অধরা অবিনাশী প্রেম। সুরমা খন্দকার। নির্জন, শব্দহীন আমার সময়। তুমি রও বুকের গহীন জুড়ে নীরবে কাঁদে শূন্য চোখের কোন তোমায় ভেবে বেড়ে চলে হৃদস্পন্দন। জীবনের কতো প্রহর কেটে গেছে ভীষণ অসম্ভবে বিষন্ন মনে শূন্যতায় ঘিরে থাকা মৃত্যুর মতো সত্য প্রেমকে ফেরাতে পারিনি কেন গোপনে? অনাহারী ক্ষুধার্ত হৃদয়ের আহাজারি আমায় আজন্মকালের মায়ায় আচ্ছন্ন করে, পৃথিবীর শেষ দিন পর্যন্ত আমি বেঁচে রই। প্রণয় প্রগাঢ় রাগ অভিমানে। ভালোবাসা পোড়ায় অত্যাচারে। জীবনের কোন এক বিস্ময়ের রাতে আমার বুকের প্রেমের মত- চমকের কথা সব ভুলে, জোছনার দখিনা বাতাসে কেন ডেকে ছিলে? তারপর দেখা হয় হয়ে যায় অধরা অবিনাশী প্রেম! যে প্রেমে মরেছে যুবা যুবতীর দল…
Author: প্রতিবিম্ব প্রকাশ
সকালের রঙ ফাতেমা ইসরাত রেখা গোপনে বিরহ ছুঁয়ে যায় অধর রাতের শহরে নামে ঘুম, ফোটা ফুল ঝরে যায় অভিমানে জোছনা বিলায় শত চুম। রঙহীন ভাবনা পাখা মেলে দেয় চুপে স্বপনের ডানা ভেঙে সুখের উড়ানে যেন কর্পূর উড়ে ধুলো ধুলো সকালের রঙে।
ভালবাসার রঙ ছড়িয়ে এই শরতে গোধূলি আকাশে ভালবাসার রঙ ছড়িয়ে দিবো যেখানে থাকবে ভালবাসার পরশ মাখামাখি করবো সৃষ্টির উল্লাসে। নীল আকাশে সাদা মেঘের খেয়ায় পার হবো না হয় অবেলায় হাতছানি দিয়ে গোধূলি লগনে মুখোমুখি বসে নিরালায়। মেঘেদের কান্নাগুলো ঝরবে যখন একটু না হয় ভিজে নিবো কাঁশফুলেরা যেমনি ভিজে তখন দুঃখগুলো লুকিয়ে দিবো। সাদা কালো মেঘের আড়ালে ভেসে উঠবে রঙ এর ছটা ভালবাসার রঙ তুলি দিয়ে ছড়িয়ে দিবে পুরো আকাশটা। তুমি যদি চাও যদি তুমি চাও — চেনা চেনা অলিগলি হেঁটে চলবো দুজনে ছেড়া ছেড়া ব্যাথাগুলো জুড়ে নিবো দু’মনে হাতে হাত পাশাপাশি কাটবে রাত নির্জনে চোখে চোখে হবে প্রেম মনটা…
বাস্তবতা অনেক দিন বাদে- কাল স্বপ্নে দেখলাম তোমায়, ছুরির মতো বিঁধে আছো বুকে; নিঃশব্দে, নিঃসংকোচে। দেখেছি তুমি আমি দু’জনে কেবল ভাসছি সমুদ্রের বুকে, দু’জন ভেসে বেড়াচ্ছি দিকশূন্যভাবে। পালতোলা নৌকায় তুমি বসে আছো জলের উপর আমি নীল আকাশের ছবি আঁকছি। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি, কোথাও কেউ নেই। কোলাহল পূর্ণ শহর থেকে আমরা অনেকটা দূরে… শো-শো শব্দ করে তীব্র বাতাস বইছে, জলের ধাক্কা লাগছে জলের গায়। সামনে তুমি বসে তাকিয়ে আছো ঝড়ের মতো দুটি চোখ নিয়ে, মনে হয় একশো কোটি বছর ঘুম হয়নি তোমার, সারাটা সময় ধরে স্বপ্নহীন ভাবে জেগে আছ। তোমার চুলগুলো উড়ছিল অনুমতি ছাড়া, শাড়ির আঁচলে পাক খাচ্ছে বাতাস,…
“স্বপ্ন বুনন” পিংকি দে আমার সম্মুখে দিগন্ত প্লাবিত ফসল, তারি আলপথে দিবা রাত্র সর্তক পাহারারত আমি। দিবা রাত্র সবুজ ডগায় স্বপ্নের রং ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছি অনবরত। আদরে, আবদারে, আহ্লাদে প্রেমে, ভালবাসায়। ফসলে গায়ে সবুজে কোমলে স্বপ্ন বুনে চলেছি। দীর্ঘ অপেক্ষায়, প্রগাঢ় উন্মত্ততায় কেবল সোনালি আবরণের প্রতীক্ষা। মাটির সোঁদা গন্ধে প্রণয়ের তীব্রতা, সবুজের উদ্দীপ্ত অনুভব স্বপ্নময় অনুভূতিকে আরো প্রানবন্ততায় জীবন্ত করে তোলে। সেই আবেশে সঞ্জীবনী সুধায় আমি হয়ে উঠি চিরচঞ্চল।। তোমার উদ্দাম প্রেমের উন্মত্ত ব্যাকুলতায় সোনালি রঙ আরো বর্ণিলতায় ছেয়ে যায়, আর আমি নেচে উঠি সোনালি ফসলের গানে।। কখন অগ্রহায়ণে হবে নবান্ন উৎসব? সোনালি ফসলের অবিরাম স্নানে হবে আমার দীপ্ত অবগাহন।…
নিস্তব্ধতা। — জেরিন বিনতে জয়নাল। অনেক রাত হয়ে গেছে অফিসের অবশিষ্ট কাজগুলো গুছিয়ে রাখছিলেন জারিফ সাহেব, এ সময় তার ফোন বেজে ওঠে। টেবিল থেকে ফোন হাতে নিয়ে দেখলেন তার ছোট ভাই মঈন কল করেছেন। ব্যস্ত হাতে ফোনটা রিসিভ করে কানে রেখেই দ্রুত হাতে কাজ এগিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি, ফোনের ওপাশ থেকে বাবার অসুস্থতার কথা শুনে তার হাত থেমে গেলো। ফোনের ওপাশ থেকে মঈন বলল, আমরা হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি তুমি তাড়াতাড়ি চলে আসো। ‘আচ্ছা, আমিও বের হচ্ছি’ বলেই জারিফ সাহেব অফিস থেকে বেড়িয়ে পড়লেন তার গাড়ি নিয়ে। আধঘন্টার মধ্যে তিনি হাসপাতালে পৌঁছে গেলেন, গাড়ি পার্কিং করে হাসপাতালের মেইন বিল্ডিংয়ের দিকে যেতে…
সৌন্দর্যে কীট চাঁদের জ্যোৎস্না, সে তো আমাবস্যার পরেই মেলে চন্দ্র গ্রহণ তেমনটা নয়। জীবনের সুখের উঠোনে অনেকের মুখরিত ভীড় নিরানন্দে অচেনা হয়। মধুবীনে ফুলে কী বসে গুঞ্জরিত ব্যাকুল মৌমাছি! ফুলের সৌন্দর্যে নয়। মানুষ রূপী ফানুস আসে নিয়ে স্বার্থের ফন্দি কখনো ভালোবেসে নয়। পোষ মানে না মাটির পিঞ্জিরায় বসত করে এক অচীন মন পাখি, পোষ মানে না, তবুও তারে যত্নে আগলে রাখি। মাটির পিঞ্জিরা সাজায় পাখি ইচ্ছে খুশি মতো, বুকের মধ্যে বান্ধে বাসা মায়ার জালে শত। দুঃখ সুখের সুর তুলে গায় যে পাখি গান, দম ফুরালে থামবে পাখি ভুলবে খাঁচার টান। তবুও পাখি যায় উড়িয়া ফেরে না তো আর, বোঝে…
বীর বাঙালি: লায়ন এইচ এম রফিকুল ইসলাম, যুদ্ধ দামাম বাজলে কভু হটবো নাকো পিছে, বীর বাঙালি নয়তো ভীরু জানে জবাব দিতে। একাত্তরে জিতেছি অস্রহীন সাত কোটিতে, সশস্ত্র বিশ কোটি এবার প্রস্তুত আছি মাঠে। রাজনীতির আদর্শে বিভেদ আছে হয়তো, মাতৃভূমির ডাক আসিলে সবাই হবো একাত্ম। হয়তো শহীদ নয়তো গাজী ভয় দেখাবি কিসে, ভয় করি না বুলেট কিংবা এটম বোমার শব্দে। কলম যোদ্ধা, মুক্তিসেনা কোথায় তোরা আয়, কে যে লাল সবুজের পতাকাতে চোখ রাঙিয়ে চায়। উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে ঐ শকুনের দলকে, যেন মনে রাখে সারা জীবন লেজ গুটিয়ে হাটে। দেশের বিপদ দেখেও যারা মুখ লুকিয়ে রাখে, কাপুরুষের দল যেন সব দেশ…
বিষণ্ণতার রেখা কামরুন নাহার খানিকটা সময় ভালো এই ভালো আর এই কালো এটা তো আর ভালো না। ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে আলোর দিকে পথ চলার সময় শেষ করে, তুমি আবারও একটু ওঠো আত্মবিশ্বাসী হয়ে। নিজের পথকে সুন্দর করো আরও বেশি সাধনা করে। নিজের মনকে সরিয়ে নিয়ে এসো ভালবাসার বিশালতায়। এক নিমিষেই অনেক কিছু তোমার দোরগোড়ায়, তপ্ত দুপুরে যেমন বিবেক অশান্ত হয়ে যায়, ঠিক তখনই সারামনে আনন্দের অনুভূতি অনুভব হয় যখন তোমার শীতল কণ্ঠে মধূর বাণী ছড়াও। এমনই আবেগ লুকিয়ে আছে মায়াবী ওই চোখে ঘুমের মধ্যে তোমার প্রতিচ্ছবি দেখে, আনমনা মন রইলো কি আর নিজের কাছে?
চলো আবার একসাথে হাঁটি তসলিমা হাসান চলো হাঁটি… পায়ে পা মিলিয়ে,হাতের আঙ্গুল ছুঁয়ে কোন অজানা পথে পা বাড়াই! আর তারপর? তারপর না হয় দু’জন মিলে সেই অসীম দূরত্বের পথটার দূরত্বটাকে কমিয়ে আনবো! চলো পাশাপাশি বসি… তোমার শরীর ছোঁয়ার ইচ্ছেরা দায়সারা হোক এই বাহানায়! টং এর দোকানে পাশাপাশি বসে দু’কাপ আদা চা কিংবা নদীর ধারে কোনো নিরিবিলি জায়গায় বসে না হয় দু’জন গল্প করি, সেই ভালো! তোমার দুঃখের গল্প শোনার সময়, নদীর ঢেউয়ের শব্দে; তোমার কান্নার আওয়াজ আমার কান অবধি না পৌঁছাক! এর থেকে ভালো,চলো আমরা আবার হাঁটি… যে পথ মিশে গেছে আরেক পথের সাথে, যে পথে কেউ কখনোই পা বাড়ায়নি!…
