Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ

মাঝে মাঝে – ফারহানা আহাসান মাঝে মাঝে কিছু বর্ষণ কিছু ধূসর রঙের মন ছেয়ে যায় মেঘের আড়ালে রয়ে যায় বিবর্ণ হীন বর্ণ। কোথাও মুষল বর্ষণে কেপে উঠে মনের পাটাতন, কোথাওবা নিঃশ্চুপ মনের আহ্বান। আমার সুখের জানালায় এ কোন বিষাদের ছায়া হারিয়ে গেলো দূর আকাশে রৌদ্র মাখা হাসি। আধার যতো হোক কালো আলো আসবে হাতের মুঠোয় যদি ইচ্ছে হয় অটল।

আরো পড়ুন

আমার মাতৃচুম্বনের আদি স্বর মুহম্মদ নূরুল হুদা মেঘেদের আড়ালে হাসছিলাম হাহা। ঠা-ঠা ডিগবাজি খাচ্ছিলাম সপ্ত-ঋষির পবনে-পর্বতে। মুহূর্তের তিমিরাক্ষী আলোকপোশাক রূপবদলরত অনবরত। ভীতসন্ত্রস্ত আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম স্বর্গমর্ত্য অমাদিগন্ত। আমার আগে-পেছনে আমাকে খুঁজে খুঁজে পাহারা দিচ্ছিল হাজারহাজার কোটিকোটি আমার আমি। যেহেতু আমার আগে-পেছনে আমার পেছনে-আগে ছুটছিলেন বড়শি হাতে আমার মানবজনক। জনক তো নয়, খলুই হাতে এক মৎস্যশিকারি। শিকারি তো নয়, সুদর্শন চক্র হাতে এক নিমগ্ন নিকারি। নিকারি তো নয়, ধনুক হাতে এক দোলনা-কারবারি… কত অনন্ত পার হতে চলেছে মা আমার সন্তানহীনা। মানুষজনের হাতে হাতে বেদনার বেহালাবীণা। না তিরস্কার, না পুরস্কার; বাবা আটকুঁড়া বাদশাহর ভুবনবিদারী হাহাকার। হাহা কার! হাহা কার? হাহা কার! আমি…

আরো পড়ুন

ডুব ডুবে যাওয়ার আগে চিৎকার করে ডেকেছি শুনেছিলে কি? হয়তো শুনেছো খুঁজেছো এতোটাই তলিয়ে গিয়েছিলাম তরঙ্গও থেমে গিয়েছিলো নিঃশ্বাসের বুদবুদও ওঠেনি শান্ত নিশ্চুপ কেউ কখনো ছিলো না যেনো! স্পর্শ এখন অন্ধকার এই খানে নক্ষত্রের নীচে মুখোমুখি আবছায়া ছায়ামূর্তি হাতে হাত ছুঁয়ে আত্মার উত্তাপ প্রবাহিত শিরায় শিরায় ধমনীতে আত্মার স্পর্শ স্বর্গীয় সুবাস ছড়ায় পৃথিবীর সময়ে দেখা হয়না মহাকালের সময়ে পাশাপাশি চিরকাল…..

আরো পড়ুন

আমরা শোকাহত: পৃথিবী নশ্বর, একদিন সবাই কে এই পৃথিবীর অলিক মায়া ত্যাগ করতে হবে। তারপর ও কিছু অকাল মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হয়।কবি, বিশিষ্ট লেখক Kabir Hasanur আমি তাকে সরাসরি কখনো দেখিনি, ভার্চুয়াল পরিচয়। ভীষণ ভালো লিখতেন । আমাদের গ্রুপেই পরিচয়। লেখালেখি নিয়ে দুই একদিন মোবাইলে কোথাও হয়েছে। কিন্তু যতটা জানি অত্যন্ত বিনয়ী ভদ্র এবং রুচিশীল মানুষ। আমি তার লেখার একজন ভক্ত পাঠক। অসাধারণ আবৃত্তিও করতেন। আজকে যখন ফেসবুকে দেখতে পেলাম এই ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ব্যক্তিটি পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরপারে চলে গেছেন, সত্যিই মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। জানি না বিধাতার কোন রহমত এখানে নিহিত আছে। তবে মহান আল্লাহ যা করেন তা-ই…

আরো পড়ুন

মেঘ বালিকা মেঘের মেয়ে মেঘ বালিকা মেঘের দেশে বাড়ি ওড়াও কেন মেঘের ফানুস, দাও যখন তখন আড়ি। আমি নাকি মেঘ বালিকা, কি যে বলো তুমি!আমি শুধু হাসতে জানি, মেঘের মতো ভাসতে জানি আকাশ ভেবে তোমার বুকে রাখতে পারি সলাজ এ মুখ খানি। ইচ্ছা করে দু’চোখ ভরে কাজল পরি।তমাল কালো চোখের দিকে তাকিয়ে তুমি বলবে, ভ্রমর নাকি? আলতো হেসে মুখ নামাবো লাজুক আমি। শিশির যেমন নবীন ধানে আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়ে দেয় তেমনি করে ওষ্ঠ তোমার ছুঁয়ে দেবে আমার অধর খানি বলবে তুমি, তোমার চোখেই আকাশ ভেবে উড়বে আমার কপোত আঁখি, পল্লবেতে বাঁধবে যে ঘর, নীড় হারানো ছোট্ট পাখি। তুমিই আমার…

আরো পড়ুন

প্লেব্যাক সম্রাট [ জগলুল হায়দার ] বাংলাদেশের রফি তুমি তুমিই আবার কিশোর* তোমার গানে পোলাপানের গলায় ছিল কী শোর! তোমার প্লেব্যাক তোমার গানে সত্তুর আর আশিতে আমারা সবাই মজেছিলাম ভালবাসাবাসিতে। রুশদি তুমি মাসুদ রানা** পূর্বপাকের দিন তোমার গানেই হিট সিনেমা গানের কতো সিন। জব্বার হাদি বসির ফারুক সিদ্দিকী আর নবী প্লেব্যাকে তো তারাও ছিলেন দারুণ সুরের ছবি। কিন্তু তুমি টেক্কা দিলে গলায় ঝড়ের গতি নাম্বার ওয়ান গানের হিরো প্লেব্যাকে নেই যতি। ‘চুমকি’ চলে দেখলে পথে আমরা চলি পিছে ‘মাগো মা’য় মায়ের শরণ বেহেস্ত পায়ের নিচে। গানের যখন রমরমা দিন তখনই গান ফেলে কি অভিমান, বললে না ক্যান হঠাৎ চলে গেলে?…

আরো পড়ুন

হঠাৎ কখনো হয় যদি দেখা [ নাজনীন আক্তার মুন্নী ] অনেক বছর পরে হঠাৎ কখনো হয় যদি দেখা — আমাদের পরিচিত কোনো জায়গায় চিনতে পারবে কি আমায় ? যদি চিনে ফেলো তাহলে অনুরোধ থাকলো ভুলেও কখনো জিজ্ঞেস করো না আমায় আমি কেমন আছি ? আমার ভালো থাকার কারন গুলো কেড়ে নিয়ে আমায় যদি আবার জিজ্ঞেস করো আমি কেমন আছি ? শুনতে বড়ই হাস্যকর শুনাবে! আমি তো ভালোই থাকতে চেয়েছিলাম ভালো থাকার মন্ত্রও পেয়েছিলাম — হাসো অনেক হাসো — কথায় কথায় হাসো এমন হাসি হাসো যেনো দুঃখরাও লজ্জা পায় তার দুঃখ প্রকাশ করতে! ঠোঁট দুটোও যেনো ভুলে যায় তার কষ্টের কথা…

আরো পড়ুন

পায়রা বিবি যুথিকা জ্যোতি, টরোন্টো, কানাডা কয়েক বছর আগে এক জলসায় গিয়েছিলাম। সেদিন ছিল, ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’। ঘরোয়া পরিবেশ হলেও পার্টি হলের সোনালী রঙের ঝুলন্ত সুদর্শন ঝাড়বাতির ঝিকিমিকি আলোর কণায় বেশ রোমান্টিক লাগছিল। দেখলাম, তখনও থোকায় থোকায় লালরঙের হার্টসেফের বেলুন আর সুবর্ণ আলোর মালায় চলছে ডেকোরেশনের পর্ব। তার ঘন্টাখানেক পরই শুরু হয় চমকপ্রদ প্রসাধনের বাহার ছড়িয়ে, আতরের গন্ধ উড়িয়ে, হাসির ফোয়ারা তুলে বাহুবেষ্টিত যুগলবন্দী কপোত-কপোতীর পালা করে আগমন, কথোপকথনের গুঞ্জরণ, হাসির কলতান। ধীরে ধীরে বেশ আনন্দোৎচ্ছল সমারোহে ছেয়ে গিয়ে সৃষ্টি হয় এক মনোরম রোমাঞ্চকর পরিবেশ। বেশ উপভোগ্যই বটে! ক্ষীণ শব্দে গ্রামোফোন রেকর্ডে বাজজে পাশ্চাত্য সঙ্গীতের অপূর্ব মূর্ছনা। অন্যদিকে আগন্তুক অতিথিরাও উন্মুক্ত…

আরো পড়ুন

সান্ত্রি পাতানো জেলখানা। ।।সুরমা খন্দকার।। তোমার ভালোবাসাকে অভিবাদন জানানোর পর– আমি দিন-রাতকে এক করে দিয়েছি তোমার পায়ের কাছে। আসলে এছাড়া আমার আর কিছু নেই তোমাকে দেবার। তোমাকে বলার জন্য, তোমাকে শোনার এই যে উদগ্রীব হয়ে থাকা, এই চঞ্চলতা সব তোমার নামে উপসর্গ করা। যেমন করে পরম পূজারি ভিক্ষু দিন রাত বেসামাল প্রেম নিবেদনে ব্যস্ত মন্দিরে। এছাড়া আমি আর কিইবা পারি নিতান্ত অকর্মন্য বলে। জীবনের কত চনমনে দিনরাত হনন কারী তুমি আমি মুখোমুখি দাঁড়াই না, পৃথিবীর অন্তিম সৌন্দর্য দেখিনা। কারণ এখানে বন্দী হয়েছি সান্ত্রী পাতানো জেলখানায়। এখান থেকে দু’দণ্ড পা যায় না অন্য কোথাও অন্য সীমানায়।।

আরো পড়ুন

লাল জামা সাদা জামা [রোকসানা পারভীন রুশি] -মা ও মা এবার ইদে আমারে একখান লাল জামা কিন্না দিবা? – কই থেইক্কা লাল জামা তোরে কিন্না দিমু রে ফুলকী? আমরা গরীব মানুষ। দুইবেলা ঠিকমতো খাওন জুডাইতে পারিনা। আর ইদে নতুন জামা কিনমু কেমনে? – নাহ এবার ইদে আমি জামা চাই। নতুন জামা চাই, হুহ। – জেদ করিস নারে মা। দেওনের মতো থাইকলে কি আর নিজের বাচ্চারে না দেই। আইচ্চা যা এবার ইদে সবার বাসায় বাসায় মাংস টোকাই আইনা খামু না, বেচমু। বেইচা তোরে নতুন জামা কিন্না দিমু। – থাংকু মা – এইডা আবার কি কস? – কেন বস্তির আছিয়া খালার টিবিতে…

আরো পড়ুন