Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ

আসবে সুদিন (পূর্ণ দে ) তোমার ওপর আছে আমার অগাধ বিশ্বাস সেই বিশ্বাসে ভর করে নিশ্চিতে ঘুমাই রাত, যদিও এখনও অনেক পথ আছে বাকি আছে হায়নার হিংস্র সন্ধানী চোখের দূষ্টি তবুও তুমি বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ঠিক পৌঁছে যাবে গন্তব্যে…. যারা জীবনের পরিহাসকে ভাবে নিয়তি যারা বঞ্চিত-শোষিত-শুধুই লাঞ্ছিত…. বিচার চাওয়ার দেখাতে পারে না সাহস তারা একদিন পাবে উপযুক্ত সুবিচার, যারা অন্ধ সেজে বসে আছে আজ তারা চোখের দৃষ্টি ফিরে পাবে আবার যারা হয়ে গেছে সব দেখে শুনে একেবারে বোবা তাদের মুখেও নতুন করে ফুটবে ভাষা, আর যে মেয়ে সমাজের লোকলজ্জার ভয়ে মুখ লুকিয়ে কাঁদে নির্জন অন্ধকারে চোখে চোখ রেখে গর্জে উঠবে…

আরো পড়ুন

ছন্দ পতন [ পারভীন আকতার ] জীবনের সুখগুলো এক কোণে রেখে, দুঃখের সরব নদী বয়ে যায় অন্যদিকে বেঁকে। তিরিশের আগে যে ভাবনা হৃদয়ে আঁকা ছিল, আজি তা যাতনায় ভরা শোক এনে দিল। পান্থপথে বারবার তাকাই কোথা সে পথিক! অঙ্গে রূপে ক্ষুধার রাজ্যে চায় না এদিকসেদিক। তালগোল পাকিয়ে চলে যায় সে নিজ ভূবনে, পেছনের জন অবাক তারই দৃশ্য অবলোকনে। ভালোবাসা পাওয়ার লোভ সামলানো কঠিন, একটু যত্ন নেয়ার আকুতি বড়ই যাদুকরী সমীচীন। পথে ফেলে যায় সে যে কিসের নেশার ঘুরে ডাকে, ফের চলে যায় ব্যস্ত নগরে ভুলে বেমালুম তাকে। জীবনের ছন্দ পতন এমনি ক্ষুদ্র বিশ্বাস জলে যায়, বোবা কান্না পরশ বুলায় তব…

আরো পড়ুন

রবিবারের প্রত্যুষে ।।সায়কা মাহমুদ। তুমি কি দাড়ায়ে? এখোনো দাড়ায়ে? নায়াগ্রার ওপারে নাকি এপারে—– খরস্রোতে ভেসে যায় চোখ দেখিতে পাইনা তোমারে। তুমি কি আছো?এখনো কি আছো? নিশব্দের আলিঙ্গনে? শীতল জমাট আঁধারে বাঁধে প্রবালের কঠিন শৃংখল। উড়িয়ে ছিলে কি ঘুড়ি? সেই ঘুড়িটা? নীল আকাশের চাদরে—– যার বুকে আমি প্রজাপতি রং ছড়িয়ে ছিলাম আষাঢ়ে ধুয়ে মুছে গেছে সব খুলেছে শৃংখল সরব আলিঙ্গনে এখন ও কি আমায় মনে পড়ে তোমার রোদ বৃষ্টি ঝড়ে? সায়কা মাহমুদ। প্যারিশ।

আরো পড়ুন

অনিবার্য সময় ।। জাহানারা বুলা।। এক অঞ্জলি মুখাবয়ব পান করে চলে গেলে এর পর আর কোনো দেখা নেই ভালোবাসার শাস্তিও আছে এই যে তুমি দিচ্ছ আমার দু’চোখ ভিজে ওঠা প্রেম কি তুমি দেখছো? তোমাকে কেন বুঝে উঠতে পারিনি কোনোদিন তাই তো অস্থিরতার যতো কথায় তোমাকে আঘাত করি আমার স্বভাব মূলত কোমল- যখন তুমি এবং আমি একান্ত হয়ে কাছে থাকি নাহয় উত্তপ্ত সূর্য- পুড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে অসহ্য অবহেলাগুলো সব। আজকাল বেশ বিষয়বুদ্ধি হয়েছে তোমার ওই কারণে বুঝি তোমার কাছে আমি ধোঁয়াশার মত ধুধু প্রান্তর? অথচ তুমি শিশিরের জলে ভিজে- ভালোবাসার নরম অনুভব করেছিলে একদিন তোমার সেই সিক্ত সবুজ ঘাস ভোরের…

আরো পড়ুন

লোডশেডিং সমাচার (সাজেদা পারভীন) যাক্ না? সারাদিনে দু একবার ইলেকট্রিসিটি চলে যাওয়া সে কোন ব্যাপার না। যদি আমি সেটিকে পজিটিভলি নিতে শিখি। রাতে চলে যাবে দু এক ঘন্টার জন্য? মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে অনেকের। কিন্তু আমার তা হয় না। আমি খুব পজিটিভলি সেটি নিতে পারি। তখন বেশি বেশি মনে পড়ে শৈশবের কথা। একটা সময় বিদ্যুৎ মামা এতটা এভেইলেবল ছিল না। তারপরও দিন চলে গেছে। আমি বলবো খুব ভালোভাবেই গিয়েছে। রাতে বিদ্যুৎ মামার চলে যাওয়া মানেই মজার শুরু বিশেষ করে আমাদের ছেলেবেলায় তাইই মনে হতো। কত দৌড়াদৌড়ি করেছি, কত রকমের খেলা খেলেছি,হেসে কুটিকুটি হয়েছি। কারেন্টের অবাধ আসা যাওয়া থেকেই চাঁদকে ভালোবেসে…

আরো পড়ুন

সম্প‍্রীতিই ধর্মের সার। ।।ম.আ.কুদ্দুস পদ্মা।। পর বিশ্বাসে আঘাত মানবতা বিরোধী মতবাদ সম্প্রীতিই ধর্মের সার মনুষ‍্যের শ্রেষ্ঠ পথ। পর মত সহিষ্ণুতায় বাড়ায় নিজ ধর্মের ধর্ম গৌরব, মহিয়ান মহত্ব। ঠেলাঠেলিতে কি গৈরব? কোথায় রয় মানুষের মনুষ‍্যত্ব? সবাই সকলের তরে মিলিয়া মিশিয়া আমরা ভাই ভাই একই জাত জ্ঞ‍্যাতি মোরা, নাই ভেদাভেদ কিছু নাই। জাত অভিজাত থাকেনা লেখা গায়ে প্রকাশমান তাহা আচার ব‍্যাবহারে। কালো ধলো ছোট বড় সবারই ধমনীতে বয় লাল একই রক্ত কেনইবা জাতপাত লড়াইয়ের বিষাদ কুরুক্ষেত্র । ধর্ম বর্ণ ভাষা দেশ ভিন্ন ভিন্ন, অভিন্ন নহে জীবন মৃত‍্যু শাশ্বত ধনি গরীব শুদ্র ক্ষুদ্র অচ্ছুৎ সবারই অন্তিম ঠিকানার মানে একই তো! পরশ্রী পরনিন্দা মন্দ…

আরো পড়ুন

কন্যাদায় [ ইমতিয়াজ সুলতান ইমরান ] মেয়ের বাবা হয়ে মহাবিপদে পড়েছেন ইকরাম সাহেব। বিপদে পড়াটাই স্বাভাবিক। অষ্টাদশী শিক্ষিত রূপবতী মেয়ের বাবা। প্রতিদিন ঘটকরা এসে ঘোরঘোর করে বিভিন্ন পাত্রের ছবি আর বায়োডাটা নিয়ে। তিনি যতই বলেন, এখনই মেয়ের বিয়ের কথা ভাবছেন না। নাছোড়বান্দা ঘটকরা তার পিছু ছাড়ছে না। একটার পর একটা পান চিবিয়ে মিষ্টিমুখে বলবে, অমুক ছেলে শিক্ষিত সুদর্শন। তমুক পাত্র বড়লোক বাবার একমাত্র ছেলে। এই ছেলের চৌদ্দগোষ্ঠি লন্ডন আমেরিকায়। সেই ছেলে বড় চাকুরী করে। এমন ভালো-ভালো পাত্রের ঢাকঢোল প্রায়ই পিটিয়ে যায় ঘটকবাহিনী। ঘটকবাহিনীর ঢাকঢোল ইকরাম সাহেব কানে ঠাঁই না দিলেও অন্তরি বেগমের কান ঠিকই ভারী করে তুলেছে। ভারী হওয়াটাই স্বাভাবিক।…

আরো পড়ুন

বাংলায় “কি” এবং “কী”-এর মধ্যে পার্থক্য কী? আসলে বাংলা ভাষায় কিছু শব্দের ব্যবহার অনেক জটিল। তবে জানতে পারলেই সব সহজ মনে হবে। যেগুলো সবাই জানে না। কারণ স্কুলে এসব বিষয়ে কেউ গুরুত্ব দেয় না। যাই হোক, মূল প্রসঙ্গে আসি। আমার স্কুলের বাংলা শিক্ষক আমাকে এর পার্থক্য বুঝিয়েছিল এবং এর ব্যবহার-বিধি শিখিয়েছিল। আমরা যখন কোনো প্রশ্ন করি তখন কী/কি বলি।কিন্তু লেখার সময় বানান আলাদা হয়ে যায়। আমরা যখন কোনো প্রশ্ন করি। আর সেই প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ/না বা মাথা নেড়ে উত্তর প্রদান করা যায়। তখন সেক্ষেত্রে বাক্যের শেষে “কি” শব্দটি বসে। উদাহরণ- ১। তুমি কি লিখতে পারো? উ: হ্যাঁ। ২।তুমি কি সাঁতার…

আরো পড়ুন

ঘাত-প্রতিঘাতের নিষ্পেষিত বর্তমানের অনলাইন শিক্ষা [ রুমা পারভীনারা ] ‘শিক্ষা’ গতিশীল ধারণা বিশেষ। সময়ে সময়ে এর অর্থ পরিবর্তিত হয়।তার কারণ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন চিন্তা- ভাবনা, বিভিন্ন পরিস্থিতি শিক্ষার অর্থ, ধারাকে পরিবর্তিত করতে সচেষ্ট করে এবং এর ফলে শিক্ষা ক্ষণে ক্ষণে নতুনরূপে জন্ম লাভ করে আসছে আজও একই প্রক্রীয়ায়। বিকাশ প্রক্রীয়া যেমন জন্ম মূহুর্ত থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলে তেমনি শিক্ষাও বিকাশের মতই বৈশিষ্ট্য ধারণ করে নিরন্তর অঙ্গাঙ্গীভাবে চালিত করে আসছে প্রতিটি মানুষকে।এক্ষেত্রে বিকাশ যেমন শিশুর মনোভাব, আগ্রহ,প্রক্ষোভ সব কিছুকেই প্রাধান্য দিয়েই এগিয়ে চলে।তেমনি মানুষের বোধ শক্তির সমস্ত প্রক্রিয়াকে তীক্ষ্ণ ধারালো উন্নত মস্তিষ্কের উন্নত চিন্তাধারার ক্রমগতি সাধন করে তোলে। ‘শিক্ষা’ শব্দটি একটি…

আরো পড়ুন

শেফালির আত্মিক বিণ [ জেবুন্নেছা সুইটি ] দীর্ঘ বত্রিশ বছর পর, শেফালীর মনে এ কেমন আবছা আলোয় চকচক করছিল ঝরে যাওয়া কদমফুলের রেণু! কদমের তলে শেফালী তরে! শেফালির গায়ে কদমের রেণু! সতেরো বছর পর ফুটেছে তাঁরা আত্মীক বিণে! কেউ হয়তো জানতেই পারবে না, কি হ’য়ে গেছে তাঁদের মাঝে। একদিন শেফালী কদমকে জিজ্ঞেস করলো, “আমার কথা তোমার মনে আছে? কতদিন তুমি আমায় বিরক্ত করো না! মনে আছে, প্রতিদিন ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটায় তুমি আমায় গায়ে রেণু ঝরিয়ে দিতে। আমি চুপচাপ তোমার ঝরা ভালোবাসার ঘ্রাণ নিতাম। তুমি ভাবতে, আমার শোধবোধ কিছুই নেই। আমি তোমার ভাবনায় লুটোপুটি খেয়ে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দিতাম ঘাসের বিছানায়।…

আরো পড়ুন