Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ

গুটিয়ে যাচ্ছে আশামন (নাসিমা হক মুক্তা) চলছে জপ, ফাঁকা বাড়ি মনপবন দুলছে- সজল চোখে দারুণ বিদ্রোহ, পাখির মত উড়ার স্বপ্নে; সঙ্গী! সে তো কেবল – মরুশহর! একা, ক্রমে গুটিয়ে যাচ্ছে আশামন দূরের ঐ বন- আস্তানা প্রণয় খেলছে আগুন হয়ে এমনতরো ভেতর বাতাস বলয়ে, নিজেকে নিজে ধরা রাখা- সে তো মহা কম্পমান স্রোত! দেখছি বনবিস্তরে কামনার বাঁকগুলো একে একে গিলে খাচ্ছে অন্ধকার কাছাকাছি এসে সজোর নির্মাণ ভেঙে ভেঙে ডিঙোয় গ্রীবা পাহাড় জ্যোৎস্নাবৃত সব নিদ্রাগুলি উবে বশ করে- থরো থরো সাজানো জাগার গান সে গান প্রতিরাতে হত্যা করে এক একটি মহাপ্রাণ!

আরো পড়ুন

প্রশ্ন (ইসরাত জাহান) কে যে আমি, প্রশ্ন শুধু নিজের তরেই আপন? স্বপ্ন সকল সাজিয়ে গড়া নিজের মায়ার ভুবন। হাজার কাজের জন্য ছিল সব প্রয়োজন হয়তো? এখন সেসব,স্মৃতির ভিড়ে মায়ার বাঁধন নয়তো!! কাজ ফুরোলেই, আপনজনা হয় যে নিজেই পর; নিজ খেয়ালে ভুলবে তোমায় শূন্য মনের ঘর!! ভুলে যাওয়া, ভুলে ভরা কষ্ট ব্যথার কাব্য; আমরা মানুষ, পুতুল বেশে নিত্য সাজের সভ্য।। সমাজেরই প্রয়োজনে অন্যায়েরই জয়ে; সত্য সকল গুমরে মরে অজ্ঞাতে যায় ক্ষয়ে। হেরে গিয়েও যায় যে জিতা জানেন শুধু প্রভু; প্রকাশে রয় মুখোশধারী জানবে না কেউ কভু।।

আরো পড়ুন

যাতন (আজিজুন নাহার আঁখি) চারিদিক ফাঁকা লাগে শুধু একা মনেতে লাগে যে ভয়, কিভাবে যে থাকি মন বেঁধে রাখি ঘুচবে কি সংশয়? নেই তুমি সাথে প্রাতে কিম্বা রাতে বিরহে কাঁদে হৃদয়, বুঝবে কি তবে কি যাতনা হবে সারাটি জীবনময়। ভালো নেই আমি জানে অন্তর্যামী বোঝো না গো তুমি আমাকে যে ফেলে তুমি চলে গেলে রয়েছ কোথায় ঘুমি? শূন্য এ জীবনে তোমার বিহনে একাকী থাকা যে দায়, কষ্টের সাগরে ডুবি চিরতরে করি শুধু হায় হায়। স্মৃতি নিয়ে বুকে মরি ধুঁকে ধুঁকে দেখার তো নেই কেউ, হৃদয়ে দহন করে জ্বালাতন উথলে ওঠে যে ঢেউ। প্রতি ক্ষণে ক্ষণে পরে শুধু মনে দুজনের কতো…

আরো পড়ুন

ছোটবেলায় আমার বোন রিমি ছিল দস্যি টাইপের। সে আবার বান্ধবী প্রিয় মানুষ। আমরা যখন ঢাকা মুগদার বাসায় থাকি তখন সে মাত্র ক্লাস টুতে পড়ে। সারাক্ষণ আম্মার বালিশের নিচ থেকে পয়সা নিয়ে ( এটাকে ঠিক চুরি বলে না। ভদ্র ভাষায় সম্ভবত পয়সা সরানো বলে ) চালতার আচার আর হজমি কিনে খেতো। যেদিন আম্মা দুপুরে একটু ঘুমাতেন বা শাজহানপুর নানার বাসায় যেতেন, সেদিন ছিল তার ঈদ। রাজ্যের বান্ধবীদের নিয়ে সেদিন সে ছাদে নয়তো বাসার সামনে বরফ পানি খেলতো। অথবা দুই তিনজন মিলে চলে যেতো কমলাপুর। তার প্রিয় বান্ধবীর বাসায়। একবার ঈদের সময় আমি আব্বা আর রিমি গেলাম মৌচাক মার্কেটে। স্কার্ট কিনলাম দুজনে।…

আরো পড়ুন

ধোঁয়া ধোঁয়া প্রকৃতি মনের ডানামেলা জানালা খুলে রেখেছি দৃষ্টিকে ভরে দিয়ে, বিস্মিত সবুজ দেখব বলে। বাতাসের পিছু পিছু কালো ধোঁয়ার বুদবুদ গ্রাস করে ফেলে পাতা পাতা স্বপ্নকে, বুকের ক্ল্যারিনেটের ভেজা সুরকে আর আজলাভরা চাওয়াকে। আহা সেই পুরোনো দিনগুলোর চৌকাঠ, পা দিতেই ছিল সবুজ সবুজ কোলাহল, এক আকাশ মেহগনি সুখের বজরা দুচোখে তারায় ক্রিস্টাল শুদ্ধতা। এখনও সকাল শুরু হয় তুলো তুলো সবুজ নিয়ে শহরের মানুষ তাকে সাজায় ধূসর ধোঁয়ায়। অভিমান তোর ঠোঁট ফোলা অভিমানে, সূর্যমুখি ফুলের আজ মুখ ভার। তোর অভিযোগের কারনে, শহরের কোলাহল আজ স্তব্ধ। তোর নিশ্চুপ থাকায় আজ, শহরে বৃষ্টির তেমন দেখা মেলে না। তুই নিদ্রাহীন রাতের সঙ্গী…

আরো পড়ুন

পরিবার (জাকিয়া সুলতানা) আশ্রয় চাওয়া আশ্রয় পাওয়া মানবজাতির সহজাত প্রবৃত্তি সৃষ্টির আদিকালে হাওয়া আদম থেকে পরিবারের উৎপত্তি। ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে যখন মানুষ ফিরে আপন নীড়ে পরিবারের মানুষ তখন শক্তি জোগায় যত্ন আত্তি করে। পরিবার হলো সকল কর্মযজ্ঞের সূতিকাগার স্নেহ মমতা আর ভালবাসার আধার জড়িয়ে থাকা মায়া বিপদে আপদে পাশে দাড়িয়ে দেয় সুখ শান্তির ছায়া। ঝগড়া ঝাটি আর খুনসূটি হয় যদি কখনও এক সদস‍্যকে ছাড়া হায় অন‍্য সদস‍্য মরে জানিনা কিভাবে শেষ বিদায় নিয়ে ঘুমিয়ে থাকব কবরে। জাকিয়া সুলতানা এম, আরডি রাজিয়া গার্ডেন স্বামীবাগ, ঢাকা।

আরো পড়ুন

নিস্তব্ধতা (নিপা খান) আজ তুমি নেই আমার দুচোখ ছাপানো জলধারা তোমার মতো করে কেউ ভালোবাসে না কেউ আদর বা শাসন করে না। আমি যেন মুক্ত হতে গিয়ে বন্দি হয়ে গেলাম। তোমার সরব উপস্থিতি আমায় মুগ্ধ করত। বড্ড ক্লান্ত আর নিস্তব্ধ হয়ে গেছে মন নিজেকে আর কোলাহলে রাখতে পারি না। নিজের মনেই নিজেকে বুঁদ হয়ে থাকি। তোমার মতো করে কেউ বোঝেনি এ জীবনে পরজন্মে কি রাখবে আমায় স্মরণে!

আরো পড়ুন

শঙ্খ ঘোষ : অন্তরস্থিত সত্তা ও কবিতার অভিব্যঞ্জনা ( গোলাম কিবরিয়া পিনু ) এক কবি শঙ্খ ঘোষের সঙ্গে তিন-চারবার দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে অল্প। তাঁর কবিতা পাঠ শুনেছি কাছাকাছি থেকে কলকাতার এক অনুষ্ঠানে, আমার কবিতাও তিনি শুনেছেন–সেই অনুষ্ঠানে। তাঁর সাথে দেখা হওয়া বা কথা বলার আগে থেকেই–তাঁর কবিতার সাথে আমার পরিচয়, তবে–বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-জীবন থেকে তা আরও দিনদিন গভীর হয়েছে। সেই থেকে তাঁর কবিতার বই ও অন্যান্য বই সংগ্রহ করি, কাছে রাখি, নিয়মিত পড়ি। এই তো ২০১৫ সালে কলকাতায় গিয়ে কলেজ স্ট্রিটের আনন্দ পাবলিশার্সের বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ নামের কবিতা বইটি সংগ্রহ করি, বইটি আমার সংগ্রহে ছিল না, এই…

আরো পড়ুন

উজান ঢল (সাকেরা নাছরিন) উজান ঢলে তলিয়ে গেছে অথৈ জলের নদী সেই নদীতে খুঁজছে বাবা খড়কুটো পায় যদি। এক বাহুতে সোনা মানিক কাঁধে আরেক জন পু্ঁটলি বাঁধা কিছু ধন বাঁচার প্রয়োজন। সোনা মায়ের বুক জড়িয়ে দুগ্ধপোষ্য ধন কলিজাটা নিচ্ছে ছিঁড়ে ঢেউ আসে যখন। বানের জলে ভাঙছে বসত ছিন্ন মায়ের শাড়ি বলছে বাবা গড়বো ওসব যদি বাঁচতে পারি। পিঠটা বাবার ঝাঁজরা তবু ইস্পাত-দৃঢ় প্রাণ মায়ের মনটা কাঁদামাটি বড়ই পেরেশান।

আরো পড়ুন

বানভাসির আর্তনাদ কপাল পোড়ার কপাল পোড়ে দুঃখী জনের দুঃখ বাড়ে, বানের জলে ভাসলো ঘরদোর– হায় জীবন! যন্ত্রণা-কষ্টে প্রাণ ওষ্ঠাগত— নিয়তির বৈষম্য। অনাহার-নির্ঘুম, দুর্বিষহ,নির্দয় প্রহর ভাঙ্গে আত্মবিলাপের সুর তোলে; কোথায় আছে দয়ার সাগর দয়ালু…মানবতার প্রতীক নেতা-নেত্রী, সুধীবৃন্দ? আপন কাহন গাইতে গাইতে কণ্ঠধ্বনি স্বরবদ্ধ! আকাশ কাঁদে,বাতাস কাঁপে শোনার জন নেই ত্রিভুবন মাঝে! ভাগ্যহারা জনপদের নেই কোন ঠাঁই ভাগ্যবান জনস্রোতের আড়ম্বর পটচিত্রে, নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে দুঃখ-বেদনার তৈলচিত্রে মরুভূমির বালিয়াড়ি বাহিত হয় ক্ষণে ক্ষণে। ওরা কারা? ওরা কি আমাদেরই মূল স্রোতধারার অন্তর্গত? ভাবতে ভুলে গেছি স্বচিত্তে, স্ব-নয়নে! সহজাত প্রবৃত্তির তাগিদে জেগে উঠুক আর্তমানবতার জাগ্রত ধ্বনি; বলিষ্ঠ উদ্যোগী পদক্ষেপে ঘটমান দুঃসময়ের বিনাশ ঘটুক মানবতা-মহত্ত্বের অসীম কর্তব্যময় কর্ম…

আরো পড়ুন