“উত্তর আধুনিকতা এবং স্বাধীনতা শব্দের মানদণ্ড” (সুমনা খান) সময়ের বিবর্তনে বিশাল পরিবর্তন আসে জীবন ব্যবস্থায়।মানুষের দৃষ্টির সীমানা পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয়।কিন্তু কিছু সত্য যা নিতান্ত’ই চিরন্তন এবং অপরিবর্তনীয় যদিও অসংখ্য মানুষ যারা নিয়ত এসব সত্যের বিপক্ষে প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দেয়, একটা নড়বড়ে জীবনে দাঁড়িয়ে অগোছালো দৃষ্টির আলোকে সে জীবনের নিখুঁত সুন্দর ও সত্য বিষয়গুলোকে ক্রমশ ব্যবচ্ছেদ করে চলে। কেননা মানুষ নিয়ম ভেঙে নিয়ম গড়তে বেশি আনন্দ পায়, কিন্তু নিয়মের ভেতর থেকে জীবনকে দাঁড় করানোর সত্য শক্তির উপাসনা করতে তাঁরা নারাজ।এ এক অদ্ভুত ইচ্ছে তাঁদের, সহজ-সরল জীবনকে তিলে তিলে অনিয়মের জালে জড়িয়ে ফেলে এবং একটা সময় আকটে পড়া মাছের মতো জীবন-মৃত্যুর…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ: ফেইসবুকে সুমনের আপলোড করা শুভ্র তুষারপাতের ছবি, কখনো আদিগন্ত সবুজ লেক ও নয়নাভিরাম প্রকৃতির ছবি দেখে, আবার হয়তো কখনো সে দেশের আইনশৃংখলার চমৎকার বর্ণনা ও নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা পড়ে রাকিব চিন্তা করে, এমন জীবন পেলে তো নিঃসন্দেহে ভালো হয়। বিদেশে যদি ভালো উপার্জন হয় তাহলে ছোট ভাইবোনগুলোর পড়ালেখার জন্যও সে বেশি সহায়তা করতে পারবে। রাকিব এবং তার স্ত্রী নাসরিন দু’জনেই পেশায় ডাক্তার। প্রায় দু’বছর আগে ইন্টার্নি শেষ করে তারা দু’জনেই ঢাকার দু’টি হাসপাতালে চাকরি করছে। পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সরকারী চাকুরির চেষ্টা করে যাচ্ছে। এছাড়াও তাদের পেশাগত উচ্চশিক্ষার জন্যও তাদের পড়ালেখা করতে হচ্ছে। এরমাঝেই হঠাৎ…
নীল উপাখ্যান ।।সাজ্জাদ ইসলাম।। সব ঠিক চলে কলে ঘোরে চাকা ঘোড়ার গাড়িতে ব্যস্ত ব্যবসায়ী, কত রাজ্য জয় করে ফিরে আসে আপন অন্ধরে, ঘুম যায়, দুধ খায়, শিল্প-আঁকে আদম সুরত অন্ধ সময়ের গোপন কোটরে যদি ডাকে স্মৃতি-পাখি, জেগে উঠে অচেনা উন্মাদ অস্থির চাবুক দিয়ে, চন্দ্র সূর্য ছিড়ে, বাস টেম্পু গুড়িয়ে, তামাম পথে অন্ধকার বীর্যগুলি করে অকারণে বসে থাকে দীঘল রাত্রির নীল বাঁকে নীল পাখি উড়ে যায় বেগুনি বাতাসে…কত ফলে চুমু দিয়ে ক্ষত করে, কত ফুলে ছড়ায় কর্কট জ্যামিতিক বৃদ্ধিপ্রাপ্ত কোষে কত শোক থাকে পাখি সেকি তুমি জান, নাকি এটা এক মিছেমিছি খেলা? নীল তুমি মিথ্যা, মায়া, মরীচিকা, তবু বেঁচে আছি! করি…
শুধু তোমাকেই ভালোবাসি শহর থেকে দূরে এসেছি। মাত্র আটচল্লিশ ঘণ্টার জন্য। মনে হচ্ছে আটচল্লিশ হাজার বছর তোমাকে দেখিনি। আমার ভ্রমণ পথে তুমি ছিলে নিরন্তর মুঠোফোনে, ক্ষুদে বার্তায়, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ আর সম্ভাব্য যত জায়গায় তোমাকে পাওয়া যায়! তবুও আমি চাতকের মত কাতর হয়েছি। হিংস্র বাঘের মত ক্ষুদার্ত থেকেছি। আমার এই অতৃপ্ত মনকে পোষ মানাতে পারিনি। বারবার মনে হয়েছে তোমাকে আরও কাছে চাই। হৃদয়, মন বা বুকের কতটা কাছে এলে আরও কাছে পাওয়া যায় বলতে পারো? কী এক তীব্র দহনে পুড়ি! এ এমন এক দহন যার কোন সংজ্ঞা নেই। এ দহনে কোটি কোটি বার নিজেকে পোড়ালেও তৃষিত তিমির হয় না। এ দহনে…
আমি আজও তোমায় ভালোবাসি আর কতকাল! আর কতকাল! এভাবেই চলতে থাকবে পৃথিবী! শান্ত হবে অশান্ত এক দূর্বিষহ জীবন নিয়ে বহমান এই মানব জীবন ! সবই তো চলছে তার ইচ্ছে মতন পূর্ব আকাশে সূর্যোদয় পশ্চিমে অস্ত ভোরের পাখি ডাকা আর প্রকৃতির নিজ চরিত্র সবই তো চলছে তার নিজের মত! তাহলে কেনো আজ আমরা হয়ে আছি ঘরে বন্দী! মানবজাতির সাথে তাদের কিসের এই দুরঅভিসন্ধি! এক নিমিষেই সব যোগাযোগ হয়ে গিয়েছে বিচ্ছিন্ন! মনে হয় হাজার বছর ধরে দেখিনা তোমায়! চাতকের মত তোমার কাতরতা হিংস্র বাঘের মত ক্ষুধার্ততা আর অতৃপ্ত মনকে পোষ মানাতে চেয়েছিলাম তাই তো বারবার তোমার কাছে ছুটে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিসের এক…
তোমায় ভালোবাসি (তসলিমা হাসান) তোমায় ভালোবাসি তাই ভোর হয়, সূর্যের বুক স্পর্শ করে বয়ে যায় হিমেল বাতাস! তোমায় ভালোবাসি তাই গাছে ফুল ফোটে… তবুও নির্লিপ্ত হাওয়ায় না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস! তোমায় ভালোবাসি তাই বৃষ্টিতে নতুন আশার জল… নতুন স্বপ্ন পরিপূর্ণ ধান ক্ষেত বর্ষার কদম ফোঁটে! তোমায় ভালোবাসি তাই খুশির প্রলেপ, শরৎ আসে.. তবুও বিবাগি উদাসী মনে বসে থাকি শিউলি ফুল হাতে! তোমায় ভালোবাসি তাই বসন্তের বাহার…. বুক ছুঁয়ে স্বর্ণলতার মতো কৃঞ্চচূড়া যত! তোমায় ভালোবাসি তাই ছন্দে মগ্ন কবি…. নতুন সুরে কালো রক্তাত্ব গোলাপ ফোটে কত-শত! তোমায় ভালোবাসি তাই নবজীবনের উত্তাল দল.. সবুজের সমারোহে মাতোয়ারা মুঠো ভরে নেয় সুখ! তোমায় ভালোবাসি তাই…
আমার জন্য একজন কেউ থাকুক (লাবণ্য সীমা) সত্যিই নিঃসঙ্গ একা পথ চলতে কেউ একজন থাকুক মাঝরাতে আঁধার ঘরে একা আমার ভয় কাটাতে সঙ্গী হয়ে কেউ একজন থাকুক খাবার সময় পানির পাত্রটি এগিয়ে দেবার জন্য আমার কাছে কেউ একজন থাকুক। গোসল শেষে ভেজা চুলের পানি মুছে দেবার একজন কেউ থাকুক রান্না ঘরে ক্লান্ত ঘর্মাক্ত শরীর তারপরও পিছন থেকে ঝাপটে ধরুক ভালোবেসে ঘাড়ে মুখ লুকিয়ে ঘামের গন্ধ নেবার কেউ একজন থাকুক বৃষ্টি এলে, একসাথে ভেজবার জন্য কেউ একজন থাকুক জাম আর জামরুলের পাতার আড়ালে একটুকরো রোদ এসে বিকেলটাকে সুন্দর করে দেয় সে সৌন্দর্য টুকু একসাথে দেখবার জন্য কেউ একজন পাশে থাকুক। মন…
একা ।। জাহানারা বুলা।। তোমার-আমার মত প্রতিটি বৃষ্টির ফোঁটা একা শুধু লীন হয়ে যায় পতিত গতির সাথে মৃত্তিকায়- আমরাও তা’ই। হলুদ দিনের শেষে ধূসর রাত্রি আমাদের পতন দেখে নিশুতির ডাক একান্ত করে তারও কামনার স্ফুরণ ঘটাবে বলে ভোরের সুগন্ধি বাতাসের সাথে। ভালোবাসা বালুকণাও বোঝে সমুদ্র ছুটে আসে তাই বেলাভূমির কাছে। একা থাকা অপেক্ষা শুধু মিলেমিশে গলে পড়ার আকাঙ্ক্ষা বুকে। ঢাকা।
আমাকে চিনবেন অমিত’দা আপনি আমাকে চিনবেন অমিত’দা। বেশিদিন আগের কথা তো নয়; এই মাস কয়েক; আমরা পাশাপাশি… ছিলাম না কোন ভাবেই একে অন্যের পরিচিত। নির্দিধায় মানবিক হয়ে উঠেছিলাম তবু। যখন স্বজনের ভারি বোধ, চিন্তা-আক্রান্ত মুখ, যখন ডাক্তার, নার্স, ভেন্টিলেশনের হাহাকার, যখন অবুঝ মৃত্যুর বায়না দোরগোড়ায়; আমরা একে অন্যের মায়া ছুঁয়ে ছিলাম। অক্সিজেন আহাজারিতে এক বেডে শুয়ে- দু’দুটো বিভীষিকা রাত পর আমি এলাম; পেছনে আপনি। গঙ্গার জল ঘোলা হয়েছে অস্থি-মজ্জা, হাড়ের ছাইয়ে। দু’জনার চোখে তবু একফোঁট জল ছিল না। মনে কি পড়ে আপনার- আমরা মায়া ছুঁয়ে ছিলাম? আর যেও না দাঁড়াও আকাশ আর যেও না দৃষ্টি সীমার বাইরে গেলে…
সময় তুমি বড্ড যাযাবর (নুর এমডি চৌধুরী) মানুষের সাথে সাথে সময়ও একসময় বৃদ্ধ হয়ে যায় নীলাকাশ মেঘের ছায়ায় ঢেকে নেয় তার রঙ প্রকৃতি আড়াল করে নেয় তার শোভা বর্ধন মমতার সান্নিধ্যে বেড়ে উঠা ঔরসজাত শিশু গুলি বাবা মা নামের মধুর ডাকটিকে বন্দী করে দেয় বৃদ্ধাশ্রম নামের জেলখানাতে। হায়রে জীবন! রঙ তুলির আঁচড়ে যাকে রাঙালাম হৃদয়ের সবকটি রঙ নিয়ে সময়ের তালেতালে সেও পালিয়ে বেড়ায় এ জীবনটাকে একাকীত্বতা দিয়ে পাখির সুমধুর ডাক আর শোনা হয় না অধরামৃত প্রাণ চোখ বুজে নির্বোধ হাঁটে একটু সান্নিধ্য একটু গল্প কথার খুঁজে। তার যে সময় নেই। সে ব্যস্ত মহা ব্যস্ত। আবহমানকাল জীববৈচিত্র্যের সরল-সৌন্দর্যে সবাই মজে একদিন…
