সুখ-দুঃখের ক্রিসমাস তসলিমা হাসান আজ বড়দিন–মেরি ক্রিসমাস। পুণ্য ধরাধাম মহামানব যিশুখ্রিস্টের আগমনে। ধরনীর বেথেলহেমের জীর্ণ গোশালায় নিলেন জন্ম মেরির কোলে সুখ, শান্তি, ন্যায় প্রতিষ্ঠায়, মানবকল্যানে । সাজবে শহর, নগর, গ্রাম সাজবে চার্চ, সাজবে ট্রি আলোর ইন্দ্রজালে। কারা যেন ধরণিকে বানিয়েছে স্বর্গ । বিশাল বিশাল কেকের চারপাশে লকলকে জিভ। নার্গিস ফুল আর অ্যালসেসিয়ান ডগের গল্পে মশগুল। মানিব্যাগে নোটের মসৃণ পাহাড়। হাতে শ্যাম্পেনের গ্লাস-” থ্রি চিয়ার্স ফর স্ট্রিপটিজ”। দ্রুতলয় অর্কেস্ট্রার তালে উন্মাদনার নৃত্য। উল্লাসের রাত বারোটায় বৈপরীত্য প্রতিচ্ছবি জীবনে বারোটা বাজার। উৎফুল্লের আলোর সামিয়ানা ছেড়ে অদূরে অন্ধকার গলিতে ক্ষুধার্ত পতিতা। নরম শরীরের মাংস বিকিয়ে কেনে এক টুকরো রুটির সুখ অথবা আপন সন্তানের…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
বিজয় দিবস। (শামীমা আক্তার) বিজয় তুমি এসেছিলে পাঁচ দশক পূর্বে এ বাংলার মাঝে, বিদ্রোহী হয়ে নারীদের দেহ ক্ষত-বিক্ষত,ইজ্জত,সম্ভ্রম হারানোর মাঝে, নয় মাস চলছিল বিরতিহীন ভাবে, শেষ হয়নি আজও চলছে ধর্ষণ রূপে, আজ ও প্রতিদিন হচ্ছে হাজারো কন্যা জায়া জননী সম্ভ্রম হারা, ধর্ষিত, লাশ ঘর,কবর, শিশু মানছে না চলছে রক্তপিপাসু নরমাংস খাদকের কর্মকাণ্ড মা হারালো তাঁর যুবক ছেলে,উচ্ছল কন্যার প্রাণ চঞ্চলতা ইজ্জত সম্ভ্রম, তাঁর তো পাওয়া হয়নি উপযুক্ত সম্মান এবং জীবন নিশ্চয়তার দাম, সুন্দর স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীন সত্ত্বায় বেঁচে থাকার আশা ছিল, সে আশা আজ ভেঙ্গে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপশক্তির কাছে, ভেবেছিলাম বিচারের বাণী ন্যায্য সুরে ফিরিয়ে দিবে…
তাতালো তাঁতঘর শাইনি শিফা ২৯-১১-২১ আমি না হয় তুমি নই। তোমার মত সাধ্য কই? শৈশবে বয়োজ্যৈষ্ঠর মুখের পানের ছিবড়া খেয়েছি যেমন করে তেমন করে এখনও অন্ধকারে খাবি খাই। শাড়ির জমিনের চেয়ে পাড়ের দিকেই নজর বেশি যার তাকে আর তাঁতঘর দেখিয়ে লাভ কি? অন্ধকারে মাকুর হাতে আমি শুধু খটখট শব্দ করেই স্বপ্নের জাল বুনে চলি। দিনশেষে পড়ে থাকে আমার ধোঁয়া ওঠা নিঃস্বাশ। তুমি তখন সুখী পাড়ের সাথে রং মিলিয়ে পাঞ্জাবী পড়ো। স্বপ্নের কুচি ঠিক করে সাজিয়ে দাও তার হাতে হাত রেখে।
বিজয়ের হাসি (সৈয়দ মাশহুদুল হক) নয়টি মাসের যুদ্ধ শেষে স্বাধীন করে দেশ বাড়ি ফিরে দেশটা দেখি আধাআধি শেষ। হানাদারের হিংস্র থাবায় মান হারালো ভগ্নী ব্রীজ-কালভার্ট ভাঙ্গাচুরা জ্বলছে ঘরে অগ্নি। কারও বাড়ির নাই চিহ্ন পুরোপুরিই বিরান খানাপিনা নাই অনেকের পরনে নাই পিরান। পিতামাতা ভাইবেরাদর জীবিত নাই যাদের স্বাধীনতার খবর পেয়ে অশ্রু বাড়ে তাদের। চারিদিকে শুধুই কবর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে লাশ একাত্তরের নয়টি মাসের এইতো ইতিহাস। স্বজন হারার দুঃখ ভুলি দেশটা করে মুক্ত সুখে নাচি এই ভেবে যে থাকব না অভুক্ত। আরও ভাবি কথা বলবো হাসি নিয়ে মুখে হিংসা বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে প্রেম নিয়ে বুকে। শোষণ পীড়ন বন্ধ হয়ে দেশটা হবে প্রীতির শাসন হবে…
আমিন খান অভিনেতা পুরো নাম আমিনুল ইসলাম খান জন্ম: ২৪ ডিসেম্বর,১৯৭২ তিনি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানা অন্তর্ভুক্ত মৌতলা ইউনিয়নের এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ফুল নেবো না অশ্রু নেবো, স্বপ্নের নায়ক, বীর সন্তান, বাংলার কমান্ডো, হৃদয় আমার , হীরা চুনি পান্না, পিতার আসন, হৃদয়ের বন্ধন ইত্যাদি। চলচ্চিত্র জীবনে এখন পর্যন্ত তিনি ১৬৫ টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৯০ সালে আমিন খান এফডিসির নতুন মুখের সন্ধানে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন এবং নির্বাচিত হন। এরপর অডিশন দিয়ে টেকার পর একজন পরিচালক তাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহ দেখায়। এই সময়ে আরও তিনটি চলচ্চিত্রের প্রস্তাব আসলেও তিনি সেই পরিচালককে কথা…
তোমায় ভেবে সময় কাটে। আব্দুল অদুদ চৌধুরী (সৌদি আরব, মক্কাহ) ২৫/১২/২০২১ তুমি ছাড়া এই জীবনে বন্ধু নাইরে কেহ আপন; তোমায় নিয়ে দেখে ছিলাম আমার যতো স্বপন। বন্ধু তুমি আমার আপন হবে এই মোর স্বপ্ন; আমার জন্য তোমার হৃদয় তোমার করিও যে আপন। তোমায় ভেবে সময় কাটে রাত্রি শেষে হয় যে ভোর ; তোমার মনে রাখিও মায়া না রাখিও আমায় দূর। পাপের বোঝা আমার কাঁদে আমি কি করি উপায়, কোথায় যাওয়ার জায়গা আমারতো যাওয়ার নাই। তোমায় যতোই আপন ভাবি আমায় না করিও পর। তোমায় বন্ধু ভালোবাসি আমি অদুদ জনম ভর।
কবি ও প্রাবন্ধিক মনজুরে মওলা’র মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অন্তরস্থ দৃষ্টি ও সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধ আকুলতা গোলাম কিবরিয়া পিনু ———————————— কবি ও প্রাবন্ধিক মনজুরে মওলা হারিয়ে গেলেন, ২০শে ডিসেম্বর ২০২০, করোনাকালের এক অংশী হয়ে। কী এক বাস্তবতা আমরা অতিবাহিত করছি, আমাদের অনেক বিশিষ্টজনকে হারালাম ইতোমধ্যে, যাঁরা আমাদের মননশীল অবস্থানকে উজ্জ্বল করেছেন, তাঁদেরই অন্যতম তিনিও ছিলেন। আর কতদিন এমন বেদনার স্ফিতি হবে? আমরা তাতে ডুবতে থাকবো! এমন অন্তরস্থিত কষ্টবোধ জেগে উঠছে–আমাদের! এর মাঝে বসবাস করে–স্মরণ করি–শ্রদ্ধা জানাই মনজুরে মওলাকে। গত ১লা অক্টোবর ছিল, তাঁর ৮০তম জন্মবার্ষিকী কিন্তু করোনাকালের কারণে, আনুষ্ঠানিকতা রহিত হয়, তেমনি অনেক প্রিয়জনও সেদিন তাঁর সান্নিধ্য থেকে দূরবর্তী থাকতে বাধ্য হন।…
তৃষিত ভারী (সুরমা খন্দকার) ২১.১২.২০২১ কতোটা ব্যাথা আর আদ্রতা দখল করে রেখেছে আমার এলাকা জুড়ে। জোয়ারের নদীর মতো এতোটা বেগবান, অথচ ভিতরে কি ভীষণ পুড়ে। যে কান্নায় আওয়াজ নেই সেতো ভিতর জুড়ে বসতি গড়ে। ঝড়ে ভেঙে যায় যার নীড় সেতো ভয় পায় না ভাঙণে ক্ষরণে। দামী পাত্রের জল তুমি আমি যে তৃষিত ভারী। তুমি মাটির কলসী জল হও আমি তৃষ্ণা নিবারণ করি।।
মৃত্যু (রাজিনা চৌধুরী) মৃত্যু যেন সব কিছু এলোমেলো করে দিয়ে যায়। নিরুদ্দেশ চৈত্রের পাতার মতো এ-ঘর ও-ঘর, উঠোন বারান্দার ঘরে আত্বীয়রা ঘোরে, মানুষের আসা যাওয়া চাপা স্বর, প্রত্যেকের চোখের কোনে জমে থাকা কিছু কান্না, আজ কাল মৃত্যুটা যেন ঘন ঘন শুনি, প্রতিদিনের নিত্য খবর যেন এটা। মৃত্যুর খবর পড়লে চোখের ওপর ভেসে উঠে চিরচেনা দৃশ্য, খাটিয়ায় রাখা শবদেহ স্বজনদের বিলাপ, গলায় কিছু থেকে যাওয়া কথার গুমোট, উস্কোখুস্কো চুল, অগোছালো অহেতুক আলাপ, জীবনের ধুসর একটা গ্লানী, অথবা জন্মের নিকট আত্বীয় নাকি দুর আত্বীয় অস্পষ্ট দেহাতী, পায়জামায় লেগে থাকা কবরের কাদা। একটা শূন্যতা, যেন স্টেশন কাঁপিয়ে হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন চলে গেলে খাঁ…
প্রিয় প্রজন্ম। (শিরিন হোসেন) বৃথা যায়নি আত্মত্যাগ, বিজয় এসেছে মাথা উঁচু করে। নতুন প্রজন্ম জানুক সেই সত্যিকারের গল্প। প্রিয় প্রজন্ম, আজকের প্রজন্ম ‘৭১ কে প্রাচীন ভাবো, যুদ্ধ তোমাদের কাছে রুপকথার গল্প। বিজয়কে উপলব্ধি করতে দ্বন্দ্বে পড়ে যাও। তোমাদের ভুল নয়, হয়তো আমরাই পারিনি তুলে ধরতে। প্রয়াস ছিল অপ্রতুল । তবে হ্যা, প্রতিবছর বিশেষ দিনগুলি পালনের আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের চেতনা তোমাদের মাঝে জাগ্রত করে বৈকি! ‘৭১ এর সত্যি একটা গল্প শোনো। আমি একাত্তর দেখেছি। যদিও তখন আমি ছোট। এতো ছোট বয়সের স্মৃতি তখনই মনে থাকে যখন বিশেষ কোনো ঘটনা ছোট্ট ব্রেইনে দাগ কেটে যায়। মস্তিষ্কের নিউরণে নাড়া দিয়ে যায়। সেই সময়ে…
