হিমালয়ের কোলে সৌন্দর্যময়ী রহস্যময় গ্রাম, মালানা: দীপক সাহা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ ভারতবর্ষের আনাচে কানাচে বিস্ময়কর কিছু অজানা অচেনা জায়গা আছে। এ’রকম একটি বিস্ময়কর জায়গা মালানা। হিমাচল প্রদেশের কুল্লু অঞ্চলের উত্তর-পূর্বে পার্বতী উপত্যকার চন্দারখানি এবং দেও টিব্বা পর্বতের মধ্যে মালানা গ্রাম আজও পৃথিবীর মূলস্রোত থেকে অনেকাংশেই বিচ্ছিন্ন। সমুদ্রতল থেকে ২৬৫২ মি. ( ৮৭০১ ফুট) উচ্চতায় মালানা নদীর পাশে অবস্থিত চারিদিকে বরফাচ্ছাদিত পর্বতের মাঝে সবুজ বনে ঘেরা, স্পর্শে নিষেধাজ্ঞা এই গ্রামের সঙ্গে ভারতের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর মিল নেই। দুর্গম পথ অতিক্রম করে এই রহস্যময় গ্রামে পৌঁছতে হয়। এমনকি এই গ্রামের মানুষ নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময়ের জন্য স্বতন্ত্র এক ভাষার…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
জানালা আমার হাতের কাঁকনের রিনি ঝিনি আওয়াজে তুমি আসতে গভীর রাত্রিতে আমার জানালায় লাগতো ভালো যত ছিল চাওয়া পাওয়া। হতো না খুনসুটি থাকতে নিথর তুমি নিস্তব্দ হয়ে যেত অনুভূতি গুলো তুমি মাঝে মধ্যে বলতে একটু আধটু কথা, আমি নিস্চুপ সুবোধের মত শুনতাম তোমার দুষ্ট মিষ্ট অভ্রবানী। সকাল হতে কতটুকো সময় রয়েছে বাকী আমি করতাম হিসাব তার এসেছো আমার জানালায় এ রজনী ভোর না হয় থাকতাম বিভোর সে উৎকন্ঠায়।। তোমার আমার সাথে করতো মিতালী পূর্ণিমার চাঁদ মাঝে মাঝে তারারা ও এসে মিলাতো হাত আহা! কি দারুন ছিল সেই মিতালীর রাত।। জোসনার আলোয় আলোকিত হতো মুখ সুখ পাখি এসে ডাকতো বলে সুখ…
শোষকদের কাঁটাতারে ।। মৃত্যুঞ্জয় দাশ শেখর ।। বন্দি রয়েছি আজও মোরা শোষকদের কাঁটা তারে বন্দি। কোথাও দেখত শুনতে পায় না মালিক-কর্মীর আন্তরিকতার সন্ধি। বিশ্ব জুড়ে জমে উঠেছে শোষক শ্রেণির হাট বাজার, আমরাই তাদের সস্তা দামের কর্মী প্রতিষ্ঠান ধরে রাখিবার। আমরাই তাদের বিশ্রামহীন রোবট করি কাজ আজ্ঞা পেলেই, চিন্তা করে না শোষকরা প্রতিষ্ঠান থাকবে শ্রমিক বাঁচলেই। শুরুতেই মিষ্টি কথা বলে শোনায় মোদের আশার বাণী, কয়েকদিন যেতে না যেতে কাজ করায় কড়ায়গণ্ডায় গুনি। দিবারাত্রি কাজ করে শ্রমিকেরা পায় না বেতন ন্যায্য অধিকার, আজও বিবেকহীন শোষকদের কাছে শ্রমিকের মূল্য থাকে না আর। তাঁরাই তো রক্ত চুসা জোঁক শ্রমিকরা না মরা পর্যন্ত, কাজ করায়ে…
মানুষের ভেতরে ফাঁকা (আলী আকবর বাবুল) আজকাল মানুষগুলো কেমন যেন? সত্যিই ভাবতে অবাক লাগে আকাশ যেমন মাটির দূরত্ব ঠিক তেমনিই বিবেকের কাছে লোভাতুর জিহ্বার মতো! দেখতে মানুষ, ভেতরে ফাঁকা মারমুখী আত্মার গরলে কেবলই ভালবাসা অভিমানে ঢাকা পড়েছে মুখোশে আজব মানুষের পোশাকে! সুন্দর থেকে আরও সুন্দরের গভীরে অসুন্দর বাসা বেঁধেছে এই মানবজন্মে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘর- পাতি খেলনা মানুষের কাছে- অপরিচিত সংসার দিনদিন অচেনা হচ্ছে জগত কূল – হায়! কোথায় সেই প্রাণের মানুষ!
পরাজিত আমি (যয়া খান) নিমজ্জিত আমার পৃথিবী আজ অতল জলের গহ্বরে। নিভৃতে কাঁদে স্মৃতি ভেজা দিনগুলো, নিঃসঙ্গ দুঃখের প্রহর। নেই তুমি আর আমার অস্তিত্বের মাঝে, অনস্তিত্বে তোমার বসবাস। জল জমেছে বুকের ভেতর রোদের অভাবে, কঠিন উপহাস নিয়েছে কেড়ে, জীবনের যত রঙ। জীবন টা কেনো এত ছোট এতবড় আকাশ এর নীচে? আজ থেকে আমার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ নেই , নেই জোছনালোকিত আকাশ। দিন কেটে যায় রুদ্ধনীল বেদনার ঘরে, মন কাঁদে অন্তরালে। বড় একাকিত্বে আমার ছায়াই আমার সাথি। নিঃসঙ্গ বৃক্ষের মত সাজাপ্রাপ্ত আসামির মতো মৌন পাহাড়ের মত নিঃসঙ্গ আমি মেনেছি হার জীবনের কাছে। লেখক: প্রবাসী কবি। মেলবোর্ন , অস্ট্রেলিয়া
শকুন কাকের মা (মকবুল প্রধান) গাঁও গ্রামেও শকুন ঢুকে তা’দিয়ে যায় রোজ , কোথাও খায় টাকা পয়সা কোথাও ভূরিভোজ । ছোট্ট কাকে খবর পাড়ে শকুন আসে ছুটে , এদিক ওদিক তা’দিয়ে বেশ দাঙ্গা তোলে ফুটে । ডিমের বদল খবর পাড়ে শকুন দেবেই তা , দাঙ্গা ভালো ফুটায় বলে শকুন কাকের মা । পর ঝামেলার দেয় কামলা দাঙ্গাই করে চাষ , গাঁয়ে মানে না মোড়ল সাজে করে সর্বনাশ ।
কথার জমাট ঠিকানা হারিয়েছি যেদিন সেদিন খুঁজেছি নক্ষত্রের পথ ধরে নতুন জীবনের ঠিকানা। দিনের আলোয় ডুবে যায় সেই আশা, রাতের আঁধারে আবারও বুক চিঁড়ে বেরিয়ে আসে হতাশার চাদরে মুড়িয়ে এক খোলস ছাড়া মানুষের দেহ। অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে বিষন্নতার দীর্ঘশ্বাস, এক জীবনের গ্লানিবোধটুকু রাখে জমা নিঃসঙ্গতার বুকে। প্রাপ্তির সাথে মিশে আছে অজস্র নীল অপরাজিতা, সুখের আবেশ তাই হাওয়ায় মিলিয়ে যায় বাষ্প নিঃশ্বাসের সুগভীর ভাবনার অতল গহ্বরে। অস্থির চিত্রে আপন মনে খুঁজে চলা একান্ত নিজের অস্তিত্ব, সেখানে কেবল কিছু মৃত স্বপ্নের কঙ্কাল আছে অবশিষ্ট। দীর্ঘনিঃশ্বাস চাপা পড়ে আছে হৃদপিণ্ডের নিচে, রক্তের সাথে মিশে গেছে হাজার বছরের বিষন্নতা। কোলাহলে কান্নার শব্দ মিলিয়ে গেছে…
কামনা (তানজারীন ইফফাত শাতি) আমার পাতে পোড়া ভাত আমি সুখে নেই, আমার জীবনগাঙে ডাকে না জোয়ার শুধু ভাটাই পড়ে থাকে আমি সুখে নেই, আমার চাষের জমিতে ফলেনি কোন শস্যদানা শুধুই বিরাণ পড়ে আছে আমি সুখে নেই, আমার চোখ দুটো পোড়ে কেঁদেছি অনেক রাত আমি সুখে নেই। আমার নিশ্বাসে ক্ষোভ, বিদ্বেষ আমার কন্ঠে ঝরে পড়ে শত আবেগ আমার অন্তরে আগুন আমার জিহ্বায় রসনাতৃপ্তির ছোঁয়া নেই আমার কানে অভিযোগের কথা আমি কেবলি নারী এবং দোষই আমার ভুষন, কি করে সুখি হতে হয় আমি জানি না। আমি পূজারী নাকি আমায় ঘিরে দুঃখ নাচে? নেচে নেচে পুজো করে? আমি জলে ঝাঁপ দেই ডুবতে ডুবতে…
মম তটে বারি ঝরে জেবুন্নেছা সুইটি (পর্ব এক) চপলা এক হরিণী, নাম তার লাবণী। ঘরে থাকেনা মন, গ্রামের মেঠো পথে, বাগানে কিংবা পুকুর পাড়ে আনমনা হয়ে সেই মেয়েটি হাঁটতো সারাক্ষণ! কখনো আকাশের দিকে তাকিয়ে উদাসী মনে গুনগুনিয়ে গান গাইত ! কখনো আবার বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মাটিতে কবিতা লিখতো। আবার দেখা যেত পুকুরে ভেসে উঠা পোনা মাছের গায়ে ঢিল ছুড়ে মারত।পুকুরপাড়ে বসে বড়শি দিয়ে মাছ ধরা ছিল তার নেশা। কচু গাছ থেকে লতা ছেঁড়া তার শখের কাজ। মা চিৎকার করে ডাকতো “লাবণী… কই তুই? পড়ার টেবিলেও তো নেই! সারাদিন কোথায় যে থাকে মেয়েটা! ” মায়ের ডাক লাবণী কর্ণপাত হতনা। কারণ লাবনী…
মান আর কখনও গুনবো না দিন বলব না হয়নি দেখা কতকাল… হাঁটবে না পাশাপাশি, আঙুলে আঙুল ছু্য়ে কইব না কথা বসবো না মুখোমুখি মুছবো না, তোর লেপ্টে যাওয়া কাজল। আর কখনও চাইবো না তোর মুখপানে, হোক বাঁকা তোর টিপ ঠিক করে দেবো না আর… নিজেকে গুটিয়ে রাখব অভিমানে। কষ্টগুলো জমিয়ে রাখব খুব যতনে হৃদ গহীনে। আর কখনও করবো না অভিযেগ দেখে নিস, বৃষ্টি হলেও জেদ করবো না ভিজবার… বলবো না আর কতকাল ভিজিনি তোর ভালোবাসার বৃষ্টিতে, রাখবে না চোখ তোর অভিমানী দৃষ্টিতে। আর কখনও ঘুম ভাঙিয়ে বলবো না, ভালোবাসি হাতে হাতে রেখে বলবো না, আমরণ থাকবো পাশাপাশি… একদিন তোকে মুক্তি…
