ডোমিনো (জাহানারা বুলা) (পর্ব-৪) কান্নাকাটি শেষ করে ফ্রেশ হয়ে নিলো স্মৃতি। আলমারি খুলে একটা টিশার্ট আর ট্রাউজার বের করে নিলো। তাই পরে নিয়ে ডাইনিং টেবিলে গেলো। ড্রইং কাম ডাইনিং। সেখানকার সোফাতেই বসে ছিলো স্মৃতির মা। মেয়ে না খেয়ে আছে তাই অপেক্ষা করছিলো মা। স্মৃতির মা দেখতে পেলো মেয়ের মুখটা এখনো থমথমে। তাই আর এগুলো না। ঢাকা দেয়া ভাত তরকারি উদোম করে অল্প একটু ভাত আর লাউ চিংড়ির তরকারি তুলে নিলো পাতে। এক দুই লোকমা খেয়ে ঝট করে উঠে গেলো। হাত ধুয়ে নিয়ে শোবার ঘরে চলে গেলো। বেড কভার সরাতে গিয়ে দেখলো পায়ের কাছে রাখা কম্ফোর্টারটা আজ গায়েব। শীত গরম বারোমাসই…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
আগুন [আরেফিন শিমুল] আগুন তুমি ফাগুন রঙা পোড়াও গিয়ে বন কেন তুমি গিলে খাচ্ছ নিরীহ মানুষ জন? দোহাই তোমার ক্ষান্ত হও জীভটা খাটো করো আর বেড়ো না আর এসো না লাগাম টেনে ধরো। আগুন তুমি হতচ্ছাড়া কোন দয়া মায়া নেই সবার বুকে জ্বলছ তুমি নেচে বেড়াও ধেই ধেই। ১০ জুন ২০২২ কুমিল্লা।
পোস্ট অফিস এলিজি ঝর্না রহমান পোস্ট অফিস নিয়ে আমার আবেগ অন্যরকম। কারণ আমি পোস্টমাস্টারের মেয়ে। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে দেখেছি আমাকে সবাই বলে মাস্টার সাবের মেয়ে! আমার জন্মের আগেই আব্বা ‘মাস্টার সাব’ উপাধি পেয়ে গিয়েছিলেন, সেটা স্কুল মাস্টার হিসেবে। আব্বার প্রথম জীবনের চাকরিটা ছিল গ্রামের স্কুলে। তখনই তিনি ‘মাশ্টর’! পরে যোগ দিলেন পোস্টাল ডিপার্টমেন্টে। প্রথমে ক্লার্ক পদে। পরে পোস্ট মাস্টার। সেই থেকে আব্বা মাস্টার সাব! তো পোস্ট মাস্টারের কন্যা হওয়াতে দেশের সব পোস্ট অফিসকে মনে হত আমার ‘বাপের বাড়ি’ ( আমরা থাকতামও পোস্ট মাস্টার্স কোয়ার্টারে)! প্রযুক্তির বিকাশের কল্যাণে চিঠিপত্রের জায়গা দখল করল ইমেইল আর ডাকবিভাগের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়ালো কুরিয়ার সার্ভিসগুলো।…
করুণ বিলাপ (সুরাইয়া সুলতানা) ০৯-০৬-২০২২ মেঘের ভাঙন জানে আকাশ কতো অজস্র জলের ক্ষরণ তার, বিবাগী মনই জানে শূন্যতার খোঁজ কী তিব্র বেদনায় বুকে হাহাকার। দেখেছো আমাবস্যার কঠিন অন্ধকার! যা ঢেকে ফেলে জ্বলজ্বলে শুকতারা, কতো জীবনের সুখ ঢেকে যায় শুধু বেঁচে থাকার তাগিদে দিশেহারা। আমরণ কিছু জীবন কাঁদে অনন্ত অন্ধকারে মুখ গুঁজে, কতো শ্রাবণের ধারা বয়ে যায় শুধু ফাগুনের বিলাপ খুঁজে।
বাঁ পাশের আমি (পারভীন আকতার) তোমার বাঁ পাশে আমার ঠাঁই হয়নি কখনো জানি আমার জীবনে সূর্যোদয় যখন এনেছিলে জানতাম একদিন ঠিক গোধূলি আসবে;সূর্যাস্ত হবে। তুমি সুডোল মনের গভীরে গিয়ে খনন করেছো বন্যা বয়ে দিয়েছিলে মাথুরের কূয়ার মত প্রেমলীলায়। অজস্র জলরাশির ভিড়ে নুড়ি কুড়ানোর খেলায় মত্ত ছিলাম তোমার সুবজ পত্রের খামে। ব্যথার আঁধারে নিঃশব্দ জোনাকির মন্থর চলে যাওয়া আলো না জ্বালিয়ে নিবুত বাতির তলদেশে হারিয়ে গিয়েছে ঠিকই তোমার প্রিয়তমা। কান পেতে শুনো সেই মুমূর্ষু কান্নার কলরোল। এখনো বিদগ্ধ মহলের ওপারে আর্জি করছে। বলছে আকুতি ভরা কন্ঠে,কাছে এসো প্রিয়তম। তোমার আমার কতই না স্বপ্ন ছিল। ভালোবেসেও তবু হার মেনে নিলে। আমি অব্যক্ত…
ক্লান্ত পথিক [নাজমুন নাহার লাডলী] ১০/০৯/২০২১ ক্লান্ত পথিক নদীর ধারে বসো পাশে ভালোবেসে দুদণ্ড জিরানোর বড় সাধ হয় । স্রোতোস্বিনী মা বয় নিরবে মৃদুমন্দ হাওয়া পরশ বুলায় পথিকবর তোমার অপেক্ষায় । একেলা রমণী শ্রান্ত অতি আজ আর নেই খেয়া মাঝি আধুনিকতার ছোঁয়া চারিদিকে । দূর গাঁয়ে সবুজের প্রশান্তি শান্ত আকাশ শান্ত নদী রমণীর হৃদয়ে কিসের অশান্তি । পথিকবর একটু বসো শুনে যাও নদী ও নারীর না বলা যন্ত্রণার গল্পখানি । এ পথে আর গরুর গাড়ি চলে না বউ নিয়ে খেয়াঘাঁটে বাঁধা নেই তরী । দূরে দেখা যায় ব্রীজখানি মেঠোপথ আজ হয়েছে বিলীন ইঁট পাথর চেপেছে বুকে । যন্ত্রদানব চলে ঝমঝমিয়ে…
সাগর ও আমি (লাবণ্য সীমা) নূপুর পায়ে হেঁটে ছিলাম অনেক টা পথ সঙ্গী ছিলো কেবল গাঙচিল। দূর বালুকাময় সেই পথে আমি সাগর পাড়ের সাগরের সাথেই দেখা করে এলাম। সাগরের কাছে প্রশ্ন রেখেছিলাম। তুমি এত গভীর কেনো? তোমার হৃদয় এত প্রসস্থ কেনো? তোমার গহবরে কত রকমের প্রাণীকুলের বসবাস। নাম না জানা কত উদ্ভিদ । বিশ্বভান্ডারের অর্ধেক বিস্ময় তুমি কেমন করে তোমার বক্ষে আগলে রেখেছো ? নিরব সাগর হঠাৎ উতলা হয়ে উঠিলো, ধেয়ে আসলো তীরে এক ঝটকায়,আমায় ভিজিয়ে দিয়ে বললো, আমি উচ্ছাস , আমি প্রেমিক, আমি উম্মাদ, আমি ভয়ংকর তান্ডব। আমি চণ্ডালের আরেক রূপ। তুমি আমাকে জানতে এসেছো? কঠিন দুঃসাহসিক নারী তুমি,…
অনুভবে তুই [সুরমা আক্তার] আমার একটা আকাশ চাই। যে আকাশ থাকবে তোর ভালোবাসার রঙে সাজানো। সেই রঙে রাঙিয়ে আমি উজ্জীবিত রবো সদা সর্বময়। সেই রঙ করবে আমায় স্বর্গীয় সুখে আন্দোলিত।। মন খারাপের সময় রঙের জ্যোতি আমাকে আলোকিত করবে। মনের নীল কষ্ট গুলো যখন ভর করবে আমার আঙিনায়, তখনই তোর ভালোবাসার বৃষ্টিতে সিক্ত হবে এ মন। আমাকে ভালো রাখতে যেনো সদা প্রস্তুত তোর ভালোবাসার রঙ গুলো।। আজ আমার জীবনের পূর্নতায় জড়িয়ে তোর ভালোবাসার পরশ। আমার আশার পূর্নতা পাক তোর দীর্ঘ ভালোবাসা। এযে এক অন্য রকম অনুভূতির মধ্যে ভালোথাকা। তোর রঙে রাঙিয়ে যে আমি চিরো যৌবনা।। ভালো থাকিস তুই সাদা সর্বময়। ভালো…
ইন্দ্রজাল [সামসুন্নাহার] ২৮/৫/২২ স্বার্থপরতার ইন্দ্রজালে সময় হারিয়েছো ? এখন ঘোর অন্ধকার রাস্তা বদল করবে ? সে তো গুড়ে বালি । অন্ধকারকে সঙ্গী করে চোখের জ্যোতি টাকে জোনাকি পোকা ভেবে এগিয়ে চলো ইন্দ্রজালের গহবরে । সমাজ দিবে বাহাবা সার্থক কারিগর । আর কি চাই বলো এ অবেলায় ? জন্মের সূত্র দিয়ে অংক কষ মিলবে ফলাফল। হয়তো সেটা শূন্য হবে তবে তাতে কি ? শূন্য হাতে এসেছিলে শূন্যেই না হয় শেষ হবে । শ্রম, মেধা, সময় ও সাক্ষী দিবে নোবেলটা না পেলেও পেতে পারো কিন্তু অস্কার টা ঠিকই পাবে নিঃসন্দেহে।
ডোমিনো (জাহানারা বুলা) পর্ব-৩ স্মৃতির পড়ার ঘরটা ওর ভীষণ পছন্দের। সাজসজ্জা নেই। কিন্তু, নিচে থেকে ভেসে আসে কামিনী ফুলের ঘ্রান। বড় জানালায় জাপটে ধরে আছে ডিপ ম্যাজেন্টা বাগানবিলাস। সেখানেই গ্যাট মেরে বসে আছে আনোয়ারের সাথে কফি খেয়ে ফিরে আসার পর থেকে। মায়ের প্রশ্নের উত্তরও কিছু দেয়নি। মা খেতে ডেকে গেলো, খেতেও যায়নি। এই মাত্রই এক পসলা অনাহুত ভারি বর্ষণ হয়ে আবার থেমেও গেলো। সোদা মাটির ঘ্রাণ টেনে ওঠালো সেই ভারি বর্ষণ। কামিনী ফুলের ঘ্রানে মৌমৌ করছে পড়ার ঘরটা। অনেক সবুজ পাতা সহ বাগানবিলাসের চেহারাটা ভারি সুন্দর দেখাচ্ছে। ধূলোয় ঢেকে যাওয়া গাছটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখন বৃষ্টির টুপ টুপ জমে থাকা পানি…
