ধোঁয়া ধোঁয়া প্রকৃতি মনের ডানামেলা জানালা খুলে রেখেছি দৃষ্টিকে ভরে দিয়ে, বিস্মিত সবুজ দেখব বলে। বাতাসের পিছু পিছু কালো ধোঁয়ার বুদবুদ গ্রাস করে ফেলে পাতা পাতা স্বপ্নকে, বুকের ক্ল্যারিনেটের ভেজা সুরকে আর আজলাভরা চাওয়াকে। আহা সেই পুরোনো দিনগুলোর চৌকাঠ, পা দিতেই ছিল সবুজ সবুজ কোলাহল, এক আকাশ মেহগনি সুখের বজরা দুচোখে তারায় ক্রিস্টাল শুদ্ধতা। এখনও সকাল শুরু হয় তুলো তুলো সবুজ নিয়ে শহরের মানুষ তাকে সাজায় ধূসর ধোঁয়ায়। অভিমান তোর ঠোঁট ফোলা অভিমানে, সূর্যমুখি ফুলের আজ মুখ ভার। তোর অভিযোগের কারনে, শহরের কোলাহল আজ স্তব্ধ। তোর নিশ্চুপ থাকায় আজ, শহরে বৃষ্টির তেমন দেখা মেলে না। তুই নিদ্রাহীন রাতের সঙ্গী…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
পরিবার (জাকিয়া সুলতানা) আশ্রয় চাওয়া আশ্রয় পাওয়া মানবজাতির সহজাত প্রবৃত্তি সৃষ্টির আদিকালে হাওয়া আদম থেকে পরিবারের উৎপত্তি। ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে যখন মানুষ ফিরে আপন নীড়ে পরিবারের মানুষ তখন শক্তি জোগায় যত্ন আত্তি করে। পরিবার হলো সকল কর্মযজ্ঞের সূতিকাগার স্নেহ মমতা আর ভালবাসার আধার জড়িয়ে থাকা মায়া বিপদে আপদে পাশে দাড়িয়ে দেয় সুখ শান্তির ছায়া। ঝগড়া ঝাটি আর খুনসূটি হয় যদি কখনও এক সদস্যকে ছাড়া হায় অন্য সদস্য মরে জানিনা কিভাবে শেষ বিদায় নিয়ে ঘুমিয়ে থাকব কবরে। জাকিয়া সুলতানা এম, আরডি রাজিয়া গার্ডেন স্বামীবাগ, ঢাকা।
নিস্তব্ধতা (নিপা খান) আজ তুমি নেই আমার দুচোখ ছাপানো জলধারা তোমার মতো করে কেউ ভালোবাসে না কেউ আদর বা শাসন করে না। আমি যেন মুক্ত হতে গিয়ে বন্দি হয়ে গেলাম। তোমার সরব উপস্থিতি আমায় মুগ্ধ করত। বড্ড ক্লান্ত আর নিস্তব্ধ হয়ে গেছে মন নিজেকে আর কোলাহলে রাখতে পারি না। নিজের মনেই নিজেকে বুঁদ হয়ে থাকি। তোমার মতো করে কেউ বোঝেনি এ জীবনে পরজন্মে কি রাখবে আমায় স্মরণে!
শঙ্খ ঘোষ : অন্তরস্থিত সত্তা ও কবিতার অভিব্যঞ্জনা ( গোলাম কিবরিয়া পিনু ) এক কবি শঙ্খ ঘোষের সঙ্গে তিন-চারবার দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে অল্প। তাঁর কবিতা পাঠ শুনেছি কাছাকাছি থেকে কলকাতার এক অনুষ্ঠানে, আমার কবিতাও তিনি শুনেছেন–সেই অনুষ্ঠানে। তাঁর সাথে দেখা হওয়া বা কথা বলার আগে থেকেই–তাঁর কবিতার সাথে আমার পরিচয়, তবে–বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-জীবন থেকে তা আরও দিনদিন গভীর হয়েছে। সেই থেকে তাঁর কবিতার বই ও অন্যান্য বই সংগ্রহ করি, কাছে রাখি, নিয়মিত পড়ি। এই তো ২০১৫ সালে কলকাতায় গিয়ে কলেজ স্ট্রিটের আনন্দ পাবলিশার্সের বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ নামের কবিতা বইটি সংগ্রহ করি, বইটি আমার সংগ্রহে ছিল না, এই…
উজান ঢল (সাকেরা নাছরিন) উজান ঢলে তলিয়ে গেছে অথৈ জলের নদী সেই নদীতে খুঁজছে বাবা খড়কুটো পায় যদি। এক বাহুতে সোনা মানিক কাঁধে আরেক জন পু্ঁটলি বাঁধা কিছু ধন বাঁচার প্রয়োজন। সোনা মায়ের বুক জড়িয়ে দুগ্ধপোষ্য ধন কলিজাটা নিচ্ছে ছিঁড়ে ঢেউ আসে যখন। বানের জলে ভাঙছে বসত ছিন্ন মায়ের শাড়ি বলছে বাবা গড়বো ওসব যদি বাঁচতে পারি। পিঠটা বাবার ঝাঁজরা তবু ইস্পাত-দৃঢ় প্রাণ মায়ের মনটা কাঁদামাটি বড়ই পেরেশান।
বানভাসির আর্তনাদ কপাল পোড়ার কপাল পোড়ে দুঃখী জনের দুঃখ বাড়ে, বানের জলে ভাসলো ঘরদোর– হায় জীবন! যন্ত্রণা-কষ্টে প্রাণ ওষ্ঠাগত— নিয়তির বৈষম্য। অনাহার-নির্ঘুম, দুর্বিষহ,নির্দয় প্রহর ভাঙ্গে আত্মবিলাপের সুর তোলে; কোথায় আছে দয়ার সাগর দয়ালু…মানবতার প্রতীক নেতা-নেত্রী, সুধীবৃন্দ? আপন কাহন গাইতে গাইতে কণ্ঠধ্বনি স্বরবদ্ধ! আকাশ কাঁদে,বাতাস কাঁপে শোনার জন নেই ত্রিভুবন মাঝে! ভাগ্যহারা জনপদের নেই কোন ঠাঁই ভাগ্যবান জনস্রোতের আড়ম্বর পটচিত্রে, নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে দুঃখ-বেদনার তৈলচিত্রে মরুভূমির বালিয়াড়ি বাহিত হয় ক্ষণে ক্ষণে। ওরা কারা? ওরা কি আমাদেরই মূল স্রোতধারার অন্তর্গত? ভাবতে ভুলে গেছি স্বচিত্তে, স্ব-নয়নে! সহজাত প্রবৃত্তির তাগিদে জেগে উঠুক আর্তমানবতার জাগ্রত ধ্বনি; বলিষ্ঠ উদ্যোগী পদক্ষেপে ঘটমান দুঃসময়ের বিনাশ ঘটুক মানবতা-মহত্ত্বের অসীম কর্তব্যময় কর্ম…
হিমালয়ের কোলে সৌন্দর্যময়ী রহস্যময় গ্রাম, মালানা: দীপক সাহা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ ভারতবর্ষের আনাচে কানাচে বিস্ময়কর কিছু অজানা অচেনা জায়গা আছে। এ’রকম একটি বিস্ময়কর জায়গা মালানা। হিমাচল প্রদেশের কুল্লু অঞ্চলের উত্তর-পূর্বে পার্বতী উপত্যকার চন্দারখানি এবং দেও টিব্বা পর্বতের মধ্যে মালানা গ্রাম আজও পৃথিবীর মূলস্রোত থেকে অনেকাংশেই বিচ্ছিন্ন। সমুদ্রতল থেকে ২৬৫২ মি. ( ৮৭০১ ফুট) উচ্চতায় মালানা নদীর পাশে অবস্থিত চারিদিকে বরফাচ্ছাদিত পর্বতের মাঝে সবুজ বনে ঘেরা, স্পর্শে নিষেধাজ্ঞা এই গ্রামের সঙ্গে ভারতের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মিল নেই। দুর্গম পথ অতিক্রম করে এই রহস্যময় গ্রামে পৌঁছতে হয়। এমনকি এই গ্রামের মানুষ নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময়ের জন্য স্বতন্ত্র এক ভাষার…
জানালা আমার হাতের কাঁকনের রিনি ঝিনি আওয়াজে তুমি আসতে গভীর রাত্রিতে আমার জানালায় লাগতো ভালো যত ছিল চাওয়া পাওয়া। হতো না খুনসুটি থাকতে নিথর তুমি নিস্তব্দ হয়ে যেত অনুভূতি গুলো তুমি মাঝে মধ্যে বলতে একটু আধটু কথা, আমি নিস্চুপ সুবোধের মত শুনতাম তোমার দুষ্ট মিষ্ট অভ্রবানী। সকাল হতে কতটুকো সময় রয়েছে বাকী আমি করতাম হিসাব তার এসেছো আমার জানালায় এ রজনী ভোর না হয় থাকতাম বিভোর সে উৎকন্ঠায়।। তোমার আমার সাথে করতো মিতালী পূর্ণিমার চাঁদ মাঝে মাঝে তারারা ও এসে মিলাতো হাত আহা! কি দারুন ছিল সেই মিতালীর রাত।। জোসনার আলোয় আলোকিত হতো মুখ সুখ পাখি এসে ডাকতো বলে সুখ…
শোষকদের কাঁটাতারে ।। মৃত্যুঞ্জয় দাশ শেখর ।। বন্দি রয়েছি আজও মোরা শোষকদের কাঁটা তারে বন্দি। কোথাও দেখত শুনতে পায় না মালিক-কর্মীর আন্তরিকতার সন্ধি। বিশ্ব জুড়ে জমে উঠেছে শোষক শ্রেণির হাট বাজার, আমরাই তাদের সস্তা দামের কর্মী প্রতিষ্ঠান ধরে রাখিবার। আমরাই তাদের বিশ্রামহীন রোবট করি কাজ আজ্ঞা পেলেই, চিন্তা করে না শোষকরা প্রতিষ্ঠান থাকবে শ্রমিক বাঁচলেই। শুরুতেই মিষ্টি কথা বলে শোনায় মোদের আশার বাণী, কয়েকদিন যেতে না যেতে কাজ করায় কড়ায়গণ্ডায় গুনি। দিবারাত্রি কাজ করে শ্রমিকেরা পায় না বেতন ন্যায্য অধিকার, আজও বিবেকহীন শোষকদের কাছে শ্রমিকের মূল্য থাকে না আর। তাঁরাই তো রক্ত চুসা জোঁক শ্রমিকরা না মরা পর্যন্ত, কাজ করায়ে…
মানুষের ভেতরে ফাঁকা (আলী আকবর বাবুল) আজকাল মানুষগুলো কেমন যেন? সত্যিই ভাবতে অবাক লাগে আকাশ যেমন মাটির দূরত্ব ঠিক তেমনিই বিবেকের কাছে লোভাতুর জিহ্বার মতো! দেখতে মানুষ, ভেতরে ফাঁকা মারমুখী আত্মার গরলে কেবলই ভালবাসা অভিমানে ঢাকা পড়েছে মুখোশে আজব মানুষের পোশাকে! সুন্দর থেকে আরও সুন্দরের গভীরে অসুন্দর বাসা বেঁধেছে এই মানবজন্মে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘর- পাতি খেলনা মানুষের কাছে- অপরিচিত সংসার দিনদিন অচেনা হচ্ছে জগত কূল – হায়! কোথায় সেই প্রাণের মানুষ!
