প্রাণের নবী মোহাম্মদ (সুরমা খন্দকার) নবী আমার খোদার প্রেমী খোদার-ই পিয়ারে শান। পথের দিশা নবী আমার প্রাণ প্রদীপের নূরের ধ্যান। নবীর প্রেমে মশগুল হয়ে হয় না কেহ হিংস্র নবীর জন্যে যান কোরবান ঈমানেরই অংশ। কটুক্তি আর অমার্জনীয় আদবে হয় না নবীর ক্ষতি, দুনিয়া আর আখিরাতে তিনিই সবার গতি। স্বয়ং মুর্শিদ যার প্রেমে পাগল ত্রিভুবন সব তাঁরই আগল, তাকেই করো অসম্মান সময় থাকতে ক্ষমা চাও নচেৎ শাস্তি হবে আঞ্জাম । কলিজায় যে আঘাত দিলি তুই তো আমার ভাই এক বোঁটায় দুটি ফুল ফোটালো মালিক সাঁই । এক পৃথিবীর শ্বাস নিই তুমি আমি দু’জনে জাত পাত কেন খোঁজ তুমি বন্ধু সুজনে।
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
প্রেম নগরে তুমি কোন এক অবসরে এসো, এসে দেখে যেও দু’জনার প্রেম নগরের কি বেহাল দশা; কেমন জানি অচেনা মনে হয় চিরচেনা অতি সাধের এই প্রেম নগরটা। কোন কিছুই যেন নেই আর আগের মতো, তোমার বিরহে প্রকৃতি হয়ে উঠেছে বিরূপ। চৌচালা টিনের ঘরটা উড়ে গেছে অশুভ ঝড়ে; শূন্য ভিটে, সবুজ গাছপালায় মড়ক লেগেছে। সর্বত্র পোড়া মাটি আর বাতাসেও পোড়াপোড়া গন্ধ, ছোট্ট নদীটা মরে একেবারে জলশূন্য নদীপাড়ে শরৎকালে কাশফুলের আর দেখা নেই; শান বাঁধানো পুকুর ঘাটে শেওলা জমেছে। বাগানের ফুল গাছগুলো একটিও অবশিষ্ট নেই ভোরের পাখিরা কিচিরমিচির করতে আসেনা আর আমগাছে ঝুলানো দোলনাটায় দোল খায়নি কতোদিন। প্রাণবন্ত সবুজ সুনসান প্রেম নগরটা…
আবার ফিরে আসতে চাই (মুন্নি নূরুল হুদা) ০১/০২/২০২২ আবার ফিরে আসতে চাই এই বাংলায় কবির মত শঙ্খচিল শালিকের বেশে নয়, বাবার আদরের সেই ছোট্ট খুকুটির বেশে। ফুল কুড়াবো সেই শিউলিতলায় ভোরের মৃদুমন্দ হাওয়ায়। কিংবা কৃষাণীর ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে যেখানে খইয়ের ধান ছড়াবে শিশু উঠোনে, ছুটে বেড়াবো সরিষার ক্ষেতে আপন মনে ঘুঙুরপায়ে সাঁতরাবো সারাদিন দিঘিরজলে। ফিরে আসতে চাই আমি সেই বাংলায়। সঙ্গী হতে চাই সেই ডিঙি নায়ের, পার হবো নদীর এপার ওপার। দূর থেকে আসবে ভেসে ভাটিয়ালি সুর, পালতোলা নৌকার কোন মাঝির কন্ঠে মন ভরাবো সেই মধুর গানে। মায়ের কোলে ঘুমিয়ে যাবো পুঁথির সুরে, দুচোখ জুড়ে রূপকথার স্বপ্ন বুনবো জোৎস্নামাখা চাঁদের…
কহরদরিয়ার কবিতাবিরহ মুহম্মদ নূরুল হুদা (মুনূহু) বলো, কোথায় সেই কহর, কোথায় সেই চম্পকনহর? কোথায় বালকবালিকার বিহঙ্গশিস্, কোথায় সেই ঢকঢক আদিবিষ? আমিও যে আমার নই এ কথা আমার চেয়ে আর কে বেশি জানে? তাহলে তুমি কি করে আমার হবে, কিংবা আমি কি করে তোমার? অঙ্গ দেখিয়ে তুৃমিও কত বঙ্গ যে জয় করলে হে আদিনিসঙ্গ? তারপর নিজে নিজেই বনে গেলে মহামতি হিমালয়শৃঙ্গ! তুমি কি চেঙ্গিস না হলেও অন্তত শেষমোগল সম্রাট বাহাদুর শাহ? কেবল প্রেমের শ্লোক উচ্চারণ করেই কি বাজি ধরলে অমরত্বের? বটে, তা তো ধরবেই। তোমার হাজারকোটি বছরের ইতিহাসে কে সেই নির্বিকল্প অমর-অজর? কে সেই অদ্বিতীয় প্রমাণক? না, নেই কোনো সদুত্তর, নেই…
শিশুকে এমন শিক্ষা দেওয়া উচিত যা তাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে এবং তার জীবনে সফলতা আনবে।আর এজন্য কয়েকটি বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া যেতে পারে। এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন কিছু শিক্ষা- ১. টিভি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে শিশুরাও প্রচুর সময় ব্যয় করে। তবে এ সময় যেন দৈনিক এক ঘণ্টার বেশি না হয় সেজন্য শিক্ষা দিন। ভিডিও গেমস ও মোবাইল ফোনেও যেন সব মিলিয়ে দিনে এক ঘণ্টার বেশি সময় ব্যয় না করে। একদম না করলেও অসুবিধা নেই…. ২. প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি সাহিত্য বহির্ভূত বই পড়তে দিন এবং এক পাতা সারাংশ লেখা অভ্যাস করান। ৩. সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য…
জীবনে প্রথম (ফরিদা বেগম) ০৬.০৬.২০২২ জীবনের প্রথম ভালোবাসা কখনো ভুলা যায় না, মনে হয় কোন কষ্টও স্পর্শ করে না হাজার কষ্টের মাঝেও এর স্মৃতি মুছা যায় না। এই ভালোবাসা এতোই সুন্দর, মনে হয় পৃথিবীর যাবতীয় কুৎসিত জিনিসকে তখন লাগে মধুর। জীবনের প্রথম সম্পর্ক অনেক আনন্দের, তখন সারাক্ষণ শরীর ও মন থাকে ফুরফুর। জীবন প্রথম মন থেকে চাওয়াটা অনেক দামী, এই দামী জিনিসটা যদি– প্রথম চাকুরীর টাকায় হয় তখন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে– দেখো দেখো রাজা রাজা মহারাজা হলাম আমি। জীবনে প্রথম বাবা ও মা মনে হয়– আঁধার জেগে জেগে প্রতীক্ষার পূর্ণতা ও পূর্নিমা। জীবনর প্রথম দুঃখটাও অনেক কষ্টের হয়,…
ভোরে ফোটা ফুল (যুথিকা জ্যোতি) ফূল হয়ে ফূটলি তোরা সবুজ গাছের ডালে দেখতে তোদের বিড়ালছানা মুখটি আছে ফুলে। ধর নেই লেজ নেই নেই কোনো বিকার আকারে ছোট উচ্চতায় খাটো বিধির এমনই বিচার। আগলে রাখা পাতার মাঝে লাগছে ভারী মিষ্টি নজর ফেরায় সাধ্য কার স্রষ্টার এমনই সৃষ্টি। সকাল সন্ধ্যে ছড়ায় তোদের মনোহারী সৌরভ হয় না যার বিকল্প এটাই তোদের গৌরভ। গাছেই তোদের বসবাস গাছেই তোদের আশ্রয় রাখাল বালক স্পর্শ করলে দিসনে তারে প্রশ্রয়। কিউট তোদের মুখমালা কিউট তোদের হাসি হাওয়া এলে খাবি দোলা করবি অনেক খুশী। নাজুক তোদের বদনখানি লাজুক তোদের মন স্পর্শ করলেই যাবি ঝোরে ভাঙ্গবে তোদের বাঁধন। ইচ্ছে করে…
তোমার বাঁ পাশের কবরে [মো. আসাদুল হক] (জহির মোল্লার স্মরণে, নিবেদিত কবিতা) কতোটা পথ ভ্রমি এলাম আমি- আর, তুমি কি না- গেলে ঘুমি ? তোমার প্রিয়া ডাকছে ; উঠো তুমি- কি হলো ? শুনছো না ? অভিমান করছো বুঝি ? জাগো, তোমার সব আবদার আমি মানতে রাজি- তবু তুমি, তোমার চোখ খুলো যতো কথা তোমার ? আমি শুনবো, তুমি বলো । লক্ষ্মীটি আমার ! দেখো, দেখো একটিবার চেয়ে ? কও কথা, তোমার প্রিয়ারে তোমার বুকে লয়ে ! আমি তোমার হয়ে এসে গেছি তোমার আমার প্রেম নয়গো মিছামিছি আমি আর ফিরে যাবো না ! ওগো আমার প্রিয়তম, তুমি চোখ খুলো না…
“প্রকৃতি রাজা” (নাজরানা নীলু) ৭/৬/২০২২ হে প্রকৃতি রাজা, এবার আষাঢ়ের কদম গুচ্ছের সাথে আর দুটো কদম বেশি জুড়ে দিও। আমি আসবো তোমার অভিসারে অতি সংগোপনে। আগামী শ্রাবণের ঝুম ঝুম বৃষ্টিতে তোমার সাথে ভিজে হবো একাকার। তুমি কিন্তু গাঢ় সবুজ ছড়িয়ে দিও দিগন্ত জুড়ে, আর আমি নীল শাড়িতে হবো নীলাঞ্জনা!! মন ময়ূরী পেখম তুলে নাচবে তালে তালে অতিব যত্ন করে ময়ূর পাখে লিখে রাখবো তোমারই নামখানা। গাঢ় সবুজ ধান ক্ষেতের আলপথ ধরে হাত ধরে হেটে যাবো অচীনের অজানায় দুজনা। ফুল আর পাতার সনে করবো মিতালী নীল সবুজের বাসর রচে হাতছানিতে ডাকবে গোধূলি। মন পবনের পাখনা মেলে উড়ে যাবো নীলাম্বরীর খুব কাছে,…
প্রথম চুম্বন (জাহানারা বুলা) প্রথম চুম্বন ছিলো আর্ত-ভয়ার্ত-ভয়ানক। তার পর, নির্ভরতায়। সেই থেকে আমরা আপন। পরিজন আমাদের পর। সিঁড়ি দিয়ে দুরুদুরু নামা। প্রেমে আর হয়নি থামা। কলেজে’র গেটে দাঁড়িয়ে ইশারায় শিস বাজিয়ে উচাটন করতো আমায়। বায়োলজি-ফিজিক্স থেকে উড়ে যেতে পড়াগুলো সব কে পারে থামায়? ছুটি হ’লে ছোবল মেরে ব্যাগটাকে কাঁধে চড়িয়ে চলতাম গেট পেরিয়ে পাশাপাশি হেঁটে দু’জনায়। বছর দুয়েক ওভাবেই। পরে সে উধাও কি ভেবে জানতে পারিনি আজও তো, চোখ থেকে জল গড়ালে মা আমার বন্ধু হতো! এর পর দ্বিতীয় এলো। মাথাটা যে আবারও গেলো! পাবলিক লাইব্রেরিতে অনাহারে প্রেম সিঁড়িতে। রেসকোর্স মায়দানে যেয়ে সময় কি জবুথবু ছিলো গাছের আড়ালে তখন’ই…
