স্মৃতি বিস্মৃতিতে এক কাপ চা কানিজ সাপি প্রতিবারের মতোই এবারেও খুব ইচ্ছে হচ্ছে বৃষ্টির জলে ভাসি ভালোবাসার চৈতন্যে তিনশ ফিট রাস্তার পাশের টঙঘরের চায়ের চুমুকে বৃষ্টির ফোঁটার নোনতা তৃপ্তিটা এখনও মেঘলা সমুদ্রে ভাসছে দুই শহরের বাসিন্দা আমরা দুজনে হলাম এই আষাঢ়ের শুরুতে আকাশ ভরা বৃষ্টি আমার শহরে, তোমার শহর ভাসছে অস্বাভাবিক অবিরাম বৃষ্টি আর বানের জলের স্রোতে কতদিন চলবে ঘুরেফিরে ঘনমেঘ বৃষ্টির উতরোল যেভাবে শহরে পানি বাড়ছে গৃহহীন হয়ে যানবাহন চলা মুশকিল এক পিতাকে দেখলে তিনটা বাচ্চা নিয়ে বুক সমান পানিতে বাঁচা মরার লড়াইয়ে, কেউ ভাসিয়ে দিয়েছে বাচ্চা ভাতের পাতিলে ভাঙা রাস্তায় রক্তারক্তি অবস্থা জেনেও ছুটলে নিজ শহরের মানুষগুলোর পাশে…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
সাদামেঘ মুসলেমা পারভিন শূন্য হাতে ফিরি আমি জীবনের কোন পথ কোন দিকে বাঁক নেয় জানা নেই আমার। আমি তথৈবচ তবু গন্তব্য খুঁজে ফিরি। আকাশে সাদা মেঘ বেখেয়ালে ঘুরে বেড়ায়, অজস্র বৃষ্টির জল বুকে নেই তার, জানি আমি এই মেঘ বর্ষণবতী নয়। সে কেবল অকারণ — সব জীবনে হয়ত গন্তব্য থাকে না। কিছু প্রাণ হয়ত কেবলই সংখ্যাত্বত্ত্ব! কিছু মনের অর্বাচীন ভাবনা হয়ত কেবল সাদামেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে ধরাতল সবুজ করার সক্ষমতা নেই তাদের। তবু ভাবি সবই কেবল সংখ্যাবাড়ানোর জীবন? অচেতন চিতে তবে কেন চেতনা? তবু কেন এত দুঃখবোধ? তবু কেন এত সৃষ্টির তাড়না? সবই যদি কেবল সাদামেঘ? জুলাই ২৫, ২০২২
মিনতি মোঃ ইসহাক মিয়া অনেক চেষ্টার তরে,বহুদিন পরে শুনিলাম আনন্দের বার্তা।আসিতেছে নতুন অতিথি,মোর ঘর আলোকিত করিতে।প্রীত সংবাদ পেয়ে হর্ষে নাচে হৃদ,কাঙ্খিত বাসনা হতে যাচ্ছে পূর্ণ কিছুদিন পরে। তথ্য পেয়ে জীবনের জংধরা চাকা মরিচা ঝেড়ে বেগবান হয়ে আবারো সজোরে চলতে লাগিল। দোয়া চাই সবাকারে মোর অনাগত সন্তানের তরে,যত বালা-মুসিবত কাটুক সবের দোয়া বদৌলতে।এসে ধরাধামে জ্ঞান গুনে যেন বিশ্ব করে জয়,উত্তম মানুষ রূপে চিরজীবী হয়ে সার্থক জনম গড়ে নর কুলে।
নিলীন অনুভবে জেবুন্নেছা সুইটি ও পাহাড়? তোমার সবুজ চোখে কেনো এতো জল? কিসের ব্যথা? কিসের কষ্ট? কেনো ঢালো কাকচক্ষু স্বচ্ছ পানির ঢল? আমার সিন্দুকজুড়ে কত কষ্ট কত হতাশা কত ক্লেশ! তোমার সমান অভিমান নিয়ে ফিরে আসি সেই খবর রাখো তুমি? ও পাহাড়? তোমার চাপাকষ্টে আমার হৃদয় নোনাজলে ভাসে ক্ষতবিক্ষত এই মনে অভিযোগের সুর ওঠে কত না বলা কথা, বুকের জমিনে বীজবপন করে প্রতিনিয়ত। আমারও তো আছে ঢের অভিমান অভিযোগের প্লাবন। একপা দুইপা করে হেঁটে চলি তোমার বুক ঘেঁষে, আপন স্পর্শে আরও কাছে পাব বলে। কিন্ত, ব্যথিত হৃদয় গুটিয়ে চলে আসি ফেলে আসা আপন র্নিবাসনে। ও পাহাড়, তোমার কান্নার আওয়াজে ছন্দের…
যুদ্ধে প্রেম তসলিমা হাসান ক্যাপ্টেন খালেদের সাথে রেণুর বিয়েটা ধুমধাম করে হয়েছিল। বিয়ের পরদিনই যুদ্ধের ডাক পেয়ে রনাঙ্গনে চলে যায় ক্যাপ্টেন খালেদ। যদিও প্রেমের বিয়ে না, তবে চিঠি চালাচালির মাধ্যমে এনগেজমেন্ট আর বিয়ের মাঝামাঝির তিনমাসে ভালোই প্রেম করেছে ওরা… রেনুর মনে পড়ে বাসর রাতের কথা… – আচ্ছা রেনু, তুমি কি কখনও প্রেম করেছ। রেনু মুচকি হেসে বলল, ” হাঁ করেছি তো। ” খালেদের মুখটা কেমন বোকাবোকা হয়ে গেল। আর্মির লোক সে। জেনারেলের অর্ডার বুঝে। কিন্তু নারীর মন বুঝা তার চেয়ে কঠিন… ” তার মান… তার মানে, তুমি আমায় বাধ্য হয়ে বিয়ে করেছ।” খালেদ… উত্তেজিত হলে তোতলানো তার অভ্যাস ” আচ্ছা,…
হবে পরাজয় শীরীন আক্তার ২৬/০৭/২২ কিছু চাইনা তোমার কাছে কারো কাছেই নয়, যদি পাই অদৃশ্য অনুভবের শুধুই ভালোবাসা, সহানুভূতি ভাববো পুরো পৃথিবীটাই আমি করেছি জয়। এটি শুধু একক কারো চাওয়া বলবে, সে সুযোগ নেই মোটেই, প্রাণী মাত্রই গভীর ভালোবাসার কাছে হিংস্রতা ভুলে পোষ মানবেই। এসো আমরা মানবজাতি এ ভাবনার সাথে করি সংহতি। আল্লাহর সৃষ্টিকে ভালোবেসে কাছে টেনে লই তার দুঃখ-কষ্ট ও আনন্দে সমভাবে অংশীদার হই। যদি আমি সুখ পাই তাতে আমার পরম প্রাপ্তি সেটাই। করে অপরের ক্ষতি কখনোই কেউ লাভবান হয়নি। বিধাতার বিধান সমান সবার জন্যই। তিনি মানুষের সৎ কাজের জন্য যেমন করেন পুরস্কৃত, তেমনি অসৎ, অন্যায়ের তিনি শাস্তি দিয়ে…
চিরকুট ড. নজরুল ইসলাম খান চিরকুট- অতি ক্ষুদ্র চিঠি। অতি অবহেলিত অতি অপ্রয়োজনীয় কাগজের টুকরো। নামটি শুনলেই মনটা চিরচির করে একটু একটু ফাটে আর অন্তরটা কুটকুট করে ভালোবাসার ইঁদুরে কাটে। চিরকুট- মনে হলে চিরকুট, আজও কেঁপে ওঠে বুক দূর হয় যত দুখ, ভীড় করে তত সুখ মহূর্তে ভেসে ওঠে প্রিয়ার ঐ রাঙা মুখ। চিরকুট- তোমার কী এক শক্তি অদ্ভুত! তুমি কি জিন-পরি নাকি ভূত? আকারে ছোট্ট হলেও আস তুমি অনাহুত। চিরকুট- মানে না বয়সের সীমানা শোনে না আপত্তি এ যেন প্রেম-ভালোবাসার প্রিয় এক সম্পত্তি। চিরকুট- কাগজের ভগ্নাংশ নাকি জীবনের ভালবাসার, নাকি অতি প্রয়োজনের আপন কর তুমি, পর ভাব নাকো জীবনে…
রংপুরে আইডিয়া প্রকাশন এর উদ্যোগে নির্বাচিত ছয় বইয়ের লেখককে সম্মাননা হিসেবে রয়্যালটি চেক প্রদান। অনুষ্ঠানে একুশে পদকপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী পাভেল রহমান এর ‘আমার মুক্তিযুদ্ধ গণতন্ত্র সংগ্রাম’, রেজাউল করিম মুকুলের ‘গল্পগুলো গণিতের’, সিনথিয়া খানের ‘অপরাজিতার গল্প ‘, সাংবাদিক আফতাব হোসেন এর ‘রোকেয়া পঞ্চানন দুই বাংলার সেতুবন্ধন’, ভাস্কর অনীক রেজার ‘নির্জন হাত’, রানা মাসুদ এর ‘তিস্তার আদ্যোপান্ত’ বইয়ের জন্য প্রত্যেককে দশ হাজার টাকার রয়্যালটি চেক প্রদান করা হয়। সোমবার বিকাল ৫টায় রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষৎ হলরুমের অনুষ্ঠানে সম্মানীত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে লেখকগণের হাতে রয়্যালটি প্রতীক চেক প্রদান করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর মোজাম্মেল হক, বীরমুক্তিযোদ্ধা সুশান্ত চন্দ্র খান, বীরমুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন, অধ্যাপক ড. আকলিমা আরা…
একটি ঘাসফুল মুসলেমা পারভিন এনে দেবে একটি ঘাসফুল, মাটির গন্ধ জড়িয়ে থাকা একটি ঘাসফুল এনে দিতে পারো তুমি? চাইনি কিছু আমি তোমার কাছে, সোঁদা মাটির গন্ধ বড় ভালোবাসি যদি কোনদিন হলুদ খামে ভরে পাঠিয়ে দিতে, আমার দিনটা অন্যরকম হয়ে যেত। কিংবা একমুঠো জোনাকি সাঁঝবেলায় কেমন উড়তে উড়তে জ্বলে আর নিভে, তেমনি কোন জোনাকি জীবন কোন কবিতার বইতে পুরে দিতেই পারতে পাঠিয়ে আমায়। আমি জোনাকি জীবন ছড়িয়ে দিতাম আমার খোলা ব্যালকনিতে। বলিনি কখনও এনে দাও ওই দূর আকাশের চাঁদ, মাখামাখি জ্যোৎস্নায় ভরিয়ে দাও আমার জীবন! তবু যদি কখনও আলগোছে মনে পড়ে আমার মুখ, চুল, চিবুক সেই সুখস্মৃতি ভরে রেখো কোন স্বচ্ছ…
অনিন্দ্যসুন্দর নিঝুমদ্বীপ ফিরোজ পাটোয়ারী মেঘমুক্তাকাশে নিচে কী দেখিলাম আজ জীবনে যেন প্রথম দেখা অদ্ভুত তরঙ্গরাজ। নিঝুমদ্বীপের অপারলীলা দেখতে চাইলে কেউ, বোনাস হয়ে দেবে দেখা নীল সাগরের ঢেউ। হাতছানীতে ডাকছে তোমায় স্বপ্নীল দ্বীপের হাওয়া, এমন বিস্ময় কোথাও খুঁজে যাবে না’কো পাওয়া! রাত-বিহাণে পাখ-পাখালীর মধুর কুহুতান, হুক্কা-হুয়া শেয়াল ডাকে ভরে যাবে প্রাণ। ঝাঁকে ঝাঁকে ছুঁটছে হরিণ কেঁওড়া বনের ফাঁকে, মধুমিতা গুঞ্জণ করে রসাল মধুর চাকে।
