নিউইয়র্কে বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব, যুক্তরাষ্ট্রের সভা অনুষ্ঠিত। বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব যুক্তরাষ্টের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গত ১৬ই ডিসেম্বর ২০২১ আলোচনা সভা ও কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কুইন্সের স্থানীয় এক রেঁস্তোরায়।বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বায়ক কবি মিশুক সেলিমের সভাপতিত্বে ও লেখক আবু সাইদ রতনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও কবিতা পাঠের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন কবি শামস আল মমীন,সাহিত্য সংগঠক মোশারফ হোসাইন, কবি রওশন হাসান, কাজী আতিক ও ছড়াকার খালেদ সরফুদ্দিন বিশিষ্ট কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট নুরুল আজিম সহ আরো অনেকে। এছাড়া…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
মিলন নদীর চরে (মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম) রচনা ১২.১২.২০২১ খ্রীঃ মনপুর বাসিনী হৃদয় নন্দিনী তুমি হাসলে পরে আকাশের তারাগুলো ফুল হয়ে ঝরে অঝোরে রাখবে কি মোরে বন্দী করে তোমার মনের ঘরে? কতকাল হেঁটেছি অন্তঃপুরে ধূলোমাখা পথটি ধরে, আঁধার সব ঠেলে দূরে এমনি করে শত জনম পরে সুচনার অন্তরে সুখের জ্বরে স্বপ্নজালে প্রেমডোরে। ভালোবাসায় বিলাসিতার অভ্যাস তোমাতেই যত আশ চোখেতে দেখেছি সর্বনাশ মনটা গেল এক নদী পরবাস, বাণ্ডুলে পাণ্ডুর গালে চুমে সমান তালে গলেতে যে ফাঁস। মহাজন রয়েছে গোপন গড়েছে যেন অনাবিল আবাসন, সুখের মাতম সব খেলা খতম এ কেমন নির্জনে নির্বাসন! কৃষ্ণচূড়ার লালে লাল চোখে চোখ করে যায় যে উপহাস, সুর্যের…
‘জোঁক’ আবু ইসহাক সেদ্ধ মিষ্টি আলুর কয়েক টুকরা পেটে জামিন দেয় ওসমান। ভাতের অভাবে অন্য কিছু দিয়ে উদরপূর্তির নাম পেটে জামিন দেওয়া। চাল যখন দুর্মূল্য তখন এ ছাড়া উপায় কী? ওসমান হুঁকা নিয়ে বসে আর মাজু বিবি নিয়ে আসে রয়নার তেলের বোতল। হাতের তেলোয় ঢেলে সে স্বামীর পিঠে মালিশ করতে শুরু করে। ছয় বছরের মেয়ে টুনি জিজ্ঞেস করে—এই তেল মালিশ করলে কী অয় মা? পানিতে কামড়াইতে পারে না। উত্তর দেয় মাজু বিবি। পানিতে কামড়ায়? পানির কি দাঁত আছে নি? আছে না আবার। ওসমান হাসে। দাঁত না থাকলে কামড়ায় ক্যামনে? টুনি হয়তো বিশ্বাস করত। কিন্তু মাজু বিবি বুঝিয়ে দেয় মেয়েকে-ঘাস,লতা-পাতা, কচু-ঘেঁচু…
অন্ধকারে উৎস হতে। সুলগ্না মিত্র। আজকাল অনেককেই বলতে শুনি “be positive”, হতাশ হওয়া মানে negative চিন্তা করা। কান্নাকাটি করা বা ইমোশনাল হয়ে পরা খুবই খারাপ লক্ষণ। কিন্তু আমি অবাক হয়ে যাই, কারণ আমার মনে হয় ইমোশনই মানুষকে মানুষ বানায়। যে মানুষের ইমোশন নেই তাদের সাথে যন্ত্রমানবের খুব একটা পার্থক্য, আমি অন্তত খুঁজে পাই না। তাই ইমোশনাল হয়ে পরা, কান্নাকাটি করা, আমার চোখে খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। আশাবাদ এবং নৈরাশ্যবাদ উভয়ই একই মুদ্রার দুটি দিক। ধনাত্বক এবং ঋণাত্মক চার্জ একে অপরের ভারসাম্য বজায় রাখে। একইভাবে আশাবাদ ও নৈরাশ্যবাদ আমাদের জীবনে পাশাপাশি চলে, একেবারে হাত ধরে। ঠিক যেমন একটি পরমাণুতে যেখানে ধনাত্মক প্রোটনগুলি…
লাল সবুজের ডিসেম্বর। (রুপা খানম) সাত টি রং এর মধ্যে প্রতিটি রঙেরই থাকে নিজস্ব এক ভাষা। সেখানে এই লাল-সবুজ যে শুধুমাত্র রঙ নয়, এ যেন লাল-সবুজের ক্যানভাস। যেখানে দেশপ্রেম আর ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে নতুন এক ঠিকানা, যেখানে স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে লাল-সবুজের পরিচয়ে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সাহসী সে গল্পগুলো দিনশেষে প্রকাশ পেয়েছে দুইটি রঙের মধ্য দিয়ে। এ যেন সাহস আর তারুণ্যের প্রতিশ্রুতিতে আঁকা অনন্য এক চিত্র।লাল-সবুজের চাদরে মোড়ানো একটি ছোট্ট দেশ, নাম তার বাংলাদেশ। তেমনিভাবে প্রতিবছর ক্রিসমাসের সময়ে সারা বিশ্ব লাল-সবুজ রঙে আবৃত হয়ে থাকে। খৃষ্টানদের বড়দিন এই ডিসেম্বর মাসে লাল সবুজের সমারোহ চারিদিকে। ক্রিসমাস পালনে রঙের এই বিন্যাসকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।…
বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী মাহমুদুন্নবীর ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৩৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯০ সালের ২০ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯০ সালের আজকের এই দিনে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। মৃত্যুর এত বছর পরও গুণী এই শিল্পী অসংখ্য কালজয়ী গান দিয়ে এখনো দর্শকহৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। তার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- ‘আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে’, ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’, ‘তুমি যে আমার কবিতা’, ‘আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন’, ‘ও মেয়ের নাম দিব কি’, ‘এক অন্তবিহীন স্বপ্ন ছিল’, ‘আমি তো আজ ভুলে গেছি সবই’, ‘মনে তো পড়ে না কোনো দিন’, ‘সুরের ভুবনে আমি আজও পথচারী’, ‘বড় একা একা লাগে তুমি…
মুদি দোকান থেকে শুরু করে ভারী শিল্পের নেতৃত্বে এখন : বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর একটি আবুল খায়ের। ছোট একটি দোকানের মাধ্যমে এ শিল্প গ্রুপের ব্যবসার বীজ রোপণ করেছিলেন প্রয়াত আবুল খায়ের। পরে তাঁরই উত্তরসূরিদের হাত ধরে এটি পৌঁছে গেছে সাফল্যের অনন্য এক উচ্চতায়। সেই গল্প নিয়েই এবারের মূল প্রতিবেদন। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ১৯৪৬ সালে নোয়াখালী থেকে প্রায় শূন্য হাতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন সদ্য তারুণ্যে পা রাখা এক যুবক। জীবিকা নির্বাহে প্রথম চাকরি নেন নগরীর পাহাড়তলী বাজারের এক মুদিদোকানে। পরে নিজেই সেখানে দোকান দিয়েছেন। সেই দোকানের লাভের টাকায় ওই এলাকাতেই গড়ে তোলেন বিড়ির কারখানা। দুজন কর্মী নিয়ে শুরু করেন হাতে বানানো বিড়ি। পরে…
পশ্চাদভিমুখে ফেরা (বৃষ্টি মাসুদ) পুরাতন ক্যানভাসে নতুনের রং তুলি, স্মৃতিগুলো ধূসর জেনেও রঙিন ছবি আঁকি। জীবন কাব্যে হারিয়ে যাওয়া কথামালা খুঁজে খুঁজে, ধরে রাখার চেষ্টা অবিরত দেয়াল কাব্যে সাজিয়ে। আয়নায় যার প্রতিবিম্ব অবিকল সেই যে আমি, সনাতনী সঞ্চিত বাক্সে হাতছানি পাই ধ্রুপদী গল্পের। যতটুকু আছে লেখা কর্ম বাকি এ মানব ললাটে খণ্ডিত হবে সময়ের হাতে সুখ দুঃখ আসে তারই বরাতে। অতৃপ্ত আত্মার আবর্তে থাকে জৌলুসময় প্রেমের স্বপ্ন, স্বার্থপরতার প্রহসনে ভাঙে জীবন কাহিনির রচিত নাট্য। হারানো স্মৃতির সিন্ধু পাড়ে খুঁজি যাপিত জীবনের সুখছবি, ব্যথাতুর হৃদয়ে ঘুম থেকে জেগে দেখি আলোকময় সেই নিষ্কল রবি।
প্রতীক্ষা করছি (খান জান্নাতুল ফেরদৌস আলাপী) অপেক্ষা করছি, প্রতীক্ষা করছি আর মিনতি করছি জীবনের প্রান্তরে যেন রক্তক্ষয়ী উপন্যাস যেন আর একটাও না থাকে। ইতিহাস যেন কথা না বলে ব্যর্থতার। তাই আজ আমি নিমন্ত্রণ করছি আমার কবি কুঠিরে এ ভূ-মন্ডলের প্রতিটি দেশের প্রতিটি রাজাকে। আমার কবি কুঠিরে আপনাদের সকলের নিমন্ত্রণ মহোদয়, এমন একটা রাজা আছে কি তাঁর আদর্শকে আমি কবির নীতি বলে জানবো? বড় ক্লান্ত আমি, রাজার নীতিগুলো কেমন যেন শোষণ হয়ে গেছে! আমি গনতন্ত্র বুঝতে পারছিনা কেবল সৈরতন্ত্র দেখছি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা কলঙ্কে ভরেগেছে। যে দেশে রাজাকে খুন করে নতুন রাজা তৈরি হয় সে দেশের গনতন্ত্র কি পারে সভ্য নাগরিক…
আমি তোমাদেরই একজন (মাহমুদা সুলতানা) ২৫/১১/২১ আমি ভালবাসতে পারি আমার যা আছে সব টুকু উজাড় করে দিয়ে। আমি মেনে নিতে পারি যত অত্যাচার। শুধু তোমাদের ভালবাসি বলে। মেনে নিতে পারি যত জেল জুলুম শুধু তোমাদের ভালবাসি বলে। ভাল না বাসলে কি বিদ্রোহ করা যায়। ভাল না বাসলে কি বিপ্লব করা যায়। তোমাদের ভালবাসি বলেই বিদ্রোহী হয়ে উঠি। আমার বিদ্রোহের নাম ভালবাসা। আমার ভালবাসা নাম কুসংস্কার মুক্ত করা। আমার ভালবাসার নাম অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। আমার ভালবাসার নাম মানুষ হয়ে ওঠা। আমি তোমাদেরই একজন চলে যাব শুধু তোমাদের ই ভালবেসে।
