অসমাপ্ত গল্প (নাজনীন আক্তার মুন্নী) লাবন্য তুমি কেনো মাঝে মাঝে আমার উপর অভিমান করো বলো তো ! আমি তো তোমাকে বলেছি, আমাকে খুব ব্যস্ত থাকতে হয় সারাদিন! আমি একজন চিকিৎসক! মানুষের জীবন মরন নিয়ে আমাকে সর্বদা ব্যস্ত থাকতে হয়! যার কারনে তোমার কোনো খোঁজ নিতে পারি না আমি। তারপর এখন চলছে যে পরিস্থিতি ! ইচ্ছে থাকলেও দুজনে পারছিনে দেখা করতে ! তবে দেখে নিও একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে! পৃথিবী আবারও তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে। তোমাকে দেখার যে আগ্রহ প্রতিটা মুহুর্তে আমি, আমরা অনুভব করছি, তা নিশ্চয়ই একদিন পুরণ হবে। বিধাতা নিশ্চয়ই এতটা নিষ্ঠুর নয়। নিশ্চয়ই একদিন আমাদের দেখা…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
মেঘ বিকেলে নুসরাত রীপা একটা ময়লা বিকেল ঝুলে আছে নগরীর গায় দূরে এক বাড়ির ছাদে একা একা দোল খাচ্ছে বিরহী দোপাট্টা টেবিলে নিবিষ্ট বসে বিসিএস গাইড পড়ে বেকার তরুণ সামনের বাড়ির দোতলায় বিকেলটা দোল খায় মেঘ ভেজা করুণ বাতাসে আইল্যান্ড জুড়ে থাকা গাছের পাতায় পরিশ্রান্ত পা ঘরে ফিরতে উদ্গ্রীব,যানজটে কোলাহলে চুপসানো বেলুনের মতো স্বপ্নরা গুটিসুটি বুকের ভেতর ল্যাম্পপোস্টের গায়ে পানের পিক ছুঁড়ে দিয়ে কেউ কেউ হেঁটে যায় নির্বিকার দুমড়ানো মুচড়ানো মেঘ গুলো দিব্যি ঘুরে বেড়ায় বিষণ্ণ মুখে জানলায় দাঁড়িয়ে দেখি সেই বিষন্নতা এসে ভর করে আমার দুইচোখে।
তুমি কী আমার ছিলে (কামরুন নাহার কনক) তুমি কি আমার ছিলে? প্রভাতের সূর্যদয়ে অথবা তপ্ত রোদ্দুরে, গোধূলি লগ্নে অথবা ধূসর সন্ধ্যায়…? তুমি কি আমার ছিলে? আলো ক্ষীণ হয়ে আসা দৃষ্টির সীমানায়, অথবা ঝুপ করে নেমে আসা রাত্রির অন্ধকার মোহনায়…? তুমি কি আমার ছিলে? নিভু নিভু জোনাকির আলোয়, চাঁদের একাকীত্বের বেদনায় ঝলমলে কনক প্রভা জ্যোৎস্নায়, বল না, তুমি কখন আমার ছিলে…?
তোমার নামের মহিমা প্রভু (ডঃ গোপাল চন্দ্র মুখার্জী) তোমার নামের মহিমায় মগ্ন এ বিশ্ব – সে যেই হোক , রাজা কিংবা নিঃস্ব ! কেউ তো তোমার নামে ছেড়েছে সংসার ইতিহাসে আছে বহু প্রমাণ তার , কেউ কেউ ত্যাগে অন্ন জল – সুনাম ভজে অহরহ তোমারই নাম। তোমার তো সহস্র নাম -জপে সবে সহস্র উপায়ে নিজেকে উজাড় করে ,তুমি কী শুনতে পাও ! তোমার নাম নিয়ে লোকে শুরু করে কাজ – করে যাত্রা মঙ্গলের আশায় , করবে সর্ব জয় , তুমি তো জান সেটা – খুশি হয়ে করো পূর্ন তাদের মনোবাঞ্ছা ! জানো কি তুমি প্রভু , হে সর্বশক্তিমান – হে…
মিলনের সাতকাহন (কুসুম তাহেরা) কিংকর্তব্যবিমূঢ় তোমার খেয়ালিপনা শহর জুড়ে লাশের মিছিল প্রেমে বাড়ছে দেনা! পৃথিবীর বেদনা প্রেমের খরা ফুরিয়েছে মোমবাতি সন্ধ্যা আসিতে নির্জন নদী রোমাঞ্চিত জলধী! প্রেম কি জাগাবে সূর্যকে আজে ভোরে? পাথরের চেয়ে প্রাচিন ইচ্ছা ডুকরে কেঁদে ফেরে। জল জোছনার উশৃঙ্খল টেউ রাতের ময়ূরবাহন কৃষ্ণের সুরে বেজে ওঠে দেখো মিলনের সাতকাহন!
ঊষর জলের আলিঙ্গন [দিলু রোকিবা] ১৭/৬/২০২১ কোন এক পড়ন্ত বিকেলের পরিপাটি প্রদীপে নেমেছিল বৃষ্টি দৃষ্টির আলিঙ্গণে… যখন ছিলাম ভরা যৌবন প্রাপ্ত শৈশবের ফুল তোমার স্নেহভরা বুকে লুকানো ভালোবাসার মুক্ত দুটি মনের সম্মিলনে- কোনো এক বৃষ্টিভেজা বিকেলে বুকের জমিনে কমললতা প্রাঙ্গণে প্রশ্রয় দাও নি বলে আজও ভেজা হলো না। তোমার আদুরে যৌবনে কদম ফোটে প্রতি বর্ষায়, আমার পুষ্পিত প্রেমের শতদল থেকে একটা একটা করে মেঘমেদুর পাঁপড়ি খসে পড়ে তোমার পদ্মদীঘিতে। কোন এক দুরন্ত মন উচাটন বুকের ব্যালকনিতে মাতাল ময়ূরের কেকানৃত্যে, বর্ষা ঝরেছিলো মনে নেই? তবে যৌবন ফুটেছিলো সে বর্ষায়, নিশ্চিত হয়েছিলাম। শুনেছি..চোখে চোখ পড়লে, বুকে বিদ্যুৎ চমকায়! ভরা গাগরীর জলগোধুলীর পথে,…
বাবা’র আঙুল ।। এবিএম সোহেল রশিদ।। [বাবা দিবস] হিমালয় দেখিনি, বাবাকেও দেখিনি শুনেছি আগলে রাখে সমস্ত আয়োজন মিটায় প্রয়োজন, সামলায় ঝড়ঝাপটা— হিমালয় নাকি শাসন করে অস্থির আকাশ আর বাবা! খুব যত্নে রাখে তাঁর ‘পরিবার’ সহজে উজার করে দেয় নিজ জীবনটা। বাবা একদিন পূর্ণোদ্দমে মুক্তিযুদ্ধে ছায়াহীন আমরা, হলাম অপেক্ষানদী নোনা ঢেউয়ে ভিজে ওঠে চোখসৈকত— ছুঁয়ে দেখিনি বিসর্জনের জোয়ারভাটা জানি না কতটা আঘাতে ভাঙে বুক আত্মোৎসর্গে কী ছিল তাঁর অভিমত। . স্বাধীনতা পেলাম, হারালাম বাবার উত্তাপ স্নেহের আদরে ভেজা আর হলো না আমি যতবার ডাকি, মুখোমুখি মানচিত্র— স্মৃতির আকাশে মাখি ভালোবাসার রোদ জানি না ভালোবাসায় কিসের অবরোধ? বাবার রক্তে ঋদ্ধ মৃত্তিকা আদিগন্ত…
বৃষ্টির ছড়া (নাজিরা পারভিন) বৃষ্টি পড়ে ঝমঝমিয়ে টিনের ঘরের চালে বৃষ্টি নামে বনবাদাড়ে বিল নদী আর খালে। বৃষ্টি মাথায় জোড়ায় জোড়ায় ভাসছে কোলা ব্যাঙ জুটি বেধে মনের সুখে ডাকছে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ। বৃষ্টি জলে গাছের ডালে ফুটছে কদমফুল বৃষ্টি জলে বান ডেকেছে ভরা নদীরকূল। দিনে রাতে ঝুম বৃষ্টি আনছে ডেকে বান বানের জলে যাচ্ছে ডুবে ক্ষেতের পাকাধান। দস্যি ছেলে কাদাজলে উঠছে খেলায় মেতে তুলতে ধান ছুটছে চাষি পাকা ধানের ক্ষেতে। বৃষ্টি জলে যাবে যখন শাপলা ফোটা বিলে দেখবে মজার ঘর বেঁধেছে শাপলা শালুক মিলে। বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর সকাল দুপুর রাতে বর্ষা এলেই আমার এ দেশ নতুন রূপে মাতে।।
পদ্মা সেতু [তসলিমা হাসান] পদ্মাসেতুটা শরীয়তপুরের নয় পদ্মাসেতুটা ফরিদপুরেরও নয় পদ্মসেতুটা টুঙ্গিপাড়ারও নয় বরিশাল বা খুলনাবাসীরও নয়…….. পদ্মাসেতুটা পৃথিবীর বুকে নিখুঁত উপমাময়! পদ্মা নিয়ে কিসের এতো রাজনীতি? পদ্মাসেতুটা তাড়ায় মনের ভীতি। পদ্মাসেতুটা বাঙালির উঁচু শির; পদ্মাসেতুটা শ্রেষ্ঠ রুপেই বিস্ময় পৃথিবীর! পদ্মাসেতুটা উন্নয়নের জোয়ার পদ্মাসেতুটা শ্রেষ্ঠ আলোক ফোয়ার। পদ্মাসেতুটা বাঁধা না মানার ঢল; পদ্মাসেতুটা বাংলাদেশের অর্জিত ফলাফল। পদ্মাসেতুটা উন্নয়নের সাড়া পদ্মাসেতুটা শক্ত ভিতেই খাড়া! পদ্মাসেতুটা জোরা লাগানোর সেতু; দিনবদলের তাড়া এবং চমকিত ধুমকেতু। পদ্মাসেতুটা স্বপ্ন সফল কাজ দেশ ও জাতির সফল হাসিই আজ বাঙালির মনে তৃপ্তিভরা সুর; বিতর্ক নয়…সব মানুষের উৎসাহ ভরপুর! পদ্মাসেতুটা না পাওয়া সব ভয় পদ্মাসেতুটা তাড়ায় অবক্ষয় পদ্মাসেতুটা…
আমার দেশ (এম নুরুজ্জামান বাচ্চু) ১৮/৬/২২ ইং আমার দেশ সোনার দেশ,সোনা ভরা; ফসলেতে মুখরিত ভালোবাসা গড়া। ফুলে ফলে লিলায়িত শস্য মনকারা! মেঘদূতের বাদলে সুরভিতে তারা। অহমিকা নেই মনে শ্রাবণের ধারা; অধীর আগ্রহে সিক্ত ভূমিতে প্রাণীরা। ব্যস্ত ব্যাকুলতা পথে গতিময় নড়া; অসহায় হয়ে যায় ঝড়ময় মরা! চির সবুজ অম্লান তুমি বাংলাদেশ ; মাঠে ঘাটে কলরব বাউলের বেশ। ফুলে ফলে ভরা শস্যে-সৃজন স্বদেশ; আগমনী বার্তা নিয়ে সোনালী আবেশ। পুষ্প কাননে হিমেল নয়নে আদেশ; কড়ানাড়ে মনোরমা পল্লব নির্দেশ।
