভালোবাসা; প্রাণের সাধনায় নিশ্চুপ আরাধনা। গোধুলির আলো-আঁধারী ছায়া ফেলে চোখে; পৃথিবীর দেয়ালে অস্পষ্ট অক্ষর দেখে। তিক্ত অভিমানে নেমে আসে রাত; শোকাবহ মলয় আর্ত পক্ষাঘাত। অতৃপ্ত আশার যতো নীলাভ ইচ্ছে; নীরব যন্ত্রণা নক্ষত্রের আয়ু মুছে। হৃদয়ে না-বলা কথার ক্লান্তিকর আয়োজন; ডেকে দেয় গুপ্ত ব্যথা রবির কিরণ। শাশ্বত সূর্যের তীব্রতা জানায় কানে কানে; আরো একটি রাত চলে গেলো নির্জনে।

আরো পড়ুন

স্মৃতির আয়নায় তুমি সুরাইয়া আলমগীর আনারকলি কুয়াশা হীন ছিল সে স্মৃতিময় রাত কুয়াশা ছিল আমাদের ভেতরে তখন নক্ষত্রেরা নিরাপদে আর একটু প্রকাশ্যের দিকে বেরিয়ে আসে আকাশের আঁচল ছেড়ে দিয়ে স্মৃতির গ্রামখানি জ্বেলেছে নীল আলো সেই নীল আলোতে দেখেছি তোমার শুভ্র বিশ্বস্ত হাত আকাশ ঘিরে শিরিষ গাছ ঘিরে সেই নীল আলোর কোমলতা ছড়িয়েছিল সেই প্রথম দেখা রাত টিতে কেটে গেল ক’টি মুহূর্ত ফুল জ্বলন্ত লাল রঙিন রাতুল তুমি কোথায় এখন আমি জানিনা বুকের ঘাটলায় বাজে ছলছল জলের কলস বাঁশ বনে আটকে থাকে ভালোবাসার কানা চাঁদ বিনিদ্র গল্পের মধ্যে ট্রেনের হুইসেল বিঁধে থাকে শুধু ক্রমশ শীতরাত বাইরে ঘন হয় সবকিছু ঠিকঠাক আছে…

আরো পড়ুন