বসন্তের একদিন [রোকেয়া ইসলাম] কাজল যখন খালেক পেট্রোল পাম্পে পৌছালো তখন সকাল পৌনে নটা, ততোক্ষণে গাড়ি ছেড়ে দিয়ে। জায়গাটা খুঁজতে দশ মিনিট, আর দশ মিনিট মোড় নেবার জন্য ব্যায় হলো । কুড়ি মিনিট আর যানজটে পঁচিশ মিনিট, মোট পয়তাল্লিশ মিনিটের ধাক্কা। পয়তাল্লিশ মিনিটে গাড়ি খুব বেশি দূর যেতে পারেনি, এই বাহনটা দ্রুত চালিয়ে আর যাত্রী ভর্তি গাড়িটা ধীর গতিতে চললে ধরাটা কঠিন নয়, সমস্যা হলো কঠিন যানজটের কবলে পড়লে সামনের গাড়ির যাত্রীরা খুব বিরক্ত হবে, এক জ্যামেই যদি পনর মিনিট কেটে যায় তাহলেই তো খবর হয়ে যাবে। দুটো বড়সড় জ্যামে আঁটকে যাবার সম্ভবনা আছে। থাক ওরা চলে যাক, ফেসবুক গ্রুপ…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
মাত্র ২৭ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ফাতিমা পেমান। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে তৃতীয় কনিষ্ঠতম সিনেটর। ২৭ বছর ফাতিমাই হতে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার সিনেটে প্রথম হিজাবধারী মুসলিম নারী। তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে। জুলাইয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া থেকে নির্বাচিত এ সিনেটর। ফাতিমা বলেন, ‘সোমবার চূড়ান্ত ফল আসার পর ফাতিমা বলেন, আমি আফগান ও মুসলিম। তবে সেই পরিচয়ের আগে আমি একজন অস্ট্রেলিয়ান লেবার সিনেটর। আমি বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয়, লিঙ্গ, বয়স ইত্যাদি পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সব অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করছি।’ হিজাব পরার বিষয়টিকে অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতিতে স্বাভাবিক করতেও কাজ করতে চান ফাতিমা। তিনি…
একার শাম্পান মুহম্মদ নূরুল হুদা (মুনূহু) ২২-২৩.০৬.২০২২ নিজেকে দেখার আগে বহুবার দেখেছি তোমাকে, তোমাকে দেখার পরে একবারও নিজেকে দেখিনি। চেনা অচেনার সাঁকো নিরাপদ দূরত্বের বাঁকে, যে আছে সুরক্ষা ব্যুহে, তাকে আর কখনো খুঁজিনি। তোমার দর্পণে আমি আমাকেই দেখেছি যেদিন, শর্তহীন উড়ে গেছি সীমান্তের এপারওপার। মায়াহীন মনডানা কোনো মানা মানেনি সেদিন, নিজের ভিতরে নিজে পুড়ে পুড়ে চিতাভস্মসার। বৃহস্পতি বলয়ের নীড়ে যতবার হয়ে যায় দেখা, ততবার আঁকিবুকি শেখা, একার ভেতরে একা একা। শর্তহীন সমর্পণ কার? নিশ্বাসে বিশ্বাস আছে যার। নিজে যদি নিজের করাত, বুঝে নাও নিজের আকার। উদিত সূর্যের দিকে চোখ রেখে উদয়াস্ত যাও এঁকেবেঁকে; অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রত্ন ব্যবহার শিখে শিখে সাজাও সংসার।…
অনুভূতি কষ্টগুলো কেন এমন হয়? শুধু দিবানিশি নয়ন ভেজায়। হৃদয়কে করে দহন, নয়নকে করে অচল, শুধু কষ্টগুলো থাকে সচল। পুরে অঙ্গার হয় দেহ ও মন, শুধু কষ্ট গুলোতে লাগে না আগুন। ফাগুন ও আসে নির্জলা দুপুরে পেঁজা তুলোর মতো, উড়িয়ে নিয়ে যায় সুক্ষ অনুভূতি গুলো। তবুও কষ্টগুলো নষ্ট হয় না করে না জায়গা বদল… বুকের বাঁ পাশটা নিয়েছে যবর দখলে, যেন তার চিরদিনের কেনা। পড়েনা ঝরে মরমরে শুকনো পাতার মতো হয় না পিষ্ট কোন অযত্নে… এ কেমন গড়ন? আঘাতের পরে আঘাত তারপরও কষ্টের যন্ত্রণা কমে না, বরং ধরে আর ও কঠিন পাথরের রূপে বরণ, আজো খুঁজে পাই না কষ্টের ধরণ।…
এখনো তোমাকে ভালোবাসি [আফছানা খানম অথৈ] আকাশ ও শিলা দু’জনের রিলেশনের বিয়ে। আকাশ পরিবারের সেঝো ছেলে মাস্টার্স পড়ে। বড় দু’ভাই এখনো বিয়ে করেনি। তাই বিয়েটা আপাতত গোপন রাখা হয়েছে।শিলা পরিবারের ছোট মেয়ে।এখনো লেখা পড়া শেষ হয়নি অনার্সে পড়ে।পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বিয়ে..। তাছাড়া একটা বেকার ছেলেকে বিয়ে কেউ মেনে নেয়নি।দুই পরিবার অসন্তোষ্ট।দু’জনে হোস্টেলে থেকে লেখা পড়া করতো।বিয়ে করার পর হোস্টেল ছেড়ে দিয়ে ভাড়া বাসায় উঠল।কিন্তু দু’জনে ছাত্র সংসারের খরচ কিভাবে চালাবে। শিলার বাবা কয়েক মাস আগে মারা যান।শিলার লেখা পড়া, বিয়ে শাদী এসবের জন্য তিন লক্ষ টাকা ব্যাংকে তার নামে একাউন্ট করে রেখে যান।একাউন্ট থেকে কিছু টাকা তুলে শিলা কোনমতে…
মনের কথা (শফিকুল ইসলাম হাসান) আমি চিরকাল বেঁচে রবো না ইহকালে। হয়তো মোর কবিতাখানি বেঁচে রবে সাহিত্যের বৃক্ষ ডালে। তোমরা চিরতরে ভুলে যাবে এই আমাকে। তবুও ছন্দের মাঝে মনে রেখো এই ক্ষুদ্র বন্ধু কে। আমি চিরদিন বেঁচে রবো না তোমাদের মাঝে। থাকতে চাই ছন্দে ভরা বইয়ের ভাঁজে। ডুবে গেলে জীবন বেলা উঠেনা সেই রবি। আজকে আছি সবার মাঝে কাল হয়তো ছবি। প্রকৃতির মাঝে চলতে ফিরতে লেখায় করেছি কত ভুল। ক্ষমা করে দিও শেষ বিদায়ের সমাধিতে ফুল। তোমরা সবাই সুখে থেকো নাহি নিও মনে ব্যাথা। আপ্লুত মনে যা লিখেছি সবি মনের কথা।।
গ্রাম তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছি ফেলে যাচ্ছি খড়কুটো ঘাসলতা একটা সরু নদী হৃদয় সম পর করে যাচ্ছি প্রাণের বান্ধব দূরে সরে যাচ্ছে একটা খেলার মাঠ আর আমার শৈশব নিয়ে খেলতে থাকা অগণিত সহপাঠী আর খেলার সাথী। ফেলে যাচ্ছি প্রাণের প্রাণী কুকুর বিড়াল ছাগল গরু ফেলে যাচ্ছি একটা গ্রামীণ আকাশ ফেলে যাচ্ছি কলিজা চিরে ফেললে যাকে দেখা যাবে – আত্মার আম্মাকে। ঘুম ঘুমিয়ে গেছে ঘুম ঘুমিয়ে গেছে রাতের বিছানায় দিনের কষ্ট ভুলেছে নয়ন আগামীকালের কষ্টরা দেখা দেয় চোখের ভেতর, সামান্য গভীরতায়। হৃদপিণ্ডের ভেতর রক্ত জমাট বাঁধা পুরনো রক্ত, কৈশোরের রক্ত সেই রক্ত তরল করলে দেখতে পাবেন প্রেমিকার ছবি। একটা মেয়ে বুড়ি…
তুমি যদি চাও তুমি যদি চাও আকাশ হবো ভেজা জোছনায় স্নান করবো তুমি যদি চাও দিগন্ত হবো মেঘপালকে সাঁতার দেবো তুমি যদি চাও জলরাশি হবো বিন্দু বিন্দু প্রেম দেবো তুমি যদি চাও ফুল হবো তোমার শ্বাসে ঘ্রাণ দেব তুমি যদি চাও অনুভূতি হবো তোমার মনের খোরাক দেব তুমি যদি চাও তারা হবো আঁধার রাতে পথ দেখাবো তুমি যদি চাও বাইজী হবো যুবতীর নাচে প্রাণ জুরাবো তুমি যদি চাও বাঁশি হবো তোমার সুরেই সুর দেবো তুমি যদি চাও হারিয়েও যাবো না ফেরার দেশে পথ হারাবো। একান্ত কথন কত যে দিন গিয়েছে কেটে অন্ধকারে একা আমার দূয়ারে এসেছে ভোর পাইনি তোমার…
কারোরই ছিলাম না আমি কোনো দিন ।। জাহানারা বুলা।। ( পর্ব -১) অনন্যা নরওয়ে ছেড়ে এসেছে প্রায় ছ’বছর। তবুও, তার শরীর মন জুড়ে লেপটে আছে সেখানকার জলবায়ু। মোসেসের পবিত্র অবয়বের আদলে একটি অবয়ব। আর, সেই দেহের উষ্ণ অনুভব। জীবনের অনেক ঘটে যাওয়া ঘটনাকেই ভুলে গেছে সে, ভুলতে পারছে না যা তা হলো নরওয়ের সেই বাড়ি আর বাড়ির সকাল, দুপুর, রাত। নরওয়ে তার মনের সাদা বোর্ডে কালো মার্কারের দাগের মত স্পষ্ট হয়ে জেগে আছে। এর কারণ, রজত এবং তার বাড়ি। দু’য়ে মিলে যেন এক সৌম্য সুখ রচনা করে দিয়েছিলো অনন্যার মনে। এই তো আজ ভোরেও, বিছানায় শুয়ে থেকে অনন্যা ফ্ল্যাশব্যাকে। মনে…
আকাশের চাঁদ (ইমতিয়াজ সুলতান ইমরান) আকাশের চাঁদ দেখে খুকু আজ ছড়া লেখে চাঁদ মামা চিকনা ঐ দেখো ঠিক না? ঠিক যদি বলে থাকি আয় করি মাখামাখি কোলাকুলি করব লাল জামা পরব। লাল জামা, নীল জামা দেয় বাবা, দেয় মামা… যাব মামা বাড়িতে চড়ে রেলগাড়িতে। রেলগাড়ি ঝিকঝিক ঈদ এলো ঠিক ঠিক রেলগাড়ি ছুটেছে… আঁখিঘুম টুটেছে। ঈদ এলো! ঈদ এলো… মনে খুব খুশি পেলো ঈদ মানে সমতা ঈদ মানে মমতা। ——————— ইমতিয়াজ সুলতান ইমরান ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক এয়ারপোর্ট, সিলেট।
