Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ

পরিচয়। (মাহবুবা ফারুক) তোমরা বলো, কান্না আমাকে মানায় না আমিও তো জানি আমি হাসতে চাই জগতের সব দুঃখকে অবহেলা করে হাসতে চাই তারপরও দেখো কোথা থেকে উড়াল মেঘের মতো দলা দলা কান্না এসে আমার চোখে ঘর বাঁধে ওরা বাষ্প হয়, তারপর জল হয়, তারপর আলপনার মত চোখকে সাজায় নদীর মত বয়ে বয়ে নেমে যায় আমার চোখ দুটো তখন অশ্রু বৃক্ষের ফলের মতো ঝরে ঝরে প্রমাণ করে নিজেকে।

আরো পড়ুন

মাগো যুদ্ধে যাবো (রাশিদা আউয়াল) ৫/১২/২১ মাগো আমি যুদ্ধে যাবো দে-না আমায় যেতে পাক সেনাদের প্রতিশোধ নিবো অস্ত্র নিবো হাতে। তোর মুখে শুনেছি মাগো বাঙালি দিয়েছে প্রাণ যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তারা বিশ্বে মহান। মাগো আমায় দে-না যেতে তুলে নেবো হাতিয়ার গুলির তোরে উড়িয়ে দেব শত্রু করবো সাবার। লড়াই করে জিতবো মাগো যুদ্ধ হবে শেষ বরণ মাল্য করবো জয় তোর দোয়ায় অশেষ। মাগো আমি যুদ্ধে যাবো সহে না তোদের দুখ ফিরে এসে দেখবো মাগো সবার হাসি মুখ। পুত্র শোকে বাবা কাঁদেন অশ্রু নয়ন ঝরা স্বামী সন্তান হারিয়ে মাগো সে যে সর্বহারা। মাগো আমি যুদ্ধে যাবো সোনার দেশ গড়তে লাল সবুজের…

আরো পড়ুন

রিমির বাড়ি ফেরা ( শিক্ষণীয় কিশোর গল্প) পারভীন আকতার সকালবেলা তড়িগড়ি রেডি হয়ে স্কুলে যাবে রিমি আজ।পাশের বাড়ীর কেয়া তার ক্লাসমেট।অষ্টম শ্রেণির গন্ডি পেরুবে বছর শেষে।ওরা খুব খুশি।নতুন বইয়ের মুহুমুহু ঘ্রাণ পাবে আর কিছুদিন পর।রিমি ও কেয়া পাতানো সই।সবকিছুই যেন তারা একসাথে করতে ভালোবাসে।রোজ দুইজনে স্কুল বাসের জন্য দাঁড়ায় চৌরাস্তার মোড়ে।প্রতিদিনকার মতো আজও চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে দু’জন।সামনের গলি দিয়ে আসছে একটি রিকশা।রিকশায় বসা যুবক তাদের দেখে শিস দেয়, ঈশারায় ডাকছেও যেন।কিছুক্ষণ পর তারা দেখে পেছন থেকে ঐ রিকশাটা এসে দাঁড়িয়েছে। রিকশাওয়ালা বলল,”নাও খুকীরা চকলেট।খেতে খুব মজা।তোমরা একা দাঁড়িয়ে আছো দেখে ঐ যে দেখছো লোকটার মায়া হয়েছে।নাও,খাও।” রিমি বলে উঠল,”কী যা তা…

আরো পড়ুন

বাল্যকালের শত্রুতা। (রিয়াজ খান) সম্পর্কে সহদর। বয়সে দু’বছরের বড় হলেও একসাথেই বেড়ে উঠা। এক সাথেই পড়ালেখা, খেলা-ধুলা, দুষ্টুমি। শৈশবে বন্ধু নয় শত্রুতা ছিলো সারাক্ষণ। দু’দণ্ড শান্তিতে আছে দেখলেই গা জ্বালা করে উঠতো, সহ্য হতনা, উঠে পড়ে লাগতাম তার পিছে। পুকুরে এক সাথে গোসল করতে গেলে আচ্ছা করে পানিতে ডুবিয়ে ধরে পানি খাইয়ে দিতাম। খেলার মাঠে ঝগড়া হলে খুব করে কিল-ঘুষি দিয়ে রাগ মিটাতাম, আবার বাসায় এসে উল্টো নালিশ করে মায়ের বকুনি শুনাতাম। সব সময় ভাবতাম আমি বড়টার চেয়ে বেশি শক্তিশালী, মারামারিতে আমার সাথে কখনোই পেরে উঠবে না সে। ভাই যে, ইচ্ছে করেই আমাকে মারতো না সেটা বুঝার বয়স হয়তো তখনো…

আরো পড়ুন

বিজয়। (রাশিদা আক্তার) বিজয় মানে স্বাধীন দেশ আমার সোনার বাংলা, বিজয় মানে স্বাধীন দেশে বীরের মতো চলা। বিজয় মানে একটি পতাকা একটা সার্বভৌম ভূখণ্ড, বিজয় মানে স্বাধীন দেশে থাকবে না কোন ভণ্ড। বিজয় মানে সন্তান হারানো মায়ের চোখে সুখের দু’ফোটা জল, বিজয় মানে আমরাই জয়ী স্বাধীনতা মোদের বল। বিজয় মানে সন্তান হারানো অন্ধ বাবার আর্তনাদ, বিজয় মানে স্বাধীন দেশে নয় কোন মিথ্যা অপবাদ। বিজয় মানে আমার ভাইয়ের রক্তে স্নাত বাংলার রাজপথ, বিজয় মানে স্বাধীন বাংলা গড়ে তোলার দীপ্ত শপথ। বিজয় মানে আমার বোনের হারিয়ে যাওয়া সম্ভ্রম, বিজয় মানে স্বাধীন দেশে হারাবে না কোন নারী সম্ভ্রম। বিজয় মানে কৃষকের ক্ষেতে ভরা…

আরো পড়ুন

প্রিয় কবিতা ছোবল।  অসীম সাহা। গোখরোর ফণা ছোবল মেরেছে ছড়িয়ে পড়ছে বিষ দুই কোটি বুক জ্বলছে, পুড়ছে, লু-হাওয়ার কিশমিশ মাথার ভেতরে পাথরের মতো বিঁধছে অহর্নিশ গোখরোর ফণা ছোবল মেরেছে ছড়িয়ে পড়ছে বিষ ষোলো বসন্ত একটি বাগানে ফুটেছিলো নানা ফুল শিকড় উপড়ে ভেঙেচুরে তারে বাধালো হুলুস্থুল দাঁত ও নখের হিংস্র আচড়ে বিক্ষত নার্গিস আগুনের তাপে মাথার ভেতরে উঠছে প্রবল শীষ গোখরোর ফণা ছোবল মেরেছে ছড়িয়ে পড়ছে বিষ। দুই কোটি বুক পায় না শাস্তি কৃত্রিম কার্নিশে বুকের ভেতর জ্বলছে-পুড়ছে গোখরোর নীল বিষে। বদ্ধ ঘরের কার্নিশ হ’তে বাগানের এলোচুলে হৃদয় চাইছে হৃদয়ের মতো শান্তির দ্বার খুলে দাঁড়াতে আবার উদ্ধৃত হাতে দুরন্ত একিলিস গোখরোর…

আরো পড়ুন

অলসতা (তরু তালুকদার) ১১/১২/২০২১ কাল করবে বলে কাজটি রেখে দিলে আজ, কালকে করা হবে নাতো তোমার সেই কাজ। আজকের কাজ অলসতায় রেখে দিলে কেনো? আগামীতে আরো কাজ জমা হবে জেনো। রেখে দেয়া কাজগুলো তাই বাড়বে দিনে দিনে, বিন্দুর জল সাগর হবে তোমায় নাহি চিনে। পাহাড় সম হবে তোমার জমে রাখা সব কাজ, করতে গিয়ে বুঝবে তখন মাথায় পড়বে বাজ। তোমার কাজের সাথী ছিলেন এতোদিন যারা, কাজের মাঝে এগিয়ে গেছেন এখন নেই তারা। দশের মাঝে আছে যা — তোমার মাঝেও তা, পিছিয়ে যাওয়ার কারণ হচ্ছে — তোমার অলসতা। সময়ের কাজ সময়েই করো — ঠেকবে না কোনোদিন, সকল কাজেই সুফল পাবে, হবে…

আরো পড়ুন

অধিশ্রয় (রওশন হাসান) সবটুকু অনুভব নিঙরে বৈরাগ্য এ রুপ যতদূর চোখ যায় অকূল সরোদের এলিজি স্পর্শসুখে উইন্ড চাইম নেচে ওঠে টুংটাং এ বেদরদী হাওয়ার ঝোঁক গুমরে ওঠা পরিতাপ বিরামহীন শূন্যতা l প্রস্তরে মোড়ানো দেয়ালের বসতবাড়ি l আকাশ পেরিয়ে শরীরী ভ্রমণ। হৃদয়ের গ্রন্থি জুড়ে অশান্ত অভিমান কলকল গোপন গুন্জন বেদনার মত আঙুলে বেজে চলে l পাতাদের মর্মরধ্বনি, সন্ন্যাসী নদী আবদ্ধ হলুদের ঘ্রাণ, একদা ছিল অকপট মৌ মৌ বহ্নিমান । সংগুপ্ত বাগানে স্পন্দনহীন লুপ্ত ফুলেদের গান যতটুকু বিসর্জন ততটুকু আমার আশ্রয় অফুরান l লেখক: রওশন হাসান, উত্তর আমেরিকা

আরো পড়ুন

চির জাগ্রত স্বাধীনতা। সুরমা খন্দকার। ক্ষুধা আর দারিদ্র্য নিয়ে জন্মেছি এই দেশে, জীবন দিয়ে রক্ষা করলো এইদেশ শহীদরা, মাগো তোমায় ভালোবেসে। ত্রিশ লক্ষ প্রাণ দিলাম, ইজ্জত বেশুমার আকাশ বাতাস কম্পিত মা বোনের হাহাকার বাড়ি ঘর, পশু ফসল সবই হলো ছারখার। রক্তের দাগ মিশে গেছে সারা বাংলায় সোঁদা মাটির গন্ধে রক্তের ঋণ কভু হবে না শোধ মাটির মায়া যাবে না মুছে ঐক্যে শান্তি, ক্ষতি হলো দ্বন্ধে । দেশটা যে ভাই গড়তে হবে বিশ্ব মাঝে মাথা করো উঁচু ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে যাবো এগিয়ে থাকব না আর পিছু। লাল সবুজের পতাকায় উত্তাল করা ছন্দে… তুমি চির জাগ্রত স্বাধীনতা কিশোর বেলার মহানন্দে।

আরো পড়ুন

মানবেতর (শামীমা আক্তার) মনে শক্তি দেহে বল ওদের সাহায্যে সবাই চল নয়তো কোন আলাপন ওদের জন্য করি পণ আমরা যাবো বারে বারে ঐ হৃদয় গুলোর তারে তারে ভাঙ্গিবো না মোরা কিছুতেই দুঃখীদের দুঃখ রুখবই এ যে মোদের দেহ মোদের প্রাণ বাঁচাতে হবে দেশের সম্মান। মানুষ তো মানুষেরই জন্য রাখবো না কোন দুঃখ দৈন্য বাংলার এই সুন্দর ফুলের বাগান কোন প্রকারেই যাবে না করা অম্লান দুঃখ সুখের দুই ধারায় বহে নদীর জল পাহাড় সমান দুঃখে ছাড়বো নাকো হাল কেন বিভেদ! সকলেই মোরা সমান দেশবাসী বাঁচব হয়ে সবাই আপনজন তোমাদের দুঃখে আমরা দুঃখী এইতো মোদের সান্ত্বনা সবাই মিলে করবো মোরা দুঃখ জয়ের…

আরো পড়ুন