Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ

নির্ঘুম রাত। লায়লা বিলকিস ০৫-১০-২০২১ইং কত যে রাত নির্ঘুম কেটে যায় সে খবর কে রেখেছে কবে! ব্যথার টানে দুই চোখ টনটন করে তবু ঘুম আসেনা চোখে। রাতের আঁধার বাড়তে থাকে বাড়ে বুকে দ্বিগুণ জ্বালা। শূন্য ঘর-চৌকাট জুড়ে ছেঁয়ে থাকে শুধু হতাশার মালা। জীবনে চাওয়া পাওয়ার যে গরমিল তা কোনোদিন পূরণ হবার নয়, তবু ভালো থাকার যেন ব্যর্থ চেষ্টা ব্যর্থ অভিনয় করে যাই। এ জীবনের পদে পদে শুধু দুঃখ গাঁথা আর অপমান! তবু সময়ের স্রোতে ভেসে চলি ভুলে যায় সকল অভিমান। খড়কুটোর মতো অযত্ন-অবহেলায় আমিও বেঁচে থাকি! হয়তো এটাই নিয়তির খেলা এই সান্তনা বুকে পুষে রাখি। রাতের আঁধার ম্লান হয়ে যায়…

আরো পড়ুন

বাঁশি। আঁখি বৈদ্য। তখন আমি অষ্টাদশী- প্রতিদিন রাত বারটা কোথা থেকে যেন ভেসে আসে বাঁশির সুমধুর সুর আমাকে ব্যাকুল করে তোলে আমি জেগে থাকি, প্রতিদিন থাকি আকুল হৃদয়ে অপেক্ষা করি রাত বারটার। বহুদিন শুনিনা সে বাঁশি আর জীবনের প্রয়োজনে বহুদিন আগে বহুদূরে গিয়েছি সরি তবুও বুকের গভীরে রাত বারটা গোপনে হৃদস্পন্দন জাগায় নিরবধি। আজও আমি অপেক্ষায় থাকি সে বাঁশির কিন্তু কি আশ্চর্য যার বাঁশির টানে আমার এত ব্যাকুলতা সে বাঁশি কে যে বাজাত সুমধুর সুরে আজো আমি তা জানি না। শুধু রাত বারটা আজো আমাকে টানে বাঁশির সুরের ভুবনে আমার অষ্টাদশী আবেগ এখনো ছুটে চলে অজানার পথে ব্যকুল হৃদয়ে।

আরো পড়ুন

পবিত্র জমজম পারভীন আকতার। ভেবেছিলাম শুধুই ছায়া হব আজ হয়েছি নোঙরে কায়া। বিমর্ষ বেদনাকে মুক্তি দিয়ে বিহঙ্গ উড়েছে ছেড়ে সব মায়া। আংটি গলে চিকচিক করছে সাদা দানাদার পাথর শরীর, আজ না হয় নাইবা মিলল ঘন্টাহীন কাঁটাহীন ঘড়ির! বেঘোর সময় ছায়া ছাই হয় ধূসর মরু উদ্যানে নির্জলা, ছিন্নভিন্ন ঝোপ দুঃখ রাশি, বনে যায় প্রাণপণে সুজলা। নির্লিপ্ত আজ মেঘের আরশি ছায়া মাড়ায় বর্ণিল প্রিজম, প্রশান্তি একরত্তি দ্বীপ সাগরে পবিত্র সে অনন্য জমজম। —————- পারভীন আকতার শিক্ষক, কবি ও প্রাবন্ধিক। চট্টগ্রাম।

আরো পড়ুন

কালের প্রতিবিম্ব পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা এই নব নির্বাচিত বাংলাদেশ বেতারের একজন তালিকাভুক্ত গীতিকার’কে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই।  আমরা তার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি। রুনা লায়লা।  কবি, গীতিকার, ছড়াকার ও সম্পাদক। জন্ম: ৩০ শে ডিসেম্বর ১৯৮৭ সনে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার উত্তরনোও পাড়া গ্রামে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।পিতা: মরহুম মোঃ আবুল কাশেম, মাতা : আনোয়ারা বেগম। চার বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ৫ম। শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ ইবরাহিম পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ৫ম শ্রেণি পাশ করেন। উত্তর কাফরুল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে বিজ্ঞান বিভাগ হতে এস.এস. সি পাশ করেন। মীরপুর গার্লস আইডিয়াল কলেজ হতে এইচ. এস. সি (বিজ্ঞান…

আরো পড়ুন

রিমন সরকার-এর কবিতাগুচ্ছ বাবা বাবা তুমি নেই! চলে গেছো মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে একা ফেলে। বুক ভরা খুন শান্তিতে আগুন তোমার খোঁজে শূন্য বুক। চাওয়া-পাওয়া আবদার সবকিছুই থমকে গেছে বাবা কৃষক বাবা তাঁতি সাহসে বেড়ে যায় মোর ছাতি। আত্মসম্মান সদা নিটোলতা তুমি মোর জীবনে পরম শিক্ষক শিক্ষা দাতা। বৈশাখের ঘনকালো মেঘ ঘিরেছে এই জীবন। বাদলা হাওয়া বর্ষাকালের বাদলা হাওয়ায় চেয়ে আছি গগন প্রাণে। ঝুম ঝুম বৃষ্টি পরে ডুব দিয়েছে খালে বিলে। নদী নালা থই থই হংস খেলা করে চই চই। নতুন ধানের চালে ভূনা খিচুড়ি রান্না ঘরে! ইলিশ ভাজা গন্ধে মৌ মৌ করে কৃষক করে হালচাষ বুনিতে শস্য…

আরো পড়ুন

আমার বাবা। সেঁজুতি রহমান ২১/৬/২০২০ আমার কাছে বাবা মানেই— লাল সবুজে মেশানো একটা পতাকার নাম, এর চেয়ে বড় কোন স্মৃতি আমার কাছে নেই। আমার বাবার কোন ছবি নেই- বাবার কোন গল্প নেই- বাবার কোন গন্ধ নেই- বাবার আঙুল ধরে পথ চলা নেই- লাল ফ্রকের কোন স্মৃতি নেই- চকলেট কেনার কোন বায়না নেই- স্কুলে যাবার প্রথম দিনেও বাবা নেই- বাবাকে নিয়ে আমার কিছুই নেই- কেবল একটা পতাকা ছাড়া। বাবা ডাকতে কেমন লাগে? বাবার বকা খেতে কেমন লাগে? বাবার কাছে বায়না করতে কেমন লাগে? বাবার কাধে চড়তে কেমন লাগে? বাবার আদর গুলো কেমন হয়? ঝাল টক নাকি মিষ্টি? আসলে— বাবাকে নিয়ে আমার…

আরো পড়ুন

আমেরিকা ভ্রমণ: শিরীন হোসেন ১১/১১/২০২১ প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দু’টো ভিন্ন পরিবেশ, ভিন্ন আবহ, ভিন্ন কালচার। তবু কোথায় যেন একটা মেলবন্ধন ঘটেই যায়। পুরো বিশ্ব যখন ইথারে ভেসে বেড়ায় তখন অচেনাও অনেক চেনা হয়ে যায়। আসলে ঘরের কাছেও অনেক জায়গা আছে, যা আমরা দেখিনি, সেইসব জায়গার আবেদনও কম নয়।  কিন্তু , আমরা তো বাউন্ডলেস বাউন্ডুলে। তাই পোটলা গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ি আবিষ্কারের নেশায় বুঁদ হয়ে। জানতে চাই যা কিছু অজানা। উপমহাদেশে ঘুরে বেড়ানো আমার অনেক পুরোনো অভিজ্ঞতা, তারপর পাশ্চাত্যও টেনে নিল আমাকে। কোলকাতার পথে পথে , কিংবা শিমলা, পুনে, মুম্বাই, হিল্লি-দিল্লী করেছি যখন তখন কৈশোরের পড়া উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে হেঁটে বেড়িয়েছে যেন।…

আরো পড়ুন

সুভাষ দত্ত প্রয়াণ দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা জন্মঃ ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ মৃত্যুঃ ১৬ নভেম্বর, ২০১২ বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, সিনেমা চিত্রশিল্পী ও অভিনেতা। তিনি ষাটের দশক থেকে বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ। তার কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল সিনেমার পোস্টার এঁকে। এ দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ-এর পোস্টার ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন তিনি। মাটির পাহাড় চলচ্চিত্রে আর্ট ডিরেকশনের মধ্য দিয়ে তার পরিচালনা জীবন শুরু হয়। এরপরে তিনি এহতেশাম পরিচালিত এ দেশ তোমার আমার ছবিতে প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পান। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র সুতরাং (১৯৬৪)।এবং সর্বশেষ চলচ্চিত্র ও আমার ছেলে ২০০৮ সালে মুক্তি লাভ করে। এছাড়া তিনি বেগম রোকেয়া’র জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি…

আরো পড়ুন

শরতের শুকতারা রোকসানা পারভীন রুশি। ওগো কাশবনের কাশকন্যা ; তুমি তুলনাহীনা! তুমি শরতের শ্বেত শুভ্র ভালোবাসা। তুমি বিষাদে ভারাক্রান্ত বিধুর মেঘের কান্না শেষে ধরা দাও সহাস্যে প্রকৃতিতে। তুমি মন মরমে ঝলমল করে উঠা লারা লোটাস। তুমি সাদা প্রজাপতির মতো ডানা মেলে উড়তে থাকো মনের আঙিনা জুড়ে। তুমি বিজন রাতের মনের কোনে খদ্যোত হয়ে জ্বলা আগর, তুমি নীলাম্বর মেঘের সাথে মিতালী বেঁধে মর্ত্যে নেমে আসা এক দলছুট সফেদ মোলায়েম দুগ্ধবৎ মেঘের সাগর। তোমার ঢেউ দোলানো নাচের তালে তালে নেচে উঠে মন- ময়ুরী। তুমি শুভ্র মেঘের ভেলায় ভাসিয়ে দাও মনের যত অশুভ্র কালিমা। উড়ুক্কু মন হারিয়ে যায় তোমার মন মাতানো পেলব ঢেউয়ের…

আরো পড়ুন

স্নানের জলে পলি রহমান স্নানের জলে অতৃপ্ত চেনা মুখ মৃদু হাওয়ায় তিরতির কাঁপে, জলের গায়ে অদেখা প্রেমের সুগন্ধি অভিমান, বুঝি এইমাত্র ছুঁয়ে দিয়ে গেলো সব্যসাচী তান্ত্রিক। স্নানের জলে উপচে পড়ে আগুন মাখা প্রেম, অঞ্জলি ভরে আগুন তুলি, মাখাই প্রতি অঙ্গে অঙ্গে, আরো আগুন করি আঁকাবাঁকা হরিৎ যৌবন! আগুন রঙ গ্রীবা অনন্ত অপেক্ষায় প্রহর গুনে যায়, প্রহর গুনে যায় একটি অনন্ত মহামিলনের, অপেক্ষার হলুদ প্রহরে ছোবল হানে বিরহের ভুজঙ্গ, দংশনে দংশনে বিষ ছড়ায়, ঢেউ তোলে জলে! তবু স্নানের জলে অতৃপ্ত চেনা মুখ মৃদু হাওয়ায় তিরতির কাঁপে।

আরো পড়ুন