আজ থেকে ঠিক ১০০ বছর আগে, ১৯২৫ সালে কবি জসীম উদদীন লিখেছিলেন তার বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতাটি। শতবর্ষ পরে তার ‘কবর’ খুঁড়ে কী পাওয়া যায় দেখা যাক। || শতবর্ষ পরে জসীম উদদীনের ‘কবর’ খোঁড়াখুঁড়ি || কাজী জহিরুল ইসলাম শতবর্ষ পরে একটি কবিতা নিয়ে আলোচনা হওয়া, লেখালেখি হওয়া অভিনব ব্যাপার। এর আগে কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতা রচনার শতবর্ষ দেশব্যাপী উদযাপন করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘১৪০০ সাল’ কবিতায় লিখেছিলেন ‘আজি হতে শতবর্ষ পরে/ কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি/ কৌতূহলভরে’। কবিতাটি তিনি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লিখেছিলেন। এবং দূর ভবিষ্যতের পাঠকের কাছে তার প্রত্যাশা ছিল, আগ্রহভরে না হলেও কৌতুহলভরে পাঠক কবিতাখানি পড়বে। হ্যাঁ, আজকের…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
পরকিয়া প্রেম এম ইদ্রিস আলি আমার কোনো পরকিয়া প্রেম নাই কাদম্বরী দেবীর মতো কোনো চিরস্মৃতিময়ী রমনীর সাথে, অথবা ক্লিওপেট্রা বা মেরিলিন মনরোর মতো জীবন্ত উর্বশী অপ্সরার প্রতি আকৃষ্টতা নাই। তবে ভালোবাসায় কমতি নাই কোন সংস্কারহীন নান্দনিক জাতপাতে। আমার প্রেম আছে শৈল্পিক সৃষ্টির প্রতি জগদ্বিখ্যাত লিউনার্দো এবং জয়নুলের চিত্রকর্মের প্রতি আমার ভালোবাসা গেঁথে আছে শার্ল বোদলেয়ারের জাহাজের ডেকে ডানা ঝাঁপটানো আলবার্ট পাখির প্রতি। বদনাম হলেও আমার প্রেম সৈয়দ সামসুল হকের নিষিদ্ধ লোবানের প্রতি। আমার ভালোবাসা শামসুর রহমানের স্বাধীনতার জীবন্ত পঙক্তিমালার প্রতি। বুদ্ধদেবের মতো দুর্ভেদ্য ভালোবাসা আমার আকৃষ্ট হই জীবনানন্দের চিলের ডানায় মাখানো রৌদ্রের রগরগে গন্ধের প্রতি। আমি প্রেমে হাবুডুবু খাই শিশিরের…
ভালোবাসার প্রতিশোধ ইফতেখার হোসেন মিলিকে ইদানিং একটা ছেলে মেসেজ পাঠায়। মিলিরা ফার্মগেটে এক কোচিং সেন্টারে যায়, ছেলেটা যায় অন্য সেন্টারে। কয়েকমাস পর সবার এইচএসসি পরীক্ষা। কোচিং রমরমা। পড়াও হয়, আড্ডাও। সব কোচিং সেন্টার যে খারাপ, তাতো না। ছেলেটা কিভাবে যেন মিলিকে চেনে। নটরডেমের। প্রথম দেখাতেই মিলিকে পছন্দ। মিলি তার বান্দ্ববী সারা, সুমি আর রিনু কে খুলে বললো ঘটনা। সে প্রেমের ধারে কাছে নেই, কিন্তু ছেলেটার মেসেজগুলি সুন্দর আছে। ছেলেটাকে এখনো সে দেখে নাই। সবাই বললো, প্রেম করার দরকার কি, ছেলেটিকে দেখি। ছেলেটা যদি ভালো হয়, তাহলে বন্ধু হলো। ভালো না হলে বলতে হবে ভাইয়া, মিলির প্রেম আছে। ব্যাস , সহজ…
এক শ্রমিকের আর্তনাদ – জাকিয়া রহমান জন্মে ছিলাম কেন এই পৃথিবীতে- শুধু কি এক কর্মের সংস্থানের জন্যে? লেখাপড়া শিখেও তো হলো না আশা পূরণ। তাই আমার দাসত্বের বিনিময়ে, চেয়েছি করতে উপার্জন- বিদেশি মুদ্রা! এতে নাকি আমার দেশের হবে উন্নতি? তাই অনেক আশায় উড়াল দিলাম মরুর দেশে, ঘাম ঝরিয়ে, হাতে ফোসকা ফেলে, স্বজন থেকে বহু দূরে, রাতে একাকী! বাস করি একদল মানুষের গোয়ালে, কাটাই বিনিদ্র রজনী, মরুর তপ্ত বাতাসে ঘামের গন্ধ গায়ে মেখে। অথবা কল্পপনার অনুভবে, রাতে প্রিয়ার চোখের জলে ভেজা বিছানা ভেবে, জড়িয়ে ধরেছি আমারি সিক্ত বালিশ। আমি কি জন্মেছিলাম অশ্রুবিন্দু গণনার জন্য? দীর্ঘ অপেক্ষায়, দিনের পর দিন, মাস আর…
গোধূলির রঙ তসলিমা হাসান ‘একটা ঘন ঘোরের মধ্যে ডুবে যাচ্ছি। একটা তীব্র উপেক্ষা আমার সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে ডানাভাঙা পাখির আর্তনাদের মতো বুকের ভেতরে হাহাকার করছে। আমি কী বীভৎস, বিকৃত, বদ্ধ-উন্মাদকে দেখতে পাচ্ছি এক মানুষ নামের জন্তুর মধ্যে! ঝোপের পাশে পাখির মিষ্টি ডাক, সুর মিলিয়ে দোয়েল-বুলবুলি আর চাতক পাখি ডেকে যাচ্ছে মধুর অথচ করুণ ভঙ্গিতে। ভয় পেয়ে উড়ে যায় একঝাঁক পায়রা। এমন গল্প হতে পারে মানুষ, জন্তু আর পাখিদের নিয়ে। এক নারীর গল্প আছে, যেখানে খুঁজে পাওয়া যায় জীবনের অনেক বিচিত্র ঘটনা। আমি সেখানে গল্পের ঝুলি খুলে দেখাবো কতো শত রঙ-বেরঙের বুকভরা নিঃশ্বাসের শব্দের করুণ ঝংকার! অসংবদ্ধ গলায় চেঁচিয়ে বলতে ইচ্ছে…
আমার সখির মন ভালো নেই —আবদুল আজিজ মনের কথা কেউই বোঝে না, চোখে চোখে খেলে ভাষা—না বলা ব্যথা। হাতের উপর হাত রেখে সে, চুপটি বসে থাকে আশা। বড়ো এক বাগান মাঝে, হাজার লোকের ভিড়ে হঠাৎ যেন ফুটে ওঠে একটি লাজুক গোলাপ হীরে। লম্বা রাস্তায় ভিড়ের মাঝে, চলছে সবাই হেসে হেসে, বাগানপাশে হাওয়ার ছোঁয়ায় পত্র ডাকে মৃদু ভেসে। হিমালয়ের চূড়ায় যেন বাতাস আনে এক ধাক্কা, বরফ গলে, জলের ধারা— নামায় নিচে শুভ্র মেঘরেখা। তবুও কি বোঝে কেউ পরমাত্মার সেই মন? কে জানে সে কাকে চায়, কাকে দেয় সে আপন? ভালোবেসেছি, আজো বাসি, তুমি আমার চুপ প্রেম, না বলা কথার গন্ধভরা তবু…
কালবৈশাখী মাসুদ রানা বজ্রনিনাদে জাগে বনে, আকাশ কাঁপে ঘনঘনে। কালো মেঘের গর্জন ভয়, চমকে ওঠে মাঠের ছয়। গগনে ছুটে বাজ্রশিখা, ধূলা ওড়ে ঘূর্ণি-চোখা। ডালে ডালে ঝড়ের তান, পথ হারায় পাখির গান। বাঁশবনে উঠে শিস, মাটির বুক কাঁদে নিঃশ্বাস। ঝড়ের তাণ্ডবে নদী ভরে, তটিনী কাঁদে কলরবে। ঝাপটা মারে উঠোনে, ছাতা উড়ে ছুটে ক্ষণে। শিষ দেয় বায়ু কাঁপিয়ে, তন্দ্রা ভাঙে মুহূর্তে। চোখে আসে ধূলির রেখা, শস্য খেতে ঢাকে আঁধার। তবু পরে শান্তি আসে, নতুন দিনের আশ্বাসে।
নৃত্য পিয়াসী মনিকা শকুন্তলা আমি নৃত্য পিয়াসী, বসন্ত বিলাসী। নৃত্য যুগলে নবযুগ আঁকি, নব আনন্দে বেঁধেছি যে জুটি।। রাজনন্দিনী নটরাজ রূপে, এসেছি ধরায় নৃত্য রূপ লয়ে। মুদ্রার তালে হৃদয় আলয়ে, বিমোহিত করি মোহনীয় তালে। আমি ঊর্বশী আমি মেনকা, দুষ্যন্তের পাশে শকুন্তলা। যেনো স্বর্গীয় হৃদয় দোলা পার্বতী রূপে আত্মভোলা। চিত্ত নৃত্যে সদা চঞ্চলা, বসন্ত প্রেয়সী ছন্দে উতলা। রুম ঝুম ঝুম নূপুরের বলা অমৃত সন্ধানে সতী বেহুলা।। __________________________ পোট্রেট : স্যার যুগল সরকার প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ।
শেষ বিকেলের রোদটা আজো নাজমা বেগম নাজু শেষ বিকেলের রোদটা আজো ছায়া হয়ে কাঁদে অশ্রুলেখা বুকে রেখে অস্তগামী ছায়াটাকে খুঁজি ছায়া কখন সন্ধ্যা সাঁঝে চিহ্ন হারায় আঁধার রেখায়, পাই না খুঁজে খুঁজব কোথায় বুঝিনাতো, এটাই শুধু বুঝি , আমার বুঝতে বাকি নাই, একটা ছায়া অন্তবিহীন, অশেষ মায়ায় জড়িয়ে রাখে সন্ধ্যা সকাল সব অবেলায় মগ্ন আঁধার ভগ্ন করা সেই ছায়াটা তুমি।
শৃঙ্খল সবুজ শামস মনোয়ার জীবন নিয়ে করি খেলা নয়টি ইটে শব্দ ঘেরা চিন্তায় কাঁদে অচিন পাখি খোঁজে সিক্ত সজীব বাগান মুক্ত আওয়াজে ধরণীর নিরপেক্ষতায় উন্মাদ শৃঙ্খল অবুঝ মূল্যবোধের আশ্বাস ভরা তছনছ অসমতা সন্ন্যাসীর শত সাধন সন্ন্যাসেরই অজানা বিশ্বাস কুল – ত্যাগে বিশ্বাসে অস্পষ্টতায় কারণ সঙ্কুল বাগধারা বোঝাবারই প্রচেষ্টা জ্বলে ওঠা প্রকৃতির সরলতা।
