মিলনের সাতকাহন (কুসুম তাহেরা) কিংকর্তব্যবিমূঢ় তোমার খেয়ালিপনা শহর জুড়ে লাশের মিছিল প্রেমে বাড়ছে দেনা! পৃথিবীর বেদনা প্রেমের খরা ফুরিয়েছে মোমবাতি সন্ধ্যা আসিতে নির্জন নদী রোমাঞ্চিত জলধী! প্রেম কি জাগাবে সূর্যকে আজে ভোরে? পাথরের চেয়ে প্রাচিন ইচ্ছা ডুকরে কেঁদে ফেরে। জল জোছনার উশৃঙ্খল টেউ রাতের ময়ূরবাহন কৃষ্ণের সুরে বেজে ওঠে দেখো মিলনের সাতকাহন!
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
ঊষর জলের আলিঙ্গন [দিলু রোকিবা] ১৭/৬/২০২১ কোন এক পড়ন্ত বিকেলের পরিপাটি প্রদীপে নেমেছিল বৃষ্টি দৃষ্টির আলিঙ্গণে… যখন ছিলাম ভরা যৌবন প্রাপ্ত শৈশবের ফুল তোমার স্নেহভরা বুকে লুকানো ভালোবাসার মুক্ত দুটি মনের সম্মিলনে- কোনো এক বৃষ্টিভেজা বিকেলে বুকের জমিনে কমললতা প্রাঙ্গণে প্রশ্রয় দাও নি বলে আজও ভেজা হলো না। তোমার আদুরে যৌবনে কদম ফোটে প্রতি বর্ষায়, আমার পুষ্পিত প্রেমের শতদল থেকে একটা একটা করে মেঘমেদুর পাঁপড়ি খসে পড়ে তোমার পদ্মদীঘিতে। কোন এক দুরন্ত মন উচাটন বুকের ব্যালকনিতে মাতাল ময়ূরের কেকানৃত্যে, বর্ষা ঝরেছিলো মনে নেই? তবে যৌবন ফুটেছিলো সে বর্ষায়, নিশ্চিত হয়েছিলাম। শুনেছি..চোখে চোখ পড়লে, বুকে বিদ্যুৎ চমকায়! ভরা গাগরীর জলগোধুলীর পথে,…
বাবা’র আঙুল ।। এবিএম সোহেল রশিদ।। [বাবা দিবস] হিমালয় দেখিনি, বাবাকেও দেখিনি শুনেছি আগলে রাখে সমস্ত আয়োজন মিটায় প্রয়োজন, সামলায় ঝড়ঝাপটা— হিমালয় নাকি শাসন করে অস্থির আকাশ আর বাবা! খুব যত্নে রাখে তাঁর ‘পরিবার’ সহজে উজার করে দেয় নিজ জীবনটা। বাবা একদিন পূর্ণোদ্দমে মুক্তিযুদ্ধে ছায়াহীন আমরা, হলাম অপেক্ষানদী নোনা ঢেউয়ে ভিজে ওঠে চোখসৈকত— ছুঁয়ে দেখিনি বিসর্জনের জোয়ারভাটা জানি না কতটা আঘাতে ভাঙে বুক আত্মোৎসর্গে কী ছিল তাঁর অভিমত। . স্বাধীনতা পেলাম, হারালাম বাবার উত্তাপ স্নেহের আদরে ভেজা আর হলো না আমি যতবার ডাকি, মুখোমুখি মানচিত্র— স্মৃতির আকাশে মাখি ভালোবাসার রোদ জানি না ভালোবাসায় কিসের অবরোধ? বাবার রক্তে ঋদ্ধ মৃত্তিকা আদিগন্ত…
বৃষ্টির ছড়া (নাজিরা পারভিন) বৃষ্টি পড়ে ঝমঝমিয়ে টিনের ঘরের চালে বৃষ্টি নামে বনবাদাড়ে বিল নদী আর খালে। বৃষ্টি মাথায় জোড়ায় জোড়ায় ভাসছে কোলা ব্যাঙ জুটি বেধে মনের সুখে ডাকছে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ। বৃষ্টি জলে গাছের ডালে ফুটছে কদমফুল বৃষ্টি জলে বান ডেকেছে ভরা নদীরকূল। দিনে রাতে ঝুম বৃষ্টি আনছে ডেকে বান বানের জলে যাচ্ছে ডুবে ক্ষেতের পাকাধান। দস্যি ছেলে কাদাজলে উঠছে খেলায় মেতে তুলতে ধান ছুটছে চাষি পাকা ধানের ক্ষেতে। বৃষ্টি জলে যাবে যখন শাপলা ফোটা বিলে দেখবে মজার ঘর বেঁধেছে শাপলা শালুক মিলে। বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর সকাল দুপুর রাতে বর্ষা এলেই আমার এ দেশ নতুন রূপে মাতে।।
পদ্মা সেতু [তসলিমা হাসান] পদ্মাসেতুটা শরীয়তপুরের নয় পদ্মাসেতুটা ফরিদপুরেরও নয় পদ্মসেতুটা টুঙ্গিপাড়ারও নয় বরিশাল বা খুলনাবাসীরও নয়…….. পদ্মাসেতুটা পৃথিবীর বুকে নিখুঁত উপমাময়! পদ্মা নিয়ে কিসের এতো রাজনীতি? পদ্মাসেতুটা তাড়ায় মনের ভীতি। পদ্মাসেতুটা বাঙালির উঁচু শির; পদ্মাসেতুটা শ্রেষ্ঠ রুপেই বিস্ময় পৃথিবীর! পদ্মাসেতুটা উন্নয়নের জোয়ার পদ্মাসেতুটা শ্রেষ্ঠ আলোক ফোয়ার। পদ্মাসেতুটা বাঁধা না মানার ঢল; পদ্মাসেতুটা বাংলাদেশের অর্জিত ফলাফল। পদ্মাসেতুটা উন্নয়নের সাড়া পদ্মাসেতুটা শক্ত ভিতেই খাড়া! পদ্মাসেতুটা জোরা লাগানোর সেতু; দিনবদলের তাড়া এবং চমকিত ধুমকেতু। পদ্মাসেতুটা স্বপ্ন সফল কাজ দেশ ও জাতির সফল হাসিই আজ বাঙালির মনে তৃপ্তিভরা সুর; বিতর্ক নয়…সব মানুষের উৎসাহ ভরপুর! পদ্মাসেতুটা না পাওয়া সব ভয় পদ্মাসেতুটা তাড়ায় অবক্ষয় পদ্মাসেতুটা…
আমার দেশ (এম নুরুজ্জামান বাচ্চু) ১৮/৬/২২ ইং আমার দেশ সোনার দেশ,সোনা ভরা; ফসলেতে মুখরিত ভালোবাসা গড়া। ফুলে ফলে লিলায়িত শস্য মনকারা! মেঘদূতের বাদলে সুরভিতে তারা। অহমিকা নেই মনে শ্রাবণের ধারা; অধীর আগ্রহে সিক্ত ভূমিতে প্রাণীরা। ব্যস্ত ব্যাকুলতা পথে গতিময় নড়া; অসহায় হয়ে যায় ঝড়ময় মরা! চির সবুজ অম্লান তুমি বাংলাদেশ ; মাঠে ঘাটে কলরব বাউলের বেশ। ফুলে ফলে ভরা শস্যে-সৃজন স্বদেশ; আগমনী বার্তা নিয়ে সোনালী আবেশ। পুষ্প কাননে হিমেল নয়নে আদেশ; কড়ানাড়ে মনোরমা পল্লব নির্দেশ।
কালো বউ (ফারজানা ইয়াসমিন) আমার দুইজন নিজেদের পছন্দে বিয়ে করেছি। দুই পরিবারের কেউ মেনে না নিলেও মানতে বাধ্য হয়েছে। যা হওয়ার হয়ে গেছে। কিছু করার নেই। বিয়ের কথা জানতে পেরে শশুর আব্বা আমাকে ঢাকায় দেখতে এলেন। দেখে চলেও গেলেন। জানি না তার আমাকে পছন্দ হয়েছে কিনা। ফোনে রনি (আমার স্বামী) শাশুড়ী মা-র সাথে কথা বলতে দিল। আমাদের বাড়ি যেতে বললেন তিনি। আমার বাবা এলেন না আমাকে দেখতে।মা ছোট বোনকে নিয়ে চুপচাপ দেখে গেলেন। কেমন আছি আমি। হাজারো চিন্তা নিয়ে মা কিছু না বলে চলে গেল। যাই হোক বাড়ি গেলাম। বড় ছেলের বউ। ছেলে তাদের এত সুন্দর। বউ কালো! তাদের মনেও…
কোন মুগ্ধতা নেই (তসলিমা হাসান) ইচ্ছে করে সমস্ত ঘুম এক পাশে রেখে কারো চোখে মুগ্ধতা খুঁজি। এই মুগ্ধতা যেন তেন মুগ্ধতা নয়। চোখের ক্লান্তি, মনের ক্লান্তি দূর করে যে, সে মুগ্ধতা আমি বারংবার খুঁজি। কিন্তু পাই না। কিছুই পাই না। এত এত চোখের ভিড়ে ক্লান্তি দূর করার মতো কোনো অক্ষি খুঁজে পাই না। এক বিকেলে আমি বসে ছিলাম উদাস মনে আমার নোটবুকের শব্দগুলো বার বার তিরস্কার করে বলছে “ওরে। উদাস মনে বসে থাকা পাগল হওয়ার লক্ষণ” ভালো ভালো শব্দ লিখ” এক মুহূর্তে আমার মনে হলো তাহলে শান্তি খুঁজতে গিয়ে আমি কী ভুল পথে এগোচ্ছি? তার পর কেটে গেল কয়েকদিন, সপ্তাহ,…
মায়া হরিণ [সুমনা খান] এ শহরের মানুষগুলি বড্ড বেরসিক! বিষাদের চন্দ্রবনে বসে, প্রাণ খুলে হাসতে জানে না- পাখির কলকাকলিকে ভাষায় রূপ দিতে জানে না! এখানে,সোনার হরিণের পিছু ছুটতে ছুটতে সবাই- মায়া হরিণের কথা বেমালুম গেছে ভুলে সত্য,সুন্দর,সরলতাকে- দিয়েছে দূরে ঠেলে। এ শহরের মানুষগুলি বড্ড একা! প্রাচীন মৃত আত্মাদের সাথে কথা বলতে জানে না- আপন পরিচয়কে খুঁজতে জানে না মায়ের কোলে শুয়ে- গল্প শুনতেও জানেনা, জানেনা ভালোবাসতে- আপন আত্মার মৃত্যু হলে পারে প্রাণ খুলে হাসতে! প্রেম-প্রকৃতি ভালোবাসার -মোহ কাননে, এদের দৃষ্টি রয়েছে বাঁধা এক একজন মানুষ কেমন বিষম গোলকধাঁধা! এ শহরের মানুষগুলি সোনার হরিণের পিছু ছুটতে ছুটতে মায়া হরিণকে গেছে ভুলে-…
নিজের ঠিকানা [ফরিদা বেগম] ১৮.০৬.২০২২ মেয়ে তোমার বাড়ি কই ? আমিতো জানি তোমার বাড়ি এই গাঁয়ে, শ্বশুরবাড়ি ঐ তোমার বাড়ি কই গো নারী তোমার বাড়ি কই? জন্ম নিয়েছিস এই বাড়িতে, শৈশব যৌবন সব কেটেছিস এই গাঁয়েতে, শিক্ষা দীক্ষা আনন্দ সব করেছিস এই গাঁয়েতে, ভাত রান্না করিস পরের বাড়িতে, আপন ভেবে বাস করিস পরের বাড়িতে, যেমন পরের ঘরে বাঁধে বাসা বাস করে চড়ুই তোমার বাড়ি কই গো নারী তোমার বাড়ি কই? শৈশব কৈশোর কাটলো বাপের আশ্রয়ে যৌবন কাটলো স্বামীর সাথে শ্বশুরালয়ে বৃদ্ধ কালে আশ্রয় নাই আর ছেলের কাছে রই। তোমার বাড়ি কই গো নারী তোমার বাড়ি কই?
