Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ

এসো জাগ্রত (জাহানারা বুলা) তোমার পালকে বৃষ্টির ফোঁটা অঝোর ধারায় ঝরে আমি পুড়ে যাই খরার আগুনে আষাঢ় প্রত্যাশা করে আষাঢ় বুঝি তোমারই মতন দূরাশার হতাশা আমার চাওয়াকে অবমূল্যায়ন করে দেয় সহসা! পূবালী হাওয়ার দেখা পাওয়া ভার তুমি নাই পশ্চিমে মেঘের কাছেও জল পাই না হাত পেতে নিঃসীমে আড়াল হয় না সূর্য সহসা সংজ্ঞার হাহুতাশ মেঘগুলো সব দূরে উড়ে যায় ঠোঁটে নিয়ে পরিহাস! তবুও আছি চাতকের মত আকাশের দিকে চেয়ে জমিন কাঁপিয়ে বৃষ্টি নামুক শীতলতা দিক ছেয়ে আমার সকল সবুজ-অবুঝ ডালপালা নুয়ে যায় এসো জাগ্রত ভিজে যাক দেহ- প্রেম এইটুকু চায়। ১৭ জুন, ২০২২ ঢাকা।

আরো পড়ুন

অসমাপ্ত প্রেম (সোহেলী পারভীন মণি) তোমার অস্থির অধরে গাঢ় চুম্বন দিলাম বারবার তোমার উষ্ণ স্পর্শে শরীর আমার কেঁপেছিল থর থর জ্বর জ্বর মনে হলো এক নতুন পৃথিবীর গভীরে ডুবে গেলাম অতলান্ত কামনার সাগরে– গভীর থেকে আরো গভীরে। তীব্র অনুশোচনা বোধ– হৃদয় হতে নেমে আসে আমি তার সামনে নতজানু হয়ে আত্মসমর্পণের ভঙ্গিমায় বসে– নিজস্ব সমস্ত সত্বার বিনিময়ে তোমাকেই পেতে চেয়েছিলাম, অথচ তুমি এলে একরাশ কামনার আগুন নিয়ে। নিজেকে বিলিয়ে দেবার পরও তোমার চলে যাওয়া, তোমার ভুলে যাওয়া, আমার তুলনায় যেন তোমার বেদনাবিহীন নিস্পৃহ লুটেরার মতো আমাকে লুট করে তোমার নিষ্ক্রমণ– এ খেলা কেমন! ঘাসেরা,সূর্যালোকে স্বর্ণালী হয়ে অপেক্ষায় বসে আছে বসন্তের যৌবনে…

আরো পড়ুন

খরস্রোতা নদী [সাবিনা সিদ্দিকী শিবা] জীবন এক খরস্রোতা, বহতা নদী। পাড় খুঁজে পাবে তুমি, ধৈর্য্য ধরো যদি। কচুরিপানা পানা হয়ে, এঘাট ও ঘাট ভিড়ে। দিন শেষে ফিরে এসো, সে-ই আপন নীড়ে। এপাড় ভেঙে ওপাড় গড়ে, এই তো নদীর খেলা। পরিশেষে বুঝি আমরা, শেষ হলে বেলা। কত-শত দুঃখ স্বাক্ষী, খরস্রোতা নদী। সারাজীবন বয়ে চলে, একাই নিরবধি। ভাঙা-গড়ার মহোৎসব, মেতে থাকে পাড়ও। এক জীবনে ফুরিয়ে গেলে, নেই ক্ষতি কারও….

আরো পড়ুন

“ভালোবাসা মানে” ভালোবাসা মানে তোমাকে নিয়ে চিন্তার মেঘে ঢাকা ভালোবাসা মানে তোমার বুকে মাথা রেখে একটু জড়িয়ে থাকা ! ভালোবাসা মানে তোমার সাথে দুষ্টামি কথা গুলো নির্দ্বিধায় বলা ভালোবাসা মানে তোমার সাথে আমার পাশাপাশি পথ চলা! ভালোবাসা মানে খুনসুটি রাগারাগি আর তোমার ধমকে উঠা ভালোবাসা মানে তোমার কথায় কান্না করে অভিমান করা ! ভালোবাসা মানে মন আমার আবেগে শিহরিত ব্যাকুল বন্য ভালোবাসা মানে ছোটো ছোটো চিন্তা আর খেয়াল তোমার জন্য! ভালোবাসা মানে তোমার ঠোঁটে আমার ঠোঁটের আলিঙ্গন ভালোবাসা মানে তোমার আমার শরীরের মিলন! ভালোবাসা মানে তোমার উতপ্ত নিঃশ্বাসের অনুভূতি ভালোবাসা মানে তোমার কাধে মাথা রেখে নিঃশব্দ তিথি! ভালোবাসা মানে আমার…

আরো পড়ুন

বৃষ্টি ভেজা স্বাদ কত কাছে চাও! দুকূল ভাসাতে, জলে ধুয়ে দিতে চাঁদ ; তোমার দু-চোখে, সেঁধিয়ে রেখেছ, জাদুকরী এক ফাঁদ; ফাঁদে ধরা দেয় পুণ্য জোছনা মেঘের জলজ মেয়ে; লুটিয়ে পড়েছে খসড়া জীবন প্রণয় ঝুমকো পায়ে। তুমি যদি চাও উড়িয়ে বাতাস বৃষ্টি আসবে ছুটে তুমি যদি চাও ভিজবো দু’জনে চুপিচুপি একজোট। তোমার বাহুর ভিজে ভিজে ওমে খরসুখ এই মনে খুলে খুলে পড়ে বকুল পাপড়ি ক্ষণিকের চুম্বনে। খুলে দিলে বলে সব কটি বাঁধ থইথই এই মোহনা করেছো পূর্ণ সমুদ্র সত্তা এসেছে চাঁদের বন্যা। তোমার সোহাগে আতুর দু’চোখে জেগেছে গোপন মিথিলা পিয়াসী চাতকী ডেকে ডেকে বলে তুমি কি সেই রঙিলা। এই আমি আর…

আরো পড়ুন

আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে (এম এ বাশার) আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে গাছে গাছে কদম ফুল, দেখতে বেশ লাগে! কদম ডালে পাখি বসে গান গাহি যায় মন আনন্দে, তোমার আশায় পথ চেয়ে রয় ঐ কদম গাছের তলে! আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে গাছে গাছে কেয়া ফুল, সুবাস ছড়ায় তাতে! বন্ধু তুমি নাহি এলে ফুল সুবাসের মাসে, তোমার কথা মনে হলে দুঃখ মনে লাগে! ফুল সুবাসে পাখি হাসে হাসে সর্ব মানব মন, মোর মুখে হাসি নাহি দুঃখ সঙ্গী জীবনভর! এম এ বাশার নয়াপাড়া-মাটিফাটা, শ্রীবরদী-শেরপুর।

আরো পড়ুন

মাটি (শিরিন আফরোজ) কাল মহাকাল ধরে তোমার স্পর্শে বসবাস সকল প্রাণের, তোমার কোলে দোলে পৃথিবীর স্বর্গ নরক সকলের । তোমার ঘ্রাণ আপন আপন টান তোমাতে বাঁধা জীবনের খেলাঘর, কিছু চাওয়া আর কিছু পাওয়া কিছু বলা আর কিছু না বলায় শেষ হয়ে প্রাণ তোমাতেই বাঁধে চিরস্থায়ী ঘর । তোমায় ভেদ করে জন্মে গাছপালা অন্ন দাও তুমি বাঁচার, মায়াবী তুমি সয়ে যাও সবি তোমার বুক পাতা বিছানায় জন্মে বাঁচার আহার । তোমার এক পিঠে সকলের চলাচল চিরনিদ্রা অন্য পিঠে, তোমার ঘ্রাণে মিশে যায় প্রতি প্রাণ ! বিধাতার ডাকে প্রাণের মিলনমেলা হবে হাশরের মাঠে ।

আরো পড়ুন

আষাঢ়ী কদম (ফাতিমা কানিজ) দীঘল শূন্য পথে সবুজের বুক বিদীর্ণ করে একটানা ঝরছে তো ঝরছে… বিরহী বৃষ্টির ভৈরবী শ্লোক অবশেষে সুখ নদীর খোঁজে সেকি অবিরাম ছুটে চলা। ঝরা পাতায় লিখে যায় মেঘ বালিকার গল্প। চাতকের চঞ্চু ছুঁয়ে… নিঃশব্দে বিনুনি গাঁথে অস্পষ্ট কিছু কথামালা, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে বিন্দু বিন্দু প্রেম। জৈবিক নিঃসঙ্গতার আড়াল থেকে বেরিয়েএকটি বর্ষাস্নাত কদম আগমনী গানে শান্ত করে আষাঢ়ীর কাঠপোড়া চিবুক, অধর। রোজনামচায় সঞ্চিত হয় অবিনাশী আষাঢ়ী কদমের মাদকী মাতম।

আরো পড়ুন

মান অভিমান (গুলশান আরা ইসলাম) বার বার ফিরে আসি কি এক মায়ায় তোমার সে রেখে যাওয়া স্মৃতির ছায়ায়, হেরে যাই বার বার বিবেকের কাছে সাত পাঁচ ভাবি আমি সামনে ও পিছে, হৃদয়ে লালিত যত সংশয় ক্রোধ সেথা এসে থামে সব বিতর্ক বিরোধ, বারে বারে খুঁজে ফিরি এর সমাধান এ বিরোধ থেকে যদি পাই পরিত্রাণ! শত বার শত ভেবে পাই না তার কুল হিসাবের শেষে দেখি সব মিছে আর ভুল, কেটে যাক সুখে তোমার প্রতিটি প্রহর যুগ,কাল, মাস, দিন, হাজার বছর, বেঁচে থাক তব তোমার মান-সম্মান বিবেকের প্রতি তুমি হয়ো যত্নবান, হোক তোমার প্রতি ক্ষণ স্বর্গ সমান চাইব না কভু কিছু…

আরো পড়ুন

দুঃখ বিলাসি (হাফসাতুননাহার সুরভি) তাং ১৯/০৪/২০২২ইং আমি দাতা নই বিধাতা! জীবন নদীর মোহনায় দাড়িয়ে সবি উজাড় করি দিলাম যারে, সে যে শঠ- চিনিতে পারিনি তারে। প্রেম ভিখারি বেশে দাঁড়াল দ্বারে মোর দিয়েছি প্রেম আঁজলা ভরি, মন নিয়ে সে কি হেলাফেলা তবে কেন নিল? ছল করি। নিয়ে গেল প্রেম সুখ ভালবাসা বিনিময়ে ভাঙ্গিল স্বপ্নিল আশা। রিক্ত ,নিঃস্ব আহত হয়ে ভেসে চলেছি তরঙ্গিনীর উত্তাল তরঙ্গে, অবহেলার গ্লানি আঁধার তমসা আছে মোর সঙ্গে । তব দুঃখ বিলাসি হয়ে দুঃখ করেছি জয়, দুঃখের মাঝে খুঁজে নিয়েছি বাঁচার আশ্রয়! জানি দুঃখ আমার নিত্য সাথী তবুও দুঃখ যেন আমার না, যদিও সুখ পাখিটা পলাতকা তবুও সুখ…

আরো পড়ুন